1:57 am, Thursday, 23 July 2026

শিরোপা হারিয়ে মাঠেই হাতাহাতি, ফিফার কঠিন শাস্তির মুখে আর্জেন্টিনা?

ডেস্ক রিপোর্ট : বিশ্বকাপ ফাইনালে স্পেনের কাছে হারের পর মাঠেই অপ্রীতিকর ঘটনার জন্ম দিয়েছেন আর্জেন্টিনার কয়েকজন খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফ। ম্যাচ শেষের বাঁশি বাজার পর স্পেনের ফুটবলাররা যখন শিরোপা উদযাপনে ব্যস্ত, তখন হতাশায় মাঠে লুটিয়ে পড়েন লিওনেল মেসিসহ আর্জেন্টিনার কয়েকজন খেলোয়াড়।

এর মধ্যেই দুই দলের সদস্যদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে, যা দ্রুত ধাক্কাধাক্কি ও হাতাহাতিতে রূপ নেয়।
টেলিভিশন রিপ্লেতে দেখা যায়, স্পেনের মিডফিল্ডার রদ্রি অতিরিক্ত সময়ের পর বদলি হয়ে বেঞ্চ থেকে সতীর্থদের সঙ্গে উদযাপনে যোগ দিতে যাওয়ার সময় আর্জেন্টিনার ডিফেন্ডার নাহুয়েল মোলিনা তার হাতে বা পেটে ঘুষি মারেন।

এরপর রদ্রি প্রতিবাদ করলে দুজনের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। সেই সময় স্পেনের ডিফেন্ডার এরিক গার্সিয়া এগিয়ে এলে আর্জেন্টিনার লিয়ান্দ্রো পারেদেস তাকে গলায় আঘাত করেন বলে দেখা যায়।

পরিস্থিতি শান্ত করতে এগিয়ে আসা স্পেনের বদলি খেলোয়াড় গাভিকেও থিয়াগো আলমাদা মাটিতে ফেলে দেন। পরে পারেদেসও গাভির মুখে হাত দিয়ে ধাক্কা মেরে ফেলে দেন।

এ সময় আর্জেন্টিনার সহকারী কোচ রবার্তো আয়ালাকে এরিক গার্সিয়ার গলা চেপে ধরতে এবং পরে স্পেনের মিডফিল্ডার দানি ওলমোকে আঘাত করতে দেখা যায়।
ম্যাচ-পরবর্তী এই আচরণের তীব্র সমালোচনা করেছেন বিবিসির বিশ্লেষক ও ইংল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক অ্যালান শিয়ারার।

তিনি বলেন, ‘পারেদেস দুই-তিনটি ঘুষি ছুড়েছে। ফুটবলে এমন আচরণের কোনো জায়গা নেই। হার কষ্টের হতে পারে, কিন্তু হার মেনে নেওয়ারও একটি উপায় আছে।’

সাবেক ইংল্যান্ড গোলরক্ষক জো হার্টও আর্জেন্টিনার আচরণকে ‘নিন্দনীয়’ বলে মন্তব্য করেন।

তবে আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনি ঘটনাটিকে বড় করে দেখতে চাননি।

তিনি বলেন, ‘আমরা ম্যাচ হেরেছি এবং সেটি মেনে নিয়েছি। হার মানেই সবকিছু ভুলে যাওয়া নয়।’

এই ঘটনার জেরে ফিফার শৃঙ্খলা কমিটি তদন্ত শুরু করতে পারে। প্রয়োজন হলে একজন শৃঙ্খলা ও নৈতিকতা বিষয়ক প্রসিকিউটর নিয়োগ করে পুরো ঘটনার বিস্তারিত পর্যালোচনা করা হবে। ফিফার শৃঙ্খলা বিধির ১৩ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, খেলোয়াড় বা কর্মকর্তাদের আচরণ যদি সৌজন্যের মৌলিক নীতি লঙ্ঘন করে বা ফুটবল ও ফিফার সুনাম ক্ষুণ্ন করে, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।

তদন্তে ঘটনার সব দিক, সংশ্লিষ্টদের আচরণ এবং পরিস্থিতি বিবেচনা করা হবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে খেলোয়াড় বা কর্মকর্তাদের ম্যাচ নিষেধাজ্ঞা, জরিমানা কিংবা বিশ্বব্যাপী কার্যকর বিভিন্ন ধরনের শাস্তি দিতে পারে ফিফা।

Tag :
About Author Information

Sirajul Islam

একনেক সভায় ১৪ হাজার ৪১ কোটি টাকার ৮ প্রকল্প অনুমোদন

শিরোপা হারিয়ে মাঠেই হাতাহাতি, ফিফার কঠিন শাস্তির মুখে আর্জেন্টিনা?

