4:05 pm, Thursday, 18 June 2026

আশা-ভরসার প্রতীক নাকি দলের বোঝা!

ডেস্ক রিপোর্ট : কাবো ভার্দের কাছে আটকে গিয়েছিল স্পেন। এবার তাদের প্রতিবেশী দেশ পর্তুগালও শুরু করল হোঁচট খেয়ে।

বুধবার ডিআর কঙ্গোর কাছে আটকে গেল ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর দল। ১-১ গোলে শেষ হল ম্যাচ।

ম্যাচের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত খেলেও খুঁজে পাওয়া যায়নি রোনালদোকে। প্রশ্ন উঠেছে, তিনিই কি দলের বোঝা?
লিওনেল মেসি, আর্লিং হালান্ড, কিলিয়ান এমবাপ্পে- এই মুহূর্তে বিশ্ব ফুটবলে যাদের নিয়ে সবচেয়ে বেশি আলোচনা হয়, তারা প্রত্যেকেই বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে গোল পেয়েছেন।

মেসি তো হ্যাটট্রিকও করেছেন। ফলে বুধবার কী করেন সে দিকে নজর ছিল সবার।
প্রথম দিনই তারা হতাশ হয়ে পড়লে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। আগাগোড়া যা খেললেন তাতে তাকে প্রথম একাদশে জোর করে রাখা হচ্ছে কি না, সেটা নিয়েই প্রশ্ন উঠতে বাধ্য।
কাতার বিশ্বকাপে রোনালদোর সঙ্গে তৎকালীন পর্তুগালের কোচ ফের্নান্দো সান্তোসের ইগোর লড়াই নিয়ে বেশ আলোটনা-সমালোচনা হয়েছিল। রোনালদোকে প্রথম একাদশে রাখতেন না সান্তোস। যে কারণে বিশ্বকাপের পর চাকরিও যায়।

পর্তুগালের কোচ হওয়ার পর রবার্তো মার্তিনেজ ঘোষণা করেছিলেন, তার দল হবে রোনালদোকে ঘিরেই। তাই দলে একাধিক নেতা থাকা সত্ত্বেও ৪১ বছরের রোনালদো প্রথম একাদশে তো ছিলেনই, তার হাতেই উঠেছিল অধিনায়কের আর্মব্যান্ড। খেলার শেষে রোনালদো নিজেই নিজেকে প্রশ্ন করে দেখতে পারেন, আদৌ নিজের জায়গার প্রতি সুবিচার করতে পারছেন তো?

বুধবার হাতে গুণে বলা যাবে, কয়টি বল ধরেছেন তিনি। না একটি ভাল সুযোগ তৈরি করতে পেরেছেন, না বাকিদের করে দেওয়া সুযোগ কাজে লাগাতে পেরেছেন। দ্বিতীয়ার্ধে যে দুটি বল রোনালদোর উদ্দেশে বাড়িয়েছিলেন ফ্রান্সিসকো কনসেসাও, তার অন্তত একটি থেকে গোল করা অবশ্যই উচিত ছিল। রোনালদো দুইবারই বলে ঠিকঠাক পা লাগাতে পারেননি। হুমড়ি খেয়ে পড়েছেন।

বস্তুত, রোনালদোর নিজস্ব কৌশল নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। বয়সের কারণে তিনি আগের মতো উইংয়ে খেলতে পারেন না বা দৌড়তে পারেন না ঠিক আছে। কিন্তু বল কাড়ার ন্যূনতম প্রয়াসও করতে দেখা যাবে না?

এক সময় মনে হচ্ছিল পর্তুগাল খেলছে দশ জনে। রোনালদোর অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। না তাকে দেখা গেল নীচে নেমে আসতে। না দেখা গেল প্রতিপক্ষের পিছনে ধাওয়া করতে। এমন ফুটবলারকে তা হলে মাঠে রেখে কাজ কী, যাকে প্লেটে ধরে গোলের বল সাজিয়ে দিতে হবে!

