ডেস্ক রিপোর্ট : ঘরের মাঠে দারুণ সময়ই কাটাচ্ছিল বাংলাদেশ দল। কিন্তু জিম্বাবুয়ে গিয়েই হোঁচট খেতে হলো লাল-সবুজ জার্সিধারীদের।
২৫ বছর আগে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ইনিংস ব্যবধানে টেস্ট হারা বাংলাদেশ এই সফরেও গিয়ে অপ্রত্যাশিত পারফরম্যান্স করে হেরেছে ইনিংস ব্যবধানে।
অথচ টানা চারটি টেস্টে প্রভাব বিস্তার করে জেতার সুখস্মৃতি নিয়েই জিম্বাবুয়ে গিয়েছিল তারা।
টেস্টের পর ওয়ানডে ফরম্যাটেও সিরিজ হেরেছে সফরকারীরা। কেবল টি-টোয়েন্টি সিরিজটিই জিততে পেরেছে।
আসন্ন অস্ট্রেলিয়া সিরিজের আগে দলের এমন পারফরম্যান্স অস্বস্তিতে ফেলছে বাংলাদেশকে।
আশরাফুল অবশ্য জিম্বাবুয়ে সিরিজের পারফরম্যান্সকে ফ্লুক হিসেবেই দেখছেন।
বুধবার দেশে ফিরে বিমানবন্দরে আশরাফুল বলেন, ‘এখানে অবশ্যই অতিরিক্ত বাউন্স ছিল। সেই বাউন্সের সঙ্গে মানিয়ে নিতে আমাদের একটু সময় লেগেছে। প্রথম টেস্টে আমরা ভালো করতে পারিনি, তবে তৃতীয় ওয়ানডেতে এসে সেই কন্ডিশনের সঙ্গে অনেকটাই মানিয়ে নিতে পেরেছি। আমার বিশ্বাস, ২০২৭ বিশ্বকাপকে সামনে রেখে আমরা এ ধরনের কন্ডিশনে আরও ভালোভাবে প্রস্তুতি নিতে পারব। এই সফর থেকে পাওয়া অভিজ্ঞতা অস্ট্রেলিয়া সিরিজেও আমাদের কাজে দেবে। গত সাত মাস আমরা হোম কন্ডিশনে ভালো খেলেছি, কিন্তু সম্পূর্ণ ভিন্ন ধরনের কন্ডিশনে মানিয়ে নিতে স্বাভাবিকভাবেই কিছুটা সময় লেগেছে।’
আশরাফুল অনুশীলন ম্যাচ খেলতে না পারাকেও একটি কারণ হিসেবে দেখছেন। তার মতে, জিম্বাবুয়ে একটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলার সুযোগ পেলে ফলাফল ভিন্ন হতে পারত, ‘দেখেন, ওয়ানডে সিরিজটাকে আমরা খুব গুরুত্ব দিয়েই নিয়েছিলাম, কারণ সুপার লিগের পয়েন্টের বিষয় ছিল। সে কারণেই মোস্তাফিজসহ সবাই দলে ছিল। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে ইনজুরির কারণে তারা পুরো সিরিজ খেলতে পারেনি। মোস্তাফিজও দ্বিতীয় ম্যাচের পর আর খেলতে পারেনি। এছাড়া জিম্বাবুয়ের কন্ডিশনও একটি বড় বিষয়। আগে একটি তিন দিনের ম্যাচ বা একটি ওয়ানডে প্রস্তুতি ম্যাচ খেলতে পারলে কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া অনেক সহজ হতো। আমার বিশ্বাস, সেই সুযোগটা থাকলে মূল ম্যাচগুলোর ফল আমাদের পক্ষেও আসতে পারত।’
প্রায় সাত মাস ধরে জাতীয় দলে কোচ হিসেবে আছেন আশরাফুল। তার অধীনে ব্যাটিংয়ে বেশ ভালোই উন্নতি হয়েছে বাংলাদেশের। কিন্তু জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ইনিংস ব্যবধানে টেস্ট হার এবং ওয়ানডে সিরিজ হারের পর তার ভূমিকা নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠছে। আশরাফুল অবশ্য জানালেন, নিজের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টাই তিনি করছেন, ‘এগুলো নিয়ে আমার কোনো প্রতিক্রিয়া নেই। আলহামদুলিল্লাহ, গত সাত মাস ধরে আমাদের ব্যাটাররা দারুণ খেলছে। একটি সিরিজ বা একটি টেস্ট খারাপ যেতেই পারে। এর আগে টানা চারটি টেস্টেই আমাদের ব্যাটসম্যানরা অসাধারণ পারফর্ম করেছে। আমি সবসময় নিজের জায়গা থেকে সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করছি।’
জিম্বাবুয়ের ‘কঠিন কন্ডিশনে’ সিরিজ হারের পর আশরাফুল এখন সামনে তাকিয়েই আছেন। তিনি ইতিবাচক দিকগুলো নিয়েই ভাবছেন, ‘এক-দুটি ম্যাচ হারতেই পারেন, বিশেষ করে যখন কন্ডিশন সম্পূর্ণ ভিন্ন থাকে। গত সাত মাস ধরে দল যেভাবে ভালো ক্রিকেট খেলেছে, সেখানে একটি সিরিজ বা ম্যাচ হারের পর মনোবল হারানোর কোনো কারণ নেই। বরং ভিন্ন কন্ডিশনে খেলে খেলোয়াড়রা মূল্যবান অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে। তানজিম তামিম, তাওহীদ হৃদয় ও রিশাদ হোসেনের জন্য এটি ছিল জিম্বাবুয়ে সফরের প্রথম অভিজ্ঞতা। তারা ধীরে ধীরে কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নিয়েছে। তানজিম তামিম তো অসাধারণ ব্যাটিং করেছে—তিনটি ওয়ানডে ও তিনটি টি-টোয়েন্টি মিলিয়ে টানা চারটি ফিফটি করেছে। তার ব্যাটিং দেখেই বোঝা যাচ্ছিল, সে কন্ডিশনের সঙ্গে দারুণভাবে মানিয়ে নিয়েছে। হারার পর ইতিবাচক দিকগুলো খুঁজে বের করে সেগুলো থেকেই সামনে এগিয়ে যাওয়ার আত্মবিশ্বাস নিতে হবে।’
আগামী মাসের শুরুতে অস্ট্রেলিয়া সফরে যাবে বাংলাদেশ। সেখানে দুটি টেস্ট খেলবে দল। সেই টেস্ট সিরিজের আগে দল পুরোপুরি প্রস্তুত হয়ে যাবে বলে মনে করেন আশরাফুল, ‘সামনে অস্ট্রেলিয়ায় দুটি ঐতিহাসিক টেস্ট—অনেক বছর পর সেখানে খেলতে যাচ্ছি, তাই চ্যালেঞ্জটা অবশ্যই কঠিন হবে। তবে ইতিবাচক দিক হলো, আমরা ১০-১২ দিন আগেই সেখানে পৌঁছাব এবং একটি তিন দিনের প্রস্তুতি ম্যাচ খেলার সুযোগ থাকবে। আশা করি, সবাই সুস্থ থাকলে দুটি টেস্টেই আমরা ভালো করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করতে পারব।’

নিজস্ব প্রতিবেদক 

























