12:38 am, Friday, 22 May 2026

বড়লেখার ২ যুবককে ভারত পাচারের অভিযোগে গ্রেফতার ২

বড়লেখা প্রতিনিধি:

বড়লেখায় উপজেলার সীমান্ত এলাকার দুই যুবককে কাজের কথা বলে ভারতে পাচারের অভিযোগ ওঠেছে। এ ঘটনায় রোববার রাতে ১০ জনের নাম উল্লেখ করে মানব পাচার আইনে থানায় মামলা করেছেন ভারতীয় পুলিশের হাতে গ্রেফতার আব্দুল কাদিরের মা নেছা বেগম। মামলার প্রেক্ষিতে পুলিশ সোমবার সকালে আব্দুল মালিক (৩৬) ও মঙ্গলবার সকালে রুবেল আহমদ নামক দুই আসামিকে গ্রেফতার করেছে।

এদিকে, মানব পাচার মামলার দুই নম্বর আসামি ডিমাই গ্রামের ফখর উদ্দিনের স্ত্রী রুনা বেগম অভিযোগ করেন, মঙ্গলবার দুপুরে ৫/৬টি মোটরসাইকেল যোগে সাবুল মেম্বার, সুনাম, রিপন, জয়নুলের নেতৃত্বে ১০/১২ জন তাদের বাড়িতে গিয়ে হামলা ভাঙচুরের চেষ্টা চালিয়ে বাড়িঘর পুড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়েছে। এদের মহড়ার ভিডিও ফোটেজ তিনি সংরক্ষণ করেছেন। এব্যাপারে তিনি থানায় মামলা দিতে গেছেন।

তবে, স্থানীয় একাধিক সূত্র জানিয়েছে, ভারতীয় গরু-মহিষ চোরাচালানের জন্য তিন যুবককে চোরকারবারিরা ভারতে পাঠিয়েছিল। এদের দুইজনকে ভারতীয় পুলিশ গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠিয়েছে। অপর যুবক কৌশলে ফিরে এসে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে নির্যাতন ও মুক্তিপন দাবির অভিযোগ করায় ভারতে গ্রেফতার যুবক আব্দুল কাদিরের মা মানব পাচার আইনে থানায় মামলা করেন। পাচারের শিকার যুবকরা হলেন- উপজেলার সদর ইউনিয়নের ডিমাই গ্রামের তাজ উদ্দিনের ছেলে মো. আব্দুল কাদির (২৩) ও একই ইউনিয়নের পূর্ব সাতকরাকান্দি গ্রামের আব্দুল শুক্কুরের ছেলে গিয়াস উদ্দিন (৩৫)। কৌশলে ফিরে আসা যুবকের নাম শাহিন আহমদ (১৮)। সে বড়লেখা সদর ইউনিয়নের ডিমাই গ্রামের আব্দুল আজিজের ছেলে।

মামলার আসামিরা হলেন- বড়লেখা সদর ইউনিয়নের কেছরিগুল গ্রামের সরফ উদ্দিন নবাব (৪০), ডিমাই গ্রামের ফখর উদ্দিন (৩৮), আব্দুল খালিক (৪০), কুটু মিয়া (৩৮), আব্দুল শুকুর (৪০), খয়রুল ইসলাম (৩৯), আব্দুল মালিক (৩৬), কেছরিগুল গ্রামের ইছহাক আলী (৪২), ডিমাই গ্রামের ইমাম উদ্দিন (৪০), গৌরনগর গ্রামের রুবেল আহমদ (৩৫)।

এদিকে মামলার প্রধান আসামি শরফ উদ্দিন নবাব মুঠোফোনে জানান, ওই তিন যুবকের সাথে তার কোনো সম্পর্ক নেই। তিনি তাদের ডেকে আনেননি, ভারতেও পাঠাননি। আমি পাঠিয়ে থাকলেও কোনো না কোনোভাবে তাদের সাথে আমার যোগাযোগ থাকতো। তাদের মুঠোফোন যাচাই করে দেখা যেতে পারে তাদের কথিত অভিযোগের সাথে আমার কোনো সম্পৃক্ততা রয়েছে কি-না। পূর্ব-বিরোধের জেরে সাবুল ও তার এক নিয়ন্ত্রক পরিকল্পিতভাবে ঘটনা সাজিয়ে তার বিরুদ্ধে মামলা দিয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন উপজেলা যুবলীগের সহসভাপতি সাবুল আহমদ দুইটি রাজনৈতিক মামলার এজাহার নামীয় আসামি স্বত্ত্বেও সে থানায় যায়, পুলিশের সাথে উঠাবসা করে। কিন্তু পুলিশ নাকি জানে না, সে কোনো মামলার আসামি!

