10:05 pm, Saturday, 11 July 2026

৩ দিক থেকে ঘিরেছে রাশিয়া, নাগরিকদের ইউক্রেন ছাড়তে বলছে বিভিন্ন দেশ

ডেস্ক রিপোর্ট : রাশিয়ার আক্রমণ আসন্ন, পশ্চিমা শক্তিগুলোর এমন সতর্কতার মধ্যে এক ডজনেরও বেশি দেশ তাদের নাগরিকদের ইউক্রেন ছেড়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। এর মধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জার্মানি, অস্ট্রেলিয়া, ইতালি, ইসরায়েল, নেদারল্যান্ডস, জাপানও রয়েছে।

ইউক্রেনের সীমান্তে আনুমানিক ১ লাখ সৈন্য সংগ্রহ করেছে রাশিয়া। কিন্তু আক্রমণ করার কোনো ইচ্ছা নেই বলে দেশটি জানিয়েছে। নিজেদের সীমান্ত সংলগ্ন ইউক্রেনের তিন দিকেই দিনে দিনে শক্তি বাড়িয়েছে রাশিয়া।

এমন পরিস্থিতিতে শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এক ঘণ্টা ফোনালাপ করেন। বিস্ফোরণমুখ পরিস্থিতি এড়ানোর চেষ্টা থেকে এ আলাপ। পশ্চিমা দেশগুলোর ‘যুদ্ধ শুরু হতে পারে’ এমন উদ্বেগের মধ্যেই ক্রিমিয়া উপদ্বীপের কাছে সমুদ্রে বড় ধরনের নৌ মহড়া করছে রাশিয়া।

যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, সম্প্রতি ইউক্রেইন সীমান্তে লক্ষাধিক রুশ সেনা জড়ো হওয়ার খবরে খুব দ্রতই দখল অভিযান শুরু হতে পারে বলে আশঙ্কাও প্রকাশ করতে শুরু করেছেন গোয়েন্দারা। যুদ্ধ এড়ানোর লক্ষ্যে মরিয়া কূটনৈতিক চেষ্টার মধ্যে রাশিয়ার এমন সমর সজ্জাকে ইউক্রেইনের জন্য আসন্ন হুমকি হিসেবে সতর্ক করেছেন বিশ্লেষকরা।

তবে হামলা শুরু হলে কোন এলাকা থেকে শুরু হতে পারে সে বিষয়ে কোনো স্পষ্ট চিত্র পাওয়া যায়নি উল্লেখ করে সিএনএন এর একটি প্রতিবেদনে বলা হয়, ইউক্রেইনের ওপর তিন দিক থেকে চাপ সৃষ্টি করেছে রাশিয়া। এ প্রতিবেদনে ইউক্রেইনের তিন দিকেই রাশিয়ার সামরিক সজ্জা বাড়ানোর তথ্য তুলে ধরে কোন দিক দিয়ে সম্ভাব্য আক্রমণের চেষ্টা হতে পারে সে পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করা হয়েছে।

কানাডার গণমাধ্যমের খবর মতে, কানাডাও দূতাবাস কর্মীদের লিভিভে সরিয়ে আনছে, এই শহরটির সীমান্ত পোল্যান্ডের সাথে। ইউক্রেনে নিযুক্ত যুক্তরাজ্যের রাষ্ট্রদূত মেলিন্ডা সিমন্স টুইটে লিখেছেন, তিনি ও ‘কোর টিম’ অর্থ্যাৎ একান্ত যাদের প্রয়োজন তারাই কিয়েভে অবস্থান করছেন।

রাশিয়া নিজেরাও কিছু পরিবর্তন আনছে, ‘কিয়েভ শাসক বা তৃতীয় কোনো দেশের উসকানির’ জন্য তারা ইউক্রেনে নিজেদের কূটনীতিবিদদের যতটা প্রয়োজন ঠিক ততজন স্টাফ রাখবে। এছাড়া ইউক্রেনের বাইরে ইউক্রেনিয়ান সৈনিকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া ১৫০ জনের একটি বাহিনী যুক্তরাষ্ট্র সরিয়ে আনছে। ওয়াশিংটন বলছে, বাড়তি সতর্কতা হিসেবেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ডাচ মিডিয়ার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ইউক্রেনে কোনো ধরনের ফ্লাইট পরিচালনা করা হবে না বলে ঘোষণা দিয়েছে ডাচ এয়ারলাইন কেএলএম। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট বলছেন, পশ্চিমা শক্তিগুলোর হাতে আসন্ন আক্রমণ নিয়ে কোনো সুনিশ্চিত প্রমাণ আছে কি না তিনি নিশ্চিত নন।

