7:17 am, Wednesday, 29 April 2026

রিকশা চালিয়ে পরিবার নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন প্রতিবন্ধী মো: আব্দুল গফুর

বিশ্বজিৎ কর : শারীরিক প্রতিবন্ধী’র জীবন সংসার চলে একহাতে রিকশা চালিয়ে। হবিগঞ্জ পইল ইউনিয়নের পইল গ্রামের মৃত আব্দুর রহমানের বড় ছেলে মো: আব্দুল গফুর। জন্মের পর থেকেই তার ডান হাত পঙ্গু আবস্থায় আছে । জীবন যুদ্ধে টিকে থাকার জন্য তিনি এক হাতে রিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছেন। উনাকে এখন মৌলভীবাজার উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় যাত্রী নিয়ে একহাতে রিকশা চালাতে দেখা যায় ।

গফুর বলেন, আমি ২০০০ সাল থেকে মৌলভীবাজার বসবাস করে আসছি তখন থেকেই মৌলভীবাজার উপজেলায় আমি রিকশা চালিয়ে নিজের জীবন চালিয়ে যাচ্ছি। জন্মের পর থেকেই আমার ডান হাত পঙ্গু কিন্তু আমি সব কাজ করার চেষ্টা করি কারন আমি কাজ করে নিজের পরিবার চালাতে চাই ভিক্ষা করে না ।

তিনি আরও বলেন, ‘সারাদিন রিকশা চালিয়ে আয় হয় ৪ শ থেকে ৫শ’ টাকা। কিন্তু এই আয় দিয়া সংসার চালাতে কষ্ট হয় । আমি প্যাডেল রিকশা চালাই। কিন্তু এখন অটো রিকশা আসার কারণে যাত্রী উঠতে চায় না। আমার কাছে যদি ব্যাটারিচালিত একটা রিকশা তাকতো তাহলে আবার ও যাত্রীরা আমার রিকশায় উঠতো। এতে শরীরের ওপর কিছুটা চাপ কমে যেতো । কিন্তু আয় বেশি না থাকায় আমার পক্ষে অটো রিকশা কিনা সম্ভব হচ্ছে না । পঙ্গু হইলেও জীবনতো চালানো লাগবে। তাই রিকশার চালিয়েই জীবন চালাই।

২৩ বছর বয়সে মো: আব্দুল গফুর বিয়ে করেন । জীবিকার তাগিদে ভাড়া নিয়ে রিকশা চালাতে শুরু করেন তিনি। প্রথমে একহাত দিয়ে রিকশা চালাতে কষ্ট হতো। যাত্রীরাও তাঁর রিকশায় ওঠতে ভয় পেতেন। কিন্তু আস্তে আস্তে রিকশা চালানোয় তাঁর কাছে সহজ হয়ে পড়ে। এখন বাম হাতেই তিনি দক্ষতার সঙ্গে রিকশা চালাতে পারেন। মৌলভীবাজারের শহরের সবার কাছে পরিচিত হয়ে উঠেন এখন যাত্রীরা ও তাঁর রিক্সায় উঠতে ভয় পান না । শরীর খারাপ থাকলেও রিকশা নিয়ে বের হতে হয় মো: আব্দুল গফুরকে এতে তাঁর দুঃখ নেই । তার ২ ছেলে ও ২ মেয়ে রয়েছে দুই মেয়ের নাম ফাতেমা আক্তার ঝুমাও সুমা আক্তার এবং দুই ছেলের নাম মাহমুদুল হাসান ও স্বপন আহমদ ইয়াসিন ।

Tag :
About Author Information

Sirajul Islam

রিকশা চালিয়ে পরিবার নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন প্রতিবন্ধী মো: আব্দুল গফুর

Update Time : 11:10:27 am, Sunday, 26 April 2026

বিশ্বজিৎ কর : শারীরিক প্রতিবন্ধী’র জীবন সংসার চলে একহাতে রিকশা চালিয়ে। হবিগঞ্জ পইল ইউনিয়নের পইল গ্রামের মৃত আব্দুর রহমানের বড় ছেলে মো: আব্দুল গফুর। জন্মের পর থেকেই তার ডান হাত পঙ্গু আবস্থায় আছে । জীবন যুদ্ধে টিকে থাকার জন্য তিনি এক হাতে রিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছেন। উনাকে এখন মৌলভীবাজার উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় যাত্রী নিয়ে একহাতে রিকশা চালাতে দেখা যায় ।

গফুর বলেন, আমি ২০০০ সাল থেকে মৌলভীবাজার বসবাস করে আসছি তখন থেকেই মৌলভীবাজার উপজেলায় আমি রিকশা চালিয়ে নিজের জীবন চালিয়ে যাচ্ছি। জন্মের পর থেকেই আমার ডান হাত পঙ্গু কিন্তু আমি সব কাজ করার চেষ্টা করি কারন আমি কাজ করে নিজের পরিবার চালাতে চাই ভিক্ষা করে না ।

তিনি আরও বলেন, ‘সারাদিন রিকশা চালিয়ে আয় হয় ৪ শ থেকে ৫শ’ টাকা। কিন্তু এই আয় দিয়া সংসার চালাতে কষ্ট হয় । আমি প্যাডেল রিকশা চালাই। কিন্তু এখন অটো রিকশা আসার কারণে যাত্রী উঠতে চায় না। আমার কাছে যদি ব্যাটারিচালিত একটা রিকশা তাকতো তাহলে আবার ও যাত্রীরা আমার রিকশায় উঠতো। এতে শরীরের ওপর কিছুটা চাপ কমে যেতো । কিন্তু আয় বেশি না থাকায় আমার পক্ষে অটো রিকশা কিনা সম্ভব হচ্ছে না । পঙ্গু হইলেও জীবনতো চালানো লাগবে। তাই রিকশার চালিয়েই জীবন চালাই।

২৩ বছর বয়সে মো: আব্দুল গফুর বিয়ে করেন । জীবিকার তাগিদে ভাড়া নিয়ে রিকশা চালাতে শুরু করেন তিনি। প্রথমে একহাত দিয়ে রিকশা চালাতে কষ্ট হতো। যাত্রীরাও তাঁর রিকশায় ওঠতে ভয় পেতেন। কিন্তু আস্তে আস্তে রিকশা চালানোয় তাঁর কাছে সহজ হয়ে পড়ে। এখন বাম হাতেই তিনি দক্ষতার সঙ্গে রিকশা চালাতে পারেন। মৌলভীবাজারের শহরের সবার কাছে পরিচিত হয়ে উঠেন এখন যাত্রীরা ও তাঁর রিক্সায় উঠতে ভয় পান না । শরীর খারাপ থাকলেও রিকশা নিয়ে বের হতে হয় মো: আব্দুল গফুরকে এতে তাঁর দুঃখ নেই । তার ২ ছেলে ও ২ মেয়ে রয়েছে দুই মেয়ের নাম ফাতেমা আক্তার ঝুমাও সুমা আক্তার এবং দুই ছেলের নাম মাহমুদুল হাসান ও স্বপন আহমদ ইয়াসিন ।