1. newsmkp@gmail.com : Admin : sk Sirajul Islam siraj siraj
  2. info@fxdailyinfo.com : admi2017 :
  3. admin@mkantho.com : Sk Sirajul Islam Siraj : Sk Sirajul Islam Siraj
  • E-paper
  • English Version
  • রবিবার, ০৪ ডিসেম্বর ২০২২, ০৪:৩০ পূর্বাহ্ন

ব্রেকিং নিউজ :
* বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শনে সিলেটে প্রধানমন্ত্রী   *  বন্যা নিয়ে দুশ্চিন্তার কিছু নেই, সরকার সব ব্যবস্থা নিয়েছে : প্রধানমন্ত্রী

নবীন লেখক গল্প প্রতিযোগিতার তৃতীয় পর্বের প্রথম স্থান অর্জন করা গল্প ‘পরিবর্তন’- সোলাইমান রানা

  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ৩ জুন, ২০২২
  • ৬৫৪ বার পঠিত

সকালে ঘুম ভেঙে দেখি, আমার স্ত্রী পাশে নেই। চোখ বন্ধ করেই শুয়ে আছি। কয়েকটা ডাক দিলাম, কোন সাড়া নাই।ভাবলাম ওয়াশ রুমে গিয়েছে। আমি ডাক দিয়ে বললাম, ‘আজকে আমার অফিস নেই, ছুটি নিয়েছি। শরীরটা ভালো নেই। নাস্তা দেরি করে বানিয়ো।’
তাঁর কোন উত্তর নাই।

আমি আবার ঘুমানোর চেষ্টা করলাম। হঠাৎ শুনতে পেলাম , কেউ সুন্দর করে কোরআন তেলওয়াত করছে।

আমি একটু ভাবনার ভেতর পড়ে গেলাম। বাসায় আমার বউ আর আমি থাকি। তাহলে কোরআন কে পড়ছে?
আমি বিছানা ছেড়ে উঠে গেলাম পাশের রুমে। দেখে আশ্চর্য হলাম! চুপ করে দাঁড়িয়ে আছি। শুনছি কি সুন্দর করে, কোরআন পড়ছে সে। আমার মনটা শীতল হয়ে গেল।

নিজের রুমে বসে ভাবছি, ইরা এত সুন্দর করে কোরআন পড়তে পারে; আগে জানতাম না!

আর আজকে ফজরের নামাজও পড়ছে! যে মেয়ে কিনা সকাল ৭টার আগে ঘুম থেকে উঠে না। আজকে ফজরের নামাজ পড়ছে! আমি বসে বসে হিসাব মিলাতে পারি না। ইরা রোজার মাস ছাড়া, তেমন একটা নামাজ পড়ে না ।

প্রতিদিন সকালে অফিসে যাওয়ার সময়, একবার ঝগড়া হবেই। কোনদিন চায়ে চিনি কম, কোন দিন রুটি কাঁচা থাকে, কোনদিন তরকারিটা ভালো হয় না। এইসব কিছু জানতে চাইলেই ঝগড়া শুরু।

আর বলতে শুরু করে, আমার মতো ছেলের সাথে বিয়ে হয়ে জীবন শেষ তাঁর। তাকে গহনা দিতে পারি না,ভালো বাড়িতে রাখতে পারি না, কোন স্বাদ-আল্লাদ পুরুন করতে পারি না।

আমিও মাঝে মাঝে ভাবি, কেমন মেয়ে বিয়ে করলাম। না আছে ভালবাসা, না আছে কোন সাপোর্ট।
ঝগড়া লেগেই থাকে সারাক্ষণ। রাতে পাশাপাশি ঘুমানো ছাড়া আর কিছু নাই।
আজ মনে হয় ঝগড়া করবে না।মন ভালো, মনে হচ্ছে ।

আমি আবার চুপচাপ শুয়ে পড়লাম। প্রায় ঘন্টারখানিক পর।

ইরা এসে বলে, ‘উঠে নাস্তা করে নাও। তারপর আবার ঘুমাও যেহেতু অফিস নাই। ‘

জবাবে বললাম,’তুমি টেবিলে নাস্তা দাও। আমি উঠে ফ্রেশ হয়ে আসতেছি।’

একটু পরই টেবিলে গিয়ে দেখি চা, বিস্কুট আর কিছু নাই। আজ কেন জানি রাগ হচ্ছে না।

আমি বললাম, ‘তোমার শরীর খারাপ নাকি? নাস্তা বানাও নাই যে? ‘

ইরা বলে, ‘না, কোরআন পড়ে চা বানাতেই, কেমন জানি লাগছে। ‘

বললাম,’তাহলে হাসপাতালে নিয়ে যাই। ‘

ইরা বলে,’এখন ঠিক আছি। লাগবে না ডাক্তারের কাছে যাওয়া।’

‘আমাকে ডাক দিলে নাস্তা বানিয়ে দিতাম।’

