4:59 pm, Thursday, 18 June 2026

মৌমাছি কন্ঠ পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের পর হাকালুকির জলজবৃক্ষ নিধনের ঘটনায় অবশেষে হাজারাদারসহ ৭ ব্যক্তির বিরুদ্ধে থানায় মামলা

আব্দুর রব : বড়লেখার প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন হাকালুকি হাওরের মালাম বিলের দক্ষিণ-পূর্ব পাশের খাসজমির হিজল-খরচ-বরুণসহ নানা প্রজাতির প্রায় ২০ হাজার জলজ গাছ কাটার ঘটনায় ঘটনায় অবশেষে মামলা করেছে পরিবেশ অধিদপ্তর। মঙ্গলবার রাত ১১টার দিকে বড়লেখা থানায় পরিবেশ অধিদপ্তর মৌলভীবাজার কার্যালয়ের পরিদর্শক নজরুল ইসলাম মালাম বিলের ইজারাদারসহ ৭ ব্যক্তির নাম উল্লেখ আরো ১৫-২০ জনকে অজ্ঞাত আসামী করে পরিবেশ সংরক্ষণ আইন এবং প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা ব্যবস্থাপনা বিধিমালায় মামলাটি করেছেন।মামলার আসামিরা হচ্ছেন মালাম বিলের ইজারাদার বড়লেখার বর্ণি ইউপির মনাদি গ্রামের সুফিয়ান আহমদের ছেলে জয়নাল উদ্দিন, কাজীরবন্দের মৃত আকদ্দছ আলীর ছেলে মক্তদির আলী, মৃত আমরুজ আলীর ছেলে মশাঈদ আলী, মৃত মইয়ব আলীর ছেলে রিয়াজ আলী, ছত্তার আলীর ছেলে জয়নাল উদ্দিন, আব্দুল হান্নানের ছেলে কালা মিয়া ও মৃত মইয়ব আলীর ছেলে সুরুজ আলী।

গত ২০ জুন মৌমাছি কন্ঠ পত্রিকার প্রথম পৃষ্ঠায় ‘হাকালুকির মালাম বিলের ২০ হাজার বৃক্ষ নিধন ! হুমকিতে হাওরের জীববৈচিত্র’ শিরোনামে একটি সংবাদ ছাপা হলে বিভিন্ন মহলে তোলপাড় শুরু হয়। স্থানীয় প্রশাসন, পরিবেশ অধিদপ্তর ও জীববৈচিত্র ব্যবস্থাপনা ও সংরক্ষণ বিভাগের টনক নড়ে। কর্মকর্তারা ছুটে যান ঘটনাস্থল পরিদর্শনে।দেশের সর্ববৃহৎ মিঠাপানির জলাভুমি হাকালুকি হাওরে নির্বিচারে ২০ হাজার জলজ বৃক্ষ নিধনের ঘটনায় মঙ্গলবার পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন (পবা) ভার্চুয়াল প্রতিবাদ সভার করেছে। সভায় বক্তারা ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্ত করে দোষীদের আইন ও বিচারের আওতায় আনা, ইসিএ হিসেবে ঘোষিত হাকালুকি হাওরের বৈচিত্র্য ও পরিবেশ রক্ষায় সকল ইজারা বাতিল, হাওরের জলাভূমি ও প্রাণবৈচিত্র্য ব্যবস্থাপনায় হাওরবাসী জনগোষ্ঠীকে যুক্ত করার এবং জনগোষ্ঠী ভিত্তিক সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া, হাকালুকির জীববৈচিত্র্য রক্ষায় কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ, ইকোসিস্টেম বজায় রাখার জন্য হাওরের পানি, উদ্ভিদ, ধান, ভাসমান এবং ক্ষুদ্র অনুজীবদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা, যেখানে গাছ কাঁটা হয়েছে সেখানে পুণরায় গাছ লাগানোর ব্যবস্থা করা এবং গাছ লাগানোর পর প্রতিটি গাছের রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিতের দাবি জানান।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, হাকালুকি জাগরণী ইসিএ ব্যবস্থাপনা বহুমুখী সমবায় সমিতি লিমিটেডের সদস্য ও মালাম বিল বনায়ন এলাকার পাহারাদার আবদুল মনাফ পরিবেশ অধিদপ্তরে একটি অভিযোগ দেন হাকালুকি হাওরের মালাম বিলের দক্ষিণ-পূর্ব পাশের খাসজমির প্রায় ১২ বিঘা জমিতে পরিবেশ অধিদপ্তরের সৃজিত বিভিন্ন প্রজাতির বৃক্ষ এবং প্রাকৃতিকভাবে জন্মানো গাছ কর্তন করা হয়েছে। মালাম বিলের বাঁধ ও চাষের জমি তৈরির জন্য প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকার ক্ষতিসাধন করা হয়েছে। আসামিরা প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকায় আরোপিত বিধিনিষেধ লঙ্ঘন করে পরিবেশ অধিদপ্তরের সৃজিত ও প্রাকৃতিকভাবে গড়ে ওঠা জলজ বৃক্ষ কর্তনের মাধ্যমে হাকালুকি হাওরের মৎস্যসম্পদ, জলজ প্রাণী, পাখির আবাসস্থল, উদ্ভিদের জলজ অভয়াশ্রমের ক্ষতিসাধন করেছেন। এর মাধ্যমে তারা বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ (সংশোধিত ২০১০)-এর ধারা ৫-এর উপধারা ৪ এবং প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা ব্যবস্থাপনা বিধিমালা, ২০১৬-এর বিধান লঙ্ঘন করেছেন, যা দণ্ডনীয় অপরাধ।

