4:35 am, Saturday, 10 October 2026

১২ ডিসেম্বরের মধ্যেই গঙ্গা চুক্তির আশা পানিসম্পদমন্ত্রীর

ডেস্ক রিপোর্ট : আগামী ১২ ডিসেম্বরের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই ভারতের সঙ্গে গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তি সম্পন্ন হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি।

তিনি বলেছেন, যৌথ নদী কমিশনের (জেআরসি) কারিগরি পর্যায়ের কাজ ইতোমধ্যে চলছে।

এরপর মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকের মাধ্যমে চুক্তির বাকি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি এ কথা বলেন।

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস) আয়োজিত ‘পানির ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন ভাবনা: তরুণ নেতৃত্ব, ন্যায়বিচার ও সহযোগিতা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি।

সেমিনার শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে পানি সম্পদমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের জেআরসির মাধ্যমে বৈঠক হচ্ছে এবং উভয় পক্ষের কারিগরি টিম কাজ করছে।

২০২৬ সালের ১২ ডিসেম্বরের আগেই গঙ্গা চুক্তি সম্পন্ন করার বিষয়ে তারা আশাবাদী।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের অগ্রাধিকার হচ্ছে ১৯৭৭ সালের গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তিতে থাকা গ্যারান্টি ক্লজ নতুন চুক্তিতে অন্তর্ভুক্ত করা।

১৯৭৭ সালে প্রথম পাঁচ বছরের জন্য চুক্তিটি করা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে ১৯৯৬ সালে ৩০ বছরের জন্য নতুন চুক্তি করা হলেও সেখানে ওই গ্যারান্টি ক্লজ রাখা হয়নি।
মন্ত্রী বলেন, নতুন করে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি করার পাশাপাশি গ্যারান্টি ক্লজ অন্তর্ভুক্ত রাখার বিষয়টি নিয়ে সরকার সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। জনগণ ও দেশের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়েই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

তিস্তা মহাপরিকল্পনা প্রসঙ্গে পানি সম্পদমন্ত্রী বলেন, প্রকল্পটির ফিজিবিলিটি স্টাডির কাজ চলমান। দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞ এবং বুয়েটের বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তা নেওয়ার বিষয়েও কাজ চলছে।

তিনি বলেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনার ফিজিবিলিটি স্টাডি সম্পন্ন করতে সময় লাগবে। ২০২৭ সালের মধ্যে স্টাডি শেষ করে ওই বছরই প্রকল্পের কাজ শুরু করার লক্ষ্য রয়েছে।

তিস্তা প্রকল্পে ভারতের কোনো চাপ বা প্রতিবন্ধকতা রয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দেশের মানুষের স্বার্থই সরকারের কাছে সবচেয়ে বড় বিষয়।

পদ্মা ব্যারেজকে বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মেগা প্রজেক্ট হিসেবে উল্লেখ করে পানি সম্পদমন্ত্রী বলেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে দেশের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ অঞ্চলের মানুষ এর সুফল পাবে।

তিনি জানান, পদ্মা ব্যারেজের কাজ দৃশ্যমান করার জন্য ইতোমধ্যে একনেকে প্রকল্পটি অনুমোদিত হয়েছে। আগামী জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারি বা মার্চের মধ্যে যে কোনো সময়ে এর কাজ দৃশ্যমানভাবে শুরু হতে পারে। এরই মধ্যে প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করা হয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, পদ্মা ব্যারেজের ফিজিবিলিটি স্টাডি ২০০৪ সালে শুরু হয়ে ২০১৬ সালে শেষ হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে প্রকল্পটি দৃশ্যমান হয়নি। বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার দুই মাসের মধ্যে স্টাডি পুনরায় চূড়ান্ত করে প্রকল্পের কাজ হাতে নিয়েছে।

তিনি বলেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনাও একটি বড় প্রকল্প। এ ধরনের প্রকল্পের স্টাডি এক-দুই সপ্তাহ বা এক-দুই মাসে শেষ করা সম্ভব নয়। প্রয়োজনীয় কারিগরি ও প্রযুক্তিগত কাজ সম্পন্ন করেই তিস্তা মহাপরিকল্পনাকে দৃশ্যমান করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