Update Time : 07:57:45 am, Tuesday, 21 July 2026

ডেস্ক রিপোর্ট : বিশ্বকাপ ফাইনালে স্পেনের কাছে হারের পর মাঠেই অপ্রীতিকর ঘটনার জন্ম দিয়েছেন আর্জেন্টিনার কয়েকজন খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফ। ম্যাচ শেষের বাঁশি বাজার পর স্পেনের ফুটবলাররা যখন শিরোপা উদযাপনে ব্যস্ত, তখন হতাশায় মাঠে লুটিয়ে পড়েন লিওনেল মেসিসহ আর্জেন্টিনার কয়েকজন খেলোয়াড়।

এর মধ্যেই দুই দলের সদস্যদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে, যা দ্রুত ধাক্কাধাক্কি ও হাতাহাতিতে রূপ নেয়।
টেলিভিশন রিপ্লেতে দেখা যায়, স্পেনের মিডফিল্ডার রদ্রি অতিরিক্ত সময়ের পর বদলি হয়ে বেঞ্চ থেকে সতীর্থদের সঙ্গে উদযাপনে যোগ দিতে যাওয়ার সময় আর্জেন্টিনার ডিফেন্ডার নাহুয়েল মোলিনা তার হাতে বা পেটে ঘুষি মারেন।

এরপর রদ্রি প্রতিবাদ করলে দুজনের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। সেই সময় স্পেনের ডিফেন্ডার এরিক গার্সিয়া এগিয়ে এলে আর্জেন্টিনার লিয়ান্দ্রো পারেদেস তাকে গলায় আঘাত করেন বলে দেখা যায়।

পরিস্থিতি শান্ত করতে এগিয়ে আসা স্পেনের বদলি খেলোয়াড় গাভিকেও থিয়াগো আলমাদা মাটিতে ফেলে দেন। পরে পারেদেসও গাভির মুখে হাত দিয়ে ধাক্কা মেরে ফেলে দেন।

এ সময় আর্জেন্টিনার সহকারী কোচ রবার্তো আয়ালাকে এরিক গার্সিয়ার গলা চেপে ধরতে এবং পরে স্পেনের মিডফিল্ডার দানি ওলমোকে আঘাত করতে দেখা যায়।
ম্যাচ-পরবর্তী এই আচরণের তীব্র সমালোচনা করেছেন বিবিসির বিশ্লেষক ও ইংল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক অ্যালান শিয়ারার।

তিনি বলেন, ‘পারেদেস দুই-তিনটি ঘুষি ছুড়েছে। ফুটবলে এমন আচরণের কোনো জায়গা নেই। হার কষ্টের হতে পারে, কিন্তু হার মেনে নেওয়ারও একটি উপায় আছে।’

সাবেক ইংল্যান্ড গোলরক্ষক জো হার্টও আর্জেন্টিনার আচরণকে ‘নিন্দনীয়’ বলে মন্তব্য করেন।

তবে আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনি ঘটনাটিকে বড় করে দেখতে চাননি।

তিনি বলেন, ‘আমরা ম্যাচ হেরেছি এবং সেটি মেনে নিয়েছি। হার মানেই সবকিছু ভুলে যাওয়া নয়।’

এই ঘটনার জেরে ফিফার শৃঙ্খলা কমিটি তদন্ত শুরু করতে পারে। প্রয়োজন হলে একজন শৃঙ্খলা ও নৈতিকতা বিষয়ক প্রসিকিউটর নিয়োগ করে পুরো ঘটনার বিস্তারিত পর্যালোচনা করা হবে। ফিফার শৃঙ্খলা বিধির ১৩ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, খেলোয়াড় বা কর্মকর্তাদের আচরণ যদি সৌজন্যের মৌলিক নীতি লঙ্ঘন করে বা ফুটবল ও ফিফার সুনাম ক্ষুণ্ন করে, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।

তদন্তে ঘটনার সব দিক, সংশ্লিষ্টদের আচরণ এবং পরিস্থিতি বিবেচনা করা হবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে খেলোয়াড় বা কর্মকর্তাদের ম্যাচ নিষেধাজ্ঞা, জরিমানা কিংবা বিশ্বব্যাপী কার্যকর বিভিন্ন ধরনের শাস্তি দিতে পারে ফিফা।