4:37 am, Saturday, 10 October 2026

১০বছর ধরে অচল দুই স্লুইচ গেইট: ৩কোটি টাকার প্রকল্পে সুফল নেই

জুয়েল আহমদ ,রাজনগর: মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলায় কৃষি সেচ সুবিধা নিশ্চিত করতে নির্মিত দুটি স্লুইচ গেট গত এক দশক ধরে অচল পড়ে আছে। প্রায় ৩ কোটি ৭ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই অবকাঠামো কৃষকদের কোনো কাজে না এসে উল্টো বাড়তি খরচের বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে।


উপজেলার উত্তরভাগ ইউনিয়নের বড়দল ও চাঁনবাগ এলাকায় ধামাইছড়ার ওপর জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা)-এর অর্থায়নে স্লুইচ গেট দুটি নির্মাণ করে উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয়। বোরো ও রবি মৌসুমে ফসলি জমিতে পানি সরবরাহের লক্ষ্যে নির্মিত এ প্রকল্প শুরু থেকেই কার্যকারিতা হারায় বলে অভিযোগ কৃষকদের।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, নির্মাণের পর এক মৌসুমও গেট দুটি ব্যবহার করা যায়নি। ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে ধামেশ্বরী ক্ষুদ্র পানি সম্পদ উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় গঠিত একটি সমিতির কাছে রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব হস্তান্তর করা হয়। তবে উদ্বোধনের মাত্র ছয় মাসের মাথায় ২০১৬ সালের মে মাসে পাহাড়ি ঢলে বড়দল এলাকার স্লুইচ গেটের দক্ষিণ পাড় ভেঙে যায়। একইভাবে চাঁনবাগ এলাকার গেটটির পশ্চিম পাড় ভেঙে পড়ে। ফলে পানি গেটের নিচ দিয়ে প্রবাহিত না হয়ে নতুন গতিপথ তৈরি করে নেয়।
এর পর থেকেই অচল হয়ে পড়ে গেট দুটি। ফলে বাধ্য হয়ে স্থানীয় কৃষকদের প্রতি বছর মাটির বাঁধ নির্মাণ করে পানি আটকে চাষাবাদ করতে হচ্ছে। এতে মৌসুমভেদে প্রতিবারই ৮০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত ব্যয় গুনতে হচ্ছে তাদের।
কৃষকরা জানান, অপরিকল্পিত নির্মাণ ও যথাযথ তদারকির অভাবে স্লুইচ গেটগুলো ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। বর্ষা মৌসুমে পানির অতিরিক্ত চাপে গেটের কাঠামো টিকতে পারেনি। দীর্ঘদিন অচল থাকায় গেটের নিচে পলি জমে গেছে এবং পানি সরবরাহের পাইপ চুরি হয়ে যাচ্ছে।
এ বিষয়ে একাধিকবার উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয়ে যোগাযোগ করেও কোনো কার্যকর উদ্যোগ পাননি বলে অভিযোগ কৃষকদের। ধামেশ্বরী ক্ষুদ্র পানিসম্পদ উন্নয়ন সমিতির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মালিক বলেন, গেট দুটি সচল হলে এলাকার কৃষকরা ব্যাপকভাবে উপকৃত হতেন। কিন্তু দীর্ঘদিনেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
তবে উপজেলা প্রকৌশলী মো. আব্দুল গনী বলেন, স্লুইচ গেট দুটি মেরামতের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করা হবে।
কৃষকদের মতে গেট দুটি সংস্কার করা গেলে উত্তরভাগ ইউনিয়নের ভুরভুরির বিল ফাটাবিল পশ্চিম ও পূর্ব চানভাগ বড়দল হায়পুর উদয়রামপুরসহ হাওর এলাকার প্রায় ৩ হাজার একর নিম্নাঞ্চলের জমিতে সহজে ও স্বল্প খরচে চাষাবাদ করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি বর্তমানে পতিত থাকা অনেক জমিও চাষের আওতায় আসবে।