পর্তুগালের হাতে অনেক ভালো ফুটবলার, বিশেষ করে মিডফিল্ডার রয়েছে। ব্রুনো ফের্নান্দেজ, ভিটিনহা, বের্নার্দো সিলভারা নিজেদের ক্লাবে নায়কের মর্যাদা পান। তারা একসঙ্গে হলে কতটা ধ্বংসাত্মক ফুটবল খেলে পর্তুগাল, সেদিকে নজর ছিল সবার। কিন্তু সেই জুটি, সেই বোঝাপড়া পুরো ম্যাচে তৈরি হল কোথায়?

প্রত্যেকেই নিজের মতো করে খেললেন। ভিটিনহা গোটা ম্যাচে প্রচুর পরিশ্রম করেছেন। খেলা তৈরি করার চেষ্টা করেছেন। অথচ তাকে ম্যাচের শেষ দিকে তুলে নেওয়া হল। আর রেখে দেওয়া হল রোনালদোকে!

পর্তুগালের রক্ষণে এক সময় পেপে দাপিয়ে খেলেছেন। সঙ্গে থাকতেন রিকার্ডো কার্ভালহো। বুধবার দুইজনেই মাঠে ছিলেন। পেপে ছিলেন ভিআইপি বক্সে। কার্ভালহো পর্তুগালের ডাগআউটে। দূর থেকে তারা ভাবতেই পারেন, এ কোন দল!

ডান দিক থেকে ভেসে আসা ক্রসে যখন ইয়োনে উইসা হেড করছেন, তখন তাকে কেউ আটকাননি। ধারেকাছেই ছিলেন না কেউ। স্কুল পর্যায়ের গাফিলতি দেখা গেল পর্তুগালের রক্ষণে। রেনাতো ভেগা এবং টমাস আরাউখোর বোঝাপড়ার অভাব বার বার দেখা গিয়েছে।

Tag :
About Author Information

Sirajul Islam

Popular Post

আশা-ভরসার প্রতীক নাকি দলের বোঝা!

আশা-ভরসার প্রতীক নাকি দলের বোঝা!

Update Time : 09:13:02 am, Thursday, 18 June 2026

ডেস্ক রিপোর্ট : কাবো ভার্দের কাছে আটকে গিয়েছিল স্পেন। এবার তাদের প্রতিবেশী দেশ পর্তুগালও শুরু করল হোঁচট খেয়ে।

বুধবার ডিআর কঙ্গোর কাছে আটকে গেল ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর দল। ১-১ গোলে শেষ হল ম্যাচ।

ম্যাচের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত খেলেও খুঁজে পাওয়া যায়নি রোনালদোকে। প্রশ্ন উঠেছে, তিনিই কি দলের বোঝা?
লিওনেল মেসি, আর্লিং হালান্ড, কিলিয়ান এমবাপ্পে- এই মুহূর্তে বিশ্ব ফুটবলে যাদের নিয়ে সবচেয়ে বেশি আলোচনা হয়, তারা প্রত্যেকেই বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে গোল পেয়েছেন।

মেসি তো হ্যাটট্রিকও করেছেন। ফলে বুধবার কী করেন সে দিকে নজর ছিল সবার।
প্রথম দিনই তারা হতাশ হয়ে পড়লে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। আগাগোড়া যা খেললেন তাতে তাকে প্রথম একাদশে জোর করে রাখা হচ্ছে কি না, সেটা নিয়েই প্রশ্ন উঠতে বাধ্য।
কাতার বিশ্বকাপে রোনালদোর সঙ্গে তৎকালীন পর্তুগালের কোচ ফের্নান্দো সান্তোসের ইগোর লড়াই নিয়ে বেশ আলোটনা-সমালোচনা হয়েছিল। রোনালদোকে প্রথম একাদশে রাখতেন না সান্তোস। যে কারণে বিশ্বকাপের পর চাকরিও যায়।

