2:09 am, Monday, 31 August 2026

হেডের সেঞ্চুরি ও রেকর্ডের ম্যাচে বেঙ্গালুরুর হার

ডেস্ক রিপোর্ট ::ট্রাভিস হেড রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর পেসার বিজয়কুমার ভৈশাখের ফুল লেংথের বলটি ওয়াইড লং অন দিয়ে মারলেন চার। সঠিক ক্যালকুলেশনে গরম মেজাজে হেড ব্যাট করলেও ঠান্ডা মেজাজে হেলমেট খুলে রাখলেন ব্যাটের হাতলের ওপর। ঠিক যেন ক্রিস গেইল। আর এভাবেই উদ্‌যাপন করলেন সেঞ্চুরি ।

আইপিএলের ইতিহাসে চতুর্থ দ্রুততম তার ৩৯ বলের এই সেঞ্চুরি। সানরাইজার্স হায়দরাবাদের হয়ে আইপিএলে যা ছিল দ্রুততম। ৪১ বলে ৮ ছক্কা, ৯ চারে ১০২ রান করে পরের ওভারে আউট হলেন হেড। তারপরেও ভেঙেছেন আইপিএলের ইতিহাসে সর্বোচ্চ দলীয় রানের রেকর্ডটি।

এরপর হাইনরিখ ক্লাসেনের ৩১ বলে ৬৭ এবং এইডেন মার্করাম (১৭ বলে ৩২) ও আবদুল সামাদের (১০ বলে ৩৭) দুটি অপরাজিত ‘ক্যামিও’ ইনিংসে ভর করে নিজেদের রেকর্ডই ভাঙে সানরাইজার্স।

আইপিএলে এর আগে গত ২৭ মার্চ মুম্বাই ইন্ডিয়ানসের বিপক্ষে ৩ উইকেটে ২৭৭ রান তুলে টুর্নামেন্টটির ইতিহাসে সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহের রেকর্ড গড়েছিল সানরাইজার্স। নিজেদের গড়া সে রেকর্ড নতুন করে লিখল তারা। ৩ উইকেটে ২৮৭ রান—আইপিএলের ইতিহাসে দলীয় সর্বোচ্চ রানের নতুন রেকর্ড গড়ল সানরাইজার্স।

শুরুতে ভাল সুযোগ পেয়েও কাজে লাগাতে পারেনি বেঙ্গালুরু। ২০ ওভারে ৭ উইকেটে ২৬২ রান তুলেছে ফাফ ডু প্লেসির দল। সানরাইজার্স জিতেছে ২৫ রানে। ফলে ৬ ম্যাচে মোট ৮ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের চারে উঠে এল সানরাইজার্স। ৭ ম্যাচে ২ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের তলানিতে পড়ে গেল বেঙ্গালুরু।

৬.২ ওভারে ওপেনিং জুটি ভাঙার আগে ৮০ রান তুলে বেঙ্গালুরু। মায়াঙ্ক মারকান্দের বলে আউট হন ২০ বলে ৪২ রান করা বেঙ্গালুরু ওপেনার বিরাট কোহলি। এরপর বেঙ্গালুরুর রানের গতি কমে যায়, ১০ ওভারের মধ্যে উইকেটও পড়ে যায় আরও চারটি।

রান পাননি উইল জ্যাকস, রজত পাতিদার ও সৌরভ চৌহানরা । আউট হন ৪ ছক্কা ও ৭ চারে ২৮ বলে ৬২ রান করা ডু প্লেসিও।

ষষ্ঠ উইকেটে ২৫ বলে ৫৯ রানের জুটি গড়ে চেষ্টা করেছিলেন মহীপাল লোমরোর ও দিনেশ কার্তিক। ১৫তম ওভারে ভাঙে এই জুটি। পরে ওই ওভার শেষে জয়ের জন্য শেষ ৩০ বলে ১০১ রানের লক্ষ্য ছিল বেঙ্গালুরুর সামনে। এরপর একাই লড়তে হয়েছে কার্তিককে।

