3:13 pm, Monday, 31 August 2026

রাজনীতিঃ অর্থনীতিঃ একজন রাজনৈতিক অর্থমন্ত্রীঃ চকলেটের দোকানঃ চেক হুন্ডি, ইউজ ব্যাংকিং চৌনেলের প্রবক্তা এম. সাইফুর রহমানঃ স্মৃতিতে এখন ও অ¤øানঃ তাঁর ষোলতম ওফাত বার্ষিকীর মোনাজাত

। মুজিবুর রহমান মুজিব।
পাঁচই সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন অর্থনীতিবিদ, বিশ্ব ব্যাংক ও আই,এম,এফ এর বোর্ড অব গভনর্স এ সম্মানিত সভাপতি, ভাষাসৈনিক, শহীদ রাষ্ট্রপতি মেজর জেনারেল (অবঃ) জিয়াউর রহমান এর ঘনিষ্ট সহচর এম. সাইফুর রহমানের ষোলতম ওফাত বার্ষিকী। ২০০৯ সালের পাঁচই সেপ্টেম্বর নিজ নির্বাচনী এলাকা ও গ্রামের বাড়ি মৌলভীবাজার সদর উপজেলাধীন ঐতিহ্যবাহী “বাহারমর্দান” থেকে ঢাকাস্থ নিজ বাস ভবন গুলসানের “জালালবাদ হাউসে” যাবার পথে ব্রাহ্মনবাড়িয়া এলাকায় ঢাকা সিলেট মহাসড়কে তাঁকে বহনকারি “টয়োটা আল ফার্ড” গাড়িটি দূর্ঘটনা কবলিত হয়। তাঁকে ব্রাহ্মনবাড়িয়া হাসপাতালে নেয়া হলে কর্তব্যরত ডাক্তার তাঁকে মৃত ঘোষনা করেন। (ইন্না লিল্লাহি ওয়াইন্নাইলাইহি রাজিউন)। টেলিভিশনের পর্দায় তাঁর মৃত্যো সংবাদ প্রচারিত হলে, ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, মৌলভীবাজার, বাহারমর্দানে কান্নার রোল উঠে। আকুল কান্নায় ব্যাকুল হন তার আত্বীয় স্বজন রাজনৈতিক সহ কর্মিগন। সর্বত্র শোকের ছায়া নেমে আসে। পরদিন ছয়ই সেপ্টেম্বর মৌলভীবাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্টিত হয় মরহুমের নামাজে জানাজা- যা ছিল স্মরন কালের মধ্যে বৃহত্তম। সেদিন শহরে শোকার্ত মানুষের ঢল নেমে ছিল। জানাজার নামাজের পূর্বে মরহুমের প্রথম পুত্র, সাবেক সাংসদ ও জেলা বি,এন,পি-র সভাপতি এম. নাসের রহমান জেলা বাসির কাছে সদ্য প্রয়াত পিতার জন্য দোয়া কামনা করেন। জানাজার নামাজ শেষে মরহুমের জন্মস্থান বাহারমর্দনের পারিবারিক গোরস্থানে প্রিয়পতিœ বেগম দুররে সামাদ রহমানের কবরের পাশে তাঁকে সমাহিত করা হয়। এই পারিবারিক কবরস্থানে তাঁর পিতা মরহুম আব্দুল বাসির এবং মাতা বেগম তালেবুন্নেছা ও অন্যান্য প্রয়াত পরিবার সদস্যবর্গ চীর শয়ানে। যথা যোগ্য মর্যাদায় মরহুম এম. সাইফুর রহমানের চল্লিশার শিরনি ও দোয়া দুরুদ জিয়ারত অনুষ্টিত হয়। তাঁর ওফাতের পনেরো বছরে মরহুমের কবরের মাটি পুরাতন হয়েছে। সবুজ ঘাসের দৃষ্টি নন্দন গালিচায় মরহুমের কবর গাহকে জড়িয়ে আছে মায়ায় মমতায়। মানুষ এম. সাইফুর রহমানের মৃত্যো হলেও কর্ম্মবীর এম. সাইফুর রহমান এখনও স্মৃতিতে অ¤øান, তিনি বেঁচে আছেন তাঁর কাজের মাঝে। বৃহত্তর সিলেট বি,এন,পি পরিবারের এই প্রয়াত অভিভাবককে পাঁচই সেপ্টেম্বর বৃহত্তর সিলেট বি,এন,পি ও অঙ্গ সংঘটন সমূহ বাদ ফজর থেকেই জিয়ারত দোয়া দুরুদ, পুস্পস্তবক প্রদান করেন। ফুলে ফুলে ঢেকে যায় তাঁর সমাধি স্থল। তাঁর পরিবারের পক্ষে প্রথম পুত্র এম. নাসের রহমান এবং সাইফুর রহমান স্মৃতি সংসদের পক্ষ থেকে তাঁর কর্ম্ম ও জীবন সংক্রান্ত স্মারক সংকলন বের করা হয়। শরনির আয়োজন করা হয়। মরহুমের কর্ম ও জীবন দর্শন আগামী দিনের ইতিহাসে সমুজ্জল ও চীর স্থায়ী করে রাখার জন্য ঢাকা-সিলেট সড়ক সংলগ্ন জগন্নাত পুর এলাকায় অত্যাধুনিক রিসোর্ট দু-সাই-র সম্মুখে ইতিপূর্বে একটি মিউজিয়াম স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছেন, বি,এন,পির নির্বাহী কমিটির সদস্য, মরহুমের সু-সন্তান এম নাসের রহমান। পাঁচই সেপ্টেম্বর মরহুম এম. সাইফুর রহমানের ওফাত বার্ষিকীতেই তার প্রতি সম্মান ও শ্রদ্ধা প্রদর্শন সীমাবদ্ধ নয়, ঈদে-চাঁদে, দিবসে উৎসবে তাঁর কবরকে কেন্দ্র করে শহীদ জিয়ার সৈনিক ও এম. সাইফুর রহমানের অনুসারিগন ধর্মীয় সামাজিক ও রাজনৈতিক কর্মকান্ড পরিচালনা করেন। তাঁর কবর জিয়ারত এর মাধ্যমে অনেক মহতি কার্য্যক্রম শুরু হয়। নয় থেকে দু’ হাজার পচিশে এসে এখনও এম. সাইফুর রহমান আমাদের স্মৃতিতে অ¤øান। বাংলাদেশী সমাজ, রাজনীতি ও রাষ্ট্র পরিচালনা করার সাম্প্রতিক ইতিহাসে এম. সাইফুর রহমান এক স্মরনীয় বরনীয় ও ব্যতিক্রমী ব্যক্তিত্ব। সুঠাম শরীরের অধিকারি ফর্সা চেহারার দীর্ঘ ছ’ ফুটি, ক্লিন শেভে ব্যাক ব্রাশ করা এক মাথা চুল, উন্নত নাসিকা, বুদ্ধি দীপ্ত দুই চোখে সাফ সুতরা কেতাব দুরস্ত এম. সাইফুর রহমান লোক দেখানো “চাদ্দরি” নেতা ছিলেন না, তিনি ছিলেন স্যুটেড-বুটেড-পোষাক সচেতন আধুনিক ও উন্নত মনমানুষিকতার মানবতা বাদি এক মহান নেতা, তাঁর জন্ম বৃটিশ ভারতের শেষে ভাগে ১৯৩২ সালের ৬ই অক্টোর সদর থানাধীন ঐতিহ্যবাহী পল্লীগ্রাম বাহারমর্দানে এক শিক্ষিত সম্ভ্রান্ত মধ্যবিত্ত মুসলিম পরিবারে। পিতা আব্দুল বাসির একজন স্কুল শিক্ষক, মাতা তালেবুন্নেছা গৃহবধু। বাল্য কালে বালক সাইফুর স্কুল শিক্ষক পিতাকে হারিয়ে ছোট দুই ভাইকে নিয়ে চিন্তাযুক্ত তখন শিক্ষানুরাগি চাচা মোঃ সফি এগিয়ে আসেন, স্বেচ্ছা প্রনোদিত হয়ে তিন এতিম শিশুর লেখাপড়া শিখিয়ে মানুষের মত মানুষ করার দায়িত্বভার গ্রহন করেন। ব্যক্তি এম. সাইফুর রহমান আজীবন পিতৃতুল্য চাচার ¯েœহ মমতার ঋন স্বীকার করতেন। হাক্কানী পাবলিশার্স থেকে প্রকাশিত তাঁর বিশাল আত্বজৈবনিক মহাকাব্য, তিনশত বায়ান্ন পৃষ্টার “কিছু কথা, কিছু স্মৃতি”- যথার্থ ভাইে উৎসর্গ করেছেন তাঁর চাচা মোহাম্মদ সফি এবং তাঁর জীবন সঙ্গীনি বেগম দুররে সামাদ রহমানের নামে। মহান আল্লাহর অপর মেহের বানী এবং পিতা-মাতা চাচা-চাচির দোয়ায় পল্লীর নিভৃত প্রান্তর এক গ্রামে জন্ম নেয়া এম. সাইফুর রহমান তাঁর কঠিন পরিশ্রম মেধাও মনন-প্রজ্ঞা ও পান্ডিত্যের গুনে বাংলাদেশের অর্থ মন্ত্রী হয়েছেন, বিশ্বব্যাপী অর্থ নৈতিক পরিমন্ডলে নেতৃত্ব দিয়েছেন-বিশ্ব ব্যাংক ও আই,এম,এফ এর বোর্ড অব গভর্নস এর চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের ইমেজ ও ভাবমূর্তি বৃদ্ধি করেছিলেন। মেধাবী ছাত্র এম. সাইফুর রহমান ১৯৫৯ সালে ইন্সটিটিউট অব চার্টর্ড একাউন্টেন্টস, ইংল্যান্ড ও ওয়েলস এর ফেলেশীফ অর্জনের মাধ্যমে গৌরজনক শিক্ষা জীবনের পরিসমাপ্তি ঘটান। সেই সময় বিলেতে গিয়ে উচ্চ শিক্ষা গ্রহনের রেওয়াজ ও প্রথা প্রচলিত ছিল না। মেধাবী ছাত্র এম. সাইফুর রহমান প্রথমে বিলেতে ব্যারিষ্টারী পড়ার ইচ্ছে থাকলেও পরে মত পরিবর্তন করে কঠিন বিষয় একাউন্টেন্সীতে উচ্চতর ডিগ্রী এফ,সি,এ অর্জন করেন। বিভিন্ন সংস্থা ও প্রতিষ্টানে ভালো মায়নায় চাকরির অফার থাকলেও উচ্চ বেতন ও বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা সহ অক্সিজেন লিমিটেডে যোগদান করে করাচি শাখার দায়িত্ব ভার গ্রহন করেন। এ সময় এ খানেই তার শুভ বিবাহ অনুষ্টিত