পর্তুগালের কোচ হওয়ার পর রবার্তো মার্তিনেজ ঘোষণা করেছিলেন, তার দল হবে রোনালদোকে ঘিরেই। তাই দলে একাধিক নেতা থাকা সত্ত্বেও ৪১ বছরের রোনালদো প্রথম একাদশে তো ছিলেনই, তার হাতেই উঠেছিল অধিনায়কের আর্মব্যান্ড। খেলার শেষে রোনালদো নিজেই নিজেকে প্রশ্ন করে দেখতে পারেন, আদৌ নিজের জায়গার প্রতি সুবিচার করতে পারছেন তো?

বুধবার হাতে গুণে বলা যাবে, কয়টি বল ধরেছেন তিনি। না একটি ভাল সুযোগ তৈরি করতে পেরেছেন, না বাকিদের করে দেওয়া সুযোগ কাজে লাগাতে পেরেছেন। দ্বিতীয়ার্ধে যে দুটি বল রোনালদোর উদ্দেশে বাড়িয়েছিলেন ফ্রান্সিসকো কনসেসাও, তার অন্তত একটি থেকে গোল করা অবশ্যই উচিত ছিল। রোনালদো দুইবারই বলে ঠিকঠাক পা লাগাতে পারেননি। হুমড়ি খেয়ে পড়েছেন।

বস্তুত, রোনালদোর নিজস্ব কৌশল নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। বয়সের কারণে তিনি আগের মতো উইংয়ে খেলতে পারেন না বা দৌড়তে পারেন না ঠিক আছে। কিন্তু বল কাড়ার ন্যূনতম প্রয়াসও করতে দেখা যাবে না?

এক সময় মনে হচ্ছিল পর্তুগাল খেলছে দশ জনে। রোনালদোর অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। না তাকে দেখা গেল নীচে নেমে আসতে। না দেখা গেল প্রতিপক্ষের পিছনে ধাওয়া করতে। এমন ফুটবলারকে তা হলে মাঠে রেখে কাজ কী, যাকে প্লেটে ধরে গোলের বল সাজিয়ে দিতে হবে!

পর্তুগালের হাতে অনেক ভালো ফুটবলার, বিশেষ করে মিডফিল্ডার রয়েছে। ব্রুনো ফের্নান্দেজ, ভিটিনহা, বের্নার্দো সিলভারা নিজেদের ক্লাবে নায়কের মর্যাদা পান। তারা একসঙ্গে হলে কতটা ধ্বংসাত্মক ফুটবল খেলে পর্তুগাল, সেদিকে নজর ছিল সবার। কিন্তু সেই জুটি, সেই বোঝাপড়া পুরো ম্যাচে তৈরি হল কোথায়?

প্রত্যেকেই নিজের মতো করে খেললেন। ভিটিনহা গোটা ম্যাচে প্রচুর পরিশ্রম করেছেন। খেলা তৈরি করার চেষ্টা করেছেন। অথচ তাকে ম্যাচের শেষ দিকে তুলে নেওয়া হল। আর রেখে দেওয়া হল রোনালদোকে!

পর্তুগালের রক্ষণে এক সময় পেপে দাপিয়ে খেলেছেন। সঙ্গে থাকতেন রিকার্ডো কার্ভালহো। বুধবার দুইজনেই মাঠে ছিলেন। পেপে ছিলেন ভিআইপি বক্সে। কার্ভালহো পর্তুগালের ডাগআউটে। দূর থেকে তারা ভাবতেই পারেন, এ কোন দল!

ডান দিক থেকে ভেসে আসা ক্রসে যখন ইয়োনে উইসা হেড করছেন, তখন তাকে কেউ আটকাননি। ধারেকাছেই ছিলেন না কেউ। স্কুল পর্যায়ের গাফিলতি দেখা গেল পর্তুগালের রক্ষণে। রেনাতো ভেগা এবং টমাস আরাউখোর বোঝাপড়ার অভাব বার বার দেখা গিয়েছে।