1. [email protected] : Admin : sk Sirajul Islam siraj siraj
  2. [email protected] : admi2017 :
  3. [email protected] : Sk Sirajul Islam Siraj : Sk Sirajul Islam Siraj
ব্রেকিং নিউজ :
বিনোদন :: গান গাইতে গাইতে মঞ্চেই গায়কের মর্মান্তিক মৃত্যু!,  খেলার খবর : অনূর্ধ্ব-১৯ এশিয়া কাপ চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ, বিমানবন্দরে যুবাদের জানানো হবে উষ্ণ অভ্যর্থনা,

হবিগঞ্জের রশিদপুর গ্যাসের বড় ভরসা : পর্যাপ্ত বিনিয়োগ করা হয়নি

  • আপডেট টাইম : শনিবার, ২৯ জুলাই, ২০২৩
  • ২২৯ বার পঠিত

হবিগঞ্জ সংবাদদাতা: হবিগঞ্জের রশিদপুর গ্যাসক্ষেত্র। এখানে মজুদ ও সক্ষমতার বিপরীতে এখান থেকে গ্যাস উত্তোলন হচ্ছে তুলনামূলক অনেক কম। এর কারণ হলো দীর্ঘ সময় ধরে রশিদপুরের কূপগুলোর উত্তোলন বাড়াতে পর্যাপ্ত বিনিয়োগ করা হয়নি। যে কারণে উত্তোলনও বাড়েনি। অথচ সবচেয়ে কম মজুদ নিয়ে গ্যাস উত্তোলনে শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে বিবিয়ানা গ্যাসক্ষেত্র। এখানে মোট মজুদ নিরূপণ হয়েছে ২৫০ বিসিএফ। আর এখান থেকে প্রতিদিন ১ হাজার ১০০ এমসিএফের বেশি গ্যাস উত্তোলন করছে জ্বালানি খাতের মার্কিন কোম্পানি শেভরন। কূপ সংস্কারের মাধ্যমে অনেক কম মজুদের গ্যাসক্ষেত্রটি থেকে উত্তোলন বাড়াতে সক্ষম হয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

দেশে এখন পর্যন্ত উত্তোলনযোগ্য গ্যাসের মজুদ আবিষ্কার হয়েছে ২৮ হাজার ৬২০ বিলিয়ন ঘনফুট (বিসিএফ)। সর্বশেষ প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এখন অবশিষ্ট আছে সাড়ে ৯ হাজার বিসিএফের কিছু বেশি। এর মধ্যে তিতাস ও রশিদপুরের বড় দুটি গ্যাসফিল্ডেই আছে অবশিষ্ট মোট মজুদের প্রায় ৪৯ শতাংশ।

গ্যাসফিল্ড দুটি আবিষ্কার হয় স্বাধীনতার আগে। বহুজাতিক কোম্পানি শেল অয়েলের কাছ থেকে স্বাধীনতার পর পাঁচটি গ্যাসফিল্ড কিনে জাতীয়করণ করেছিলেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। ওই পাঁচ গ্যাসফিল্ডের মধ্যে দুটি হলো রশিদপুর ও তিতাস। স্বাধীনতার পর পাঁচ দশকেরও বেশি সময় অতিক্রান্ত হলেও এখনো দেশে অবশিষ্ট গ্যাসের উৎপাদন ও সরবরাহে সবচেয়ে বড় দুই ভরসার জায়গা হবিগঞ্জের রশিদপুর ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার তিতাস গ্যাসফিল্ড।

জ্বালানি খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, তিতাস ও রশিদপুর গ্যাসফিল্ডে এখনো উৎপাদন বাড়ানোর যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। কয়েক দশক ধরে উৎপাদনে থাকা গ্যাসক্ষেত্রগুলোর যথাযথ সংস্কার করা গেলে জাতীয় গ্রিডে গ্যাসের সরবরাহ অনেকাংশেই বাড়ানো সম্ভব। গ্যাসক্ষেত্র দুটির উৎপাদন বাড়লে সংকটের মুহূর্তে আমদানিনির্ভরতা অনেকটাই কমিয়ে আনা যাবে।

পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, দেশে বতর্মানে উৎপাদনে আছে ১৯টি গ্যাসফিল্ড। এসব কূপে চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত গ্যাসের মজুদ অবশিষ্ট ছিল ৯ হাজার ৭৬১ বিসিএফ। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি মজুদ অবশিষ্ট আছে রশিদপুরে। গ্যাসক্ষেত্রটিতে এখনো গ্যাসের মজুদ আছে ২ হাজার ৪৩৫ বিসিএফের কিছু বেশি। স্বাধীনতার আগে ১৯৬০ সালে শেল অয়েল এ গ্যাসফিল্ড আবিষ্কার করে। পেট্রোবাংলার টু-পি (প্রমাণিত ও সম্ভাব্য) সমীক্ষায় এখানে গ্যাসের উত্তোলনযোগ্য মজুদ নির্ধারণ হয়েছিল ৩ হাজার ১৩৪ বিসিএফ। বর্তমানে এ গ্যাসফিল্ডের পাঁচটি কূপ থেকে দৈনিক ৪৫ মিলিয়ন ঘনফুট (এমসিএফ) গ্যাস উত্তোলন করা হচ্ছে।