তার ভাষায়, ‘একটি পূর্ণমাত্রার যুদ্ধের সকল তথ্যই মনে হচ্ছে মিডিয়ার কাছে আছে। আমরা ঝুঁকি সম্পর্কে অবগত, আমরা জানি ঝুঁকি আছে। যদি আপনার কাছে শতভাগ নির্ভরযোগ্য তথ্য থাকে রাশিয়ার ইউক্রেন আক্রমণ নিয়ে, আমাদেরকে জানাতে পারেন।’

অস্ট্রেলিয়া, ইতালি, ইসরায়েল, নেদারল্যান্ডস ও জাপান তাদের নাগরিকদের ইতোমধ্যেই ইউক্রেন ত্যাগ করতে বলছে। কোনো কোনো দেশ ইউক্রেনে তাদের কূটনৈতিক কর্মীদের পরিবারসহ সরিয়ে এনেছে।

ইউক্রেনে হামলা করলে রাশিয়াকে চড়া মূল্য দিতে হবে বলে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে সতর্ক করে দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। তিনি বলেছেন, ইউক্রেনে হামলার মতো কোনো পদক্ষেপ নিলে মস্কোকে ব্যাপক দুর্ভোগ পোহাতে হবে এবং (সারা বিশ্ব) থেকে বিচ্ছিন্ন করা হবে। শনিবার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে ফোনালাপে এই হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন।

অন্যদিকে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সরকারি বাসভবন ক্রেমলিন জানিয়েছে, ফোনালাপে বাইডেনকে প্রেসিডেন্ট পুতিন বলেছেন- রাশিয়ার দাবি ও উদ্বেগগুলো বিবেচনায় নিতে ব্যর্থ হয়েছে ওয়াশিংটন এবং পূর্ব ইউরোপে সামরিক জোট ন্যাটোর সম্প্রসারণ এবং ইউক্রেনে সেনা মোতায়েনের মতো বিষয়গুলোসহ প্রধান প্রধান নিরাপত্তা ইস্যুগুলোতে ‘যথেষ্ট উত্তর’ পায়নি মস্কো।

 

Tag :
About Author Information

Sirajul Islam

Popular Post

মৌলভীবাজারে বন্যা দূর্গত এলাকায় ক্ষতিগ্রস্ত ও অসহায় মানুষের মাঝে রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির ত্রাণ বিতরণ

৩ দিক থেকে ঘিরেছে রাশিয়া, নাগরিকদের ইউক্রেন ছাড়তে বলছে বিভিন্ন দেশ

Update Time : 10:01:30 am, Sunday, 13 February 2022

ডেস্ক রিপোর্ট : রাশিয়ার আক্রমণ আসন্ন, পশ্চিমা শক্তিগুলোর এমন সতর্কতার মধ্যে এক ডজনেরও বেশি দেশ তাদের নাগরিকদের ইউক্রেন ছেড়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। এর মধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জার্মানি, অস্ট্রেলিয়া, ইতালি, ইসরায়েল, নেদারল্যান্ডস, জাপানও রয়েছে।

ইউক্রেনের সীমান্তে আনুমানিক ১ লাখ সৈন্য সংগ্রহ করেছে রাশিয়া। কিন্তু আক্রমণ করার কোনো ইচ্ছা নেই বলে দেশটি জানিয়েছে। নিজেদের সীমান্ত সংলগ্ন ইউক্রেনের তিন দিকেই দিনে দিনে শক্তি বাড়িয়েছে রাশিয়া।

এমন পরিস্থিতিতে শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এক ঘণ্টা ফোনালাপ করেন। বিস্ফোরণমুখ পরিস্থিতি এড়ানোর চেষ্টা থেকে এ আলাপ। পশ্চিমা দেশগুলোর ‘যুদ্ধ শুরু হতে পারে’ এমন উদ্বেগের মধ্যেই ক্রিমিয়া উপদ্বীপের কাছে সমুদ্রে বড় ধরনের নৌ মহড়া করছে রাশিয়া।

যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, সম্প্রতি ইউক্রেইন সীমান্তে লক্ষাধিক রুশ সেনা জড়ো হওয়ার খবরে খুব দ্রতই দখল অভিযান শুরু হতে পারে বলে আশঙ্কাও প্রকাশ করতে শুরু করেছেন গোয়েন্দারা। যুদ্ধ এড়ানোর লক্ষ্যে মরিয়া কূটনৈতিক চেষ্টার মধ্যে রাশিয়ার এমন সমর সজ্জাকে ইউক্রেইনের জন্য আসন্ন হুমকি হিসেবে সতর্ক করেছেন বিশ্লেষকরা।

