বিশেষ প্রতিবেদক: দেশি মুরগি পালন করে ভাগ্য বদলের পাশাপাশি সফলতার স্বপ্নও বুনছেন প্রত্যন্ত গ্রাম অঞ্চলে বসবাস করা এক মনিপুরি নারী উদোদক্তা নুরেদা বেগম। দেশি মুরগি পালন করে স্বাবলম্বী সংসারে এক ছেলে দুই মেয়েকে নিয়ে যখন দিশাহারা তখন খুঁজে পান নিজেকে ঘুরে দাঁড়ানোর পথ।

দিনে দিনে হারিয়ে যাচ্ছে দেশীয় প্রজাতির মুড়ক (মুরগী)। অথচ এক সময় দেশীয় জাতের মুরগীর স্বাধ গুন ছিল মজাদার কিনবতুু আজ অনেকটাই কমে গেছে। প্রবল ইচ্ছাশক্তি আর পরিশ্রম কওে সেই সুস্বাধু মুখলোচক দরে রাখতে গড়ে তোলেন বিশাল দেশি মুরগির খামার। নারী উদোক্তা নুরেদা বেগম,স্বামী আব্দুল কাদির পকেএসএফ এর সহযোগীতায় হীড বাংলাদেশ ২০২২-২০২৩ অর্থবছরে বিশেষ আবাসন নিশ্চিত করে আধা বানিজ্যিক ভাবে দেশি মুরগি পালনের উপর বিশেষ সহায়তা প্রশিক্ষনের পাশাপাশি লোন প্রদান করা হয়। প্রথমে ১২টি মুরগী দিয়ে শুরু করলেও বর্তমানে সব মিলিয়ে প্রায় হাজারো মুরগি রয়েছে তার খামারে। দেশিয় মুরগির চাহিদা কার না ভাল লাগে। মাংশ ও ডিম দাম ভালো পাওয়া যায়। গ্রামের বেকার যুবক-যুবতীরা দেশি মুরগী পালন করে কর্মসংস্থান তৈরি করতে পারে। নুরেদার ঘুরে দাঁড়ানো ও সামনে পথচলা নিজের খামার থেকে বাণিজ্যিকভাবে ডিম ও মুরগি বিক্রি করে সংসারে সচ্ছলতা ফিরে পেয়েছেন। ২০২২সালের স্থানীয় বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা থেকে বিনামূল্যে মুরগি পালনের উপর প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে প্রতি মাসেই দেশী মুরগি ও মুরগির ডিম বিক্রি করে লক্ষাধিক টাকা আয় করছেন। প্রথম দিকে প্রাণিসম্পদ এসে নিয়ম দেখিয়ে দেওয়ার পর এখন তিনি নিজেই টিকা সংগ্রহ করে সময় মতো টিকা প্রদান করেন। বাড়ির বাইরে ছেড়ে দিলে ঘাস পোকা মাকড় খেয়ে থাকে। তুলনামূলক রোগ বালাইও কম। তার দেখে এলাকায় অনেক বেকার যুবক/যুবতীরা খামার করার পরামর্শ দিচ্ছেন। পাইকার এসে খামার থেকেই মুরগি ও ডিম নিয়ে যায়। দেশি মুরগি পালন করে শুধু স্বাবলম্বী নয়,এলাকায় পরিচিতি পেয়েছেন সফল উদ্যোক্তা হিসেবে নুরেদা।

স্থানীয় কয়েকজন জানান, দেশীয় জাতের হারিয়ে যাওয়া মুরগি পালনে উদ্বুদ্ধ হয়ে স্বল্প পুঁজিতে গড়ে তুলছেন খামার। সে কারণে দেশি মুরগি চাষে আগ্রহী হয়ে অনেকে এগ্রিয়ে আসছেন।
এনিয়ে কথা হয় নারী উদ্দোক্তা নুরেদা বেগম এর সাথে আলাপপকালে বলেন- শুরুটা শখের বশে। তাও মাত্র ১২টি দেশি মুরগির দিয়ে। এক পর্যায়ে সেই মুরগি থেকে আজ বড় খামার। এ খামার থেকে মাসে আয় অন্তত লাখ টাকা। এ সাফল্যের অংশীদার স্বামী,সন্তানেরা। সব সময় তাকে সহযোগিতা করে চলেছেন। আমি মনে করি, প্রত্যেক নারী চাইলে নিজে স্বাবলম্বী হতে পারেন।

নুরেদা বেগমের স্বামী আব্দুল কাদিও বলেন- ‘আমার স্ত্রী যখন খামার দিতে চেয়েছে, না করিনি। খামার বড় করে এখন স্বাবলম্বী। প্রতিদিন দেশীয় জাতের মুরগী নিতে বাড়িতে আসছেন ডিম ও মুড়গী ক্রয় করতে। ডিম ও মুরগী বিক্রি করে ভালই চলছে জীবন যাপন। সরকারী লোন কম সুদে দিলে আরো অনেকেই দেশী মুরগী পালনে এগ্রিয়ে আসবেন।
নারী উক্তোতা নুরেদা বেগমের খামারের সফলতা নিয়ে আলাপকালে ডা বর্মেন্দ্র সিনহা, প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা, হীড বাংলাদেশ, মৌলভীবাজার।দেশীয় মুরগি মুরগির চাহিদা। সে কারণে পালনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। ‘১২টি মুরগি দিয়ে শুরু করে এখন বড় খামারের মালিক। ডিম,বাচ্চা ও মুরগি বিক্রি করে মাসে লাখ টাকা আয় করেন।
দেশি মুরগি পালনে উদ্বুদ্ধ করতে মাঠ পর্যায়ে সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি সংস্থাগুলোও এগ্রিয়ে আসলে যুব সমাজ বেকারত্ব দুরসহ লাভমান হবে এমটাই আশা।

নিজস্ব প্রতিবেদক 


























