হাসান আল মাহমুদ রাজু : মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া উপজেলার ঐতিহ্যবাহী রবিরবাজারের চারিদিকে ড্রেনেজ ব্যবস্থার বেহাল দশা। কুলাউড়া উপজেলার ৬ ইউনিয়নের প্রাণ কেন্দ্র৷ হচ্ছে রবিরবাজার।এই বাজারে প্রতিনিয়ত হাজার হাজার মানুষের উপস্থিতিতে কেনা কাটা, বিক্রেতা ও পথচারীদের আগমন থাকে। রবিরবাজারের কুলাউড়া টু রাজাপুর সড়ক, রবিরবাজার হতে টিলাগাও সড়ক,পূর্ব রবিরবাজার হতে কর্মধা৷ সড়ক গুলো প্রতিনিয়ত যানচলাচলে ব্যস্ত থাকে।এই বাজারে রয়েছে ঐতিহ্যবাহী রবিরবাজার জামে মসজিদ। যে মসজিদে দেশের বিভিন্ন যায়গা থেকে নারী পুরুষ নামাজ আদায় করতে আসেন।প্রতি শুক্রবারে ১৫ হাজার মুসল্লিদের উপস্থিতিতে জুম্মার নামাজ আদায় করা হয়।তাই শুক্রবারে এই বাজারে বেশি ব্যস্ততা দেখা যায় এবং বাজারের ক্রেতা বিক্রেতা ও দর্শনার্থীদের ভীড় দেখা যায়।বাজারে ড্রেনেজ ব্যবস্থার বেহাল দশার মধ্যে যানযট লেগেই থাকে যেন ইটা নিত্যদিনের সঙ্গী।অল্প বৃষ্টি হলে ড্রেনেজ পানি ভরে রাস্তার উপরে প্রায় হাটু উপর পানি থাকে এতে পথচারীদের পথ চলতে বিগ্ন ঘটে।
২৫ এপ্রিল শনিবার সরজমিনে গিয়ে দেখা যায় রবিরবাজারের টিলাগাও সড়কে দু পাশে ড্রেনেজ ব্যবস্থা বিভিন্ন যায়গায় না থাকায় পানি নিষ্কাশন হচ্ছে না। টিলাগাও সড়কে রাস্তার দু পাশে অনেকেই বিল্ডিং করেছেন কিন্তু ড্রেনেজ ব্যবস্থা করেন নাই আবার কিছু জায়গায় গিয়ে দেকগা যায় ছোট পাইপ দিয়ে ড্রেনেজ দিয়েছেন,আবার কোন যায়গায় একিবারে বন্ধ রয়েছে এতে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা হচ্ছে না যার ফলে এলাজায় পানি আটকে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে এতে এলাকার অনেক অসহায় মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। পূর্ব রবিরবাজার সড়ক,মধ্য বাজার সড়ক,দক্ষিণ বাজার সড়ক সহ বাজারের চারি দিকে এবং স্থানীয় এলাকায় ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা হচ্ছে না।এতে চরম ভোগান্তিতে সাধারণ জনগন ও পথচারী। দক্ষিন রবিরবাজারে অবস্থিত আলী আমজদ উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ কিন্তু টিলাগাও সড়কে ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় কলেজের পানি আটকে থাকে এবং এই পানি আটকে থাকার কারনে এলাকার বিভিন্ন বাড়ি ঘর পানি ডুবে এবং বাসা বাড়ির ময়লা আবর্জনার পানি এলাকার কয়েক টি পরিবারের ঘরে প্রবেশ করে এতে তাদের অনেক কষ্টে জীবন যাপন করতে হচ্ছে নিরবে অসহায় হয়ে বসবাস করতে হচ্ছে দেখার কেও নেই।
এই সকল ময়লা আবর্জনা পানির কারনে বিভিন্ন রোগবালাই দেখা দিচ্ছে এবং ঘরে বিতরে পোকামাকর ও সাপ প্রবেশ করে থাকে।তাথে এই সব পরিবার ভয়ভূতি নিয়ে থাকতে হয় সব সময়।দক্ষিণ রবিরবাজার ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় স্থানীয় পৃথিম পাশা এলাকায় বৃষ্টির পানি জমে এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়।এলাকায় অনেক কাচা মাটির ঘর রয়েছে অতি বৃষ্টির কারনে পানি জমে থাকার কারনে গ্রামে অনেক মাটির ঘরের কাচা দেওয়াল ভেঙ্গে যায়। এতে এলাকায় স্থানীয় বাসিন্দারা চরম ভোগান্তিতে আছেন।বিভিন্ন যায়গায় রাস্তার পাশে ড্রেন রয়েছে আবার বন্ধও রয়েছে এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ যায়গায় কিন্তু ড্রেজ ব্যবস্থা নেই। এবং স্থানীয় প্রশাস পৃথিম পাশা ইউনিয়ন পরিষদ বার বার বলার পরও আজও কোন ব্যবস্থা বা উদ্যোগ গ্রহন নেওয়া হয় নি।এতে এতে এলাকা বাসী ক্রুব প্রকাশ করে বলেন স্থানীয় প্রশাসন নিরব ভুমিকায় পালন করে যাচ্ছেন।