একটা হাসি দিয়ে ইরা বলে , ‘থাক লাগবে না। ‘

আজকে ইরাকে কেনো জানি, সহজ সরল মনে হচ্ছে। ঝগড়া নাই, কিছু নাই। আজকেই মনে হচ্ছে, ভালোবেসে বিয়ের করার পর, একটা সকাল ভালো ভাবে গেলো। বিয়ের আগে কত স্বপ্ন দেখতাম তাঁর সব আশা পুরুন করবো। কপালই খারাপ, কম বেতনে চাকুরী করি। কোন রকমই সংসার চালাই।

আমি নাস্তা করে রুমে এসে, ল্যাপটপ নিয়ে বসলাম। কিছুক্ষণ পরই আসলো ইরা।
_বিরিয়ানী রান্না করবো? তোমার তো খুব পছন্দ বিরিয়ানি।
_না, থাক। শরীর খারাপ তোমার। আমরা বাহিরে গিয়ে খাবো।

তারপরও রান্না করবে বলতেছে। আমিও বললাম করো পারলে। সে হাসিমুখে চলে গেলো। আজকে ইরার কি হলো? এত ভালোবাসা, চুপচাপ থাকা!

সকাল ১০টার আগেই রান্না শেষ। আমাকে বললো বিরিয়ানি খেতে।
বিরিয়ানিতে লবন কম। আর তেমন ভালো করেও রান্না করতে পারে নাই। তারপর খেয়ে নিলাম পেটভরে। আজকে আর কিছু বললাম না। এটায় ভালোবাসা দেখছি, তাই যা দিয়েছে সেটায় স্বাদ খোঁজে ফেলাম ভালোবাসার। ইরা নিজেই খেয়ে বুঝতে পারছে। টেবিলে দু’জন খেতে বসছি।

ইরা বলে,’লবন কম হয়ে গেছে, তাই না? ‘

‘না, ঠিক আছে। তোমার মুখে হয়তো সমস্যা। আমার কাছে ভালো লাগলো। ‘

‘হবে হয়তো।’

আমি চুপচাপ খেয়ে রুমে এসে বসে ভাবছি, মেয়েটার এত পরিবর্তন কি করে?
আজ মন চাচ্ছে একটু ভালোবাসা দরকার। ইরাকে বললাম, ‘আমরা ঘুরতে যাবো’

সেও রেডি হয়ে নিলো। বাসার কাছেই একটা পার্ক আছে। ওটা গিয়ে দু’জন কয়েক ঘন্টা ঘুরলাম। ঘাসের উপর বসে দুজন অনেক গল্প করে, দুপুরেই বাসায় ফিরে আসলাম। আজকে কেনো জানি দু’জনের মনই ভালো।

যোহরের আজান দিলে, নামাজ পড়ে নিলাম দু’জনেই। খাবার খেয়ে ঘুমিয়ে পড়লাম। আসরের সময়, ইরা ডেকে তুলে দিলো। নামাজ পড়তে মসজিদে গেলাম। মসজিদ থেকে বের হয়ে চায়ের দোকানে বসে, আড্ডা দিয়ে বাসায় ফিরলাম মাগরিবের নামাজ পড়ে। এসে দেখি ইরা কোরআন পড়ছে। রাতে এশা পড়ে দুজন খাবার খেয়ে শুয়ে পড়লাম।

আজকের দিনটা কেমন করে কেটে গেলো। আজ আর একবারও ঝগড়া হয়নি। অন্য দিন সকালে অফিসে যাওয়ার আগে ঝগড়া করে বের হতাম। রাতে ফিরে খাবার খেয়েই শুয়ে পড়তাম।

পরেরদিন সকালে উঠে ফজরের নামাজ পড়ে, নাস্তা করে অফিসে চলে গেলাম। আজ আর ভালো লাগছে না। মনে হচ্ছে বাসায় কিছু রেখে আসছি। বিয়ের ১বছর কেটে গেলো, আজই মনে হচ্ছে ভালোবাসাটা দু’জনের ভিতর বাহিরে আসছে। দুপুর হতেই কল আসলো।

ইরা বলে,’তুমি খাবার খেয়েছো? নামাজ পড়ে নিয়েছো?’
_হুম, তুমি?
_আমিও। নিজের খেয়াল রেখো।

ইরার কলটা কেটে দিলে, মনটা কেমন শান্ত হয়ে গেলো। বউয়ের সাথে কথা, ভালবাসা এত মধুর হয় জানা ছিলো না। এজন্য আল্লাহ বলছে জান্নাতের একটু সুখ জীবন সঙ্গীর ভিতর দিয়ে দিছে।
আসলে আমরা সেই সুখটা, বের করতে পারি নাই। তাইতো সংসার জীবন তেতো লাগে ।

সারাদিন অফিস করে বাসায় গিয়ে দেখি, বউ খাবার নিয়ে বসে আছে। অন্য দিন নিজে খেয়ে, শুয়ে থাকতো। আমি নিজে খেয়ে নিতাম কোনদিন, কোনদিন খেতাম না।

