আন্তর্জাতিক ডেস্ক :: হরমুজ প্রণালীতে স্বাভাবিক নৌ-চলাচল শুরুর উদ্যোগ নিতে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই।
এক টেলিফোন আলাপে ওয়াং ই এই আহ্বান জানিয়েছেন বলে বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) বিবিসির খবরে বলা হয়েছে।
চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, হরমুজ প্রণালীতে ইরানের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তাকে যেমন সম্মান করাও সুরক্ষিত রাখা উচিত, আবার একই সঙ্গে এই জলপথ দিয়ে নৌযান চলাচলের স্বাধীনতা ও নিরাপত্তাও নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
প্রণালীটি উন্মুক্ত রাখার বিষয়ে সর্বসম্মত আগ্রহ রয়েছে উল্লেখ করে ওয়াং ই আরও বলেন, যুদ্ধবিরতি বজায় রাখা এবং আলোচনায় ফেরার পক্ষে চীন সমর্থন দিচ্ছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালী এখন থেকে ‘স্থায়ীভাবে উন্মুক্ত’ রাখা হবে এবং ভবিষ্যতে এটি আর কখনোই অবরুদ্ধ হবে না।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, এই সিদ্ধান্তে চীন সন্তুষ্ট হয়েছে এবং বিষয়টি বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্যও ইতিবাচক হবে।
ট্রাম্পের ভাষায়, তিনি এটি শুধু চীনের জন্য নয়, বরং বিশ্বের স্বার্থেও করছেন।
পোস্টে তিনি আরও দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও চীন পরস্পরের সঙ্গে ‘ভালোভাবে ও বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে’ কাজ করছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি আকস্মিক ইরানে হামলা করে বসে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র। এতে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি, নিরাপত্তা প্রধান আলী লারিজানিসহ অনেক শীর্ষ নেতা নিহত হন। এরপর প্রতিশোধমূলক পাল্টা হামলা চালাতে শুরু করে তেহরান। ফলে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধাবস্থা তৈরি হয়।
পরিস্থিতির অবনতি হতে থাকলে মধ্যস্থতায় এগিয়ে আসে পাকিস্তান। দুপক্ষের মধ্যে যুদ্ধবিরতি হয়। এরপর গত ১০ ও ১১ এপ্রিল পাকিস্তানের ইসলামাবাদে আলোচনায় বসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। কিন্তু সেখানে কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেনি দুপক্ষ। সমঝোতায় পৌঁছাতে না পারার জন্য পরস্পরকে দায়ী করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান।
এই অবস্থায় তেহরানকে চাপে ফেলতে হরমুজ প্রণালী দিয়ে ইরানে জাহাজ চলাচল আটকাতে নৌ অবরোধ শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র। অন্যদিকে ইরানও তাদের অনুমতি ছাড়া হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল করতে দিচ্ছে না।

নিজস্ব প্রতিবেদক 