হয় চট্টগ্রামের এক ঐতিহ্যবাহী খান্দানী পরিবার কৃতি কন্যা বেগম দুররে সামাদ এ সঙ্গেঁ। সাইফুর-দুররে-দম্পতির আল্লাহর দান চার সন্তান। এম. নাসের রহমান, কাওসার রহমান, শফিউর রহমান, পুত্রত্রয় উচ্চ শিক্ষিত, কর্মজীবনে প্রতিষ্টিত। একমাত্র কন্যা সাইফা রহমান বড় ঘরে ভালোবরে পাত্রস্থ। বেগম দুররে সামাদ রহমান ছিলেন এক আদর্শ গুনবতী রমনী সু-গৃহিনী-¯েœহ ময়ী জননী। স্বামী ও পিতৃ কুলের দিক দিয়ে আভিজাত্য মানমর্যাদাশান শওকতের অধিকারি হলেও তাঁর কোন অংকার কিংবা অহংবোধ ছিল না। আফসোস আমাদের, দুঃখ দুর্ভাগ্যজনক ভাবে এই গুনবতী রমনী দুই হাজার তিন সালে ঘাতক ব্যাধি ক্যেন্সারে আক্রান্ত হয়ে ইহলোক ত্যাগ করেন। বৃহত্তর সিলেটের উন্নয়নে এই গুনবর্তী রমনীর ভূমিকা ও অবদান সংশ্লিষ্ট সকলেই জানেন। বাঙ্গাঁলিদের প্রতি পাকিস্তানী আবাঙ্গাঁলীদের বৈষম্য মূলক আচরন এবং স্বদেশের আকর্ষন করাচীর বিলাসি জীবন ও উচ্চ বেতনের চাকরি ছেড়ে বাষট্টি সালের জুলাই আগষ্ট মাসে শ্বশুরের দেশ বাংলাদেশের বানিজ্যিক রাজধানী চট্টগ্রাম আসেন এম. সাইফুর রহমান। আর সরকারি-বেসরকারি চাকরি নয় নিজেই সি,এ ফার্ম গড়ে তুলতে আত্বনিয়োগ করেন। রেজাউর রহমান ও তাসফিন হক-কে নিয়ে গঠন করেন “রহমান রহমান হক এন্ড কোম্পানী। তিন রতেœর সম্মলিত প্রচেষ্টায় অল্পসময়েই তাঁদের পেশাগত দায়িত্ব-পেশাগত দক্ষতার কারনে এই কোম্পানী একটি নামদামী কোম্পানী হিসাবে খ্যাতি অর্জন করে। ব্যবসা প্রসারের সাথে সাথে গুলশান আবাসিক এলাকায় প্লট কিনে দৃষ্টি নন্দন বাড়ি নির্মান করান এম. সাইফুর রহমান। পেশাদার রাজনীতিবিদ না হলেও এম. সাইফুর রহমান রাজনীতি বিরোধী ছিলেন নাবরং তিনি ছিলেন রাজনীতি সচেতন, গনমুখী ও দেশ প্রেমিক। বায়ান্নের ভাষা আন্দোলনের সময় সক্রিয় ভাবে অংশ গ্রহনের অভিযোগে তিনি দীর্ঘদিন কারা যাতনা ভোগ করেন, সরকারের কাছে মুচলেকা দিয়ে তিনি বেরিয়ে আসেন নি। তিনি একজন ভাষা সৈনিক ও বটেন। জাতি তাঁকে একুশের পদকে ভূষিত করেছেন। পে কমিশন সহ পেশাদারি দায়িত্ব পালন কালে সৈনিক জিয়ার সঙ্গেঁ তাঁর পরিচয় ছিল। মেজর জিয়ার স্বাধীনতার ঘোষনা তিনি স্বকর্নে শুনে উৎসাহিত হয়েছেন। স্বাধীনতার ঘোষক জিয়ার প্রতি তাঁর ব্যক্তিগত শ্রদ্ধাবোধও ছিল। সাতই নবেম্বরের সিপাহী বিপ্লবের মহা নায়ক জেনারেল জিয়াউর রহমান কে এম. সাইফুর রহমান শ্রদ্ধা করতেন, দেশ তাঁর হাতেই নিরাপদ বলে তিনি মনে করতেন। এ হেন জেনারেল জিয়াউর রহমানের বার বার অনুরোধে তিনি সক্রিয় ভাবে রাজনীতিতে যোগদান করেন। ১৯৭৬ সালের ডিসেম্বর মাসে এম. সাইফুর রহমান প্রেসিডেন্ট এ,এস,এম সায়েমের উপদেষ্টা পরিষদে- পূর্ন মন্ত্রীর মর্যাদায় বানিজ্য উপদেষ্টা হিসাবে যোগ দিয়ে তাঁর বর্নাঢ্য রাজনৈতিক জীবনের শুভ সূচনা করেন।

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের “ট্যেলেন্ডেড কেবিন্যেটে” প্রভাব শালী সদস্য হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন সত্যবাদি-স্পষ্টবাদি ও স্পষ্টভাসি এম. সাইফুর রহমান। প্রেসিডেন্ট জিয়া থেকে শুরু করে জাষ্টিস সাত্তার, বেগম খালেদা জিয়া বি,এন,পি-র সকল সরকারামলে সফল ও সৎ মন্ত্রীর গুরু দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। শহীদ রাষ্ট্রপ্রতি জিয়িাউর রহমান তাকে বিশ্বাস করতেন-সম্মান দিতেন। নাটের গুরু কুচ বিহারি হারামি (সব কুচ বিহারিও বিহারি হারামি নয়, ব্যতিক্রম আছে।) তৎকালীন জেনারেল জিয়া মনোনীতি সেনাপ্রধান, মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতিপক্ষ ও দুষমন লেঃ জেঃ হো. মো. এর্শাদ এর ইশারায় প্রেসিডেন্ট জিয়া হত্যার খল নায়ক ছিলেন তৎকালীন সেনাপ্রধান লেঃ জেঃ এর্শাদ।“৮১ সালের ৩০শে মে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে কতেক বিপথগামী সেনা সদস্য প্রেসিডেন্ট জেনারেল জিয়াকে ব্রাশ ফায়ার এর মাধ্যমে নির্মম ভাবে হত্যা করে। ভাইসপ্রেসিডেন্ট জাষ্টিস সাভার রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলে” ৮২ সালে সেনা প্রধান জেনারেল এর্শাদ রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস বাদ এর মাধ্যমে বৃদ্ধ বিচারপতি প্রেসিডেন্ট সাত্তার সাহেবকে বন্দুকের নলের মুখে ক্ষমতা থেকে হটিয়ে রাষ্ট্র ক্ষমতা দখল করে সামরীক আইন জারী করে নিজেকে সি,এম,এল,এ হিসাবে ঘোষনা করতঃ সংসদ ভেঙ্গে দেন, মন্ত্রী সভা বাতিল করেন। বি,এন,পির স্থায়ী কমিটির চীর স্থায়ী সদস্য এম. সাইফুর রহমান কথিত দূর্নীতির অভিযোগে গ্রেফতার করে এর্শাদের সামরীক সরকার। বি,এন,পি কে ভাঙ্গা এবং দল থেকে ভাগিয়ে নিতে এর্শাদি সহচর ও গোয়েন্দারা পায়তারা শুরু করেন। এম. সাইফুর রহমানকে মন্ত্রীত্ব সহ বিভিন্ন প্রলোভন দিলে তিনি তা ঘৃনাভরে প্রত্যাখ্যান করেন, দীর্ঘ দিন কারা যাতনা ভোগ করেন। সমগ্র সিলেট বিভাগ ব্যাপী এম. সাইফুর রহমানের ক্ষমতার অপব্যবহার ও দূর্নীতির সন্ধান পান নি এর্শাদী সামরীক বেসামরিক গোয়েন্দা ও সরকারি এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। দেশব্যাপী গনতন্ত্রন পূনরুদ্ধার এবং সামরীক স্বৈর শাসক এর্শাদ বিরোধী আন্দোলন দূর্বারহয়ে উঠে। এ সময় সংগ্রামী ছাত্র সমাজের আত্বত্যাগ ও প্রশংসনীয় ভূমিকা ইতিহাসে লিপিবদ্ধ আছে। গৃহবধু বেগম খালেদা জিয়া অকাল ও আকস্মিক বৈধব্যের বেদনাকে ভূলে দল ও জাতীয় প্রয়োজনে রাজনীতিতে যোগদান করতঃ বি,এন,পির চেয়ার পার্সনের দায়িত্বভার গ্রহন করেন। টানা নয় বছর রাজপথের আন্দোলন সংগ্রামে নেতৃত্ব দিয়ে আপোষহীন দেশনেত্রী হিসাবে দেশ ও জাতি কর্তৃক স্বীকৃত হন খ্যাতিপান। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের প্রিয়ও বিশ্বস্ত সহচর এম. সাইফুর রহমান নেত্রীর সাথে আন্দোলনে সংগ্রামে ছিলেন প্রথম কাতারে রাজপথে। লেঃ জেনারেল মুন এম এর মত ডাক সাইটে জেনারেল, এম. সাইদুজ্জামানের মত ডাক সাইট আমলা এবং শেষ তক আমেরিকা থেকে বিশিষ্ট অথর্খ নীতিবিদ ও শিক্ষাবিদ ডক্টর ওয়াহিদুল হক এর মত ব্যক্তিত্বকে হায়ারে এনেও এর্শাদী লাঙ্গলে মঙ্গঁল আসে নি। আওয়ামী প্রধান শেখ হাসিনা এর্শাদের সামরীক আইনজারীতে “আই এ্যমনট আনহ্যোপি- বলে পরোক্ষভাবে সেনা শাসকে স্বাগত জানিয়ে তলে তলে লাইনে ছিলেন। ৮৬ সালের এর্শাদের ফাঁদে পা দিলে শেখের বেটি শেখ হাসিনা জাতীয় সংসদের নির্বাচনে অংশ নিয়ে সামরীক স্বৈর শাসনকে দীর্ঘায়িত করলেও শেষ রক্ষা হয় নি, তিন জোট ও ছাত্র জনতার আন্দোলনের মুখে তাঁকে পদ ত্যাগ করতেই হল, শেখের বেটি শেখ হাসিনার মত ভারতে পালিয়ে যেতে হয় নি। ৯১ সালে বিচার পতি শাহাবুদ্দিন আহমদের নেতৃত্বাধীন