5:14 pm, Thursday, 13 August 2026

শমশেরনগর রেলওয়ে ষ্টেশনটি উন্নয়ন বঞ্চিত : যাত্রীরা ভোগান্তিতে

আব্দুর রাজ্জাক রাজা :: মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার ব্রিটিশ আমলে রেলপথ চালুর পর থেকে শমশেরনগর রেলওয়ে ষ্টেশন তৈরী করা হয়েছিল। শুরুর পর থেকে সিগ্যানাল কেবিন ও প্লাটফর্মের উন্নয়ন ব্যতীত শমশেরনগর রেলওয়ে ষ্টেশনটি উন্নয়ন বঞ্চিত রয়েছে। এই ষ্টেশনটি থেকে ঢাকার পথে ৩টি আন্ত:নগর ও ১টি মেইল এবং চট্রগ্রামের পথে ১টি আন্ত:নগর ট্রেন চলাচল করে। ফি বছর ষ্টেশন থেকে লাখ লাখ টাকা রাজস্ব আয় করলে ও যাত্রীর তুলনায় টিকেট কম,প্লাটফর্মে যাত্রী শেড ছোট,যাত্রী বিশ্রামাগার ও গাড়ী পার্কিংয়ে ব্যবস্থা না থাকায় ষ্টেশনটি ব্যবহারকারী যাত্রীরা ভোগান্তি পোহাচ্ছেন।
জানা যায়, ২য় বিশ্বযুদ্ধের সময় ব্রিটিশরা শমশেরনগরে দিলজান্দ নামে একটি বিমানবন্দর নির্মাণের সাথে সাথে শমশেরনগর রেলওয়ে ষ্টেশনটি স্থাপন করেছিল। এ রেলওয়ে ষ্টেশনের সাথে শমশেরনগর বিমানবন্দরের একটি সংযোগও ছিল। এখানে পাকিস্তান শাসনামলে পাকিস্তান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারলাইনস (পিআইএ) র আভ্যন্তরিন ফ্লাইট অবতরণ ও উড্ডয়ন করত। ১৯৭৫ সাল থেকে শমশেরনগর বিমানবন্দরে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর একটি ষ্টেশন চালু আছে। বর্তমানে বিমান বাহিনীর প্রশিক্ষণ ও নিয়োগ কেন্দ্র রয়েছে। শমশেরনগর হয়ে ভারতের ত্রিপুরার সাথে ব্যবসা বাণিজ্য করতে চাতলাপুর স্থল শুল্ক ষ্টেশন ও চাতলাপুর ইমিগ্রেশন হয়ে ভারতে ভিসাধারীরা যাতায়াত করেন। কমলগঞ্জ,কুলাউড়া ও রাজনগর উপজেলার ২৫টি ইউনিয়নের ব্যবসায়ী,বিদেশযাত্রী,চাকুরীজীবী,সহ নানা কাজের যাত্রীরা শমশেরনগর রেলওয়ে ষ্টেশন ব্যবহার করে দেশের বিভিন্ন স্থানে যাাতায়াত করেন। রেলওয়ের রাজস্ব আয়েও সিলেট-আখাউড়া রেলপথের মধ্যে শমশেরনগর রেলওয়ে ষ্টেশন গুরুত্বপূর্ণ। তারপরও ব্রিটিশ আমলের টিন শেডের ঘরে চলছে শমশেরনগর রেলওয়ে ষ্টেশনের কার্যক্রম।
শমশেরনগর বণিক কল্যাণ সমিতির সভাপতি আব্দুল হান্নান বলেন, শুধুমাত্র এলাকাভিত্তিক রাজনৈতিক প্রতিহিংসায় শমশেরনগর রেলওয়ে ষ্টেশনটিতে প্রয়োজনীয় উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি। এলাকার সাংসদ অসংখ্যবার শমশেরনগর রেলওয়ে ষ্টেশনের প্রয়োজনীয় উন্নয়নের আশ্বাস দিলেও বাস্তবে কোন উন্নয়ন করা হয়নি। ব্যবসায়ী নেতা আরও বলেন, ১৯৫৭ সালে ইরানের রাষ্ট্র প্রধান শাহেন শাহ পাহলভী ঢাকা থেকে ট্রেনে এসে শমশেরনগর রেলওয়ে ষ্টেশনে অবতরণ করেছিলেন। তখন তাঁর সম্মানে শমশেরনগর রেলওয়ে ষ্টেশন এলাকায় শাহের তোরণ নামে একটি পাকা তোরণ (ফটক) নির্মাণ করা হয়েছিল। কালের স্বাক্ষী হিসেবে সে তোরণ আজও দাঁড়িয়ে আছে। শাহেন শাহ রেজা পাহলভি শমশেরনগর থেকে সড়ক পথে লংলার পৃথিম পাশা নওয়াব বাড়িতে গিয়েছিলেন।
শমশেরনগর রেলওয়ে ষ্টেশন মাস্টার জামাল হোসেন বলেন,যাত্রী ও রাজস্ব আয়ে শমশেরনগর রেলওয়ে ষ্টেশন এ সেকশনে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তিনি আরো জানান,রেলওয়ে ষ্টেশনে প্রতিদিন ঢাকা পথে আন্ত:নগর কালনি এক্সপ্রেস ট্রেন,জয়ন্তিকা এক্সপ্রেস ট্রেন,উপবন এক্সপ্রেস ট্রেন ও রাতের সুরমা মেইল ট্রেন চলাচল করে। আবার সিলেট চট্টগ্রাম পথে আন্ত:নগর পাহাড়িকা এক্সপ্রেস ট্রেন চলাচল করে। সকল আন্ত:নগর ট্রেনে নির্ধারিত আসনের চেয়ে ২গুণ যাত্রী প্রতিদিন যাতায়াত করেন। তিনি বলেন যাত্রীদের উন্নত সেবা নিশ্চিত করতে রেলওয়ের সংশ্লিষ্ট বিভাগে প্রয়োজনীয় উন্নয়নের জন্য দাবী জানিয়ে উবর্ধতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