পরিবেশ অধিদপ্তর মৌলভীবাজার কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. বদরুল হুদা জানান, ‘জলজ বৃক্ষ কাটার ঘটনায় ৭ জনের নাম উল্লেখ করে থানায় মামলা করা হয়েছে। মামলায় ১৫ থেকে ২০ জন অজ্ঞাতনামা আসামি রাখা হয়েছে। তদন্তে কারো সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে তাদের চার্জশিটে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। পরিবেশ সংরক্ষণ আইন এবং প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা ব্যবস্থাপনা বিধিমালায় মামলা করা হয়েছে।’

বড়লেখা থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহাঙ্গীর হোসেন সরদার বুধবার দুপুরে মামলার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, এব্যাপারে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

Tag :
About Author Information

Sirajul Islam

Popular Post

মৌমাছি কন্ঠ পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের পর হাকালুকির জলজবৃক্ষ নিধনের ঘটনায় অবশেষে হাজারাদারসহ ৭ ব্যক্তির বিরুদ্ধে থানায় মামলা

Update Time : 11:22:43 am, Wednesday, 23 June 2021

আব্দুর রব : বড়লেখার প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন হাকালুকি হাওরের মালাম বিলের দক্ষিণ-পূর্ব পাশের খাসজমির হিজল-খরচ-বরুণসহ নানা প্রজাতির প্রায় ২০ হাজার জলজ গাছ কাটার ঘটনায় ঘটনায় অবশেষে মামলা করেছে পরিবেশ অধিদপ্তর। মঙ্গলবার রাত ১১টার দিকে বড়লেখা থানায় পরিবেশ অধিদপ্তর মৌলভীবাজার কার্যালয়ের পরিদর্শক নজরুল ইসলাম মালাম বিলের ইজারাদারসহ ৭ ব্যক্তির নাম উল্লেখ আরো ১৫-২০ জনকে অজ্ঞাত আসামী করে পরিবেশ সংরক্ষণ আইন এবং প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা ব্যবস্থাপনা বিধিমালায় মামলাটি করেছেন।মামলার আসামিরা হচ্ছেন মালাম বিলের ইজারাদার বড়লেখার বর্ণি ইউপির মনাদি গ্রামের সুফিয়ান আহমদের ছেলে জয়নাল উদ্দিন, কাজীরবন্দের মৃত আকদ্দছ আলীর ছেলে মক্তদির আলী, মৃত আমরুজ আলীর ছেলে মশাঈদ আলী, মৃত মইয়ব আলীর ছেলে রিয়াজ আলী, ছত্তার আলীর ছেলে জয়নাল উদ্দিন, আব্দুল হান্নানের ছেলে কালা মিয়া ও মৃত মইয়ব আলীর ছেলে সুরুজ আলী।