Tag :
About Author Information

Sirajul Islam

Popular Post

সিলেটে জাতীয়দাবাচ্যাম্পিয়নশীপ আঞ্চলিকজোনএর উদ্ভোধন

১২ ডিসেম্বরের মধ্যেই গঙ্গা চুক্তির আশা পানিসম্পদমন্ত্রীর

Update Time : 09:20:33 am, Thursday, 8 October 2026

ডেস্ক রিপোর্ট : আগামী ১২ ডিসেম্বরের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই ভারতের সঙ্গে গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তি সম্পন্ন হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি।

তিনি বলেছেন, যৌথ নদী কমিশনের (জেআরসি) কারিগরি পর্যায়ের কাজ ইতোমধ্যে চলছে।

এরপর মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকের মাধ্যমে চুক্তির বাকি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি এ কথা বলেন।

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস) আয়োজিত ‘পানির ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন ভাবনা: তরুণ নেতৃত্ব, ন্যায়বিচার ও সহযোগিতা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি।

সেমিনার শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে পানি সম্পদমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের জেআরসির মাধ্যমে বৈঠক হচ্ছে এবং উভয় পক্ষের কারিগরি টিম কাজ করছে।

২০২৬ সালের ১২ ডিসেম্বরের আগেই গঙ্গা চুক্তি সম্পন্ন করার বিষয়ে তারা আশাবাদী।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের অগ্রাধিকার হচ্ছে ১৯৭৭ সালের গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তিতে থাকা গ্যারান্টি ক্লজ নতুন চুক্তিতে অন্তর্ভুক্ত করা।

১৯৭৭ সালে প্রথম পাঁচ বছরের জন্য চুক্তিটি করা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে ১৯৯৬ সালে ৩০ বছরের জন্য নতুন চুক্তি করা হলেও সেখানে ওই গ্যারান্টি ক্লজ রাখা হয়নি।
মন্ত্রী বলেন, নতুন করে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি করার পাশাপাশি গ্যারান্টি ক্লজ অন্তর্ভুক্ত রাখার বিষয়টি নিয়ে সরকার সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। জনগণ ও দেশের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়েই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

তিস্তা মহাপরিকল্পনা প্রসঙ্গে পানি সম্পদমন্ত্রী বলেন, প্রকল্পটির ফিজিবিলিটি স্টাডির কাজ চলমান। দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞ এবং বুয়েটের বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তা নেওয়ার বিষয়েও কাজ চলছে।

তিনি বলেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনার ফিজিবিলিটি স্টাডি সম্পন্ন করতে সময় লাগবে। ২০২৭ সালের মধ্যে স্টাডি শেষ করে ওই বছরই প্রকল্পের কাজ শুরু করার লক্ষ্য রয়েছে।

তিস্তা প্রকল্পে ভারতের কোনো চাপ বা প্রতিবন্ধকতা রয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দেশের মানুষের স্বার্থই সরকারের কাছে সবচেয়ে বড় বিষয়।

পদ্মা ব্যারেজকে বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মেগা প্রজেক্ট হিসেবে উল্লেখ করে পানি সম্পদমন্ত্রী বলেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে দেশের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ অঞ্চলের মানুষ এর সুফল পাবে।

তিনি জানান, পদ্মা ব্যারেজের কাজ দৃশ্যমান করার জন্য ইতোমধ্যে একনেকে প্রকল্পটি অনুমোদিত হয়েছে। আগামী জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারি বা মার্চের মধ্যে যে কোনো সময়ে এর কাজ দৃশ্যমানভাবে শুরু হতে পারে। এরই মধ্যে প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করা হয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, পদ্মা ব্যারেজের ফিজিবিলিটি স্টাডি ২০০৪ সালে শুরু হয়ে ২০১৬ সালে শেষ হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে প্রকল্পটি দৃশ্যমান হয়নি। বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার দুই মাসের মধ্যে স্টাডি পুনরায় চূড়ান্ত করে প্রকল্পের কাজ হাতে নিয়েছে।

তিনি বলেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনাও একটি বড় প্রকল্প। এ ধরনের প্রকল্পের স্টাডি এক-দুই সপ্তাহ বা এক-দুই মাসে শেষ করা সম্ভব নয়। প্রয়োজনীয় কারিগরি ও প্রযুক্তিগত কাজ সম্পন্ন করেই তিস্তা মহাপরিকল্পনাকে দৃশ্যমান করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।