তত্ত¡াবধায়ক সরকার আমলে স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসে দলনির পেক্ষ, অংশ গ্রহন মূলক, প্রতিদ্বন্ধীতা পূর্ন নির্বাচনে বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন বি,এন,পি দলগত ভাবে সংখ্যা গরিষ্টতা লাভ করে বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন সরকার গঠিত হয়ে পরিচ্ছন্ন রাজনীতিবিদ এম. সাইফুর রহমান “ট্যেকনোক্রাট” হিসাবে অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব ভার গ্রহন করেন। তাঁর যথেষ্ট ও প্রয়োজনীয় যোগ্যতা থাকা সত্বেও সদর আসন, মৌলভীবাজার তিন এ তাকে সাংঘটনিক দূর্বলতার কারনে মূল্যায়ন করা হয় নি। নির্বাচনে তাঁকে অবমূল্যায়ন করলেও সাচ্চা দেশ প্রেমিক ও নিখাদ জাতীয়তাবাদী এম. সাইফুর রহমান উদার দৃষ্টি ভঙ্গিঁ নিয়ে নির্বাচনী বেদনা-বোধ ভুলে গিয়ে মৌলীবাজার ও বৃহত্তর সিলেটের সার্বিক উন্নয়নে আত্ব নিয়োগ করেন। আমার রাজনৈতিক ও সামাজিক জীবনের মূলবান প্রাপ্তি ও সঞ্চয়ী আমানত হল তার সংস্পর্শে যাওয়া, সাহচর্য্য, মায়া মমতা পাওয়া। বদনসিব আমার আমি আজীবনই পিতৃ ¯েœহ থেকে বঞ্চিত। পরিবারের প্রথম সন্তান হিসাবে পিতা-মাতা আমাকে অসম্ভব ভালো বাসতেন, না চাইতেই অনেক কিছু পেতাম। প্রবাসী পিতা, আমি লেখাপড়ার প্রয়োজনে বাল্য, কৈশোরে হলে হোষ্টেলেই বেড়ে উঠেছি। বাহারমর্দন দীঘিওয়ালা কপালি বাড়ি আমার বাবার মামার বাড়ি। জাহিদ মিয়া মাষ্টার সাহেব বাবার মামা। তাছাড়াও বাহার মর্দানে আমাদের আরো আত্বীয়তা এবং আমার একাধিক সহপাঠি সতীর্থ ছিলেন। ছোট কাল থেকেই বাহামর্দান, ফুফুর বাড়ি জগৎসীতে আমার আসা যাওয়া। ছোট কাল থেকেই কৃতি ছাত্র চার্টার্ড একাউন্টেন্ট এম. সাইফুর রহমান, তদীয় ভ্রাতা জাষ্টিস সিরাজুল ইসলাম সাহেবের নাম জানতাম। চিনতাম। ষাটের দশকে ছাত্র রাজনীতিতে জড়িতও নেতৃত্বে ছিলাম। মুক্তিযুদ্ধেও যোগ দিয়ে ছিলাম। একজন স্বপ্নবাজ মুক্তিযোদ্ধা হিসাবে বৈষম্যহীন, মানবিক বাংলাদেশ গঠন ও দেখা আমাদের ইচ্ছা ছিল, কিন্তু স্বাধীনতা উত্তর আওয়ামীলীগ সরকারের সীমাহীন দূর্নীতি, ব্যর্থতা, আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির মারাত্বক রকমের অবনতিতে স্বাধীনতা সংগ্রামীও তাত্বিক সিরাজুল আলম খান, আশম রব কে নিয়ে জাতীয় সরকার গঠনের প্রস্তাব দিলে তা প্রত্যাখ্যাত হলে গনদাবীর প্রেক্ষিতে গঠিত হয় জাতীয় সমাজ তান্ত্রীক দল জাসদ। দাদা হিসাবে খ্যাত ছাত্র রাজনীতিও মুক্তিযুদ্ধের ওস্তাদ সিরাজ ভাইর প্রেরনায় জাসদে যোগ দেই। প্রয়োজনীয় যোগ্যতা থাকা সত্তে¡ও দেশের প্রথম বি,সি,এস কেডার বাহাত্তোরের ব্যেচএ সরকারি চাকরিতে যোগ দেই নি। শোষন ও বৈষম্যহীন সমাজ গঠনের আন্দোলনে আমরা কামিয়াবহতে পারিনি। তাত্বিক বিশ্লেষন, বিভ্রান্তি, বিভাজন, অনৈক্যে একদিন মশালের আলো নিভে না গেলেও ¤øান হয়ে গেলে ঘরের ছেলে ঘরে ফিরে এলাম। এর্শাদী সামরীক শাসনামলে বাংলাদেশ সেনা বাহিনীর চৌকশ কর্মকর্তা, আমার আত্বার আত্বীয় সৈদপুরি সৈয়দ জাদা মেজর আলী (অবঃ লেঃ কর্নেল। সাবেক পিন্সিপাল জালালাবাদ কেন্টনমেন্ট স্কুল কলেজ) আমার পারিবারকি বাসগৃহ রসুল হাউসে এসে বিনয়ের সঙ্গেঁ প্রতি মন্ত্রীর প্রস্তাব দিয়ে এর্শাদ সরকারকেসমর্থ করতে বল্লেন। আমি তখন জেলা জাসদের সভাপতি ও প্রেসক্লাবের সেক্রেটারী। তখন আমার দুরন্ত যৌবন কাল, তাঁর সঙ্গেঁ বে আদবি না করলেও কড়া ভাবে প্রত্যাখ্যান করি। বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্টানাদিতে যেতে হয়, গেলে আমাকে দু’ কথা বলতে হয়, দিন তারিখ মনে নেই আমি ও আমার আত্বীয় শ্রীমঙ্গল পৌরসভার প্রক্তন মেয়র মহসিন মিয়া মধু সার্কিট হাউসের একটি সমাবেশে ছিলাম।এম. সাইফুর রহমান আমাকে সরাসরি বল্লেন, তোমার জাসদ মারা গেছে। দেশের জন্য যুদ্ধ করেছ, বক্তৃতাও দাও ভালো, তুমি মধুকে নিয়ে আমার সঙ্গেঁ কাজ কর। গুরুজন হিসাবে তাঁর সঙ্গেঁ আমি তর্ক বিতর্ক করিনি, আমার নীরবতায় উপস্থিত ছাত্র ও যুবদলের নেতা কর্মিরা “শ্লোগান দিয়ে উটলো- মুজিব ভাই-মধু ভাইর আগমন শুভেচ্ছা স্বাগতম”। তিনি আমাকে ও মহসিন মিয়া মধুকে জেলা কমিটির সদস্য করেছিলেন, সেই থেকে তাঁর সাথে ছিলাম-আছি। তাঁর কাছে কোনদিন কিছুই চাই নি, তিনি আমাকে বি,এন,পির একান্নব্বইর সরকারামলে এ জেলার পাবলিক প্রসিকিউটার বানিয়ে ছিলৈন। আমি দৈনিক কয়েকশ টাকা ভাতা পি,পি,র দায়িত্ব পালন করেছি, লাশ বিক্রি করে লাখ টাকা কামাই করিনি, সাইলেন্সফি নিয়ে সরকার ও তার ভাবমূর্তি বিনষ্ট করিনি।দুই হাজার এক সালে বিশাল বিজয় নিয়ে বি,এন,পির নেতৃত্বাধীন চার দলীয় জোট জয় লাভ করে। দেশ নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মন্ত্রী সভায় তিনি অর্থের সাথে পরিকল্পনা মন্ত্রীর দায়িত্ব পান। তৎকালীন যুবদলের কেন্দ্রী নেতা বর্তমানে সিলেঠ জেলা বি,এন,পির সংগ্রামী সভাপতি আমার একান্ত প্রিয়ভাজন আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী মন্ত্রী মহোদয় রাজনৈতিক সচিব হিসাবে যোগ দেন। মাননীয় মন্ত্রীও তাকে খুব ¯েœহ করতেন। প্রিয় ভাজন আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী একদিন ফোনে বল্লেন “বড় ভাই স্যার আপনাকে খুবই ¯েœহ করেন, তিনি আপনাকে একটি বড় দায়িত্ব দিতে চান”। উত্তরে আমি বলে ছিলাম আমি জানি তিনি এবং তাঁর সহ ধর্মিনী আমাকে পুত্রবৎ ¯েœহ মমতা করেন, তিনি আমাকে এ্যঃ এটর্নী বানাতে চেয়ে ছিলেন, ঢাকায় আমার বাড়ি ঘর নাই, এগারো হাজার টাকা মাসিক ভাতায় আমাকে ফুট পাথেও থাকা হবে না, তাই না করে দিয়েছি। তবুও কাইয়ুম চৌধুরী বল্লেন স্যার যখন চাচ্ছেন আপনার মানা করা উচিত নয়। ভ্রাতৃ বরেষুর ভালো কথা আমার বড়ই ভালো লাগলো, বল্লাম আলাহ ভরসা। কিছু দিনের মধ্যেই ডাকযোগে একটি নিয়োগ পত্র পেলাম-সরকার আমাকে বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক এর বোর্ড অব ডাইরেক্টার নিয়োগ দিয়েছেন। আমি এই সম্মান জনক পদ প্রাপ্তিতে তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানালাম। ঐ সময় হবিগঞ্জে মাননীয় অর্থ ও পরিকলল্পনা মন্ত্রী মহোদয়কে বর্নাঢ্য নাগরিক সম্ভর্ধনা দেয়া হবে। বি,এন,পি-র সিলেট বিভাগীয় বর্তমান সাংঘটনিক সম্পাদক, আজীবন লড়াকু নির্ভীক জিয়ার সৈনিক আলহাজ্ব জি,কে গৌছ তখন হবিগঞ্জ জেলা যুবদলের সংগ্রামী সাধারন সম্পাদক, সভাপতি সম্ভবতঃ এডভোকেট সামছু মিয়া চৌধুরী। অনুজ প্রতিম জি,কে গৌছ এর সঙ্গেঁ আমার আলাপ পরিচয় আছে। এতবড় আয়োজন মিস করা যায় না। আমি ও বি,এন,পি-র প্রতিষ্টাকালীন প্রভাব শালী নেতা আমার একান্ত প্রিয় ভাজন মৌলভী আব্দুল