ডেস্ক রিপোর্ট : আর্জেন্টিনার লানুসে জন্ম নেওয়া কিংবদন্তি ফুটবল তারকা ডিয়েগো ম্যারাডোনা শুধু আর্জেন্টিনার নয়, নেপলস থেকে শুরু করে গোটা বিশ্বের কোটি কোটি ফুটবলভক্তের হৃদয়ে এক অবিস্মরণীয় নাম।
ফুটবল মেধা যেমন বিশ্বকে মোহিত করেছে, তেমনি তার সাহসী মানবিক অবস্থান অনেককে অনুপ্রাণিত করেছে।
তার খেলাধুলার বাইরেও তিনি ছিলেন অন্যায়ের বিরুদ্ধে স্পষ্ট কণ্ঠস্বর, বিশেষ করে ফিলিস্তিন ইস্যুতে।
ম্যারাডোনা সবসময়ই গরিব মানুষের পাশে ছিলেন। নিজের দেশে দরিদ্র মানুষের জন্য কাজ করেছেন, আবার আন্তর্জাতিক ইস্যুতে জোরালোভাবে মুখ খুলেছেন। ২০১২ সালে তিনি বলেছিলেন, “আমি ফিলিস্তিনিদের এক নম্বর ভক্ত। আমি তাদের শ্রদ্ধা করি, তাদের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করি। আমি ভয় না পেয়ে ফিলিস্তিনকে সমর্থন করি। ” এই বক্তব্য তার লাখো ভক্তের হৃদয় ছুঁয়ে গিয়েছিল।
২০১৪ সালে গাজার ওপর ইসরায়েলের বর্বর হামলার সময় তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, “ইসরায়েল যা করছে তা অত্যন্ত লজ্জাজনক। ” এই সাহসী বক্তব্য বিশ্বজুড়ে আলোচনার জন্ম দেয়।
২০১৮ সালে রাশিয়ায় ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের সঙ্গে সাক্ষাতে তিনি আবেগভরে বলেন, “আমার হৃদয়ে আমি একজন ফিলিস্তিনি। ” এই একটিমাত্র লাইনে ফুটে ওঠে ফিলিস্তিনের প্রতি তার গভীর ভালোবাসা ও সহমর্মিতা।
ম্যারাডোনা শুধু মাঠের জাদুকর ছিলেন না, তিনি ছিলেন প্রতিবাদের প্রতীক। তার মানবিক অবস্থান ও সাহসী উচ্চারণ অনেকের চোখ খুলে দিয়েছিল, বিশেষ করে এমন এক দেশে (আর্জেন্টিনা) যেখানে দীর্ঘদিন ধরে জায়নিস্ট প্রভাব ছিল।
২০২০ সালের ২৫ নভেম্বর, ম্যারাডোনার মৃত্যুতে বিশ্ব হারায় এক কিংবদন্তিকে। তবে তার রেখে যাওয়া বার্তা আজও আমাদের মনে জেগে আছে। “ফিলিস্তিন আমাদের হৃদয়ে”—এই বাক্য শুধু একটি মত নয়, এটি একটি প্রতিজ্ঞা, অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর প্রতিজ্ঞা।
ম্যারাডোনা ছিলেন, আছেন এবং থাকবেন—মানবতার পক্ষে, ফিলিস্তিনের পাশে।
3:32 pm, Tuesday, 19 May 2026
News Title :
দিয়েগো ম্যারাডোনা: ফিলিস্তিনের পক্ষে এক সাহসী কণ্ঠস্বর
-
নিজস্ব প্রতিবেদক - Update Time : 10:58:19 am, Saturday, 12 April 2025
- 187 Time View
Tag :
Popular Post


























