2:08 am, Saturday, 7 November 2026

আইয়ুব বাচ্চুর চলে যাওয়ার ৩ বছর

বিনোদন ডেস্ক :: দেশীয় ব্যান্ডসংগীতের অন্যতম দিকপাল, গিটার জাদুকর ও এলআরবির প্রতিষ্ঠাতা আইয়ুব বাচ্চুর তৃতীয় মৃত্যুবার্ষিকী আজ।

২০১৮ সালের এইদিনে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান তিনি। মুহূর্তেই খবরটি ছড়িয়ে পড়ল সারাদেশে। শোকের সমুদ্রে ভেসে গেল এ দেশের গানের আঙিনা। শোকাহত হয়ে পড়লেন শোবিজের সবাই। সংগীতের আঙিনায় একাধারে গীতিকার, সুরকার, সংগীত পরিচালক এবং গায়ক হিসেবে জনপ্রিয় তিনি।

১৯৬২ সালের ১৬ আগস্ট চট্টগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন আইয়ুব বাচ্চু। ১৯৭৮ সালে দফিলিংস’ ব্যান্ডের মাধ্যমে সংগীত জগতে তার পথচলা শুরু হয়। ১৯৮০ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত ‘সোলস’ ব্যান্ডের লিড গিটারিস্ট ছিলেন তিনি। ১৯৯১ সালে আইয়ুব বাচ্চু নিজেই গঠন করে নতুন ব্যান্ড ‘এলআরবি’।

ব্যান্ডের নামে তাদের প্রথম অ্যালবাম ‘এলআরবি’ প্রকাশিত হয় ১৯৯২ সালে। যেটি ছিল দেশের প্রথম ডাবল অ্যালবাম। এলআরবির অন্য অ্যালবামগুলো হলো-‘সুখ’ (১৯৯৩), ‘তবুও’ (১৯৯৪), ‘ঘুমন্ত শহরে’ (১৯৯৫), ‘ফেরারি মন’ (১৯৯৬), ‘আমাদের’ (১৯৯৮), ‘বিস্ময়’ (১৯৯৮), ‘মন চাইলে মন পাবে’ (২০০১), ‘অচেনা জীবন’ (২০০৩), ‘মনে আছে নাকি নাই’ (২০০৫), ‘স্পর্শ’ (২০০৮), ‘যুদ্ধ’ (২০১২), ‘রাখে আল্লাহ মারে কে’ (২০১৬)।

আইয়ুব বাচ্চুর প্রথম একক অ্যালবাম ‘রক্তগোলাপ’ প্রকাশিত হয় ১৯৮৬ সালে। তবে তিনি বেশি সাফল্য পান দ্বিতীয় একক অ্যালবাম ‘ময়না’ (১৯৮৮) দিয়ে। ১৯৯৫ সালে বাজারে আসে তার তৃতীয় একক অ্যালবাম ‘কষ্ট’। ‘কষ্ট কাকে বলে’, ‘কষ্ট পেতে ভালোবাসি’, ‘অবাক হৃদয়’, ‘আমিও মানুষ’সহ এর প্রায় সব গানই জনপ্রিয়তা পায়। আইয়ুব বাচ্চুর অন্য একক অ্যালবামগুলো হলো- ‘সময়’ (১৯৯৮), ‘একা’ (১৯৯৯), ‘প্রেম তুমি কি’ (২০০২), ‘দুটি মন’ (২০০২), ‘কাফেলা’ (২০০২), ‘রিমঝিম বৃষ্টি’ (২০০৮), ‘বলিনি কখনো’ (২০০৯) ও ‘জীবনের গল্প’ (২০১৫)।

আইয়ুব বাচ্চুর গাওয়া জনপ্রিয় গানের মধ্যে রয়েছে ‘চলো বদলে যাই’, ‘হাসতে দেখো গাইতে দেখো’, ‘শেষ চিঠি কেমন এমন চিঠি’, ‘ঘুম ভাঙা শহরে’, ‘হকার’, ‘সুখ’, ‘রুপালি গিটার’, ‘গতকাল রাতে’, ‘তারা ভরা রাতে’, ‘এখন অনেক রাত’, ‘আমি কষ্ট পেতে ভালোবাসি’, ‘ফেরারি মন’, ‘মেয়ে’, ‘সুখের এ পৃথিবী’, ‘উড়াল দেবো আকাশে’, ‘বাংলাদেশ’, ‘আমি বারো মাস তোমায় ভালোবাসি,’ ‘এক আকাশের তারা’, ‘কবিতা’, ‘যেওনা চলে বন্ধু,’ ‘বেলা শেষে ফিরে এসে,’ ‘তিন পুরুষ’ইত্যাদি।

চলচ্চিত্রে প্লেব্যাক করেও শ্রোতাদের মুগ্ধ করেছেন তিনি। চলচ্চিত্রে তার গাওয়া প্রথম গান ‘লুটতরাজ’ সিনেমার ‘অনন্ত প্রেম তুমি দাও আমাকে’। তার গাওয়া ‘আম্মাজান’ সিনেমায় টাইটেল এবং ‘ব্যাচেলর’ সিনেমার ‘আমি তো প্রেমে পড়িনি’ও বেশ জনপ্রিয়তা পায়। এছাড়া আরও কিছু সিনেমায় তিনি কণ্ঠ দেন। সিনেমায় তার সুর-সংগীতায়োজন করা কিছু গানও বেশ প্রশংসা কুড়ায়।