ওয়ালি সিদ্দিকী সাত সকালেই হবিগঞ্জ রওয়ানা হই। সার্কিটহাউসে অভ্যর্থনা পাই, আপ্যায়িত হই। প্রগাম জানালাম যুবদলের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ সহ মাননীয় মন্ত্রী মহোদয় “লাঞ্চ” করবেন জেলা যুবদলের সভাপতির বাসায়। তাঁর পৈত্রিক বাসা বাড়িও বিশাল তার পিতা বিশিষ্ট ব্যবসায়ী। প্রিয় ভাজন জি,কে, গৌছ আমি ও আব্দুল ওয়ালি সিদ্দিকীকে তাঁর বাসায় দুপুরের খাবার খেতে দাওয়াত করলেন। আমি ও সিদ্দিকী খুশী মনে দাওয়াত কবুল করলাম। এখনও মনে পড়ছে আমাদের জেলা থেকে মহিলা এম,পি শ্রদ্ধেয়া বেগম খালেদা রব্বানীও গিয়েছিলেন। আলহাজ্ব জি,কে, গৌছ এর বাস গৃহ অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী এম. সাইফুর রহমানকে কেন্দ্র করে “লাঞ্চ পার্টি” সর গরম। জাতীয়তাবাদী যুবদলের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দও সেখানে উপস্থিতা ছিলেন আমাদেরকে দেখে জনাব এম. সাইফুর রহমান খুবই খুশী হলেন, আমাকে বার বার বলতে থাকেন তোমার ডিরেক্টার নিয়োগের ব্যাপারে কোন পত্র পাওনি ?। উপস্থিত সকলে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ সহ চমকে উঠলেন-সরকারি ব্যাংক এর সরকার মনোনীত ডাইরেক্টার কোন ব্যাংক এর। আমি নিয়োগ পত্র পেয়েছি বলে তাঁকে ধন্যবাদ জানিয়ে কদমবুসি করলাম বল্লাম ব্যাংকিং সেক্টার বোধ জ্ঞান লেখা লেখির বাহিরে, এসবেত আমার উৎসাহ নাই। উপস্থিত কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ মন্ত্রী মহোদয়কে বল্লেন “ উনি যখন উৎসাহী নন তখন তাকে এ দায়িত্ব দিলেন কেন ? তাকে তার যোগ্যতা মত অন্য দায়িত্ব দেয়া যেত। ভাব গম্ভীর ভাবে বাংলাদেশের বাজেট যাদুগর, ভ্যেট এর প্রবর্তক এম. সাইফুর রহমান বলেন, ব্যাংক ডিরেক্টার টাকার চেয়ার এখানে কমিশন, লেনদেন হয়, আমি তাকে বিশ্বাসকরি। ব্যাংকিং সেক্টারের একটা চেয়ার অন্তত “কমিশন ফ্রি” থাকুক। আমাকে বল্লেন তুমি একজন ভালো লেখক জাতীয় পত্র পত্রিকায়ও কলাম লেখ। তোমার কাজ “চেক হুন্ডি, ইউজ ব্যাংকিং চ্যেনেলের” উপর জোর দেয়া। বলে ব্যাংকিং সেক্টারের উপর অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী এম. সাইফুর রহমান মূল্যবান নাতি দীর্ঘ ভাষন দিলেন। আমি পাঁচ বছর তাই করেছি, মৎ সম্পাদিত মৌলভীবাজার দর্পন এবং পত্র পত্রিকায় কলাম লিখেছি। মাসে মাত্র পাঁচ হাজার টাকা ভাতা এবং সামান্য আর কয়েক হাজার টাকাটি এ/ডি/এ নিয়েছি। দু’ বছর পর আমি নির্ব্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান হই। কোন খেলাপি পার্টির সঙ্গেঁ তলে তলে লাইন করিনি। বি,এন,পি পহ্ণী ইঞ্জিনিয়ার এনামুল হক আমার সাক্ষাত এবং আমাকে ডাউন পেমেন্ট নাম মাত্র মুল্যে একটি ফ্লাট উপহার দিতে চাইলে আমি প্রত্যাখান করি, গ্রীন রোড এলাকায় আমার একজন অবসর প্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা সিলেটি বন্ধু এনার একটি ফ্ল্যট কিনলেন, যা এখন কোটি টাকার ও অধিক মূল্যের। আমার পাঁচ বছরের ব্যাংকিং কার্য্যক্রমে এমন কিছু করিনি যাতে তিনি ও সরকার বদনামি হয়, বরং কমিশন না খেয়ে দূর্নীতি না করে দেখিয়েছি এ ভাবেও কাজ করা যায়। রাজনীতিবিদ হিসাবে এম. সাইফুর রহমান বায়ান্নের ভাষা আন্দোলনে ইমান দারির পরিক্ষায় পাশ করেছেন। পূর্ব পশ্চিমের বৈষম্যের কারনে করাচির বিরাট বাড়ি মোটা মাইনার বিদেশী কোম্পানীর চাকরি ছেড়ে এখানে এসেছেন। দলগত ভাবে জাগদল গঠনে তাঁর ভূমিকা ছিল সমুজ্জল। তিনি সিলেট বিভাগের দায়িত্বে ছিলেন, দায়িত্বে পালন করেছেন। প্রেসিডেন্ট জিয়ার হ্যাঁ-না ভোটেও তিনি কাজ করেছেন আন্তরিক ভাবে। বি,এন,পি গঠনে তিনি প্রথম কাতারের নেতা ছিলেন। স্থায়ী কমিটির সদস্য ছিলেন আমৃত্যো। একজন রাজনীতিবিদ হিসাবে তিনি ছিলেন সৎ, নির্লোভ, স্পষ্টবাদি সত্যবাদি মিঃ ক্লিন। রাজনৈতিক অর্থমন্ত্রী হিসাবে তিনি বেগম বেগম জিয়ার প্রথম সরকারামলে স্বৈরাচার বিধ্বস্থ অর্থনীতিকে পূনর্ঘটিত করেন। ব্যাংক কর্ম্মচারি ছাটাইর ব্যাপারে তাঁর ভূমিকা ছিল দেশের পক্ষে, দলের নয়। তিনি অধিক হারে ব্যাংক খোলাকে সমর্থন করেন নি, তাঁর ভাষায় ঐ গুলি চকলেটের দোকান। তিনি তাঁরকার্য্যকালে ব্যাংকিং সেক্টারে শৃঙ্খলা ছিল, শেয়ার বাজার চাঙ্গাঁ ছিল, হুন্ডি বাজদের দৌরাত্ব ও গুন্ডামি ছিল না। বাংলাদেশ ব্যাংক এর আওয়ামী গভর্নর গন রিজার্ভ এর টাকা পাচারে ও পিছ পা হন নাই, অথছ তাঁর কার্য্যকালের গভর্নর ড. সালেহ আহমদ সততা ও সুনামের সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন বর্তমান অন্তবর্তী কালীন সরকারের অর্থ উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁর কার্য্যকালে মন্ত্রনালয় এর পিয়ন থেকে সচিব পর্যন্ত সজাগ ও সতর্ক থাকতেন, পান থেকে চুন খসার উপায় ছিল না। আওয়ামী অর্থ মন্ত্রী এ,এম,এ মুহিত জনতা ব্যাংক একটি ভালো ব্যাংক কিন্তুচেয়ারম্যান আবুল বারাকাত শেষ করে ফেল্ল। এ কথা বলার পর কারো কিছু হল না। ব্যাংকিং সেক্টারকে সচল এবং আমাদের রেমিটেন্স যোদ্ধা প্রবাসীগন অধিকতর ও দৃত সেবা প্রদানের জন্য এম. সাইফুর রহমান বিলেত, আমেরিকায় সোনালি ব্যাংক এর শাখা সোনালি এক্স চেঞ্জ খুলে হুন্ডির পথ বন্ধ করে ছিলেন। শেখ হাসিনার বিগত দেড় দশকাধিককালের স্বৈর শাসনামলে ব্যাংকিং সেক্টার কে সাল মান এফ রহমান, এস আলম দের হাতে ছেড়ে দিয়ে ঋনের নামে শত শত কোট টাকা বিদেশে পাচার করেছেন। বিশ্বব্যাংক এর সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ ডক্টর জাহিদ হোসেন এর মতে আওয়ামী শাসামলে নেতারাই অধিক টাকা পাচার করেছিলেন। আওয়ামী সরকারের পতন ও পলায়নের পর রেমিটেন্স বৃদ্ধি পেয়েছে। সরকারি মাধ্যমে দেশের টাকা পাটিয়ে আমাদের প্রবাসী রেমিটেন্স যোদ্ধাগন বৈদেশিক মুদ্রার ভান্ডারকে সম্বৃদ্ধ করতঃ দেশীয় অর্থনীতির ভিতকে মজবুত করছেন। দেশ ও জাতির এই কঠিন ও ক্রান্তিকালে এম. সাইফুর রহমানের মত আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন অর্থনীতিবিদের খুবই প্রয়োজন ছিল। তাই তাঁর ওফাতের পনেরো বছর পেরিয়ে এখনও তিনি আমাদের স্মৃতিতে অ¤øান। আমার শ্রদ্ধেয় নেতা রাজনৈতিক অর্থনীতিবিদ মরহুম অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী এম. সাইফুর রহমানের ষোলতম মৃত্যোবর্ষিকীতে তাঁর উজ্জল স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও রুহের মাগফিরাত কামনা করি।
[একটি রাষ্টায়াত্ব বানিজ্যিক ব্যাংক এর পরিচালক ও চেয়ারম্যান নিবার্হা কমিটি মুক্তিযোদ্ধা। এডভোকেট হাইকোট।]

Tag :
About Author Information

Sirajul Islam