মামলা সূত্রে জানা গেছে, ৫ এপ্রিল ভোররাতে মামলার এজাহার নামীয় আসামিরা ডিমাই গ্রামের তাজ উদ্দিনের ছেলে আব্দুল কাদিরের বাড়িতে গিয়ে কাজ আছে জানিয়ে গভীর রাতে আব্দুল কাদির ও তার প্রতিবেশী শাহিন আহমদকে বাড়ি থেকে নিয়ে যায়। একই গ্রুপ (আসামিরা) গিয়াস উদ্দিন নামের আরও এক যুবককে তার বাড়ি থেকে ডেকে আনে। পরদিন দুপুরে শাহিন আহমদ আহত অবস্থায় বাড়িতে ফিরে স্বজনদের জানায়, আসামিরা আব্দুল কাদির ও গিয়াস উদ্দিনকে টাকার লোভে অবৈধভাবে ভারত পাঠিয়ে দিয়েছে। অবৈধভাবে ভারত পাঠানোর সময় শাহিন আহমদ আসামিদের কবল হতে কৌশলে পালিয়ে আসলেও আব্দুল কাদির ও গিয়াস উদ্দিন ভারতীয় পুলিশের হাতে আটক হয়।

মামলার বাদী নেছা বেগম বলেন, শাহিন ফিরে এসে তাদের উপর চালানো নির্যাতনের খবর জানায়। এরমধ্যে আমার ছেলে কাদির ও গিয়াসের উপর ভারতে নির্যাতন চালানোর ভিডিও ফেসবুকে দেখতে পাই। এরপর আসামিদের অনেক আকুতি-মিনতি করি। কিন্তু আসামিরা আমার নিকট ৬ লাখ টাকা মুক্তিপন দাবি করে।

থানার ওসি আবুল কাশেম সরকার জানান, এ মামলার এজাহার নামীয় আরেক আসামি রুবেল আহমদকে মঙ্গলবার সকালে গৌরনগর এলাকা থেকে গ্রেফতার করে বিকেলে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

Tag :
About Author Information

Sirajul Islam

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে রক্তপাত বন্ধ করাই চ্যালেঞ্জ: সিইসি

বড়লেখার ২ যুবককে ভারত পাচারের অভিযোগে গ্রেফতার ২

Update Time : 12:59:53 pm, Tuesday, 8 April 2025

বড়লেখা প্রতিনিধি:

বড়লেখায় উপজেলার সীমান্ত এলাকার দুই যুবককে কাজের কথা বলে ভারতে পাচারের অভিযোগ ওঠেছে। এ ঘটনায় রোববার রাতে ১০ জনের নাম উল্লেখ করে মানব পাচার আইনে থানায় মামলা করেছেন ভারতীয় পুলিশের হাতে গ্রেফতার আব্দুল কাদিরের মা নেছা বেগম। মামলার প্রেক্ষিতে পুলিশ সোমবার সকালে আব্দুল মালিক (৩৬) ও মঙ্গলবার সকালে রুবেল আহমদ নামক দুই আসামিকে গ্রেফতার করেছে।

এদিকে, মানব পাচার মামলার দুই নম্বর আসামি ডিমাই গ্রামের ফখর উদ্দিনের স্ত্রী রুনা বেগম অভিযোগ করেন, মঙ্গলবার দুপুরে ৫/৬টি মোটরসাইকেল যোগে সাবুল মেম্বার, সুনাম, রিপন, জয়নুলের নেতৃত্বে ১০/১২ জন তাদের বাড়িতে গিয়ে হামলা ভাঙচুরের চেষ্টা চালিয়ে বাড়িঘর পুড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়েছে। এদের মহড়ার ভিডিও ফোটেজ তিনি সংরক্ষণ করেছেন। এব্যাপারে তিনি থানায় মামলা দিতে গেছেন।

