3:11 pm, Thursday, 18 June 2026

২৯শে ডিসেম্বর বিশ্ব জীববৈচিত্র্য দিবস জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশ

আফতাব চৌধুরী::খাদ্যশস্যের বন্য প্রজাতিগুলোকে ভবিষ্যতের জন্য ক্ষতিপূরণের কৌশল হিসেবে বিবেচনা করা হয়। কারণ নতুন প্রজাতি উৎপাদনে কেবল এগুলো ব্যবহৃত হতে পারে যা প্রতিকূল পরিস্থিতিতে টিকে থাকতে পারে। বন্যা, খরা, অতিবৃষ্টি প্রভৃতি দুর্যোগে প্রতিবছর ব্যাপক ফসলহানির ঘটনা ঘটে। ফলে কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সামগ্রিক খাদ্য নিরাপত্তা হুমকির মধ্যে রয়েছে। অথচ প্রাচীনকাল থেকে আমাদের এ দেশ জীববৈচিত্র্য সমৃদ্ধ। ১৯০৮ সালের আমাদের এ অঞ্চলে প্রচুর বনভ’মিতে সমৃদ্ধছিল পাহাড়ী এলাকা এবং বসতবাড়ী , কিন্তু জনসংখ্যাবৃদ্ধি এবং সচেতনতার অভাবে এবং দুর্নীতি সংশ্লিষ্টদের দূর্নীতিজনিত কারণেই সবই বিনাশ হতে চলেছে একতথ্যে জানা যায়- ২৬৬ প্রজাতির অভ্যন্তরীণ মৎস্য. ৪৪২ প্রজাতির সামুদ্রিক মৎস্য, ২২ প্রজাতির উভচর, ১২৬ প্রজাতির সরীসৃপ, ৩৮৮ প্রজাতির স্থানীয় পাখি, ২৪০ প্রজাতির অতিথি পাখি, ১১৩ প্রজাতির স্তন্যপায়ী প্রাণী এবং ৫০০০ এর অধিক উদ্ভিদ রয়েছে। সব ধরনের জীবন ও জীবিকা জীববৈচিত্র্যের উপর নির্ভরশীল। এই উপমহাদেশের অধিকাংশ জনগোষ্ঠী কৃষি ও মৎস্যজীবী। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পানির উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে মাছের প্রজননে ব্যাঘাত ঘটছে যা মৎস্য প্রজাতির হ্রাস ও বিলুপ্তি ঘটাচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে অতিথি পাখিদের আগমনের সময় ও পারিপার্শ্বিক অবস্থা পরিবর্তিত হওয়ার ফলে অতিথি পাখির সংখ্যা কমে যাচ্ছে। উত্তরাঞ্চলে অত্যধিক কুয়াশার কারণে আম ও অন্যান্য ফসলের মুকুল নষ্ট হচ্ছে এবং সামগ্রিক উৎপাদন কমে যাচ্ছে। পরিবর্তিত আবহাওয়া পরিস্থিতিতে প্রাকৃতিক দুর্যোগ বেড়ে যাওয়ায় গ্রামাঞ্চলে বসবাসকারী প্রাণীর সংখ্যা কমে যাচ্ছে। বন্যার ফলে গ্রামাঞ্চলে অনেক জীববৈচিত্র্যের সংখ্যা কমে গেছে। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা মাত্র ১ মিটার বৃদ্ধির ফলে দক্ষিণের দ্বীপসমূহ ও সুন্দরবনের ২০ শতাংশ পানি ভাসিয়ে যাবে। এতে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক প্রাণী ও উদ্ভিদ প্রজাতির ধ্বংস হয়ে যাবে।
পৃথিবীর এক-তৃতীয়াংশ ভূমি খাদ্য উৎপাদনের জন্য ব্যবহৃত হয় এবং কৃষি প্রতিবেশ পৃথিবীর প্রায় প্রতিটি অংশে দেখা যায়। কৃষি পরিবেশের উপর জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব সুদূরপ্রসারী, বিস্তৃত ও বৈচিত্রময়। দ্রæত জনসংখ্যা বৃদ্ধির ফলে কৃষিতে সনাতনী পদ্ধতির পরিবর্তে আধুনিক পদ্ধতি চালু হয়েছে। ১২,০০০ বছর আগে যখন থেকে কৃষিকাজ শুরু হয়েছে তখন থেকে খাদ্যের জন্য প্রায় ৭০০০ উদ্ভিদ প্রজাতি চাষ করা হচ্ছে। এমনকি আজকের মাত্র ১৫ টির মতো উদ্ভিদ ও ৮ টি প্রাণী প্রজাতি আমাদের খাদ্যের ৯০ শতাংশ সরবরাহ করে। এসব আধুনিক শস্যতে বিভিন্ন গুণাগুণ সংযোজন করা হয়েছে এর বন্য প্রজাতি থেকে। এর ফলে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পেয়েছে।
দুর্ভাগ্যবশত খাদ্যশস্যের অনেক বন্য প্রজাতি হুমকির মুখ। ধারণা করা হয় যে, আগামী ৫০ বছরের মধ্যে সমস্ত আলুর প্রজাতির এক চতুর্থাংশ বিলুপ্ত হয়ে যাবে যা ভবিষ্যতে নতুন জাত উদ্ভাবন কঠিন হয়ে দাঁড়াবে। এসব খাদ্যশস্যের বাণিজ্যিক জাত পরিবর্তিত জলবায়ু পরিস্থিতিতে টিকে থাকতে পারে না। পৃথিবরি মোট স্থলভাগের এক তৃতীয়াংশ বনভূমি। স্থলজ জীববৈচিত্র্যের দুই-তৃতীয়াংশই বনভূমিতে বাস করে। ৮০০০ বছরে পৃথিবীর প্রায় ৪৫ ভাগ বনভূমি ধ্বংস বা পরিবর্তিত হয়ে গেছে। বন প্রচুর সম্পদ ও সেবা প্রদান করে থাকে। বনে বসবাসকারী অধিকাংশ বড়ো প্রাণী, উদ্ভিদ প্রজাতির ৯ ভাগ বিলুপ্তির ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। বড়ো উদ্ভিদ অভিযোজন বা বিস্তৃত হওয়ার কোনো সামর্থ্য নেই।
জলবায়ু পরিবর্তন প্রজাতির স্বাভাবিক অভিপ্রয়াণ ও বিস্তৃতিকে অনেক মাত্রায় বাড়িয়ে দেয়। অনেক প্রজাতির ক্ষেত্রেই যা গ্রহণযোগ্য মাত্রায় থাকে না এবং প্রজাতি বিলুপ্ত হয়ে যায়। রোগ-বালাই আগুণ অনুপ্রবেশকারী প্রজাতি ইত্যাদির মাত্রাও জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বাড়তে পারে। স্থলজ উদ্ভিদকূলের কার্বনের ৮০ ভাগ সঞ্চিত আছে বনে। বন ধ্বংস, বনভূমি পরিষ্কার করা ইত্যাদির ফলে প্রতিবছর ১.৭ বিলিয়ন মেট্রিক টন কার্বন বায়ুমন্ডলে যোগ হচ্ছে।

