স্টাফ রিপোটার: সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে চূড়ান্তভাবে নির্বাচন ও সুপারিশপ্রাপ্তদের মধ্য থেকে মৌলভীবাজার জেলার ৮৫ জন প্রার্থীর নিয়োগ বাতিল করা হয়েছে। কোনো ধরনের স্পষ্ট কারণ দর্শানো ছাড়াই হঠাৎ এমন সিদ্ধান্তে ক্ষতিগ্রস্ত প্রার্থী ও তাদের পরিবারের মাঝে চরম হতাশা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) এ বিষয়ে জানতে মৌলভীবাজার জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ছুটির দিন হওয়ায় জেলা শিক্ষা কার্যালয় বন্ধ থাকায় কোনো দাপ্তরিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে জেলা শিক্ষা দপ্তরের একটি সূত্র জানায়, রবিবার কার্যালয় খুললে বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত জানা যেতে পারে।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, শিক্ষক নিয়োগের তৃতীয় ধাপের চূড়ান্ত সুপারিশপ্রাপ্তদের তালিকা থেকে পুনরায় যাচাই-বাছাইয়ের কথা বলে ৮৫ জনের নাম বাদ দেওয়া হয়। তবে ঠিক কী কারণে কিংবা কোন যুক্তিতে তাদের নিয়োগ স্থগিত বা বাতিল করা হলো- সে বিষয়ে শিক্ষা দপ্তরের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো সুনির্দিষ্ট কিংবা আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। সুনির্দিষ্ট তথ্যের অভাবে ভুক্তভোগীদের মাঝে বিভ্রান্তি বাড়ছে।
হতাশাজনক এ সিদ্ধান্তে চরম দিশেহারা হয়ে পড়েছেন ভুক্তভোগী প্রার্থীরা, যাদের অধিকাংশই নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান। দীর্ঘ পাঠ্যজীবন শেষে ও নানা অর্থনৈতিক টানাপোড়েনের পর চাকরিতে চূড়ান্ত সুপারিশ পেয়ে যারা স্বস্তি পেয়েছিলেন, এখন আবার তাদের জীবন অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে। কান্নাজড়িত কণ্ঠে এক ভুক্তভোগী বলেন, “বাবা নেই, অসুস্থ মায়ের চিকিৎসার খরচ চালাতে হয়। টিউশনি করে পড়াশোনা শেষ করে সরকারি চাকরির সুপারিশ পেয়েছিলাম। ভেবেছিলাম এবার পরিবারের হাল ধরতে পারব, কিন্তু হঠাৎ শুনছি নিয়োগ বাতিল। আমাদের অপরাধটা অন্তত জানানো হোক।”
এদিকে বিষয়টিকে প্রাতিষ্ঠানিক অনিয়ম হিসেবে দেখছেন স্থানীয় সুশীল সমাজ ও শিক্ষাবিদরা। সচেতন মহলের মতে, যাচাই-বাছাইয়ে কোনো আইনি ত্রুটি থাকলে তা প্রাক-সুপারিশ সশোধন বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জনসমক্ষে স্পষ্ট করা উচিত। অন্যায়ভাবে কারও অধিকার হরণ করা হলে শিক্ষকতার মতো মর্যাদাপূর্ণ পেশায় মেধাবীরা আগ্রহ হারাবেন। ভুক্তভোগী প্রার্থীরা অবিলম্বে এই সিদ্ধান্তের স্বচ্ছ তদন্ত এবং শিক্ষক হিসেবে পুনর্বহালের জোরালো দাবি জানিয়েছেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক 






