বিদেশ গমন উপলক্ষে নাইম আহমদ কে বিদায় সংবর্ধনা দেন।বন্দু মহল।

রাজনীতিঃ অর্থনীতিঃ একজন রাজনৈতিক অর্থমন্ত্রীঃ চকলেটের দোকানঃ চেক হুন্ডি, ইউজ ব্যাংকিং চৌনেলের প্রবক্তা এম. সাইফুর রহমানঃ স্মৃতিতে এখন ও অ¤øানঃ তাঁর ষোলতম ওফাত বার্ষিকীর মোনাজাত

Update Time : 01:59:08 pm, Thursday, 4 September 2025

। মুজিবুর রহমান মুজিব।
পাঁচই সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন অর্থনীতিবিদ, বিশ্ব ব্যাংক ও আই,এম,এফ এর বোর্ড অব গভনর্স এ সম্মানিত সভাপতি, ভাষাসৈনিক, শহীদ রাষ্ট্রপতি মেজর জেনারেল (অবঃ) জিয়াউর রহমান এর ঘনিষ্ট সহচর এম. সাইফুর রহমানের ষোলতম ওফাত বার্ষিকী। ২০০৯ সালের পাঁচই সেপ্টেম্বর নিজ নির্বাচনী এলাকা ও গ্রামের বাড়ি মৌলভীবাজার সদর উপজেলাধীন ঐতিহ্যবাহী “বাহারমর্দান” থেকে ঢাকাস্থ নিজ বাস ভবন গুলসানের “জালালবাদ হাউসে” যাবার পথে ব্রাহ্মনবাড়িয়া এলাকায় ঢাকা সিলেট মহাসড়কে তাঁকে বহনকারি “টয়োটা আল ফার্ড” গাড়িটি দূর্ঘটনা কবলিত হয়। তাঁকে ব্রাহ্মনবাড়িয়া হাসপাতালে নেয়া হলে কর্তব্যরত ডাক্তার তাঁকে মৃত ঘোষনা করেন। (ইন্না লিল্লাহি ওয়াইন্নাইলাইহি রাজিউন)। টেলিভিশনের পর্দায় তাঁর মৃত্যো সংবাদ প্রচারিত হলে, ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, মৌলভীবাজার, বাহারমর্দানে কান্নার রোল উঠে। আকুল কান্নায় ব্যাকুল হন তার আত্বীয় স্বজন রাজনৈতিক সহ কর্মিগন। সর্বত্র শোকের ছায়া নেমে আসে। পরদিন ছয়ই সেপ্টেম্বর মৌলভীবাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্টিত হয় মরহুমের নামাজে জানাজা- যা ছিল স্মরন কালের মধ্যে বৃহত্তম। সেদিন শহরে শোকার্ত মানুষের ঢল নেমে ছিল। জানাজার নামাজের পূর্বে মরহুমের প্রথম পুত্র, সাবেক সাংসদ ও জেলা বি,এন,পি-র সভাপতি এম. নাসের রহমান জেলা বাসির কাছে সদ্য প্রয়াত পিতার জন্য দোয়া কামনা করেন। জানাজার নামাজ শেষে মরহুমের জন্মস্থান বাহারমর্দনের পারিবারিক গোরস্থানে প্রিয়পতিœ বেগম দুররে সামাদ রহমানের কবরের পাশে তাঁকে সমাহিত করা হয়। এই পারিবারিক কবরস্থানে তাঁর পিতা মরহুম আব্দুল বাসির এবং মাতা বেগম তালেবুন্নেছা ও অন্যান্য প্রয়াত পরিবার সদস্যবর্গ চীর শয়ানে। যথা যোগ্য মর্যাদায় মরহুম এম. সাইফুর রহমানের চল্লিশার শিরনি ও দোয়া দুরুদ জিয়ারত অনুষ্টিত হয়। তাঁর ওফাতের পনেরো বছরে মরহুমের কবরের মাটি পুরাতন হয়েছে। সবুজ ঘাসের দৃষ্টি নন্দন গালিচায় মরহুমের কবর গাহকে জড়িয়ে আছে মায়ায় মমতায়। মানুষ এম. সাইফুর রহমানের মৃত্যো হলেও কর্ম্মবীর এম. সাইফুর রহমান এখনও স্মৃতিতে অ¤øান, তিনি বেঁচে আছেন তাঁর কাজের মাঝে। বৃহত্তর সিলেট বি,এন,পি পরিবারের এই প্রয়াত অভিভাবককে পাঁচই সেপ্টেম্বর বৃহত্তর সিলেট বি,এন,পি ও অঙ্গ সংঘটন সমূহ বাদ ফজর থেকেই জিয়ারত দোয়া দুরুদ, পুস্পস্তবক প্রদান করেন। ফুলে ফুলে ঢেকে যায় তাঁর সমাধি স্থল। তাঁর পরিবারের পক্ষে প্রথম পুত্র এম. নাসের রহমান এবং সাইফুর রহমান স্মৃতি সংসদের পক্ষ থেকে তাঁর কর্ম্ম ও জীবন সংক্রান্ত স্মারক সংকলন বের করা হয়। শরনির আয়োজন করা হয়। মরহুমের কর্ম ও জীবন দর্শন আগামী দিনের ইতিহাসে সমুজ্জল ও চীর স্থায়ী করে রাখার জন্য ঢাকা-সিলেট সড়ক সংলগ্ন জগন্নাত পুর এলাকায় অত্যাধুনিক রিসোর্ট দু-সাই-র সম্মুখে ইতিপূর্বে একটি মিউজিয়াম স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছেন, বি,এন,পির নির্বাহী কমিটির সদস্য, মরহুমের সু-সন্তান এম নাসের রহমান। পাঁচই সেপ্টেম্বর মরহুম এম. সাইফুর রহমানের ওফাত বার্ষিকীতেই তার প্রতি সম্মান ও শ্রদ্ধা প্রদর্শন সীমাবদ্ধ নয়, ঈদে-চাঁদে, দিবসে উৎসবে তাঁর কবরকে কেন্দ্র করে শহীদ জিয়ার সৈনিক ও এম. সাইফুর রহমানের অনুসারিগন ধর্মীয় সামাজিক ও রাজনৈতিক কর্মকান্ড পরিচালনা করেন। তাঁর কবর জিয়ারত এর মাধ্যমে অনেক মহতি কার্য্যক্রম শুরু হয়। নয় থেকে দু’ হাজার পচিশে এসে এখনও এম. সাইফুর রহমান আমাদের স্মৃতিতে অ¤øান। বাংলাদেশী সমাজ, রাজনীতি ও রাষ্ট্র পরিচালনা করার সাম্প্রতিক ইতিহাসে এম. সাইফুর রহমান এক স্মরনীয় বরনীয় ও ব্যতিক্রমী ব্যক্তিত্ব। সুঠাম শরীরের অধিকারি ফর্সা চেহারার দীর্ঘ ছ’ ফুটি, ক্লিন শেভে ব্যাক ব্রাশ করা এক মাথা চুল, উন্নত নাসিকা, বুদ্ধি দীপ্ত দুই চোখে সাফ সুতরা কেতাব দুরস্ত এম. সাইফুর রহমান লোক দেখানো “চাদ্দরি” নেতা ছিলেন না, তিনি ছিলেন স্যুটেড-বুটেড-পোষাক সচেতন আধুনিক ও উন্নত মনমানুষিকতার মানবতা বাদি এক মহান নেতা, তাঁর জন্ম বৃটিশ ভারতের শেষে ভাগে ১৯৩২ সালের ৬ই অক্টোর সদর থানাধীন ঐতিহ্যবাহী পল্লীগ্রাম বাহারমর্দানে এক শিক্ষিত সম্ভ্রান্ত মধ্যবিত্ত মুসলিম পরিবারে। পিতা আব্দুল বাসির একজন স্কুল শিক্ষক, মাতা তালেবুন্নেছা গৃহবধু। বাল্য কালে বালক সাইফুর স্কুল শিক্ষক পিতাকে হারিয়ে ছোট দুই ভাইকে নিয়ে চিন্তাযুক্ত তখন শিক্ষানুরাগি চাচা মোঃ সফি এগিয়ে আসেন, স্বেচ্ছা প্রনোদিত হয়ে তিন এতিম শিশুর লেখাপড়া শিখিয়ে মানুষের মত মানুষ করার দায়িত্বভার গ্রহন করেন। ব্যক্তি এম. সাইফুর রহমান আজীবন পিতৃতুল্য চাচার ¯েœহ মমতার ঋন স্বীকার করতেন। হাক্কানী পাবলিশার্স থেকে প্রকাশিত তাঁর বিশাল আত্বজৈবনিক মহাকাব্য, তিনশত বায়ান্ন পৃষ্টার “কিছু কথা, কিছু স্মৃতি”- যথার্থ ভাইে উৎসর্গ করেছেন তাঁর চাচা মোহাম্মদ সফি এবং তাঁর জীবন সঙ্গীনি বেগম দুররে সামাদ রহমানের নামে। মহান আল্লাহর অপর মেহের বানী এবং পিতা-মাতা চাচা-চাচির দোয়ায় পল্লীর নিভৃত প্রান্তর এক গ্রামে জন্ম নেয়া এম. সাইফুর রহমান তাঁর কঠিন পরিশ্রম মেধাও মনন-প্রজ্ঞা ও পান্ডিত্যের গুনে বাংলাদেশের অর্থ মন্ত্রী হয়েছেন, বিশ্বব্যাপী অর্থ নৈতিক পরিমন্ডলে নেতৃত্ব দিয়েছেন-বিশ্ব ব্যাংক ও আই,এম,এফ এর বোর্ড অব গভর্নস এর চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের ইমেজ ও ভাবমূর্তি বৃদ্ধি করেছিলেন। মেধাবী ছাত্র এম. সাইফুর রহমান ১৯৫৯ সালে ইন্সটিটিউট অব চার্টর্ড একাউন্টেন্টস, ইংল্যান্ড ও ওয়েলস এর ফেলেশীফ অর্জনের মাধ্যমে গৌরজনক শিক্ষা জীবনের পরিসমাপ্তি ঘটান। সেই সময় বিলেতে গিয়ে উচ্চ শিক্ষা গ্রহনের রেওয়াজ ও প্রথা প্রচলিত ছিল না। মেধাবী ছাত্র এম. সাইফুর রহমান প্রথমে বিলেতে ব্যারিষ্টারী পড়ার ইচ্ছে থাকলেও পরে মত পরিবর্তন করে কঠিন বিষয় একাউন্টেন্সীতে উচ্চতর ডিগ্রী এফ,সি,এ অর্জন করেন। বিভিন্ন সংস্থা ও প্রতিষ্টানে ভালো মায়নায় চাকরির অফার থাকলেও উচ্চ বেতন ও বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা সহ অক্সিজেন লিমিটেডে যোগদান করে করাচি