হাসান আল মাহমুদ রাজু :- নববর্ষের প্রথম দিনে পহেলা বৈশাখে দিন বিকেল ৫ টায় মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়ায় মুসলিম এইড কমিউনিটি হাসপাতালে রোকন আহমদ-ফাহমিদা আক্তার দম্পতির ঘর আলো করে জন্মগ্রহণ করে একটি পুত্রসন্তান। যদিও এটি তাদের দ্বিতীয় সন্তান। বিয়ের ১ম বছর পর একটি শিশু জন্মগ্রহণের সময়ে মারাযায়। ২ বছর পর এবার এ দম্পতির ঘরে আরও একটি পুত্র সন্তানের জন্ম হয়েছে স্বাভাবিক প্রসবে (নরমাল ডেলিভারিতে)। পুত্র সন্তান হওয়ায় পিতা- মাতা দাদি- নানি- নানাসহ পরিবারের খুবই খুশি। আর পহেলা বৈশাখে সন্তান জন্ম নেওয়ায় সে খুশির মাত্রা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে পুরো পরিবারে।
১৪ এপ্রিল পহেলা বৈশাখের দিন বিকেলে জন্ম নেওয়া এই নবজাতকে নিয়ে একদিন পর ১৫ এপ্রিল বিকেলে বাড়ি ফিরেন পরিবারের সদস্যরা।
এখনও নাম ঠিক না করা এই নবজাতকের পিতা- মাতার বাড়ী কুলাউড়া উপজেলার কর্মধা ইউনিয়নে বুধপাশা গ্রামে।
উপজেলা শহর থেকে তাদের বাড়ির দুরত্ব প্রায় ১৫ কিলোমিটার। ১৪ এপ্রিল পহেলা বৈশাখের দিন দুপুরে ফাহমিদা বেগমের প্রসব ব্যাথা অনুভব হলেই তাকে দ্রুত প্রথমে নিয়ে আসা হয় কুলাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। সরকারি হাসপাতালে থেকে এ রোগীর সিজারের প্রয়োজন হবে বলে জানিয়ে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে রেফার্ড করা হয় বিকেল ৪ টার দিকে।
রোগীর স্বজনরা প্রায় ৩৫ কিলোমিটার দূরবর্তী মৌলভীবাজার জেলা সদর হাসপাতালে না গিয়ে ব্রাহ্মণবাজার মুসলিম এইড কমিউনিটি হাসপাতালে
প্রসূতি ফাহমিদা বেগমকে ভর্তি করান। ভর্তির পর এই হাসপাতালে স্বাভাবিক প্রসবে বিকেল ৫ টার দিকে পুত্র সন্তানের জন্ম হয়। জন্মের একদিন পর হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফেরা নবজাতক শিশু ও মা ফাহমিদা বেগম সুস্থ্য আছেন।
নবজাতকের পিতা রোকন আহমদ জানান, এটি তাদের দ্বিতীয় সন্তান, এক বছর আগে জন্মের সময়ে প্রথম পুত্র সন্তান মারা যায়।
রোকন আহমদ বলেন, মাস্টার্সে পড়াশোনার পাশাপাশি প্রাইভেট টিউশনি ও একটি কম্পিউটার দোকানে চাকরি করে সংসার চালাই| জন্মের সময়ে প্রথম শিশু মারা গেলেও এবার আবার পূত্র সন্তান স্বাভাবিক ডেলিভারী হওয়ার ভালো লাগছে।
রোকন আহমদ আরো বলেন, বুঝিনি যে আজকের এই পহেলা বৈশাখেই আবার আমি ছেলের বাবা হবো। তবে এই দিনে বাবা হতে পেরে আমি অনেক খুশি। এখনও ছেলের নাম রাখা হয়নি। তিনি বলেন, আমার ছেলেকে আমি বড় করে শিক্ষিত করে মানুষের মতো মানুষ করে তুলতে চাই| সরকারি হাসপাতালে যে সেবা পাইনি তবে বেসরকারি হাসপাতালে স্বাভাবিক প্রসব হবে কল্পনাও করতে পারিনি।
নবজাতকের দাদি সুরুতুন নেছা জানান, নববর্ষের দিনে নাতি হওয়ায় তিনি অনেক খুশি| পরিবারের সবাই আনন্দিত।
নবজাতকের নানা সইফুল মিয়া বলেন, সরকারি হাসপাতালে যে ভয় পাইছিলাম। এর থেকে বেসরকারি হাসপাতাল মুসলিম এইডের আন্তরিকতা ও সেবায় ভালো লেগেছে।
কুলাউড়া মুসলিম এইড কমিউনিটি হাসপাতালে মেডিকেল অফিসার ডা: সাইফুর রহমান বলেন, বিকেলে প্রসূতি ভর্তি হলে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে রোগীর সবকিছু স্বাভাবিক পাওয়া যায়। পরে বিকেল ৫ টায় স্বাভাবিক প্রসব করানো হয় রোগীকে। নবজাতক ও মা সুস্থ আছেন। জন্মের সময় বাচ্চার ওজন ছিল ২ কেজি ৫০০ গ্রাম।
কুলাউড়া মুসলিম এইড কমিউনিটি হাসপাতালের অ্যাডমিনের বেলাল আহমদ চৌধুরী বলেন, নববর্ষের দিন আমাদের বেসরকারি হাসপাতালে বাচ্চার জন্ম হওয়ায় আমরা বেশ খুশি। বাচ্চা ভুমিষ্ট হওয়ার পরে ওই দম্পতিকে আমরা নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়েছি। তিনি জানান, বর্তমানে বাচ্চা ও বাচ্চার মা দু’জনেই ভাল এবং সুস্থ রয়েছে|
আমরা সবসময় চেষ্টা করি স্বাভাবিক প্রসব করানোর। বিদেশি দাতা সংস্থা পরিচালিত মুসলিম এইড কমিউনিটি হাসপাতালে মার্চ মাসে ২০ নরমাল ডেলিভারি হয়। খরচও অনেক অনেক কম।
এবিষয়ে কুলাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ( আরএমও) ডা: জেরিন জানান, সরকারি হাসপাতালে দুটি অপারেশন থিয়েটার রয়েছে। তবে প্রসূতি ও স্ত্রীরোগের কনসালটেন্ট পদে ডাক্তার না থাকায় সিজার বন্ধ রয়েছে। স্বাভাবিক প্রসব চালো রয়েছে।
তিনি আরো বলেন মার্চে ২৩ টি ও চলতি মাসের ১৬ এপ্রিল পর্যন্ত ১২ টি স্বাভাবিক প্রসব হয়েছে। জটিল কোনো সমস্যার লক্ষন হলে রোগীকে রেফার্ড করা হয়।

নিজস্ব প্রতিবেদক 

