স্থানীয় এলাকার জলাবদ্ধতায় ভুক্তভোগী আব্দুল লতিফের পরিবার ক্রুব প্রকাশ করে বলেন, টিলাগাও সড়কে ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় পানি নিষ্কাশন না হওয়ায় আমরা অনেক কষ্টে জীবন যাপন করতে হচ্ছে। আমরা নিরবে এই কষ্টকে মেনে নিয়ে পরিবার নিয়ে ময়লা আবর্জনা পানিতে জলবদ্ধতায় জীবন যাপন করছি।ঘরের বিতরে সাপ আর পোকামাকড় ডুকে যায় এতে আমাদের পরিবারের বাচ্চারা ভয় পায়।আমরা স্থানীয় ভাবে আজও এর সমাধান পাই নাই তাই উপজেলা প্রশাসনের প্রতি যোরদাবী জানাচ্ছি যে দ্রুত এই পানি নিষ্কাশনের জন্য ড্রেজ ব্যবস্থা করে আমাদের কে জলাবদ্ধতা থেকে মুক্ত করুন।
পৃথিম পাশার স্থানীয় এলাকাবাসী, রবিরবাজারের ব্যবসায়ী ও পথচারীরা বলেন, রবিরবাজারে ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় স্থানীয় এলাকা ও বাজারের বিভিন্ন যায়গায় অল্প বৃষ্টির কারনে জলাবদ্ধতা দেখা দেয় এবং বাজারের কিছু ড্রেনেজ পানি ভরে রাস্তার উপর উটে যায় এতে চলাচলে বিগ্ন ঘটে।তাই সরকার ও উপজেলা প্রশাসনের প্রতি যোর দাবী জানাচ্ছি যে রবিরবাজারের ড্রেনেজ ব্যবস্থা করে দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা হক।
রবিরবাজার ব্যবসায়ী সমিতির সহ সভাপতি আব্দুল সেলু বলেন,বাজারের ড্রেনেজ সমস্যায় আমরা অনেক জরজরিত অবস্থায় রয়েছি।বাজারেরে পর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থা নাই যার ফলে অতি বৃষ্টিতে বাজারে পানি উঠে যায় চলাচলে বিগ্ন হয়,এ বিষয় নিয়ে আমরা ব্যবসায়ী সমিতি আমাদের কুলাউড়া এম পি মহোদয় ও ইউ এন ও মহোদয়ের কাছে গিয়েছি এবং অবগত করেছি যাতে দ্রুত এই সমস্যা গুলো সমাধান করা হয়।
এ বিষয়ে পৃথিম পাশা ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সেলিম আহমদ চৌধুরী বলেন, বাজারের পানি নিষ্কাশনের জন্য আমরা অনেক বার চেষ্টা করেছিলাম কিন্তু কিছু যায়গায় বাসা বাড়ির মালিকরা ড্রেনেজ ব্যবস্থা না করায় পানি নিষ্কাশন হচ্ছে না। তাই আমরা এ বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনের সাথে আলোচনা করে ব্যবস্থা গ্রহন করব।
আলী আমজদ উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের অধ্যক্ষ শশাঙ্ক শেখর গোস্বামী বলেন,রবিরবাজারের টিলাগাও সড়কের ড্রেনেজ অবস্থা বন্ধ থাকায় স্কুলের পানি যেতে পারছে না তাই দ্রুত পানি নিষ্কাশনের জন্য এই সড়কের ড্রেনেজ ব্যবস্থা গ্রহন করা হক।
কুলাউড়া উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো: আনিসুল ইসলাম বলেন, রবিরবাজার নিয়ে আমরা কাজ করছি। এলাকার জলাবদ্ধতা ও পানি নিষ্কাশনের জন্য রবিরবাজারের ড্রেনেজ ব্যবস্থার উদ্যোগ গ্রহন করব।

নিজস্ব প্রতিবেদক 


