Tag :
About Author Information

Sirajul Islam

পর্তুগালকে রুখে দিয়ে বিশ্বকাপে কঙ্গোর ইতিহাস

২৯শে ডিসেম্বর বিশ্ব জীববৈচিত্র্য দিবস জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশ

Update Time : 09:51:26 am, Monday, 25 December 2023

আফতাব চৌধুরী::খাদ্যশস্যের বন্য প্রজাতিগুলোকে ভবিষ্যতের জন্য ক্ষতিপূরণের কৌশল হিসেবে বিবেচনা করা হয়। কারণ নতুন প্রজাতি উৎপাদনে কেবল এগুলো ব্যবহৃত হতে পারে যা প্রতিকূল পরিস্থিতিতে টিকে থাকতে পারে। বন্যা, খরা, অতিবৃষ্টি প্রভৃতি দুর্যোগে প্রতিবছর ব্যাপক ফসলহানির ঘটনা ঘটে। ফলে কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সামগ্রিক খাদ্য নিরাপত্তা হুমকির মধ্যে রয়েছে। অথচ প্রাচীনকাল থেকে আমাদের এ দেশ জীববৈচিত্র্য সমৃদ্ধ। ১৯০৮ সালের আমাদের এ অঞ্চলে প্রচুর বনভ’মিতে সমৃদ্ধছিল পাহাড়ী এলাকা এবং বসতবাড়ী , কিন্তু জনসংখ্যাবৃদ্ধি এবং সচেতনতার অভাবে এবং দুর্নীতি সংশ্লিষ্টদের দূর্নীতিজনিত কারণেই সবই বিনাশ হতে চলেছে একতথ্যে জানা যায়- ২৬৬ প্রজাতির অভ্যন্তরীণ মৎস্য. ৪৪২ প্রজাতির সামুদ্রিক মৎস্য, ২২ প্রজাতির উভচর, ১২৬ প্রজাতির সরীসৃপ, ৩৮৮ প্রজাতির স্থানীয় পাখি, ২৪০ প্রজাতির অতিথি পাখি, ১১৩ প্রজাতির স্তন্যপায়ী প্রাণী এবং ৫০০০ এর অধিক উদ্ভিদ রয়েছে। সব ধরনের জীবন ও জীবিকা জীববৈচিত্র্যের উপর নির্ভরশীল। এই উপমহাদেশের অধিকাংশ জনগোষ্ঠী কৃষি ও মৎস্যজীবী। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পানির উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে মাছের প্রজননে ব্যাঘাত ঘটছে যা মৎস্য প্রজাতির হ্রাস ও বিলুপ্তি ঘটাচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে অতিথি পাখিদের আগমনের সময় ও পারিপার্শ্বিক অবস্থা পরিবর্তিত হওয়ার ফলে অতিথি পাখির সংখ্যা কমে যাচ্ছে। উত্তরাঞ্চলে অত্যধিক কুয়াশার কারণে আম ও অন্যান্য ফসলের মুকুল নষ্ট হচ্ছে এবং সামগ্রিক উৎপাদন কমে যাচ্ছে। পরিবর্তিত আবহাওয়া পরিস্থিতিতে প্রাকৃতিক দুর্যোগ বেড়ে যাওয়ায় গ্রামাঞ্চলে বসবাসকারী প্রাণীর সংখ্যা কমে যাচ্ছে। বন্যার ফলে গ্রামাঞ্চলে অনেক জীববৈচিত্র্যের সংখ্যা কমে গেছে। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা মাত্র ১ মিটার বৃদ্ধির ফলে দক্ষিণের দ্বীপসমূহ ও সুন্দরবনের ২০ শতাংশ পানি ভাসিয়ে যাবে। এতে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক প্রাণী ও উদ্ভিদ প্রজাতির ধ্বংস হয়ে যাবে।