রশিদপুর গ্যাসফিল্ডটি বর্তমানে সিলেট গ্যাস ফিল্ড কোম্পানির (এসজিএফসিএল) আওতাধীন। সংস্থাটির সঙ্গে যোগাযোগ করে জানা গেছে, রশিদপুর গ্যাস কূপ উন্নয়নে এসজিএফসিএলের বড় পরিকল্পনা রয়েছে। এর অংশ হিসেবে এরই মধ্যে গ্যাসফিল্ডে নতুন একটি কূপ খনন করা হয়েছে। বর্তমানে সেখানে পাইপলাইনের কাজ চলমান রয়েছে। এ কূপ থেকে আগামী সেপ্টেম্বর নাগাদ জাতীয় গ্রিডে দৈনিক ১০ এমসিএফ হারে গ্যাস যুক্ত হওয়ার কথা রয়েছে।

এছাড়া গ্যাসফিল্ডটিতে নতুন আরো দুটি কূপ (১১ ও ১৩ নম্বর) খননের পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। এজন্য এরই মধ্যে ডিপিপি প্রণয়ন করে তা জ্বালানি বিভাগে পাঠিয়েছে এসজিএফসিএল। এ দুটি কূপের মাধ্যমে আরো দৈনিক ৩০ এমসিএফ যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া গ্যাসফিল্ডের ৩ ও ৭ নম্বর কূপে ওয়ার্কওভারের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এ দুই কূপের ওয়ার্কওভার শেষে জাতীয় গ্রিডে সেখান থেকে আরো ১০ এমসিএফ গ্যাস যুক্ত হবে। এসজিএফসিএলের পরিকল্পনা হলো রশিদপুরে বিদ্যমান ৬০ মিলিয়ন ঘনফুট সক্ষমতার পুরোটা ব্যবহার করা। ২০২৫ সালের মধ্যে এর সঙ্গে আরো ৫০ মিলিয়ন যুক্ত করে রশিদপুর গ্যাসফিল্ডের মোট দৈনিক উৎপাদন ১১০ মিলিয়ন ঘনফুটে উন্নীত করার উদ্যোগ নিয়েছে এসজিএফসিএল।

কোম্পানিটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মিজানুর রহমান বণিক বার্তাকে বলেন, ‘রশিদপুর গ্যাসফিল্ড বহু বছর ধরে উৎপাদনে রয়েছে। বর্তমানে এ গ্যাসক্ষেত্রের উৎপাদন বাড়াতে কূপ খনন ও ওয়ার্কওভারের পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। ২০২৫ সালের মধ্যে গ্যাসফিল্ডের মোট দৈনিক উৎপাদন ১১০ মিলিয়ন ঘনফুটে উন্নীত করার উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। সে লক্ষ্যেই এখন কাজ চলছে।’

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার তিতাস গ্যাসফিল্ড আবিষ্কার হয় ১৯৬২ সালে। এটিও আবিষ্কার করেছিল শেল অয়েল কোম্পানি লিমিটেড। পরে পেট্রোবাংলা টু-পি সমীক্ষা চালিয়ে এখানে উত্তোলনযোগ্য গ্যাসের প্রমাণিত ও সম্ভাব্য (টু-পি) মোট মজুদ নিরূপণ করেছিল ৭ হাজার ৫৮২ বিসিএফ। এ ফিল্ডে বর্তমানে উত্তোলনযোগ্য গ্যাসের মজুদ অবশিষ্ট আছে ২ হাজার ২৯০ বিসিএফ।

তিতাস গ্যাসক্ষেত্রটি বাংলাদেশ গ্যাসফিল্ড কোম্পানি লিমিটেডের (বিজিএফসিএল) আওতাধীন। দৈনিক গ্যাস উৎপাদন প্রতিবেদন থেকে দেখা গেছে, এ ফিল্ডের মোট ২২টি কূপ থেকে জাতীয় গ্রিডে দৈনিক ৩৯৬ এমসিএফ (২৭ জুলাইয়ের প্রতিবেদন অনুযায়ী) গ্যাস সরবরাহ হচ্ছে। ১৯৬৮ সাল থেকে এ কূপ উৎপাদনে রয়েছে। গত পাঁচ দশকেরও বেশি সময়ে উৎপাদনে থাকা এ কূপের সংস্কার করা গেলে গ্রিডে আরো বেশি গ্যাস সরবরাহ করা যাবে বলে মনে করেন জ্বালানিসংশ্লিষ্টরা।

