1. newsmkp@gmail.com : Admin : sk Sirajul Islam siraj siraj
  2. info@fxdailyinfo.com : admi2017 :
  3. admin@mkantho.com : Sk Sirajul Islam Siraj : Sk Sirajul Islam Siraj
  • E-paper
  • English Version
  • রবিবার, ০৪ ডিসেম্বর ২০২২, ০৪:৩২ পূর্বাহ্ন

ব্রেকিং নিউজ :
* বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শনে সিলেটে প্রধানমন্ত্রী   *  বন্যা নিয়ে দুশ্চিন্তার কিছু নেই, সরকার সব ব্যবস্থা নিয়েছে : প্রধানমন্ত্রী

নবীন লেখক গল্প প্রতিযোগিতার তৃতীয় পর্বের দ্বিতীয় স্থান অর্জন করা গল্প ‘তাল পাতার ঘর’ -রুদ্রনীল সরকার।

  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ৩ জুন, ২০২২
  • ৬০০ বার পঠিত

পথে যাচ্ছিলাম হেঠে।শহর থেকে গ্রামে এসেছি নতুন তাই গ্রামের রাস্তায় হাঁটতে ভালোই লাগছে। অনেক পুরানো অভ্যেস। হঠাৎ মনে পড়ে গেলো রাস্তার পাশে দাড়িয়ে থাকা তালগাছ গুলোর কথা। যেথায় সারি সারি তাল গাছ ছিলো।এখন হয়তো কমে গেছে, পাতায় ভরা তাল গাছের ডগায় চড়ুই পাখির বাসা ছিলো তাল পাতায় বোনা।ছিলো নদীর শাখা রাস্তার পাশে। ভরা বর্ষায় নদী যখন ভরে যেত কি সুন্দরই না লাগতো গ্রামের পরিবেশ।

তাই এক পা দু পা করে হেঁটে এগিয়ে চলছি রাস্তার পাশ দিয়ে। সামনে এগিয়ে গেলাম। তাল গাছ গুলো সেখানেই দাড়িয়ে আছে এতোকাল ধরে।কিন্তু আগের চেয়ে কম।সেখানে একটা তাল গাছ স্থির ভাবে দাড়িয়ে আছে। পাতা গুলো কেমন শুঁকনো মরমরে হয়ে গেছে। বাতাসে কেমন মরমরে শব্দ হচ্ছে, দুলছে গাছের আগা। আমি চারিদিকে খুজতে শুরু করলাম কোথাও তার দেখা পেলাম না। আমি কিছু টা বিষ্ময়কর ভাবে তাকিয়ে রইলাম গাছটার দিকে। তারপর আবার পথ ধরে হাটা শুরু করলাম।ভাবতে ভাবতে পৌঁছে গেছি বাজারে বুঝতে পারিনি। বাড়িতে বাজার শেষ হয়ে গেছে।তাই গ্রামের শাক, সবজী, নদীর তাজা মাছ,দেশি মুরগি আর-ও রান্নার যা যা লাগে বাজার থেকে কিনে নিলাম।বাজার শেষ হলো। কিন্তু বাজারের ব্যাগটা বেজায় ভারি হলো।কিন্তু কি করার আগের মতো সামর্থ নেই আর ভারি কিছু টানার। বয়স কি কম হলো? । বাজারের ব্যাগ মস্তভারি তাই বাধ্য হয়ে রিক্সায় ওঠতে হলো। কি আর করার রিক্সা ভাড়াটা বেশি লাগলো। গ্রামের রাস্তায় হেটে যেতাম ভাড়াটা বেচেঁ যেত।আর আমিও গ্রামের সুন্দর্য টা দেখতে পেতাম। কি সুন্দর না লাগতো। আমি এগুলোই মনে মনে ভাবছি এমন সময় কে যেন পিছন থেকে ডাকছে নিরোবেশ ও নিরোবেশ। রিক্সা দাড় করলাম, পিছনে এদিক ওদিক তাকালাম একবার ‘কই কেউ তো নাই। রিক্সা ওয়ালা বললো স্যার আমারে মিছায় থামাইলেন ক্যা।কেন তুমি শুনতে পাওনি? স্যার কি শুনতে পারবো? আমাকে কে যেন ডাকলো। রিক্সা ওয়ালা আপনারে কে কখন ডাকলো। না আমাকে কেউ ডাকলো নিরোবেশ ও নিরোবেশ তুমি শোননি।আপনে তো বড় আজব মানুষ মশাই বলে রিক্সা ওয়ালা রিক্সা চালাতে লাগলো। আমি ভাবতে লাগলাম আমাকে তো গ্রামে কেউ চিনে না তাহলে ডাকবেই বা কে হয়তো বা ভুল শুনেছি। আমি সেই বারো বছর বয়সে চলে গিয়েছি ঢাকা শহরে এখানে যারা আমায় চিনতো তারা তো কেউ বেঁচে নেই। আর যারা আছে তারা কেউ গ্রামে থাকে না সবাই শহরে থাকে ।

