11:31 am, Thursday, 29 October 2026

সৌদির তেল শোধনাগারে হামলার পর বিশ্ববাজারে বেড়েছে তেলের দাম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :: বিশ্বের শীর্ষ অপরিশোধিত তেল রপ্তানিকারক দেশ সৌদি আরবের একটি তেল শোধনাগারে হামলার খবর পাওয়ার পর বুধবার আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বেড়েছে। ইরান ও তার মিত্রদের সঙ্গে চলমান সংঘাতের কারণে মধ্যপ্রাচ্যে তেল সরবরাহ মারাত্মক বিঘ্নিত হতে পারে বলে ফের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

বুধবার ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচার্সে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলে ১.৪৮ ডলার বা ১.৩ শতাংশ বেড়ে ১১৫.৩৬ ডলারে পৌঁছেছে। অন্যদিকে মার্কিন ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের দাম ব্যারেলে ১.২২ ডলার বা ১.২২ শতাংশ বেড়ে ১০১.১২ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অপরিশোধিত তেল উৎপাদক দেশটির ওপর আক্রমণ আরও জোরদার করার অংশ হিসেবে মঙ্গলবার ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথিরা দাবি করেছে, তারা ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে সৌদি আরবের সবচেয়ে বড় তেল শোধনাগারে আঘাত হেনেছে। তবে দৈনিক ৫ লাখ ৫০ হাজার ব্যারেল উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন ওই শোধনাগারে হামলার বিষয়টি সৌদি কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করেনি।

এর আগে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি শান্ত করতে আলোচনার কারণে মঙ্গলবার তেলের দাম প্রায় ২ ডলার কমেছিল। তবে নতুন এই হামলার খবরের পর বাজার আবারও ঊর্ধ্বমুখী হতে শুরু করেছে।

যুক্তরাষ্ট্রে অপরিশোধিত তেলের মজুদ বৃদ্ধির পূর্বাভাস সত্ত্বেও বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের এই দরবৃদ্ধি ঘটল। রয়টার্সের আটজন বিশ্লেষকের মতামত নিয়ে করা এক সমীক্ষা অনুযায়ী, ২৩ অক্টোবর শেষ হওয়া সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে অপরিশোধিত তেলের মজুত প্রায় ১৫ হাজার ব্যারেল বেড়েছে।

বাজারের প্রত্যাশার সঙ্গে মিল রেখে ওপেকের প্রভাবশালী তিন সূত্রের বরাতে রয়টার্স জানিয়েছে, জোটভুক্ত তেল উৎপাদনকারী দেশগুলো আগামী রোববার তাদের ডিসেম্বর মাসের জন্য নির্ধারিত উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা অপরিবর্তিত রাখতে পারে। বর্তমানে ওপেকের প্রধান সাতটি দেশ– সৌদি আরব, রাশিয়া, ইরাক, কুয়েত, আলজেরিয়া, কাজাখস্তান ও ওমানের অধিকাংশেরই উৎপাদন তাদের পূর্বনির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে কম রয়েছে।

ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলতি মাসের এক সমঝোতার পর চালিত দেশীয় শোধনাগারগুলোতে ডিজেল উৎপাদন বাড়ানো হচ্ছে। ফলে আগামী মাসে রাশিয়ার বাল্টিক ও কৃষ্ণসাগর বন্দর দিয়ে অপরিশোধিত তেল রপ্তানি কমে যেতে পারে।

Tag :
About Author Information

Sirajul Islam

বড়লেখায় বিশ্ব হাতধোয়াদিবসে র‌্যালি আলোচনাসভা ও হাতধোয়া প্রদর্শনী

সৌদির তেল শোধনাগারে হামলার পর বিশ্ববাজারে বেড়েছে তেলের দাম

Update Time : 07:51:44 am, Wednesday, 28 October 2026

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :: বিশ্বের শীর্ষ অপরিশোধিত তেল রপ্তানিকারক দেশ সৌদি আরবের একটি তেল শোধনাগারে হামলার খবর পাওয়ার পর বুধবার আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বেড়েছে। ইরান ও তার মিত্রদের সঙ্গে চলমান সংঘাতের কারণে মধ্যপ্রাচ্যে তেল সরবরাহ মারাত্মক বিঘ্নিত হতে পারে বলে ফের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

বুধবার ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচার্সে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলে ১.৪৮ ডলার বা ১.৩ শতাংশ বেড়ে ১১৫.৩৬ ডলারে পৌঁছেছে। অন্যদিকে মার্কিন ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের দাম ব্যারেলে ১.২২ ডলার বা ১.২২ শতাংশ বেড়ে ১০১.১২ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অপরিশোধিত তেল উৎপাদক দেশটির ওপর আক্রমণ আরও জোরদার করার অংশ হিসেবে মঙ্গলবার ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথিরা দাবি করেছে, তারা ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে সৌদি আরবের সবচেয়ে বড় তেল শোধনাগারে আঘাত হেনেছে। তবে দৈনিক ৫ লাখ ৫০ হাজার ব্যারেল উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন ওই শোধনাগারে হামলার বিষয়টি সৌদি কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করেনি।

এর আগে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি শান্ত করতে আলোচনার কারণে মঙ্গলবার তেলের দাম প্রায় ২ ডলার কমেছিল। তবে নতুন এই হামলার খবরের পর বাজার আবারও ঊর্ধ্বমুখী হতে শুরু করেছে।

যুক্তরাষ্ট্রে অপরিশোধিত তেলের মজুদ বৃদ্ধির পূর্বাভাস সত্ত্বেও বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের এই দরবৃদ্ধি ঘটল। রয়টার্সের আটজন বিশ্লেষকের মতামত নিয়ে করা এক সমীক্ষা অনুযায়ী, ২৩ অক্টোবর শেষ হওয়া সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে অপরিশোধিত তেলের মজুত প্রায় ১৫ হাজার ব্যারেল বেড়েছে।

বাজারের প্রত্যাশার সঙ্গে মিল রেখে ওপেকের প্রভাবশালী তিন সূত্রের বরাতে রয়টার্স জানিয়েছে, জোটভুক্ত তেল উৎপাদনকারী দেশগুলো আগামী রোববার তাদের ডিসেম্বর মাসের জন্য নির্ধারিত উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা অপরিবর্তিত রাখতে পারে। বর্তমানে ওপেকের প্রধান সাতটি দেশ– সৌদি আরব, রাশিয়া, ইরাক, কুয়েত, আলজেরিয়া, কাজাখস্তান ও ওমানের অধিকাংশেরই উৎপাদন তাদের পূর্বনির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে কম রয়েছে।

ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলতি মাসের এক সমঝোতার পর চালিত দেশীয় শোধনাগারগুলোতে ডিজেল উৎপাদন বাড়ানো হচ্ছে। ফলে আগামী মাসে রাশিয়ার বাল্টিক ও কৃষ্ণসাগর বন্দর দিয়ে অপরিশোধিত তেল রপ্তানি কমে যেতে পারে।