ডেস্ক রিপোট:সুনামগঞ্জে ধোপাজান চলতি নদীতে চলছে ড্রেজার মেশিনের তান্ডব। ইজারাবিহীন এ নদীতে রাতের আধাঁরে বালু-পাথর উত্তোলন করায় ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে এলাকার মানুষ এবং স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। ফলে সরকার হারাচ্ছে রাজস্ব। দ্রুত ড্রেজার সিন্ডিকেটদের আইনের আওতায় আনার দাবী জানাচ্ছেন স্থানীয়রা।
সম্প্রতি এক সভায় ব্যবসায়ীরা জানান, চলতি নদীর সদর ও বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা অংশে ধোপাজান বালুমহালটি জেলা প্রশাসন থেকে ইজারা দেওয়া হয়। কিন্তু মামলাসংক্রান্ত জটিলতার কারণে তিন বছর ধরে এই বালুমহাল ইজারা দেওয়া হচ্ছে না। এ কারণে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা দূর-দূরান্ত থেকে বালু ও পাথর সংগ্রহ করে ব্যবসা পরিচালনা করছেন। এতে পরিবহন ব্যয় বেশি পড়ছে। অপরদিকে, ধোপাজান বালুমহালটি ইজারা না হলেও বালুখেকো সিন্ডিকেট সেখান থেকে অবৈধভাবে বালু ও পাথর উত্তোলন করছে। সম্প্রতি উত্তোলনের পরিমাণ আরও বেড়েছে। চক্রটি প্রতি রাতে অবৈধভাবে ড্রেজারের মাধ্যমে ধোপাজান-চলতি ও সুরমা নদী থেকে বালু উত্তোলন করে। পরে উত্তোলনকৃত এসব বালু নৌকাযোগে সরিয়ে অন্যত্র ডা¤িপং করে সিন্ডিকেটের সদস্যরা।
ব্যবসায়ীরা আরও জানান, প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে রাতের আঁধারে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন অব্যাহত রেখেছে অসাধু সিন্ডিকেট। এর ফলে একদিকে সরকার যেমন বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে, অপরদিকে ইজারা না থাকায় বৈধভাবে বালু উত্তোলন না করতে পেরে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন সাধারণ ব্যবসায়ীরা। তাই অবিলম্বে বালুখেকো সিন্ডিকেটকে প্রতিহত করার দাবি জানান তারা। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা বলেন, প্রশাসনের নাম ভাঙিয়ে বালুখেকো সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরেই অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে যাচ্ছে। ধোপাজান-চলতি নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধে পরিকল্পনামন্ত্রী, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার বরাবরের একাধিকবার লিখিত অভিযোগ করলেও এ ব্যাপারে কোনো প্রকার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। ফলে দিন দিন অসাধু সিন্ডিকেটের দৌরাতœ্য বাড়ছে এবং বেপরোয়া হয়েছে ওঠছে ওই চক্রের সদস্যরা। তাদের ভয়ে স্থানীয়রা মুখ খুলতে ভয় পান। জেলার ব্যবসায়ীরা এখন অসহায়। কেউ প্রতিবাদ করলে প্রাণনাশের হুমকিসহ মারধর করতেও দ্বিধা করে সিন্ডিকেটের সদস্যরা। আমাদের সঙ্গে যুক্ত শ্রমিকেরাও বিপাকে পড়েছেন। এ অবস্থায় অবিলম্বে ধোপাজান-চলতি নদী থেকে অবৈধভাবে বালু-পাথর উত্তোলন বন্ধ এবং এর সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য প্রশাসনের কাছে দাবি জানান ব্যবসায়ীরা।
সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ ইখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরী জানান, ধোপাজান চলতি নদীতে অবৈধভাবে ড্রেজারে বালু উত্তোলনের কোন অনুমতি নেই। যে বা যারাই প্রশাসনকে ফাঁকি দিয়ে এ তান্ডব চালাচ্ছেন তাদের বিরুদ্ধে অভিযান চলবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক 

























