5:18 am, Friday, 17 April 2026

কমলগঞ্জে ঐতিহ্যবাহী চড়ক পূজা ও মেলা শুরু

কমলগঞ্জ প্রতিনিধি: মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার ১নং রহিমপুর ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী ছয়চিরি দিঘীর পাড়ে দুই শত বছরের প্রাচীন চড়ক পূজা ও মেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) চৈত্র সংক্রান্তি ও পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে আয়োজিত এই উৎসবকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার সকাল থেকেই পুরো এলাকা জনসমুদ্রে পরিণত হয়।
তান্ত্রিক রীতিনীতি ও রোমাঞ্চকর আচার আজকের উৎসবের মূল আকর্ষণ ছিল চড়ক গাছে ভক্তদের ঘোরানো এবং বিভিন্ন অলৌকিক ও রোমাঞ্চকর কর্মকা-। গত ১০-১২ দিন ধরে ব্রত পালনকারী ৪০-৫০ জন সন্ন্যাসী আজ তাদের কৃচ্ছ্রসাধন শেষ করেন। জ্বলন্ত আগুনের ওপর ‘কালীনাচ’ এবং ধারালো দায়ের ওপর ‘শিব শয্যা’র মতো রোমাঞ্চকর তান্ত্রিক আচারগুলো উপস্থিত হাজার হাজার দর্শককে বিমোহিত করে।


দিঘীর উত্তর, পূর্ব ও দক্ষিণ পাড়ে স্থাপিত ৪টি চড়ক গাছে সন্ন্যাসীরা পিঠে বড়শি গেঁথে ঘোরার দৃশ্য দেখতে দেশ-বিদেশের পর্যটক ও পুণ্যার্থীরা ভিড় জমান। ভক্তরা ভক্তিভরে চড়ক গাছে ফুল, দুধ ও চিনি দিয়ে পূজা নিবেদন করেন।
পূজা উপলক্ষে দিঘীর চারপাশ জুড়ে বসেছে বিশাল গ্রামীণ মেলা। নাগরদোলা, মাটির তৈরি তৈজসপত্র, বাঁশ-বেতের সামগ্রী এবং খৈ-বাতাসার দোকানে ছিল উপচে পড়া ভিড়। চড়ক পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি অনিরুদ্ধ প্রসাদ রায় চৌধুরী বলেন, “আজকের এই জনস্রোত প্রমাণ করে যে এটি কেবল হিন্দুদের উৎসব নয়, এটি জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক মহামিলনমেলায় পরিণত হয়েছে।”
আজকের অনুষ্ঠান শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে মেলা প্রাঙ্গণে ছিল প্রশাসনের কড়া নজরদারি। প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ছাড়াও জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য দুরুদ আহমদ, সাবেক পৌর কাউন্সিলর স্বাগত কিশোর দাশ চৌধুরী, উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি শ্যামল চন্দ্র দাশ, সাধারণ সম্পাদক প্রনীত রঞ্জন দেবনাথ, উপজেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি শংকর লাল সাহাসহ স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গ সহযোগি সংগঠনের নেতাকর্মীরা চড়ক পূজা ও মেলা পরিদর্শন করে পূজারীদের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। পর্যাপ্ত পুলিশ সদস্যের পাশাপাশি, র‌্যাব ও স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক বাহিনীও শৃঙ্খলা রক্ষায় সক্রিয় ছিল।
আগামীকাল ১৫ এপ্রিল বুধবার সমাপনী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দুই দিনব্যাপী এই বর্ণাঢ্য উৎসবের সমাপ্তি ঘটবে।
এদিকে কমলগঞ্জ উপজেলার সীমান্তবর্তী মাধবপুর ইউনিয়নের পাত্রখোলা চা বাগানে মাঠে বুধবার চড়ক পূজা ও মেলা অনুষ্ঠিত হয়। উভয় পূজা ও মেলায় জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে হাজার হাজার বিভিন্ন শ্রেণি পেশার লোকের ঢল নামে।