তিনি ওভারে চার ছক্কা, অর্থাৎ ১৭তম ওভারে দুটি ছক্কা, ১৮তম ও ১৯তম ওভারে একটি করে ছক্কা মেরেছেন কার্তিক। ১৯তম ওভারে চার-ছক্কাসহ ১৪ রান তোলার পর পঞ্চম বলে আউট হন কার্তিক। ৭ ছক্কা ও ৫ চারে সাজানো কার্তিকের ৩৫ বলে ৮৩ রানের ইনিংস বেঙ্গালুরু সমর্থকেরা মনে থাকার মত।

চার-ছক্কার বৃষ্টিতে মোট ৫৪৯ রানের এই ম্যাচও স্মরনীয় হয়ে থাকবে দর্শকের কাছে।

টি–টোয়েন্টিতে এক ম্যাচে দুই দলের ইনিংস মিলিয়ে সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড। ফলে এবারের আইপিএল এরই মধ্যে স্মরণীয় হয়ে গেল। আইপিএলের ইতিহাসে এবারই দেখো গেল সর্বোচ্চ তিনটি দলীয় সংগ্রহ।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

সানরাইজার্স হায়দরাবাদ: ২০ ওভারে ২৮৭/৩ (হেড ১০২, ক্লাসেন ৬৭, সামাদ ৩৭*, অভিষেক ৩৪, মার্করাম ৩২*; ফার্গুসন ২/৫২, টপলি ১/৬৮, উইল ০/৩২, দয়াল ০/৫১)

রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু: ২০ ওভারে ২৬২ /৭ (কার্তিক ৮৩, ডু প্লেসি ৬২, কোহলি ৪২, লোমরোর ১৯, পাতিদার ৯, উইল ৭; কামিন্স ৩/৪৩, মায়াঙ্ক ২/৪৬, ভুবনেশ্বর ০/৬০, নটরাজন ১/৪৭)

ফল: সানরাইজার্স ২৫ রানে জয়ী।

Tag :
About Author Information

Sirajul Islam

বিদেশ গমন উপলক্ষে নাইম আহমদ কে বিদায় সংবর্ধনা দেন।বন্দু মহল।

হেডের সেঞ্চুরি ও রেকর্ডের ম্যাচে বেঙ্গালুরুর হার

Update Time : 06:52:42 am, Tuesday, 16 April 2024

ডেস্ক রিপোর্ট ::ট্রাভিস হেড রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর পেসার বিজয়কুমার ভৈশাখের ফুল লেংথের বলটি ওয়াইড লং অন দিয়ে মারলেন চার। সঠিক ক্যালকুলেশনে গরম মেজাজে হেড ব্যাট করলেও ঠান্ডা মেজাজে হেলমেট খুলে রাখলেন ব্যাটের হাতলের ওপর। ঠিক যেন ক্রিস গেইল। আর এভাবেই উদ্‌যাপন করলেন সেঞ্চুরি ।

আইপিএলের ইতিহাসে চতুর্থ দ্রুততম তার ৩৯ বলের এই সেঞ্চুরি। সানরাইজার্স হায়দরাবাদের হয়ে আইপিএলে যা ছিল দ্রুততম। ৪১ বলে ৮ ছক্কা, ৯ চারে ১০২ রান করে পরের ওভারে আউট হলেন হেড। তারপরেও ভেঙেছেন আইপিএলের ইতিহাসে সর্বোচ্চ দলীয় রানের রেকর্ডটি।

এরপর হাইনরিখ ক্লাসেনের ৩১ বলে ৬৭ এবং এইডেন মার্করাম (১৭ বলে ৩২) ও আবদুল সামাদের (১০ বলে ৩৭) দুটি অপরাজিত ‘ক্যামিও’ ইনিংসে ভর করে নিজেদের রেকর্ডই ভাঙে সানরাইজার্স।