Tag :
About Author Information

Sirajul Islam

Popular Post

সিলেটে জাতীয়দাবাচ্যাম্পিয়নশীপ আঞ্চলিকজোনএর উদ্ভোধন

১০বছর ধরে অচল দুই স্লুইচ গেইট: ৩কোটি টাকার প্রকল্পে সুফল নেই

Update Time : 05:27:25 pm, Friday, 9 October 2026

জুয়েল আহমদ ,রাজনগর: মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলায় কৃষি সেচ সুবিধা নিশ্চিত করতে নির্মিত দুটি স্লুইচ গেট গত এক দশক ধরে অচল পড়ে আছে। প্রায় ৩ কোটি ৭ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই অবকাঠামো কৃষকদের কোনো কাজে না এসে উল্টো বাড়তি খরচের বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে।


উপজেলার উত্তরভাগ ইউনিয়নের বড়দল ও চাঁনবাগ এলাকায় ধামাইছড়ার ওপর জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা)-এর অর্থায়নে স্লুইচ গেট দুটি নির্মাণ করে উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয়। বোরো ও রবি মৌসুমে ফসলি জমিতে পানি সরবরাহের লক্ষ্যে নির্মিত এ প্রকল্প শুরু থেকেই কার্যকারিতা হারায় বলে অভিযোগ কৃষকদের।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, নির্মাণের পর এক মৌসুমও গেট দুটি ব্যবহার করা যায়নি। ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে ধামেশ্বরী ক্ষুদ্র পানি সম্পদ উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় গঠিত একটি সমিতির কাছে রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব হস্তান্তর করা হয়। তবে উদ্বোধনের মাত্র ছয় মাসের মাথায় ২০১৬ সালের মে মাসে পাহাড়ি ঢলে বড়দল এলাকার স্লুইচ গেটের দক্ষিণ পাড় ভেঙে যায়। একইভাবে চাঁনবাগ এলাকার গেটটির পশ্চিম পাড় ভেঙে পড়ে। ফলে পানি গেটের নিচ দিয়ে প্রবাহিত না হয়ে নতুন গতিপথ তৈরি করে নেয়।
এর পর থেকেই অচল হয়ে পড়ে গেট দুটি। ফলে বাধ্য হয়ে স্থানীয় কৃষকদের প্রতি বছর মাটির বাঁধ নির্মাণ করে পানি আটকে চাষাবাদ করতে হচ্ছে। এতে মৌসুমভেদে প্রতিবারই ৮০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত ব্যয় গুনতে হচ্ছে তাদের।
কৃষকরা জানান, অপরিকল্পিত নির্মাণ ও যথাযথ তদারকির অভাবে স্লুইচ গেটগুলো ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। বর্ষা মৌসুমে পানির অতিরিক্ত চাপে গেটের কাঠামো টিকতে পারেনি। দীর্ঘদিন অচল থাকায় গেটের নিচে পলি জমে গেছে এবং পানি সরবরাহের পাইপ চুরি হয়ে যাচ্ছে।
এ বিষয়ে একাধিকবার উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয়ে যোগাযোগ করেও কোনো কার্যকর উদ্যোগ পাননি বলে অভিযোগ কৃষকদের। ধামেশ্বরী ক্ষুদ্র পানিসম্পদ উন্নয়ন সমিতির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মালিক বলেন, গেট দুটি সচল হলে এলাকার কৃষকরা ব্যাপকভাবে উপকৃত হতেন। কিন্তু দীর্ঘদিনেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
তবে উপজেলা প্রকৌশলী মো. আব্দুল গনী বলেন, স্লুইচ গেট দুটি মেরামতের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করা হবে।
কৃষকদের মতে গেট দুটি সংস্কার করা গেলে উত্তরভাগ ইউনিয়নের ভুরভুরির বিল ফাটাবিল পশ্চিম ও পূর্ব চানভাগ বড়দল হায়পুর উদয়রামপুরসহ হাওর এলাকার প্রায় ৩ হাজার একর নিম্নাঞ্চলের জমিতে সহজে ও স্বল্প খরচে চাষাবাদ করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি বর্তমানে পতিত থাকা অনেক জমিও চাষের আওতায় আসবে।