 

Tag :
About Author Information

Sirajul Islam

বিদ্যুতের বড় অংশ টেনে নিচ্ছে ব্যাটারি রিকশা-ইবাইক: জ্বালানিমন্ত্রী

শমশেরনগর রেলওয়ে ষ্টেশনটি উন্নয়ন বঞ্চিত : যাত্রীরা ভোগান্তিতে

Update Time : 10:20:40 am, Tuesday, 8 October 2024

আব্দুর রাজ্জাক রাজা :: মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার ব্রিটিশ আমলে রেলপথ চালুর পর থেকে শমশেরনগর রেলওয়ে ষ্টেশন তৈরী করা হয়েছিল। শুরুর পর থেকে সিগ্যানাল কেবিন ও প্লাটফর্মের উন্নয়ন ব্যতীত শমশেরনগর রেলওয়ে ষ্টেশনটি উন্নয়ন বঞ্চিত রয়েছে। এই ষ্টেশনটি থেকে ঢাকার পথে ৩টি আন্ত:নগর ও ১টি মেইল এবং চট্রগ্রামের পথে ১টি আন্ত:নগর ট্রেন চলাচল করে। ফি বছর ষ্টেশন থেকে লাখ লাখ টাকা রাজস্ব আয় করলে ও যাত্রীর তুলনায় টিকেট কম,প্লাটফর্মে যাত্রী শেড ছোট,যাত্রী বিশ্রামাগার ও গাড়ী পার্কিংয়ে ব্যবস্থা না থাকায় ষ্টেশনটি ব্যবহারকারী যাত্রীরা ভোগান্তি পোহাচ্ছেন।
জানা যায়, ২য় বিশ্বযুদ্ধের সময় ব্রিটিশরা শমশেরনগরে দিলজান্দ নামে একটি বিমানবন্দর নির্মাণের সাথে সাথে শমশেরনগর রেলওয়ে ষ্টেশনটি স্থাপন করেছিল। এ রেলওয়ে ষ্টেশনের সাথে শমশেরনগর বিমানবন্দরের একটি সংযোগও ছিল। এখানে পাকিস্তান শাসনামলে পাকিস্তান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারলাইনস (পিআইএ) র আভ্যন্তরিন ফ্লাইট অবতরণ ও উড্ডয়ন করত। ১৯৭৫ সাল থেকে শমশেরনগর বিমানবন্দরে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর একটি ষ্টেশন চালু আছে। বর্তমানে বিমান বাহিনীর প্রশিক্ষণ ও নিয়োগ কেন্দ্র রয়েছে। শমশেরনগর হয়ে ভারতের ত্রিপুরার সাথে ব্যবসা বাণিজ্য করতে চাতলাপুর স্থল শুল্ক ষ্টেশন ও চাতলাপুর ইমিগ্রেশন হয়ে ভারতে ভিসাধারীরা যাতায়াত করেন। কমলগঞ্জ,কুলাউড়া ও রাজনগর উপজেলার ২৫টি ইউনিয়নের ব্যবসায়ী,বিদেশযাত্রী,চাকুরীজীবী,সহ নানা কাজের যাত্রীরা