আইপিএলে এর আগে গত ২৭ মার্চ মুম্বাই ইন্ডিয়ানসের বিপক্ষে ৩ উইকেটে ২৭৭ রান তুলে টুর্নামেন্টটির ইতিহাসে সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহের রেকর্ড গড়েছিল সানরাইজার্স। নিজেদের গড়া সে রেকর্ড নতুন করে লিখল তারা। ৩ উইকেটে ২৮৭ রান—আইপিএলের ইতিহাসে দলীয় সর্বোচ্চ রানের নতুন রেকর্ড গড়ল সানরাইজার্স।

শুরুতে ভাল সুযোগ পেয়েও কাজে লাগাতে পারেনি বেঙ্গালুরু। ২০ ওভারে ৭ উইকেটে ২৬২ রান তুলেছে ফাফ ডু প্লেসির দল। সানরাইজার্স জিতেছে ২৫ রানে। ফলে ৬ ম্যাচে মোট ৮ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের চারে উঠে এল সানরাইজার্স। ৭ ম্যাচে ২ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের তলানিতে পড়ে গেল বেঙ্গালুরু।

৬.২ ওভারে ওপেনিং জুটি ভাঙার আগে ৮০ রান তুলে বেঙ্গালুরু। মায়াঙ্ক মারকান্দের বলে আউট হন ২০ বলে ৪২ রান করা বেঙ্গালুরু ওপেনার বিরাট কোহলি। এরপর বেঙ্গালুরুর রানের গতি কমে যায়, ১০ ওভারের মধ্যে উইকেটও পড়ে যায় আরও চারটি।

রান পাননি উইল জ্যাকস, রজত পাতিদার ও সৌরভ চৌহানরা । আউট হন ৪ ছক্কা ও ৭ চারে ২৮ বলে ৬২ রান করা ডু প্লেসিও।

ষষ্ঠ উইকেটে ২৫ বলে ৫৯ রানের জুটি গড়ে চেষ্টা করেছিলেন মহীপাল লোমরোর ও দিনেশ কার্তিক। ১৫তম ওভারে ভাঙে এই জুটি। পরে ওই ওভার শেষে জয়ের জন্য শেষ ৩০ বলে ১০১ রানের লক্ষ্য ছিল বেঙ্গালুরুর সামনে। এরপর একাই লড়তে হয়েছে কার্তিককে।

তিনি ওভারে চার ছক্কা, অর্থাৎ ১৭তম ওভারে দুটি ছক্কা, ১৮তম ও ১৯তম ওভারে একটি করে ছক্কা মেরেছেন কার্তিক। ১৯তম ওভারে চার-ছক্কাসহ ১৪ রান তোলার পর পঞ্চম বলে আউট হন কার্তিক। ৭ ছক্কা ও ৫ চারে সাজানো কার্তিকের ৩৫ বলে ৮৩ রানের ইনিংস বেঙ্গালুরু সমর্থকেরা মনে থাকার মত।

চার-ছক্কার বৃষ্টিতে মোট ৫৪৯ রানের এই ম্যাচও স্মরনীয় হয়ে থাকবে দর্শকের কাছে।

টি–টোয়েন্টিতে এক ম্যাচে দুই দলের ইনিংস মিলিয়ে সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড। ফলে এবারের আইপিএল এরই মধ্যে স্মরণীয় হয়ে গেল। আইপিএলের ইতিহাসে এবারই দেখো গেল সর্বোচ্চ তিনটি দলীয় সংগ্রহ।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

সানরাইজার্স হায়দরাবাদ: ২০ ওভারে ২৮৭/৩ (হেড ১০২, ক্লাসেন ৬৭, সামাদ ৩৭*, অভিষেক ৩৪, মার্করাম ৩২*; ফার্গুসন ২/৫২, টপলি ১/৬৮, উইল ০/৩২, দয়াল ০/৫১)

রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু: ২০ ওভারে ২৬২ /৭ (কার্তিক ৮৩, ডু প্লেসি ৬২, কোহলি ৪২, লোমরোর ১৯, পাতিদার ৯, উইল ৭; কামিন্স ৩/৪৩, মায়াঙ্ক ২/৪৬, ভুবনেশ্বর ০/৬০, নটরাজন ১/৪৭)

ফল: সানরাইজার্স ২৫ রানে জয়ী।