পৃথিবীর এক-তৃতীয়াংশ ভূমি খাদ্য উৎপাদনের জন্য ব্যবহৃত হয় এবং কৃষি প্রতিবেশ পৃথিবীর প্রায় প্রতিটি অংশে দেখা যায়। কৃষি পরিবেশের উপর জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব সুদূরপ্রসারী, বিস্তৃত ও বৈচিত্রময়। দ্রæত জনসংখ্যা বৃদ্ধির ফলে কৃষিতে সনাতনী পদ্ধতির পরিবর্তে আধুনিক পদ্ধতি চালু হয়েছে। ১২,০০০ বছর আগে যখন থেকে কৃষিকাজ শুরু হয়েছে তখন থেকে খাদ্যের জন্য প্রায় ৭০০০ উদ্ভিদ প্রজাতি চাষ করা হচ্ছে। এমনকি আজকের মাত্র ১৫ টির মতো উদ্ভিদ ও ৮ টি প্রাণী প্রজাতি আমাদের খাদ্যের ৯০ শতাংশ সরবরাহ করে। এসব আধুনিক শস্যতে বিভিন্ন গুণাগুণ সংযোজন করা হয়েছে এর বন্য প্রজাতি থেকে। এর ফলে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পেয়েছে।
দুর্ভাগ্যবশত খাদ্যশস্যের অনেক বন্য প্রজাতি হুমকির মুখ। ধারণা করা হয় যে, আগামী ৫০ বছরের মধ্যে সমস্ত আলুর প্রজাতির এক চতুর্থাংশ বিলুপ্ত হয়ে যাবে যা ভবিষ্যতে নতুন জাত উদ্ভাবন কঠিন হয়ে দাঁড়াবে। এসব খাদ্যশস্যের বাণিজ্যিক জাত পরিবর্তিত জলবায়ু পরিস্থিতিতে টিকে থাকতে পারে না। পৃথিবরি মোট স্থলভাগের এক তৃতীয়াংশ বনভূমি। স্থলজ জীববৈচিত্র্যের দুই-তৃতীয়াংশই বনভূমিতে বাস করে। ৮০০০ বছরে পৃথিবীর প্রায় ৪৫ ভাগ বনভূমি ধ্বংস বা পরিবর্তিত হয়ে গেছে। বন প্রচুর সম্পদ ও সেবা প্রদান করে থাকে। বনে বসবাসকারী অধিকাংশ বড়ো প্রাণী, উদ্ভিদ প্রজাতির ৯ ভাগ বিলুপ্তির ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। বড়ো উদ্ভিদ অভিযোজন বা বিস্তৃত হওয়ার কোনো সামর্থ্য নেই।
জলবায়ু পরিবর্তন প্রজাতির স্বাভাবিক অভিপ্রয়াণ ও বিস্তৃতিকে অনেক মাত্রায় বাড়িয়ে দেয়। অনেক প্রজাতির ক্ষেত্রেই যা গ্রহণযোগ্য মাত্রায় থাকে না এবং প্রজাতি বিলুপ্ত হয়ে যায়। রোগ-বালাই আগুণ অনুপ্রবেশকারী প্রজাতি ইত্যাদির মাত্রাও জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বাড়তে পারে। স্থলজ উদ্ভিদকূলের কার্বনের ৮০ ভাগ সঞ্চিত আছে বনে। বন ধ্বংস, বনভূমি পরিষ্কার করা ইত্যাদির ফলে প্রতিবছর ১.৭ বিলিয়ন মেট্রিক টন কার্বন বায়ুমন্ডলে যোগ হচ্ছে।