Tag :
About Author Information

Sirajul Islam

কমলগঞ্জে ঐতিহ্যবাহী চড়ক পূজা ও মেলা শুরু

Update Time : 07:52:19 am, Wednesday, 15 April 2026

কমলগঞ্জ প্রতিনিধি: মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার ১নং রহিমপুর ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী ছয়চিরি দিঘীর পাড়ে দুই শত বছরের প্রাচীন চড়ক পূজা ও মেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) চৈত্র সংক্রান্তি ও পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে আয়োজিত এই উৎসবকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার সকাল থেকেই পুরো এলাকা জনসমুদ্রে পরিণত হয়।
তান্ত্রিক রীতিনীতি ও রোমাঞ্চকর আচার আজকের উৎসবের মূল আকর্ষণ ছিল চড়ক গাছে ভক্তদের ঘোরানো এবং বিভিন্ন অলৌকিক ও রোমাঞ্চকর কর্মকা-। গত ১০-১২ দিন ধরে ব্রত পালনকারী ৪০-৫০ জন সন্ন্যাসী আজ তাদের কৃচ্ছ্রসাধন শেষ করেন। জ্বলন্ত আগুনের ওপর ‘কালীনাচ’ এবং ধারালো দায়ের ওপর ‘শিব শয্যা’র মতো রোমাঞ্চকর তান্ত্রিক আচারগুলো উপস্থিত হাজার হাজার দর্শককে বিমোহিত করে।


দিঘীর উত্তর, পূর্ব ও দক্ষিণ পাড়ে স্থাপিত ৪টি চড়ক গাছে সন্ন্যাসীরা পিঠে বড়শি গেঁথে ঘোরার দৃশ্য দেখতে দেশ-বিদেশের পর্যটক ও পুণ্যার্থীরা ভিড় জমান। ভক্তরা ভক্তিভরে চড়ক গাছে ফুল, দুধ ও চিনি দিয়ে পূজা নিবেদন করেন।
পূজা উপলক্ষে দিঘীর চারপাশ জুড়ে বসেছে বিশাল গ্রামীণ মেলা। নাগরদোলা, মাটির তৈরি তৈজসপত্র, বাঁশ-বেতের সামগ্রী এবং খৈ-বাতাসার দোকানে ছিল উপচে পড়া ভিড়। চড়ক পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি অনিরুদ্ধ প্রসাদ রায় চৌধুরী বলেন, “আজকের এই জনস্রোত প্রমাণ করে যে এটি কেবল হিন্দুদের উৎসব নয়, এটি জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক মহামিলনমেলায় পরিণত হয়েছে।”
আজকের অনুষ্ঠান শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে মেলা প্রাঙ্গণে ছিল প্রশাসনের কড়া নজরদারি। প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ছাড়াও জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য দুরুদ আহমদ, সাবেক পৌর কাউন্সিলর স্বাগত কিশোর দাশ চৌধুরী, উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি শ্যামল চন্দ্র দাশ, সাধারণ সম্পাদক প্রনীত রঞ্জন দেবনাথ, উপজেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি শংকর লাল সাহাসহ স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গ সহযোগি সংগঠনের নেতাকর্মীরা চড়ক পূজা ও মেলা পরিদর্শন করে পূজারীদের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। পর্যাপ্ত পুলিশ সদস্যের পাশাপাশি, র‌্যাব ও স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক বাহিনীও শৃঙ্খলা রক্ষায় সক্রিয় ছিল।
আগামীকাল ১৫ এপ্রিল বুধবার সমাপনী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দুই দিনব্যাপী এই বর্ণাঢ্য উৎসবের সমাপ্তি ঘটবে।
এদিকে কমলগঞ্জ উপজেলার সীমান্তবর্তী মাধবপুর ইউনিয়নের পাত্রখোলা চা বাগানে মাঠে বুধবার চড়ক পূজা ও মেলা অনুষ্ঠিত হয়। উভয় পূজা ও মেলায় জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে হাজার হাজার বিভিন্ন শ্রেণি পেশার লোকের ঢল নামে।