Tag :
About Author Information

Sirajul Islam

সাংবাদিক এহসানুল হকের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি পেশ

আইয়ুব বাচ্চুর চলে যাওয়ার ৩ বছর

Update Time : 07:29:36 am, Monday, 18 October 2021

বিনোদন ডেস্ক :: দেশীয় ব্যান্ডসংগীতের অন্যতম দিকপাল, গিটার জাদুকর ও এলআরবির প্রতিষ্ঠাতা আইয়ুব বাচ্চুর তৃতীয় মৃত্যুবার্ষিকী আজ।

২০১৮ সালের এইদিনে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান তিনি। মুহূর্তেই খবরটি ছড়িয়ে পড়ল সারাদেশে। শোকের সমুদ্রে ভেসে গেল এ দেশের গানের আঙিনা। শোকাহত হয়ে পড়লেন শোবিজের সবাই। সংগীতের আঙিনায় একাধারে গীতিকার, সুরকার, সংগীত পরিচালক এবং গায়ক হিসেবে জনপ্রিয় তিনি।

১৯৬২ সালের ১৬ আগস্ট চট্টগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন আইয়ুব বাচ্চু। ১৯৭৮ সালে দফিলিংস’ ব্যান্ডের মাধ্যমে সংগীত জগতে তার পথচলা শুরু হয়। ১৯৮০ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত ‘সোলস’ ব্যান্ডের লিড গিটারিস্ট ছিলেন তিনি। ১৯৯১ সালে আইয়ুব বাচ্চু নিজেই গঠন করে নতুন ব্যান্ড ‘এলআরবি’।

ব্যান্ডের নামে তাদের প্রথম অ্যালবাম ‘এলআরবি’ প্রকাশিত হয় ১৯৯২ সালে। যেটি ছিল দেশের প্রথম ডাবল অ্যালবাম। এলআরবির অন্য অ্যালবামগুলো হলো-‘সুখ’ (১৯৯৩), ‘তবুও’ (১৯৯৪), ‘ঘুমন্ত শহরে’ (১৯৯৫), ‘ফেরারি মন’ (১৯৯৬), ‘আমাদের’ (১৯৯৮), ‘বিস্ময়’ (১৯৯৮), ‘মন চাইলে মন পাবে’ (২০০১), ‘অচেনা জীবন’ (২০০৩), ‘মনে আছে নাকি নাই’ (২০০৫), ‘স্পর্শ’ (২০০৮), ‘যুদ্ধ’ (২০১২), ‘রাখে আল্লাহ মারে কে’ (২০১৬)।

আইয়ুব বাচ্চুর প্রথম একক অ্যালবাম ‘রক্তগোলাপ’ প্রকাশিত হয় ১৯৮৬ সালে। তবে তিনি বেশি সাফল্য পান দ্বিতীয় একক অ্যালবাম ‘ময়না’ (১৯৮৮) দিয়ে। ১৯৯৫ সালে বাজারে আসে তার তৃতীয় একক অ্যালবাম ‘কষ্ট’। ‘কষ্ট কাকে বলে’, ‘কষ্ট পেতে ভালোবাসি’, ‘অবাক হৃদয়’, ‘আমিও মানুষ’সহ এর প্রায় সব গানই জনপ্রিয়তা পায়। আইয়ুব বাচ্চুর অন্য একক অ্যালবামগুলো হলো- ‘সময়’ (১৯৯৮), ‘একা’ (১৯৯৯), ‘প্রেম তুমি কি’ (২০০২), ‘দুটি মন’ (২০০২), ‘কাফেলা’ (২০০২), ‘রিমঝিম বৃষ্টি’ (২০০৮), ‘বলিনি কখনো’ (২০০৯) ও ‘জীবনের গল্প’ (২০১৫)।

আইয়ুব বাচ্চুর গাওয়া জনপ্রিয় গানের মধ্যে রয়েছে ‘চলো বদলে যাই’, ‘হাসতে দেখো গাইতে দেখো’, ‘শেষ চিঠি কেমন এমন চিঠি’, ‘ঘুম ভাঙা শহরে’, ‘হকার’, ‘সুখ’, ‘রুপালি গিটার’, ‘গতকাল রাতে’, ‘তারা ভরা রাতে’, ‘এখন অনেক রাত’, ‘আমি কষ্ট পেতে ভালোবাসি’, ‘ফেরারি মন’, ‘মেয়ে’, ‘সুখের এ পৃথিবী’, ‘উড়াল দেবো আকাশে’, ‘বাংলাদেশ’, ‘আমি বারো মাস তোমায় ভালোবাসি,’ ‘এক আকাশের তারা’, ‘কবিতা’, ‘যেওনা চলে বন্ধু,’ ‘বেলা শেষে ফিরে এসে,’ ‘তিন পুরুষ’ইত্যাদি।

চলচ্চিত্রে প্লেব্যাক করেও শ্রোতাদের মুগ্ধ করেছেন তিনি। চলচ্চিত্রে তার গাওয়া প্রথম গান ‘লুটতরাজ’ সিনেমার ‘অনন্ত প্রেম তুমি দাও আমাকে’। তার গাওয়া ‘আম্মাজান’ সিনেমায় টাইটেল এবং ‘ব্যাচেলর’ সিনেমার ‘আমি তো প্রেমে পড়িনি’ও বেশ জনপ্রিয়তা পায়। এছাড়া আরও কিছু সিনেমায় তিনি কণ্ঠ দেন। সিনেমায় তার সুর-সংগীতায়োজন করা কিছু গানও বেশ প্রশংসা কুড়ায়।