আমার সাথে মাঝে মাঝে এক বন্ধুর যোগাযোগ হতো কিন্তু সেও শহরে থাকে। কিন্তু শুনছিলাম সে গ্রামে এসেছে কিছুদিন আগে। কিন্তু সে জানেনা তো আমি গ্রামে এসেছি তাহলে আমায় ডাকলো কে? আমি নিশ্চয় ভুল শুনেছি, কিন্তু তারপর বিশ্বাস করতে পারছি না যে কেউ আমাকে ডাকেনি। ভাবতে ভাবতে চলে এসেছি মাঝপথে আঁধার নেমে এসেছে হঠাৎ মাথার ওপর যেন কিসের শব্দ হলো কিচির মিচির করে। তাকিয়ে দেখলাম তালগাছের তলায় এসে গেছি। রিক্সা ওয়ালাকে বললাম দাড়াতেঁ। তার ভাবসাভে বুঝলাম সে আমার প্রতি বিরক্ত হচ্ছে।আমি কিছু বললাম না। সে বলল আবার কি হলো স্যার আপনার বাসা তো আর পাঁচ মিনিটের রাস্তা এখানে থামালেন ক্যা।আমি তাকেঁ জিজ্ঞেসা করলাম আমার বাড়ি পাঁচ মিনিটের রাস্তা তুমি কিভাবে জানলে?তুমি কি আমার বাড়ি চেন?সে বলল হাঁ স্যার চিনি আমি আর কথা বাড়ালাম না । বললাম তুমি বাজার গুলো পৌঁছে দিয়ে এসো আমি এখানেই নামবো বলে ভাড়াটা দিয়ে দিলাম। সে চলে গেলো গেলো। আর আমি দাড়িয়ে ভাবতে লাগলাম যেখানে আমাকে কেউ চেনেনা সেখানে আমাকে ডাকলো কে আমার তো কারো সঙ্গে যোগাযোগ নেই এগুলো ভাবতে ভাবতে খুঁজতে লাগলাম। কই কিছু তো চোখে পড়ছে না!তাহলে কিসের শব্দ শুনতে পেলাম? ভুল শুনলাম।কানকে বিশ্বাস করতে পাচ্ছি না। খুজেইঁ চলেছি কিন্তু পাচ্ছি না। অনেক ক্ষন হয়ে গেলো খুজেঁ পেলাম না কোনো কিছু মনে মনে ভাবতে লাগলাম ভুল শুনেছি তাহলে। যারা ডাকলো তারা গেলো কোথায়। এমন সময় পাশ থেকে যেন কে বলে ওঠলো কে ডাকলো। আমি সামনের দিকে তাকালাম। তাকিকে দেখি রিকসাওয়ালা। কিন্তু তার মাথায় যে গামছা ছিলো সেইটা নেই। সে বলল চিন্তে পেরেছো নিরোবেশ আমি অম্বিকেশ। তোমার বাল্য কালের বন্ধু।

আমি তাকে জিজ্ঞেসা করলাম তোমার এমন অবস্থা কেন। সে উত্তরে বলল যাদের জন্য একদিন তাল পাতার ঘর ছেড়ে অট্টালিকা গড়েছিলাম তারাই আজ আমাকে আবার তাল পাতার ঘর ফিরিয়ে দিয়েছে৷ তুমি আর আমাকে কিছু জিজ্ঞেসা করো না। ছাড়ো আমার কথা।

সে বলতে থাকলো তুমি না এখানে কিছু খুঁজছিলে। কি খুঁজছিলে? আমি বললাম হাঁ খুঁজছিলাম আমি সেই তাল গাছের আগায় বানানো চড়ুই এর তাল পাতার ঘড় খুঁজছিলাম।

 

 

প্লিজ আপনি ও অপরকে নিউজটি শেয়ার করার জন্য অনুরোধ করছি

এ জাতীয় আরো খবর..