শাখার দায়িত্ব ভার গ্রহন করেন। এ সময় এ খানেই তার শুভ বিবাহ অনুষ্টিত হয় চট্টগ্রামের এক ঐতিহ্যবাহী খান্দানী পরিবার কৃতি কন্যা বেগম দুররে সামাদ এ সঙ্গেঁ। সাইফুর-দুররে-দম্পতির আল্লাহর দান চার সন্তান। এম. নাসের রহমান, কাওসার রহমান, শফিউর রহমান, পুত্রত্রয় উচ্চ শিক্ষিত, কর্মজীবনে প্রতিষ্টিত। একমাত্র কন্যা সাইফা রহমান বড় ঘরে ভালোবরে পাত্রস্থ। বেগম দুররে সামাদ রহমান ছিলেন এক আদর্শ গুনবতী রমনী সু-গৃহিনী-¯েœহ ময়ী জননী। স্বামী ও পিতৃ কুলের দিক দিয়ে আভিজাত্য মানমর্যাদাশান শওকতের অধিকারি হলেও তাঁর কোন অংকার কিংবা অহংবোধ ছিল না। আফসোস আমাদের, দুঃখ দুর্ভাগ্যজনক ভাবে এই গুনবতী রমনী দুই হাজার তিন সালে ঘাতক ব্যাধি ক্যেন্সারে আক্রান্ত হয়ে ইহলোক ত্যাগ করেন। বৃহত্তর সিলেটের উন্নয়নে এই গুনবর্তী রমনীর ভূমিকা ও অবদান সংশ্লিষ্ট সকলেই জানেন। বাঙ্গাঁলিদের প্রতি পাকিস্তানী আবাঙ্গাঁলীদের বৈষম্য মূলক আচরন এবং স্বদেশের আকর্ষন করাচীর বিলাসি জীবন ও উচ্চ বেতনের চাকরি ছেড়ে বাষট্টি সালের জুলাই আগষ্ট মাসে শ্বশুরের দেশ বাংলাদেশের বানিজ্যিক রাজধানী চট্টগ্রাম আসেন এম. সাইফুর রহমান। আর সরকারি-বেসরকারি চাকরি নয় নিজেই সি,এ ফার্ম গড়ে তুলতে আত্বনিয়োগ করেন। রেজাউর রহমান ও তাসফিন হক-কে নিয়ে গঠন করেন “রহমান রহমান হক এন্ড কোম্পানী। তিন রতেœর সম্মলিত প্রচেষ্টায় অল্পসময়েই তাঁদের পেশাগত দায়িত্ব-পেশাগত দক্ষতার কারনে এই কোম্পানী একটি নামদামী কোম্পানী হিসাবে খ্যাতি অর্জন করে। ব্যবসা প্রসারের সাথে সাথে গুলশান আবাসিক এলাকায় প্লট কিনে দৃষ্টি নন্দন বাড়ি নির্মান করান এম. সাইফুর রহমান। পেশাদার রাজনীতিবিদ না হলেও এম. সাইফুর রহমান রাজনীতি বিরোধী ছিলেন নাবরং তিনি ছিলেন রাজনীতি সচেতন, গনমুখী ও দেশ প্রেমিক। বায়ান্নের ভাষা আন্দোলনের সময় সক্রিয় ভাবে অংশ গ্রহনের অভিযোগে তিনি দীর্ঘদিন কারা যাতনা ভোগ করেন, সরকারের কাছে মুচলেকা দিয়ে তিনি বেরিয়ে আসেন নি। তিনি একজন ভাষা সৈনিক ও বটেন। জাতি তাঁকে একুশের পদকে ভূষিত করেছেন। পে কমিশন সহ পেশাদারি দায়িত্ব পালন কালে সৈনিক জিয়ার সঙ্গেঁ তাঁর পরিচয় ছিল। মেজর জিয়ার স্বাধীনতার ঘোষনা তিনি স্বকর্নে শুনে উৎসাহিত হয়েছেন। স্বাধীনতার ঘোষক জিয়ার প্রতি তাঁর ব্যক্তিগত শ্রদ্ধাবোধও ছিল। সাতই নবেম্বরের সিপাহী বিপ্লবের মহা নায়ক জেনারেল জিয়াউর রহমান কে এম. সাইফুর রহমান শ্রদ্ধা করতেন, দেশ তাঁর হাতেই নিরাপদ বলে তিনি মনে করতেন। এ হেন জেনারেল জিয়াউর রহমানের বার বার অনুরোধে তিনি সক্রিয় ভাবে রাজনীতিতে যোগদান করেন। ১৯৭৬ সালের ডিসেম্বর মাসে এম. সাইফুর রহমান প্রেসিডেন্ট এ,এস,এম সায়েমের উপদেষ্টা পরিষদে- পূর্ন মন্ত্রীর মর্যাদায় বানিজ্য উপদেষ্টা হিসাবে যোগ দিয়ে তাঁর বর্নাঢ্য রাজনৈতিক জীবনের শুভ সূচনা করেন।

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের “ট্যেলেন্ডেড কেবিন্যেটে” প্রভাব শালী সদস্য হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন সত্যবাদি-স্পষ্টবাদি ও স্পষ্টভাসি এম. সাইফুর রহমান। প্রেসিডেন্ট জিয়া থেকে শুরু করে জাষ্টিস সাত্তার, বেগম খালেদা জিয়া বি,এন,পি-র সকল সরকারামলে সফল ও সৎ মন্ত্রীর গুরু দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। শহীদ রাষ্ট্রপ্রতি জিয়িাউর রহমান তাকে বিশ্বাস করতেন-সম্মান দিতেন। নাটের গুরু কুচ বিহারি হারামি (সব কুচ বিহারিও বিহারি হারামি নয়, ব্যতিক্রম আছে।) তৎকালীন জেনারেল জিয়া মনোনীতি সেনাপ্রধান, মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতিপক্ষ ও দুষমন লেঃ জেঃ হো. মো. এর্শাদ এর ইশারায় প্রেসিডেন্ট জিয়া হত্যার খল নায়ক ছিলেন তৎকালীন সেনাপ্রধান লেঃ জেঃ এর্শাদ।“৮১ সালের ৩০শে মে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে কতেক বিপথগামী সেনা সদস্য প্রেসিডেন্ট জেনারেল জিয়াকে ব্রাশ ফায়ার এর মাধ্যমে নির্মম ভাবে হত্যা করে। ভাইসপ্রেসিডেন্ট জাষ্টিস সাভার রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলে” ৮২ সালে সেনা প্রধান জেনারেল এর্শাদ রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস বাদ এর মাধ্যমে বৃদ্ধ বিচারপতি প্রেসিডেন্ট সাত্তার সাহেবকে বন্দুকের নলের মুখে ক্ষমতা থেকে হটিয়ে রাষ্ট্র ক্ষমতা দখল করে সামরীক আইন জারী করে নিজেকে সি,এম,এল,এ হিসাবে ঘোষনা করতঃ সংসদ ভেঙ্গে দেন, মন্ত্রী সভা বাতিল করেন। বি,এন,পির স্থায়ী কমিটির চীর স্থায়ী সদস্য এম. সাইফুর রহমান কথিত দূর্নীতির অভিযোগে গ্রেফতার করে এর্শাদের সামরীক সরকার। বি,এন,পি কে ভাঙ্গা এবং দল থেকে ভাগিয়ে নিতে এর্শাদি সহচর ও গোয়েন্দারা পায়তারা শুরু করেন। এম. সাইফুর রহমানকে মন্ত্রীত্ব সহ বিভিন্ন প্রলোভন দিলে তিনি তা ঘৃনাভরে প্রত্যাখ্যান করেন, দীর্ঘ দিন কারা যাতনা ভোগ করেন। সমগ্র সিলেট বিভাগ ব্যাপী এম. সাইফুর রহমানের ক্ষমতার অপব্যবহার ও দূর্নীতির সন্ধান পান নি এর্শাদী সামরীক বেসামরিক গোয়েন্দা ও সরকারি এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। দেশব্যাপী গনতন্ত্রন পূনরুদ্ধার এবং সামরীক স্বৈর শাসক এর্শাদ বিরোধী আন্দোলন দূর্বারহয়ে উঠে। এ সময় সংগ্রামী ছাত্র সমাজের আত্বত্যাগ ও প্রশংসনীয় ভূমিকা ইতিহাসে লিপিবদ্ধ আছে। গৃহবধু বেগম খালেদা জিয়া অকাল ও আকস্মিক বৈধব্যের বেদনাকে ভূলে দল ও জাতীয় প্রয়োজনে রাজনীতিতে যোগদান করতঃ বি,এন,পির চেয়ার পার্সনের দায়িত্বভার গ্রহন করেন। টানা নয় বছর রাজপথের আন্দোলন সংগ্রামে নেতৃত্ব দিয়ে আপোষহীন দেশনেত্রী হিসাবে দেশ ও জাতি কর্তৃক স্বীকৃত হন খ্যাতিপান। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের প্রিয়ও বিশ্বস্ত সহচর এম. সাইফুর রহমান নেত্রীর সাথে আন্দোলনে সংগ্রামে ছিলেন প্রথম কাতারে রাজপথে। লেঃ জেনারেল মুন এম এর মত ডাক সাইটে জেনারেল, এম. সাইদুজ্জামানের মত ডাক সাইট আমলা এবং শেষ তক আমেরিকা থেকে বিশিষ্ট অথর্খ নীতিবিদ ও শিক্ষাবিদ ডক্টর ওয়াহিদুল হক এর মত ব্যক্তিত্বকে হায়ারে এনেও এর্শাদী লাঙ্গলে মঙ্গঁল আসে নি। আওয়ামী প্রধান শেখ হাসিনা এর্শাদের সামরীক আইনজারীতে “আই এ্যমনট আনহ্যোপি- বলে পরোক্ষভাবে সেনা শাসকে স্বাগত জানিয়ে তলে তলে লাইনে ছিলেন। ৮৬ সালের এর্শাদের ফাঁদে পা দিলে শেখের বেটি শেখ হাসিনা জাতীয় সংসদের নির্বাচনে অংশ নিয়ে সামরীক স্বৈর শাসনকে দীর্ঘায়িত করলেও শেষ রক্ষা হয় নি, তিন জোট ও ছাত্র জনতার আন্দোলনের মুখে তাঁকে পদ ত্যাগ করতেই হল, শেখের বেটি শেখ হাসিনার মত ভারতে পালিয়ে যেতে হয় নি। ৯১ সালে বিচার পতি শাহাবুদ্দিন আহমদের নেতৃত্বাধীন তত্ত¡াবধায়ক সরকার আমলে স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসে দলনির পেক্ষ, অংশ গ্রহন মূলক, প্রতিদ্বন্ধীতা পূর্ন নির্বাচনে বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন বি,এন,পি দলগত ভাবে সংখ্যা গরিষ্টতা লাভ করে বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন সরকার গঠিত হয়ে পরিচ্ছন্ন রাজনীতিবিদ এম. সাইফুর রহমান “ট্যেকনোক্রাট” হিসাবে অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব ভার গ্রহন করেন। তাঁর যথেষ্ট ও প্রয়োজনীয় যোগ্যতা থাকা সত্বেও সদর আসন, মৌলভীবাজার তিন এ তাকে সাংঘটনিক দূর্বলতার কারনে মূল্যায়ন করা হয় নি। নির্বাচনে তাঁকে অবমূল্যায়ন করলেও সাচ্চা দেশ প্রেমিক ও নিখাদ জাতীয়তাবাদী এম. সাইফুর রহমান উদার দৃষ্টি ভঙ্গিঁ নিয়ে নির্বাচনী বেদনা-বোধ ভুলে গিয়ে মৌলীবাজার ও বৃহত্তর সিলেটের সার্বিক উন্নয়নে আত্ব নিয়োগ করেন। আমার রাজনৈতিক ও সামাজিক জীবনের মূলবান প্রাপ্তি ও সঞ্চয়ী আমানত হল তার সংস্পর্শে যাওয়া, সাহচর্য্য, মায়া মমতা পাওয়া। বদনসিব আমার আমি আজীবনই পিতৃ ¯েœহ থেকে বঞ্চিত। পরিবারের প্রথম সন্তান হিসাবে পিতা-মাতা আমাকে অসম্ভব ভালো বাসতেন, না চাইতেই অনেক কিছু পেতাম। প্রবাসী পিতা, আমি লেখাপড়ার প্রয়োজনে বাল্য, কৈশোরে হলে হোষ্টেলেই বেড়ে উঠেছি। বাহারমর্দন দীঘিওয়ালা কপালি বাড়ি আমার বাবার মামার বাড়ি। জাহিদ মিয়া মাষ্টার সাহেব বাবার মামা। তাছাড়াও বাহার মর্দানে আমাদের আরো আত্বীয়তা এবং আমার একাধিক সহপাঠি সতীর্থ ছিলেন। ছোট কাল থেকেই বাহামর্দান, ফুফুর বাড়ি জগৎসীতে আমার আসা যাওয়া। ছোট কাল থেকেই কৃতি ছাত্র চার্টার্ড একাউন্টেন্ট এম. সাইফুর রহমান, তদীয় ভ্রাতা জাষ্টিস সিরাজুল ইসলাম সাহেবের নাম জানতাম। চিনতাম। ষাটের দশকে ছাত্র রাজনীতিতে জড়িতও নেতৃত্বে ছিলাম। মুক্তিযুদ্ধেও যোগ দিয়ে ছিলাম। একজন স্বপ্নবাজ মুক্তিযোদ্ধা হিসাবে বৈষম্যহীন, মানবিক বাংলাদেশ গঠন ও দেখা আমাদের ইচ্ছা ছিল, কিন্তু স্বাধীনতা উত্তর আওয়ামীলীগ সরকারের সীমাহীন দূর্নীতি, ব্যর্থতা, আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির মারাত্বক রকমের অবনতিতে স্বাধীনতা সংগ্রামীও তাত্বিক সিরাজুল আলম খান, আশম রব কে নিয়ে জাতীয় সরকার গঠনের প্রস্তাব দিলে তা প্রত্যাখ্যাত হলে গনদাবীর প্রেক্ষিতে গঠিত হয় জাতীয় সমাজ তান্ত্রীক দল জাসদ। দাদা হিসাবে খ্যাত ছাত্র রাজনীতিও মুক্তিযুদ্ধের ওস্তাদ সিরাজ ভাইর প্রেরনায় জাসদে যোগ দেই। প্রয়োজনীয় যোগ্যতা থাকা সত্তে¡ও দেশের প্রথম বি,সি,এস কেডার বাহাত্তোরের ব্যেচএ সরকারি চাকরিতে যোগ দেই নি। শোষন ও বৈষম্যহীন সমাজ গঠনের আন্দোলনে আমরা কামিয়াবহতে পারিনি। তাত্বিক বিশ্লেষন, বিভ্রান্তি, বিভাজন, অনৈক্যে একদিন মশালের আলো নিভে না গেলেও ¤øান হয়ে গেলে ঘরের ছেলে ঘরে ফিরে এলাম। এর্শাদী সামরীক শাসনামলে বাংলাদেশ সেনা বাহিনীর চৌকশ কর্মকর্তা, আমার আত্বার আত্বীয় সৈদপুরি সৈয়দ জাদা মেজর আলী (অবঃ লেঃ কর্নেল। সাবেক পিন্সিপাল জালালাবাদ কেন্টনমেন্ট স্কুল কলেজ) আমার পারিবারকি বাসগৃহ রসুল হাউসে এসে বিনয়ের সঙ্গেঁ প্রতি মন্ত্রীর প্রস্তাব দিয়ে এর্শাদ সরকারকেসমর্থ করতে বল্লেন। আমি তখন জেলা জাসদের সভাপতি ও প্রেসক্লাবের সেক্রেটারী। তখন আমার দুরন্ত যৌবন কাল, তাঁর সঙ্গেঁ বে আদবি না করলেও কড়া ভাবে প্রত্যাখ্যান করি। বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্টানাদিতে যেতে হয়, গেলে আমাকে দু’ কথা বলতে হয়, দিন তারিখ মনে নেই আমি ও আমার আত্বীয় শ্রীমঙ্গল পৌরসভার প্রক্তন মেয়র মহসিন মিয়া মধু সার্কিট হাউসের একটি সমাবেশে ছিলাম।এম. সাইফুর রহমান আমাকে সরাসরি বল্লেন, তোমার জাসদ মারা গেছে। দেশের জন্য যুদ্ধ করেছ, বক্তৃতাও দাও ভালো, তুমি মধুকে নিয়ে আমার সঙ্গেঁ কাজ কর। গুরুজন হিসাবে তাঁর সঙ্গেঁ আমি তর্ক বিতর্ক করিনি, আমার নীরবতায় উপস্থিত ছাত্র ও যুবদলের নেতা কর্মিরা “শ্লোগান দিয়ে উটলো- মুজিব ভাই-মধু ভাইর আগমন শুভেচ্ছা স্বাগতম”। তিনি আমাকে ও মহসিন মিয়া মধুকে জেলা কমিটির সদস্য করেছিলেন, সেই থেকে তাঁর সাথে ছিলাম-আছি। তাঁর কাছে কোনদিন কিছুই চাই নি, তিনি আমাকে বি,এন,পির একান্নব্বইর সরকারামলে এ জেলার পাবলিক প্রসিকিউটার বানিয়ে ছিলৈন। আমি দৈনিক কয়েকশ টাকা ভাতা পি,পি,র দায়িত্ব পালন করেছি, লাশ বিক্রি করে লাখ টাকা কামাই করিনি, সাইলেন্সফি নিয়ে সরকার ও তার ভাবমূর্তি বিনষ্ট করিনি।দুই হাজার এক সালে বিশাল বিজয় নিয়ে বি,এন,পির নেতৃত্বাধীন চার দলীয় জোট জয় লাভ করে। দেশ নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মন্ত্রী সভায় তিনি অর্থের সাথে পরিকল্পনা মন্ত্রীর দায়িত্ব পান। তৎকালীন যুবদলের কেন্দ্রী নেতা বর্তমানে সিলেঠ জেলা বি,এন,পির সংগ্রামী সভাপতি আমার একান্ত প্রিয়ভাজন আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী মন্ত্রী মহোদয় রাজনৈতিক সচিব হিসাবে যোগ দেন। মাননীয় মন্ত্রীও তাকে খুব ¯েœহ করতেন। প্রিয় ভাজন আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী একদিন ফোনে বল্লেন “বড় ভাই স্যার আপনাকে খুবই ¯েœহ করেন, তিনি আপনাকে একটি বড় দায়িত্ব দিতে চান”। উত্তরে আমি বলে ছিলাম আমি জানি তিনি এবং তাঁর সহ ধর্মিনী আমাকে পুত্রবৎ ¯েœহ মমতা করেন, তিনি আমাকে এ্যঃ এটর্নী বানাতে চেয়ে ছিলেন, ঢাকায় আমার বাড়ি ঘর নাই, এগারো হাজার টাকা মাসিক ভাতায় আমাকে ফুট পাথেও থাকা হবে না, তাই না করে দিয়েছি। তবুও কাইয়ুম চৌধুরী বল্লেন স্যার যখন চাচ্ছেন আপনার মানা করা উচিত নয়। ভ্রাতৃ বরেষুর ভালো কথা আমার বড়ই ভালো লাগলো, বল্লাম আলাহ ভরসা। কিছু দিনের মধ্যেই ডাকযোগে একটি নিয়োগ পত্র পেলাম-সরকার আমাকে বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক এর বোর্ড অব ডাইরেক্টার নিয়োগ দিয়েছেন। আমি এই সম্মান জনক পদ প্রাপ্তিতে তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানালাম। ঐ সময় হবিগঞ্জে মাননীয় অর্থ ও পরিকলল্পনা মন্ত্রী মহোদয়কে বর্নাঢ্য নাগরিক সম্ভর্ধনা দেয়া হবে। বি,এন,পি-র সিলেট বিভাগীয় বর্তমান সাংঘটনিক সম্পাদক, আজীবন লড়াকু নির্ভীক জিয়ার সৈনিক আলহাজ্ব জি,কে গৌছ তখন হবিগঞ্জ জেলা যুবদলের সংগ্রামী সাধারন সম্পাদক, সভাপতি সম্ভবতঃ এডভোকেট সামছু মিয়া চৌধুরী। অনুজ প্রতিম জি,কে গৌছ এর সঙ্গেঁ আমার আলাপ পরিচয় আছে। এতবড় আয়োজন মিস করা যায় না। আমি ও বি,এন,পি-র