তবে, স্থানীয় একাধিক সূত্র জানিয়েছে, ভারতীয় গরু-মহিষ চোরাচালানের জন্য তিন যুবককে চোরকারবারিরা ভারতে পাঠিয়েছিল। এদের দুইজনকে ভারতীয় পুলিশ গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠিয়েছে। অপর যুবক কৌশলে ফিরে এসে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে নির্যাতন ও মুক্তিপন দাবির অভিযোগ করায় ভারতে গ্রেফতার যুবক আব্দুল কাদিরের মা মানব পাচার আইনে থানায় মামলা করেন। পাচারের শিকার যুবকরা হলেন- উপজেলার সদর ইউনিয়নের ডিমাই গ্রামের তাজ উদ্দিনের ছেলে মো. আব্দুল কাদির (২৩) ও একই ইউনিয়নের পূর্ব সাতকরাকান্দি গ্রামের আব্দুল শুক্কুরের ছেলে গিয়াস উদ্দিন (৩৫)। কৌশলে ফিরে আসা যুবকের নাম শাহিন আহমদ (১৮)। সে বড়লেখা সদর ইউনিয়নের ডিমাই গ্রামের আব্দুল আজিজের ছেলে।

মামলার আসামিরা হলেন- বড়লেখা সদর ইউনিয়নের কেছরিগুল গ্রামের সরফ উদ্দিন নবাব (৪০), ডিমাই গ্রামের ফখর উদ্দিন (৩৮), আব্দুল খালিক (৪০), কুটু মিয়া (৩৮), আব্দুল শুকুর (৪০), খয়রুল ইসলাম (৩৯), আব্দুল মালিক (৩৬), কেছরিগুল গ্রামের ইছহাক আলী (৪২), ডিমাই গ্রামের ইমাম উদ্দিন (৪০), গৌরনগর গ্রামের রুবেল আহমদ (৩৫)।

এদিকে মামলার প্রধান আসামি শরফ উদ্দিন নবাব মুঠোফোনে জানান, ওই তিন যুবকের সাথে তার কোনো সম্পর্ক নেই। তিনি তাদের ডেকে আনেননি, ভারতেও পাঠাননি। আমি পাঠিয়ে থাকলেও কোনো না কোনোভাবে তাদের সাথে আমার যোগাযোগ থাকতো। তাদের মুঠোফোন যাচাই করে দেখা যেতে পারে তাদের কথিত অভিযোগের সাথে আমার কোনো সম্পৃক্ততা রয়েছে কি-না। পূর্ব-বিরোধের জেরে সাবুল ও তার এক নিয়ন্ত্রক পরিকল্পিতভাবে ঘটনা সাজিয়ে তার বিরুদ্ধে মামলা দিয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন উপজেলা যুবলীগের সহসভাপতি সাবুল আহমদ দুইটি রাজনৈতিক মামলার এজাহার নামীয় আসামি স্বত্ত্বেও সে থানায় যায়, পুলিশের সাথে উঠাবসা করে। কিন্তু পুলিশ নাকি জানে না, সে কোনো মামলার আসামি!

মামলা সূত্রে জানা গেছে, ৫ এপ্রিল ভোররাতে মামলার এজাহার নামীয় আসামিরা ডিমাই গ্রামের তাজ উদ্দিনের ছেলে আব্দুল কাদিরের বাড়িতে গিয়ে কাজ আছে জানিয়ে গভীর রাতে আব্দুল কাদির ও তার প্রতিবেশী শাহিন আহমদকে বাড়ি থেকে নিয়ে যায়। একই গ্রুপ (আসামিরা) গিয়াস উদ্দিন নামের আরও এক যুবককে তার বাড়ি থেকে ডেকে আনে। পরদিন দুপুরে শাহিন আহমদ আহত অবস্থায় বাড়িতে ফিরে স্বজনদের জানায়, আসামিরা আব্দুল কাদির ও গিয়াস উদ্দিনকে টাকার লোভে অবৈধভাবে ভারত পাঠিয়ে দিয়েছে। অবৈধভাবে ভারত পাঠানোর সময় শাহিন আহমদ আসামিদের কবল হতে কৌশলে পালিয়ে আসলেও আব্দুল কাদির ও গিয়াস উদ্দিন ভারতীয় পুলিশের হাতে আটক হয়।

মামলার বাদী নেছা বেগম বলেন, শাহিন ফিরে এসে তাদের উপর চালানো নির্যাতনের খবর জানায়। এরমধ্যে আমার ছেলে কাদির ও গিয়াসের উপর ভারতে নির্যাতন চালানোর ভিডিও ফেসবুকে দেখতে পাই। এরপর আসামিদের অনেক আকুতি-মিনতি করি। কিন্তু আসামিরা আমার নিকট ৬ লাখ টাকা মুক্তিপন দাবি করে।

থানার ওসি আবুল কাশেম সরকার জানান, এ মামলার এজাহার নামীয় আরেক আসামি রুবেল আহমদকে মঙ্গলবার সকালে গৌরনগর এলাকা থেকে গ্রেফতার করে বিকেলে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।