12:18 am, Friday, 22 May 2026

মমতাজ যেভাবে গায়িকা থেকে হয়ে উঠলেন ফ্যাসিস্টের দোসর

বিনোদন ডেস্ক :: বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গণমাধ্যম ও জনসংযোগ বিভাগের উপকমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান।

 

তিনি জানান, রাজধানীর ধানমন্ডির স্টার কাবাবের পেছনের একটি বাসায় আত্মগোপনে ছিলেন মমতাজ বেগম। সেখান থেকে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলাসহ একটি হত্যা মামলাও রয়েছে।

ডিবির যুগ্ম কমিশনার মোহাম্মদ নাসিরুল ইসলাম জানান, আওয়ামী লীগের সাবেক এই এমপির বিরুদ্ধে রাজধানী ও মানিকগঞ্জে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের হত্যাসহ একাধিক মামলা রয়েছে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সোমবার রাত ১২টার কিছু সময় আগে ধানমন্ডির স্টার কাবাবের পেছনের একটি বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মমতাজকে ডিবি কার্যালয়ে রাখা হয়েছে।

মমতাজ বাংলা লোকগানের জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী। অনেকে তাকে ফোক সম্রাজ্ঞী বলেও ডাকেন। মানিকগঞ্জের ধলেশ্বরী নদীর পাড়ের চরদুর্গাপুর গ্রামে তিনি বড় হয়েছেন। বাবা ছিলেন বাউল। গাও গেরামে এক সাদামাটা কণ্ঠশিল্পী থেকে হালের আলোচিত রাজনীতিবিদ ও পতিত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য মমতাজের উত্থানের গল্প বেশ চমকপ্রদ।

১৯৭৪ সালের ৫ মে মানিকগঞ্জ জেলার সিঙ্গাইর উপজেলায় জন্মগ্রহণ করেন মমতাজ। তার মা উজালা বেগম। বাবা মধু বয়াতি ছিলেন বাউলশিল্পী। মমতাজ প্রথম জীবনে বাবা মধু বয়াতি, পরে মাতাল রাজ্জাক দেওয়ান, শেষে লোকগানের শিক্ষক আবদুর রশীদ সরকারের কাছে গান শেখেন।

বাংলা লোকগানকে নতুন মাত্রা দিয়েছেন মমতাজ। ভক্তদের ভালোবাসায় গ্রামগঞ্জ থেকে ছড়িয়ে গেছে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও। দুই দশকের বেশি তার পেশাদারি সংগীতজীবনে ৭০০টির বেশি একক অ্যালবাম প্রকাশ পায়। এগুলোর মধ্যে জনপ্রিয়তার শীর্ষে রয়েছে অগণিত গান। তিনি গান করেছেন চলচ্চিত্রেও।

 

শুধু গান নয়, অভিনয়ও করেছেন তিনি একটি সিনেমায়। ২০০৫ সালে উত্তম আকাশ পরিচালনা করেছেন ‘মমতাজ’ নামের সিনেমা। সেখানে নাম ভূমিকায় অভিনয় করে দর্শকের মন জয় করেছিলেন গায়িকা মমতাজ। সেটি ছিল মূলত মমতাজেরই জীবনের গল্প। ছবিতে মমতাজের বিখ্যাত শিল্পী হয়ে ওঠার কাহিনিই তুলে ধরা হয়েছে। ছবিটিতে মমতাজের সঙ্গে অভিনয় করেছেন হুমায়ূন ফরীদি, আনোয়ারা, প্রবীর মিত্র, মাসুম আজিজ, সুব্রত, হেলাল খান, আনিস, আফজাল শরীফ, কাবিলার মতো তারকারা।

একটা সময় মূলধারার রাজনীতির সঙ্গে জড়িয়ে যান মমতাজ। জানা যায়, তিনি প্রথমে বিএনপিতে যোগ দিতে চেয়েছিলেন। সেখানে সুযোগ না পেয়ে পরে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে যোগ দেন। এরপরই বদলে যেতে থাকে তার ভাগ্য। তেলবাজির গান ও চটুল কথাবার্তা দিয়ে দলের প্রধান শেখ হাসিনার কাছের মানুষ হয়ে ওঠেন। পেয়ে যান জাতীয় সংসদ নির্বাচনের টিকিটও।

২০০৮ সালে নবম জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত মহিলা আসনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য মনোনীত হন। ২০১৮ সালে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি মানিকগঞ্জ-২ আসন থেকে নির্বাচিত হন। তবে ২০২৪ সালে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি একই আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থীর কাছে হেরে যান তিনি। তারপর থেকেই ধীরে ধীরে রাজনীতির আড়ালে চলে যান। আবারও মন দিয়েছিলেন সংগীতে।

 

গত বছরের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর থেকে আত্মগোপনে চলে যান তিনি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে বেশ সক্রিয় ছিলেন মমতাজ। প্রায় প্রতিদিনই কিছু না কিছু লিখতেন, বলতেন। ১৬ জুলাইয়ের পর তার ফেসবুক পেজেও আর কোনো পোস্ট ছিল না।

এরপর গত বছরের ১৩ অক্টোবর রাতে নিজের ফেসবুক পেইজে একটি গান পোস্ট করেন। ‘আমার হাত বান্ধিবি, পা বান্ধিবি, মন বান্ধিবি কেমনে’ – এই গান প্রকাশের পরই সামাজিক মাধ্যমে শোরগোল ওঠে তাকে নিয়ে। ফ্যাসিবাদের দোসর মমতাজকে কেন গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না সে নিয়েও ওঠে আলোচনা।

 

Tag :
About Author Information

Sirajul Islam

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে রক্তপাত বন্ধ করাই চ্যালেঞ্জ: সিইসি