শমশেরনগর রেলওয়ে ষ্টেশন ব্যবহার করে দেশের বিভিন্ন স্থানে যাাতায়াত করেন। রেলওয়ের রাজস্ব আয়েও সিলেট-আখাউড়া রেলপথের মধ্যে শমশেরনগর রেলওয়ে ষ্টেশন গুরুত্বপূর্ণ। তারপরও ব্রিটিশ আমলের টিন শেডের ঘরে চলছে শমশেরনগর রেলওয়ে ষ্টেশনের কার্যক্রম।
শমশেরনগর বণিক কল্যাণ সমিতির সভাপতি আব্দুল হান্নান বলেন, শুধুমাত্র এলাকাভিত্তিক রাজনৈতিক প্রতিহিংসায় শমশেরনগর রেলওয়ে ষ্টেশনটিতে প্রয়োজনীয় উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি। এলাকার সাংসদ অসংখ্যবার শমশেরনগর রেলওয়ে ষ্টেশনের প্রয়োজনীয় উন্নয়নের আশ্বাস দিলেও বাস্তবে কোন উন্নয়ন করা হয়নি। ব্যবসায়ী নেতা আরও বলেন, ১৯৫৭ সালে ইরানের রাষ্ট্র প্রধান শাহেন শাহ পাহলভী ঢাকা থেকে ট্রেনে এসে শমশেরনগর রেলওয়ে ষ্টেশনে অবতরণ করেছিলেন। তখন তাঁর সম্মানে শমশেরনগর রেলওয়ে ষ্টেশন এলাকায় শাহের তোরণ নামে একটি পাকা তোরণ (ফটক) নির্মাণ করা হয়েছিল। কালের স্বাক্ষী হিসেবে সে তোরণ আজও দাঁড়িয়ে আছে। শাহেন শাহ রেজা পাহলভি শমশেরনগর থেকে সড়ক পথে লংলার পৃথিম পাশা নওয়াব বাড়িতে গিয়েছিলেন।
শমশেরনগর রেলওয়ে ষ্টেশন মাস্টার জামাল হোসেন বলেন,যাত্রী ও রাজস্ব আয়ে শমশেরনগর রেলওয়ে ষ্টেশন এ সেকশনে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তিনি আরো জানান,রেলওয়ে ষ্টেশনে প্রতিদিন ঢাকা পথে আন্ত:নগর কালনি এক্সপ্রেস ট্রেন,জয়ন্তিকা এক্সপ্রেস ট্রেন,উপবন এক্সপ্রেস ট্রেন ও রাতের সুরমা মেইল ট্রেন চলাচল করে। আবার সিলেট চট্টগ্রাম পথে আন্ত:নগর পাহাড়িকা এক্সপ্রেস ট্রেন চলাচল করে। সকল আন্ত:নগর ট্রেনে নির্ধারিত আসনের চেয়ে ২গুণ যাত্রী প্রতিদিন যাতায়াত করেন। তিনি বলেন যাত্রীদের উন্নত সেবা নিশ্চিত করতে রেলওয়ের সংশ্লিষ্ট বিভাগে প্রয়োজনীয় উন্নয়নের জন্য দাবী জানিয়ে উবর্ধতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।