প্রতিষ্টাকালীন প্রভাব শালী নেতা আমার একান্ত প্রিয় ভাজন মৌলভী আব্দুল ওয়ালি সিদ্দিকী সাত সকালেই হবিগঞ্জ রওয়ানা হই। সার্কিটহাউসে অভ্যর্থনা পাই, আপ্যায়িত হই। প্রগাম জানালাম যুবদলের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ সহ মাননীয় মন্ত্রী মহোদয় “লাঞ্চ” করবেন জেলা যুবদলের সভাপতির বাসায়। তাঁর পৈত্রিক বাসা বাড়িও বিশাল তার পিতা বিশিষ্ট ব্যবসায়ী। প্রিয় ভাজন জি,কে, গৌছ আমি ও আব্দুল ওয়ালি সিদ্দিকীকে তাঁর বাসায় দুপুরের খাবার খেতে দাওয়াত করলেন। আমি ও সিদ্দিকী খুশী মনে দাওয়াত কবুল করলাম। এখনও মনে পড়ছে আমাদের জেলা থেকে মহিলা এম,পি শ্রদ্ধেয়া বেগম খালেদা রব্বানীও গিয়েছিলেন। আলহাজ্ব জি,কে, গৌছ এর বাস গৃহ অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী এম. সাইফুর রহমানকে কেন্দ্র করে “লাঞ্চ পার্টি” সর গরম। জাতীয়তাবাদী যুবদলের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দও সেখানে উপস্থিতা ছিলেন আমাদেরকে দেখে জনাব এম. সাইফুর রহমান খুবই খুশী হলেন, আমাকে বার বার বলতে থাকেন তোমার ডিরেক্টার নিয়োগের ব্যাপারে কোন পত্র পাওনি ?। উপস্থিত সকলে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ সহ চমকে উঠলেন-সরকারি ব্যাংক এর সরকার মনোনীত ডাইরেক্টার কোন ব্যাংক এর। আমি নিয়োগ পত্র পেয়েছি বলে তাঁকে ধন্যবাদ জানিয়ে কদমবুসি করলাম বল্লাম ব্যাংকিং সেক্টার বোধ জ্ঞান লেখা লেখির বাহিরে, এসবেত আমার উৎসাহ নাই। উপস্থিত কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ মন্ত্রী মহোদয়কে বল্লেন “ উনি যখন উৎসাহী নন তখন তাকে এ দায়িত্ব দিলেন কেন ? তাকে তার যোগ্যতা মত অন্য দায়িত্ব দেয়া যেত। ভাব গম্ভীর ভাবে বাংলাদেশের বাজেট যাদুগর, ভ্যেট এর প্রবর্তক এম. সাইফুর রহমান বলেন, ব্যাংক ডিরেক্টার টাকার চেয়ার এখানে কমিশন, লেনদেন হয়, আমি তাকে বিশ্বাসকরি। ব্যাংকিং সেক্টারের একটা চেয়ার অন্তত “কমিশন ফ্রি” থাকুক। আমাকে বল্লেন তুমি একজন ভালো লেখক জাতীয় পত্র পত্রিকায়ও কলাম লেখ। তোমার কাজ “চেক হুন্ডি, ইউজ ব্যাংকিং চ্যেনেলের” উপর জোর দেয়া। বলে ব্যাংকিং সেক্টারের উপর অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী এম. সাইফুর রহমান মূল্যবান নাতি দীর্ঘ ভাষন দিলেন। আমি পাঁচ বছর তাই করেছি, মৎ সম্পাদিত মৌলভীবাজার দর্পন এবং পত্র পত্রিকায় কলাম লিখেছি। মাসে মাত্র পাঁচ হাজার টাকা ভাতা এবং সামান্য আর কয়েক হাজার টাকাটি এ/ডি/এ নিয়েছি। দু’ বছর পর আমি নির্ব্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান হই। কোন খেলাপি পার্টির সঙ্গেঁ তলে তলে লাইন করিনি। বি,এন,পি পহ্ণী ইঞ্জিনিয়ার এনামুল হক আমার সাক্ষাত এবং আমাকে ডাউন পেমেন্ট নাম মাত্র মুল্যে একটি ফ্লাট উপহার দিতে চাইলে আমি প্রত্যাখান করি, গ্রীন রোড এলাকায় আমার একজন অবসর প্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা সিলেটি বন্ধু এনার একটি ফ্ল্যট কিনলেন, যা এখন কোটি টাকার ও অধিক মূল্যের। আমার পাঁচ বছরের ব্যাংকিং কার্য্যক্রমে এমন কিছু করিনি যাতে তিনি ও সরকার বদনামি হয়, বরং কমিশন না খেয়ে দূর্নীতি না করে দেখিয়েছি এ ভাবেও কাজ করা যায়। রাজনীতিবিদ হিসাবে এম. সাইফুর রহমান বায়ান্নের ভাষা আন্দোলনে ইমান দারির পরিক্ষায় পাশ করেছেন। পূর্ব পশ্চিমের বৈষম্যের কারনে করাচির বিরাট বাড়ি মোটা মাইনার বিদেশী কোম্পানীর চাকরি ছেড়ে এখানে এসেছেন। দলগত ভাবে জাগদল গঠনে তাঁর ভূমিকা ছিল সমুজ্জল। তিনি সিলেট বিভাগের দায়িত্বে ছিলেন, দায়িত্বে পালন করেছেন। প্রেসিডেন্ট জিয়ার হ্যাঁ-না ভোটেও তিনি কাজ করেছেন আন্তরিক ভাবে। বি,এন,পি গঠনে তিনি প্রথম কাতারের নেতা ছিলেন। স্থায়ী কমিটির সদস্য ছিলেন আমৃত্যো। একজন রাজনীতিবিদ হিসাবে তিনি ছিলেন সৎ, নির্লোভ, স্পষ্টবাদি সত্যবাদি মিঃ ক্লিন। রাজনৈতিক অর্থমন্ত্রী হিসাবে তিনি বেগম বেগম জিয়ার প্রথম সরকারামলে স্বৈরাচার বিধ্বস্থ অর্থনীতিকে পূনর্ঘটিত করেন। ব্যাংক কর্ম্মচারি ছাটাইর ব্যাপারে তাঁর ভূমিকা ছিল দেশের পক্ষে, দলের নয়। তিনি অধিক হারে ব্যাংক খোলাকে সমর্থন করেন নি, তাঁর ভাষায় ঐ গুলি চকলেটের দোকান। তিনি তাঁরকার্য্যকালে ব্যাংকিং সেক্টারে শৃঙ্খলা ছিল, শেয়ার বাজার চাঙ্গাঁ ছিল, হুন্ডি বাজদের দৌরাত্ব ও গুন্ডামি ছিল না। বাংলাদেশ ব্যাংক এর আওয়ামী গভর্নর গন রিজার্ভ এর টাকা পাচারে ও পিছ পা হন নাই, অথছ তাঁর কার্য্যকালের গভর্নর ড. সালেহ আহমদ সততা ও সুনামের সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন বর্তমান অন্তবর্তী কালীন সরকারের অর্থ উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁর কার্য্যকালে মন্ত্রনালয় এর পিয়ন থেকে সচিব পর্যন্ত সজাগ ও সতর্ক থাকতেন, পান থেকে চুন খসার উপায় ছিল না। আওয়ামী অর্থ মন্ত্রী এ,এম,এ মুহিত জনতা ব্যাংক একটি ভালো ব্যাংক কিন্তুচেয়ারম্যান আবুল বারাকাত শেষ করে ফেল্ল। এ কথা বলার পর কারো কিছু হল না। ব্যাংকিং সেক্টারকে সচল এবং আমাদের রেমিটেন্স যোদ্ধা প্রবাসীগন অধিকতর ও দৃত সেবা প্রদানের জন্য এম. সাইফুর রহমান বিলেত, আমেরিকায় সোনালি ব্যাংক এর শাখা সোনালি এক্স চেঞ্জ খুলে হুন্ডির পথ বন্ধ করে ছিলেন। শেখ হাসিনার বিগত দেড় দশকাধিককালের স্বৈর শাসনামলে ব্যাংকিং সেক্টার কে সাল মান এফ রহমান, এস আলম দের হাতে ছেড়ে দিয়ে ঋনের নামে শত শত কোট টাকা বিদেশে পাচার করেছেন। বিশ্বব্যাংক এর সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ ডক্টর জাহিদ হোসেন এর মতে আওয়ামী শাসামলে নেতারাই অধিক টাকা পাচার করেছিলেন। আওয়ামী সরকারের পতন ও পলায়নের পর রেমিটেন্স বৃদ্ধি পেয়েছে। সরকারি মাধ্যমে দেশের টাকা পাটিয়ে আমাদের প্রবাসী রেমিটেন্স যোদ্ধাগন বৈদেশিক মুদ্রার ভান্ডারকে সম্বৃদ্ধ করতঃ দেশীয় অর্থনীতির ভিতকে মজবুত করছেন। দেশ ও জাতির এই কঠিন ও ক্রান্তিকালে এম. সাইফুর রহমানের মত আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন অর্থনীতিবিদের খুবই প্রয়োজন ছিল। তাই তাঁর ওফাতের পনেরো বছর পেরিয়ে এখনও তিনি আমাদের স্মৃতিতে অ¤øান। আমার শ্রদ্ধেয় নেতা রাজনৈতিক অর্থনীতিবিদ মরহুম অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী এম. সাইফুর রহমানের ষোলতম মৃত্যোবর্ষিকীতে তাঁর উজ্জল স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও রুহের মাগফিরাত কামনা করি।
[একটি রাষ্টায়াত্ব বানিজ্যিক ব্যাংক এর পরিচালক ও চেয়ারম্যান নিবার্হা কমিটি মুক্তিযোদ্ধা। এডভোকেট হাইকোট।]