১৯৭৫ সালের ৯ আগস্ট বঙ্গবন্ধু তিতাস, হবিগঞ্জ, বাখরাবাদ, কৈলাসটিলা ও রশিদপুর এ পাঁচটি গ্যাসক্ষেত্র শেল অয়েলের কাছ থেকে ক্রয় করে জাতীয়করণ করেন। সে সময় এ পাঁচ গ্যাসক্ষেত্রে উত্তোলনযোগ্য গ্যাসের মজুদ ছিল সাড়ে ১২ ট্রিলিয়ন ঘনফুট (টিসিএফ)। তখনকার সময়ে ওই গ্যাসের আর্থিক মূল্য ছিল ৪-৫ মিলিয়ন ডলার।

রশিদপুর ও তিতাস বাদে বঙ্গবন্ধুর ক্রয় করা বাকি তিন গ্যাসক্ষেত্রের মধ্যে হবিগঞ্জ ফিল্ডে ৯১ বিসিএফ, বাখরাবাদে ৫১৮ বিসিএফ ও কৈলাসটিলায় ২ হাজার ৮৬ বিসিএফ গ্যাসের মজুদ অবশিষ্ট রয়েছে। এর মধ্যে বড় অংকের মজুদ অবশিষ্ট থাকলেও কৈলাসটিলার দুই ভাগে বিভক্ত গ্যাসফিল্ডের বৃহত্তম অংশটি এখন উৎপাদনে নেই।

দেশে গ্যাস সংকটের সমস্যা মেটাতে সরকার আন্তর্জাতিক বাজার থেকে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানি করছে। এ আমদানীকৃত এলএনজিকে কেন্দ্র করে দেশের জ্বালানি চাহিদা পূরণের পরিকল্পনা করছে জ্বালানি বিভাগ। পাশাপাশি স্থানীয় গ্যাসের অনুসন্ধান-উত্তোলন কার্যক্রমও চলছে ধীরগতিতে। স্থানীয় গ্যাস ও আমদানীকৃত গ্যাসের সরবরাহের পরও জ্বালানিটির দৈনিক ঘাটতি থাকছে ১ হাজার ২০০ এমসিএফ।

দীর্ঘ সময় ধরে দেশে গ্যাস অনুসন্ধানে স্থবিরতার ফলেই এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা। এ বিষয়ে জানতে চাইলে জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ম. তামিম বলেন, ‘দেশে গত পাঁচ বছরে স্থানীয় গ্যাসের সরবরাহ কমেছে প্রায় ৫০০ এমসিএফ। কূপের উৎপাদন ধরে রাখতে বিদেশী কোম্পানিগুলো কূপের সংস্কারের পাশাপাশি তাদের গ্যাস উৎপাদনের ধারাবাহিকতাও ঠিক রেখেছে। কিন্তু আমাদের গ্যাস কোম্পানিগুলো সেটি করতে পারেনি। সেই তৎপরতাও তাদের ভেতর দেখা যায়নি। গ্যাস সংকটের সময়ে বড় গ্যাসফিল্ডগুলোর উৎপাদন বাড়ানো গেলেও সেখানে পরিস্থিতি সামাল দেয়া যেত, এলএনজিও কম আনতে হতো।’

যদিও জ্বালানি বিভাগ বলছে, দেশে গ্যাসের অনুসন্ধান হয়েছে। বড় পরিসরে না হলেও জোরালো অনুসন্ধানের তৎপরতা বরাবরই ছিল। জ্বালানি বিভাগ সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০০৯ পর্যন্ত ৭৭টি অনুসন্ধান কূপ খনন করে ২৩টি গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কৃত হয়েছে। এর মধ্যে ২০০২-০৮ পর্যন্ত মাত্র দুটি কূপ খনন হয়। এরপর গত ১৩ বছরে আরো ১৯টি অনুসন্ধান কূপ খনন করে পাঁচটি গ্যাসক্ষেত্র পাওয়া গেছে। অর্থাৎ গড়ে প্রতি সাড়ে তিনটি কূপ খননে একটি গ্যাসক্ষেত্র পাওয়া গেছে।

দেশের গ্যাস উৎপাদন বাড়াতে ২০২৫ সালের মধ্যে ৪৬টি কূপ খননের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। যেখানে রশিদপুর ও তিতাস গ্যাসক্ষেত্রে কূপের ওয়ার্কওভার ও নতুন কূপ খননের পরিকল্পনা রয়েছে পেট্রোবাংলার।

পেট্রোবাংলার পরিচালক (অপারেশন অ্যান্ড মাইনস) প্রকৌশলী মো. কামরুজ্জামান বলেন, ‘‌দেশে গ্যাস উৎপাদনের জন্য যেখানে কূপ খনন, সংস্কার ও ওয়ার্কওভার করা দরকার সেটি পেট্রোবাংলার পরিকল্পনায় রয়েছে। ২০২৫ সালের মধ্যে ৪৬টি কূপ খনন করা হবে। সেখানে তিতাস ও রশিদপুরের মতো বড় গ্যাসফিল্ডের উৎপাদন বাড়ানো ও ফিল্ডের উন্নয়ন সবই রয়েছে।’

প্লিজ আপনি ও অপরকে নিউজটি শেয়ার করার জন্য অনুরোধ করছি

এ জাতীয় আরো খবর..