গত ২০ জুন মৌমাছি কন্ঠ পত্রিকার প্রথম পৃষ্ঠায় ‘হাকালুকির মালাম বিলের ২০ হাজার বৃক্ষ নিধন ! হুমকিতে হাওরের জীববৈচিত্র’ শিরোনামে একটি সংবাদ ছাপা হলে বিভিন্ন মহলে তোলপাড় শুরু হয়। স্থানীয় প্রশাসন, পরিবেশ অধিদপ্তর ও জীববৈচিত্র ব্যবস্থাপনা ও সংরক্ষণ বিভাগের টনক নড়ে। কর্মকর্তারা ছুটে যান ঘটনাস্থল পরিদর্শনে।দেশের সর্ববৃহৎ মিঠাপানির জলাভুমি হাকালুকি হাওরে নির্বিচারে ২০ হাজার জলজ বৃক্ষ নিধনের ঘটনায় মঙ্গলবার পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন (পবা) ভার্চুয়াল প্রতিবাদ সভার করেছে। সভায় বক্তারা ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্ত করে দোষীদের আইন ও বিচারের আওতায় আনা, ইসিএ হিসেবে ঘোষিত হাকালুকি হাওরের বৈচিত্র্য ও পরিবেশ রক্ষায় সকল ইজারা বাতিল, হাওরের জলাভূমি ও প্রাণবৈচিত্র্য ব্যবস্থাপনায় হাওরবাসী জনগোষ্ঠীকে যুক্ত করার এবং জনগোষ্ঠী ভিত্তিক সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া, হাকালুকির জীববৈচিত্র্য রক্ষায় কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ, ইকোসিস্টেম বজায় রাখার জন্য হাওরের পানি, উদ্ভিদ, ধান, ভাসমান এবং ক্ষুদ্র অনুজীবদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা, যেখানে গাছ কাঁটা হয়েছে সেখানে পুণরায় গাছ লাগানোর ব্যবস্থা করা এবং গাছ লাগানোর পর প্রতিটি গাছের রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিতের দাবি জানান।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, হাকালুকি জাগরণী ইসিএ ব্যবস্থাপনা বহুমুখী সমবায় সমিতি লিমিটেডের সদস্য ও মালাম বিল বনায়ন এলাকার পাহারাদার আবদুল মনাফ পরিবেশ অধিদপ্তরে একটি অভিযোগ দেন হাকালুকি হাওরের মালাম বিলের দক্ষিণ-পূর্ব পাশের খাসজমির প্রায় ১২ বিঘা জমিতে পরিবেশ অধিদপ্তরের সৃজিত বিভিন্ন প্রজাতির বৃক্ষ এবং প্রাকৃতিকভাবে জন্মানো গাছ কর্তন করা হয়েছে। মালাম বিলের বাঁধ ও চাষের জমি তৈরির জন্য প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকার ক্ষতিসাধন করা হয়েছে। আসামিরা প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকায় আরোপিত বিধিনিষেধ লঙ্ঘন করে পরিবেশ অধিদপ্তরের সৃজিত ও প্রাকৃতিকভাবে গড়ে ওঠা জলজ বৃক্ষ কর্তনের মাধ্যমে হাকালুকি হাওরের মৎস্যসম্পদ, জলজ প্রাণী, পাখির আবাসস্থল, উদ্ভিদের জলজ অভয়াশ্রমের ক্ষতিসাধন করেছেন। এর মাধ্যমে তারা বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ (সংশোধিত ২০১০)-এর ধারা ৫-এর উপধারা ৪ এবং প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা ব্যবস্থাপনা বিধিমালা, ২০১৬-এর বিধান লঙ্ঘন করেছেন, যা দণ্ডনীয় অপরাধ।

পরিবেশ অধিদপ্তর মৌলভীবাজার কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. বদরুল হুদা জানান, ‘জলজ বৃক্ষ কাটার ঘটনায় ৭ জনের নাম উল্লেখ করে থানায় মামলা করা হয়েছে। মামলায় ১৫ থেকে ২০ জন অজ্ঞাতনামা আসামি রাখা হয়েছে। তদন্তে কারো সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে তাদের চার্জশিটে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। পরিবেশ সংরক্ষণ আইন এবং প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা ব্যবস্থাপনা বিধিমালায় মামলা করা হয়েছে।’

বড়লেখা থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহাঙ্গীর হোসেন সরদার বুধবার দুপুরে মামলার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, এব্যাপারে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।