ডেস্ক রিপোর্ট : যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিবাসন দমন নীতির মধ্যে বিভিন্ন সীমান্ত পয়েন্ট এবং মার্কিন বিমানবন্দরে একাধিক পর্যটককে আটক করার ঘটনার পর বেশ কয়েকটি দেশ যুক্তরাষ্ট্র সফর নিয়ে সতর্কতা জারি করেছে। সর্বশেষ যুক্তরাজ্য ও জার্মানি তাদের নাগরিকদের জন্য যুক্তরাষ্ট্র সফরের ক্ষেত্রে নতুন সতর্কতা জারি করেছে।
যুক্তরাজ্য তাদের সর্বশেষ ভ্রমণ পরামর্শে নাগরিকদের সতর্ক করে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রে কঠোরভাবে অভিবাসন আইন প্রয়োগ করা হচ্ছে এবং আইন ভঙ্গের ফলাফল হতে পারে গুরুতর। পরামর্শে বলা হয়েছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সময় সকল প্রবেশ, ভিসা এবং অন্যান্য শর্ত সঠিকভাবে পালন করতে হবে।
এতে আরও সতর্ক করে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃপক্ষ প্রবেশের নিয়ম কঠোরভাবে প্রয়োগ করে। নিয়ম ভঙ্গ করলে আপনাকে গ্রেপ্তার বা আটক করা হতে পারে।
যুক্তরাজ্যের পুরোনো ভ্রমণ নির্দেশিকায় শুধু উল্লেখ ছিল যে যুক্তরাষ্ট্র কর্মকর্তারা “প্রবেশের নিয়ম নির্ধারণ ও প্রয়োগ করে”, তবে আটক হওয়ার ঝুঁকি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা ছিল না।
এটি এমন এক সময়ে এসেছে, যখন এক ব্রিটিশ নাগরিককে মার্কিন সীমান্তে ভিসার শর্ত লঙ্ঘনের অভিযোগে আটক করা হয়। যুক্তরাজ্য সরকার তাকে সহায়তা করেছে এবং পরে তিনি দেশে ফিরেছেন।
এদিকে, জার্মানিও তাদের ভ্রমণ পরামর্শ হালনাগাদ করেছে। তিনজন জার্মান নাগরিক যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সময় সীমান্তে আটক হওয়ার পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরামর্শে বলা হয়েছে, ইসটিএ বা মার্কিন ভিসা থাকলেও সর্বশেষ সিদ্ধান্ত সীমান্ত কর্মকর্তাদের ওপর নির্ভর করে। জার্মান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাদের নাগরিকদের ফেরত যাত্রার প্রমাণ সঙ্গে রাখার পরামর্শ দিয়েছে।
পরামর্শে আরও বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে কোনো ধরনের অপরাধমূলক দণ্ড, সফরের উদ্দেশ্য সম্পর্কে মিথ্যা তথ্য, বা ভিসা সীমা সামান্য লঙ্ঘন করলেও প্রবেশ বা প্রস্থানের সময় গ্রেপ্তার, আটক এবং বহিষ্কারের ঝুঁকি রয়েছে।
এর আগে বস্টনের লোগান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে থামানোর পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রে ২০০৮ সাল থেকে বসবাস করা গ্রিন কার্ডধারী জার্মান নাগরিক ফাবিয়ান শ্মিট রোড আইল্যান্ডের একটি বন্দিশিবিরে আটকে রয়েছেন। তাছাড়া, জার্মান ট্যাটু শিল্পী জেসিকা ব্রোশে মেক্সিকো থেকে প্রবেশের সময় অবৈধভাবে কাজের পরিকল্পনার সন্দেহে সান দিয়াগোর ওটায় মেসা ডিটেনশন সেন্টারে এক মাসেরও বেশি সময় ধরে আটক রয়েছেন।
এছাড়া, কানাডাও তাদের নাগরিকদের জন্য ভ্রমণ পরামর্শ হালনাগাদ করে সতর্ক করেছে, যুক্তরাষ্ট্র সফরের আগে মার্কিন অভিবাসন নীতিমালা ভালোভাবে পর্যালোচনা করতে।
কানাডার পরামর্শে বলা হয়েছে, প্রত্যেক দেশ বা অঞ্চল নিজেরাই নির্ধারণ করে কে তাদের সীমান্তে প্রবেশ বা প্রস্থান করতে পারবে। গন্তব্য দেশের প্রবেশ বা প্রস্থান শর্ত পূরণ না করলে কানাডা সরকার আপনার পক্ষ থেকে হস্তক্ষেপ করতে পারবে না।
এতে আরও যোগ করা হয়েছে, ভ্রমণের সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণরূপে ভ্রমণকারীর নিজস্ব দায়িত্ব।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন কর্তৃপক্ষ ভারতীয় নাগরিকদের – বিশেষ করে এইচ-১বি কর্মী, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী (এফ-১ ভিসাধারী) এবং গ্রিন কার্ডধারীদের – জরুরি না হলে দেশ ছাড়তে নিরুৎসাহিত করেছে।
এটি এমন এক সময়ে এসেছে, যখন মার্কিন কর্মকর্তারা একাধিক বৃদ্ধ ভারতীয় গ্রিন কার্ডধারীকে বাধ্য করেছে ‘স্বেচ্ছায়’ গ্রিন কার্ড ছেড়ে দিতে অথবা বিমানবন্দরে আটক থাকার হুমকি দিয়েছে। এই পদক্ষেপ বিশেষ করে তাদের বিরুদ্ধে নেওয়া হচ্ছে, যারা শীতের সময় ভারতে বেশি সময় কাটান, তারা যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসের শর্ত লঙ্ঘনের সন্দেহভাজন হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছেন।
7:06 pm, Wednesday, 17 June 2026
News Title :
যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণে যুক্তরাজ্য-জার্মানি-কানাডার নতুন সতর্কতা জারি
-
নিজস্ব প্রতিবেদক - Update Time : 08:57:37 am, Saturday, 22 March 2025
- 166 Time View
Tag :
Popular Post




