তবে হামলা শুরু হলে কোন এলাকা থেকে শুরু হতে পারে সে বিষয়ে কোনো স্পষ্ট চিত্র পাওয়া যায়নি উল্লেখ করে সিএনএন এর একটি প্রতিবেদনে বলা হয়, ইউক্রেইনের ওপর তিন দিক থেকে চাপ সৃষ্টি করেছে রাশিয়া। এ প্রতিবেদনে ইউক্রেইনের তিন দিকেই রাশিয়ার সামরিক সজ্জা বাড়ানোর তথ্য তুলে ধরে কোন দিক দিয়ে সম্ভাব্য আক্রমণের চেষ্টা হতে পারে সে পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করা হয়েছে।

কানাডার গণমাধ্যমের খবর মতে, কানাডাও দূতাবাস কর্মীদের লিভিভে সরিয়ে আনছে, এই শহরটির সীমান্ত পোল্যান্ডের সাথে। ইউক্রেনে নিযুক্ত যুক্তরাজ্যের রাষ্ট্রদূত মেলিন্ডা সিমন্স টুইটে লিখেছেন, তিনি ও ‘কোর টিম’ অর্থ্যাৎ একান্ত যাদের প্রয়োজন তারাই কিয়েভে অবস্থান করছেন।

রাশিয়া নিজেরাও কিছু পরিবর্তন আনছে, ‘কিয়েভ শাসক বা তৃতীয় কোনো দেশের উসকানির’ জন্য তারা ইউক্রেনে নিজেদের কূটনীতিবিদদের যতটা প্রয়োজন ঠিক ততজন স্টাফ রাখবে। এছাড়া ইউক্রেনের বাইরে ইউক্রেনিয়ান সৈনিকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া ১৫০ জনের একটি বাহিনী যুক্তরাষ্ট্র সরিয়ে আনছে। ওয়াশিংটন বলছে, বাড়তি সতর্কতা হিসেবেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ডাচ মিডিয়ার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ইউক্রেনে কোনো ধরনের ফ্লাইট পরিচালনা করা হবে না বলে ঘোষণা দিয়েছে ডাচ এয়ারলাইন কেএলএম। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট বলছেন, পশ্চিমা শক্তিগুলোর হাতে আসন্ন আক্রমণ নিয়ে কোনো সুনিশ্চিত প্রমাণ আছে কি না তিনি নিশ্চিত নন।

তার ভাষায়, ‘একটি পূর্ণমাত্রার যুদ্ধের সকল তথ্যই মনে হচ্ছে মিডিয়ার কাছে আছে। আমরা ঝুঁকি সম্পর্কে অবগত, আমরা জানি ঝুঁকি আছে। যদি আপনার কাছে শতভাগ নির্ভরযোগ্য তথ্য থাকে রাশিয়ার ইউক্রেন আক্রমণ নিয়ে, আমাদেরকে জানাতে পারেন।’

অস্ট্রেলিয়া, ইতালি, ইসরায়েল, নেদারল্যান্ডস ও জাপান তাদের নাগরিকদের ইতোমধ্যেই ইউক্রেন ত্যাগ করতে বলছে। কোনো কোনো দেশ ইউক্রেনে তাদের কূটনৈতিক কর্মীদের পরিবারসহ সরিয়ে এনেছে।

ইউক্রেনে হামলা করলে রাশিয়াকে চড়া মূল্য দিতে হবে বলে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে সতর্ক করে দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। তিনি বলেছেন, ইউক্রেনে হামলার মতো কোনো পদক্ষেপ নিলে মস্কোকে ব্যাপক দুর্ভোগ পোহাতে হবে এবং (সারা বিশ্ব) থেকে বিচ্ছিন্ন করা হবে। শনিবার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে ফোনালাপে এই হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন।

অন্যদিকে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সরকারি বাসভবন ক্রেমলিন জানিয়েছে, ফোনালাপে বাইডেনকে প্রেসিডেন্ট পুতিন বলেছেন- রাশিয়ার দাবি ও উদ্বেগগুলো বিবেচনায় নিতে ব্যর্থ হয়েছে ওয়াশিংটন এবং পূর্ব ইউরোপে সামরিক জোট ন্যাটোর সম্প্রসারণ এবং ইউক্রেনে সেনা মোতায়েনের মতো বিষয়গুলোসহ প্রধান প্রধান নিরাপত্তা ইস্যুগুলোতে ‘যথেষ্ট উত্তর’ পায়নি মস্কো।