আমি ফ্রেশ হয়ে খাবার খেতে বসলাম। ইরাও বসলো খেতে। ইচ্ছে করছে তাকে খাইয়ে দেই। আমি বললাম, তোমায় খাইয়ে দেই।

সে মাথা নেড়ে সায় দিলো। আমি নিজের হাতে খাইয়ে দিচ্ছি। ওর মুখে কত হাসি। আমি সারাদিন কাজ করেও, আজ কেনো জানি ক্লান্ত লাগছে না।

দু’জন খাবার খেয়ে বসে বসে গল্প করলাম। তারপরই ঘুমিয়ে গেলাম। ফজরের সময় উঠে নামাজ, নাস্তা করে অফিস যাওয়া।
সন্ধ্যায় বাসায় ফেরার সময়, ইরার জন্য কয়েকটা রজনীগন্ধা ফুল নিয়ে আসলাম। তাঁর রজনীগন্ধা পছন্দ।
আমার হাতে ফুল দেখে জড়িয়ে ধরলো। তাঁর হাতে ফুল গুলো দিয়ে বললাম ভালোবাসি। সে অনেক খুশী হলো। এভাবে চলছে আমাদের সংসার। দুজনই আল্লাহর ইবাদত করি।

নামাজ রোজা সবই ঠিক মতো পালন করি। কথায় আছে না। যার সংসারে দু’জনেই ভালো হয়, সে সংসারের রহমত আসে। আমার তা হলো। কয়েক মাস পরই ইরা মা হবে বললো। আরো ভালোবাসা যত্ন করতে থাকি।

ইবাদাতে আল্লাহর কাছে বলি যেনো।দু’জনে ঠিক এভাবেই সারাজীবন কাটাই।
দেখতে দেখতে বাচ্চা হওয়ার সময় চলে আসলো। ইরাকে হাসপাতালে ভর্তি করিয়ে দিলাম। অপারেশন কেবিনে নেওয়া হলো। আমি দৌড়ে চলে গেলাম, হাসপাতালের নামাজের জায়গায়। নামাজে দাঁড়িয়ে গেলাম, নামাজ শেষে আল্লাহর কাছে হাত তুলে বললাম, “ইয়া আল্লাহ, আমার বউকে তুমি সুস্থ রাখো। তাকে আমার কাছেই ফিরিয়ে দিও। ”

ঘন্টাখানিক পর ডাক্তার এসে বলে, আমার মেয়ে হয়েছে। আল্লাহর কাছে অনেক শুকরিয়া জানালাম।
ইরার কাছে গিয়ে মেয়েটাকে একটা চুমু দিয়া ইরার পাশে বসলাম।

বললাম, “আজকে অনেক খুশী। জানো আল্লাহর কাছে বলছি, যেনো দুজনে সারাজীবন থাকি একসাথে। তোমার যেনো কিছু না হয়।”

ইরা বলে,”আমি জানি এমনই কিছু বলবে। দেখো মেয়েটা তোমার মতোই হয়েছে।”

“আজকে একটা কথা বলি? ”
“হুম।”

আমি বললাম,”আমরা একসময় অনেক ঝগড়া করতাম। তোমার ভালোবাসা ও পরিবর্তনে সুখ নেমে আসলো জীবনে। শিখে গেলাম দু’জনে কি করে, দু’জনকে ভালোবেসে থাকতে হয়। এত পরিবর্তন কি করে আসলো তখন?”

ইরা বলে,”আমাদের নিচের ফ্ল্যাটে থাকে যে, হাফেজা মহিলাও তাঁর স্বামী। একদিন বিকালে উনার সাথে ছাদে দেখা। আর আমার মন খারাপ দেখে, জানতে চাইলো। বললাম আমাদের অভাব, ঝগড়া সব কিছু। তাকে বললে বলে, দুনিয়ার সুখ বাদ দিয়ে দু’জনে মিলে থাকলে, ভালোবাসা নেমে আসবে। আল্লাহই সুখ দিবে আমাদের। আর তখনই আমিও ভাবলাম দেখি নিজেকে আল্লাহর পথে এনে পরিবর্তন করে। আর তা করতে শুরু করলাম। তাইতো আল্লাহর রহমতে শান্তি নেমে আসলো। ”

আমি ইরার কপালে একটা চুমু দিলাম।
আর বলি,”আমরা এভাবে আল্লাহর পথে থেকে জীবনটা পার করবো। ”

ইরা বলে,”মেয়েকে হাফেজা বানাবো। আমার পেটে থাকতেই ইচ্ছে, ছেলে-মেয়ে যেটাই হোক হাফেজ বানাবোই। ”

বললাম,”তোমারই সব ইচ্ছে। আমার জীবনটাই যে তুমি ”

দু’জনে হাসতে থাকলাম। এটা সুখের হাসি।

 

প্লিজ আপনি ও অপরকে নিউজটি শেয়ার করার জন্য অনুরোধ করছি

এ জাতীয় আরো খবর..