মমতাজ যেভাবে গায়িকা থেকে হয়ে উঠলেন ফ্যাসিস্টের দোসর

Update Time : 10:23:21 am, Tuesday, 13 May 2025

বিনোদন ডেস্ক :: বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গণমাধ্যম ও জনসংযোগ বিভাগের উপকমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান।

 

তিনি জানান, রাজধানীর ধানমন্ডির স্টার কাবাবের পেছনের একটি বাসায় আত্মগোপনে ছিলেন মমতাজ বেগম। সেখান থেকে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলাসহ একটি হত্যা মামলাও রয়েছে।

ডিবির যুগ্ম কমিশনার মোহাম্মদ নাসিরুল ইসলাম জানান, আওয়ামী লীগের সাবেক এই এমপির বিরুদ্ধে রাজধানী ও মানিকগঞ্জে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের হত্যাসহ একাধিক মামলা রয়েছে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সোমবার রাত ১২টার কিছু সময় আগে ধানমন্ডির স্টার কাবাবের পেছনের একটি বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মমতাজকে ডিবি কার্যালয়ে রাখা হয়েছে।

মমতাজ বাংলা লোকগানের জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী। অনেকে তাকে ফোক সম্রাজ্ঞী বলেও ডাকেন। মানিকগঞ্জের ধলেশ্বরী নদীর পাড়ের চরদুর্গাপুর গ্রামে তিনি বড় হয়েছেন। বাবা ছিলেন বাউল। গাও গেরামে এক সাদামাটা কণ্ঠশিল্পী থেকে হালের আলোচিত রাজনীতিবিদ ও পতিত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য মমতাজের উত্থানের গল্প বেশ চমকপ্রদ।

১৯৭৪ সালের ৫ মে মানিকগঞ্জ জেলার সিঙ্গাইর উপজেলায় জন্মগ্রহণ করেন মমতাজ। তার মা উজালা বেগম। বাবা মধু বয়াতি ছিলেন বাউলশিল্পী। মমতাজ প্রথম জীবনে বাবা মধু বয়াতি, পরে মাতাল রাজ্জাক দেওয়ান, শেষে লোকগানের শিক্ষক আবদুর রশীদ সরকারের কাছে গান শেখেন।

বাংলা লোকগানকে নতুন মাত্রা দিয়েছেন মমতাজ। ভক্তদের ভালোবাসায় গ্রামগঞ্জ থেকে ছড়িয়ে গেছে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও। দুই দশকের বেশি তার পেশাদারি সংগীতজীবনে ৭০০টির বেশি একক অ্যালবাম প্রকাশ পায়। এগুলোর মধ্যে জনপ্রিয়তার শীর্ষে রয়েছে অগণিত গান। তিনি গান করেছেন চলচ্চিত্রেও।

 

শুধু গান নয়, অভিনয়ও করেছেন তিনি একটি সিনেমায়। ২০০৫ সালে উত্তম আকাশ পরিচালনা করেছেন ‘মমতাজ’ নামের সিনেমা। সেখানে নাম ভূমিকায় অভিনয় করে দর্শকের মন জয় করেছিলেন গায়িকা মমতাজ। সেটি ছিল মূলত মমতাজেরই জীবনের গল্প। ছবিতে মমতাজের বিখ্যাত শিল্পী হয়ে ওঠার কাহিনিই তুলে ধরা হয়েছে। ছবিটিতে মমতাজের সঙ্গে অভিনয় করেছেন হুমায়ূন ফরীদি, আনোয়ারা, প্রবীর মিত্র, মাসুম আজিজ, সুব্রত, হেলাল খান, আনিস, আফজাল শরীফ, কাবিলার মতো তারকারা।

একটা সময় মূলধারার রাজনীতির সঙ্গে জড়িয়ে যান মমতাজ। জানা যায়, তিনি প্রথমে বিএনপিতে যোগ দিতে চেয়েছিলেন। সেখানে সুযোগ না পেয়ে পরে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে যোগ দেন। এরপরই বদলে যেতে থাকে তার ভাগ্য। তেলবাজির গান ও চটুল কথাবার্তা দিয়ে দলের প্রধান শেখ হাসিনার কাছের মানুষ হয়ে ওঠেন। পেয়ে যান জাতীয় সংসদ নির্বাচনের টিকিটও।

২০০৮ সালে নবম জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত মহিলা আসনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য মনোনীত হন। ২০১৮ সালে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি মানিকগঞ্জ-২ আসন থেকে নির্বাচিত হন। তবে ২০২৪ সালে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি একই আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থীর কাছে হেরে যান তিনি। তারপর থেকেই ধীরে ধীরে রাজনীতির আড়ালে চলে যান। আবারও মন দিয়েছিলেন সংগীতে।

 

গত বছরের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর থেকে আত্মগোপনে চলে যান তিনি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে বেশ সক্রিয় ছিলেন মমতাজ। প্রায় প্রতিদিনই কিছু না কিছু লিখতেন, বলতেন। ১৬ জুলাইয়ের পর তার ফেসবুক পেজেও আর কোনো পোস্ট ছিল না।

এরপর গত বছরের ১৩ অক্টোবর রাতে নিজের ফেসবুক পেইজে একটি গান পোস্ট করেন। ‘আমার হাত বান্ধিবি, পা বান্ধিবি, মন বান্ধিবি কেমনে’ – এই গান প্রকাশের পরই সামাজিক মাধ্যমে শোরগোল ওঠে তাকে নিয়ে। ফ্যাসিবাদের দোসর মমতাজকে কেন গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না সে নিয়েও ওঠে আলোচনা।