2:53 pm, Tuesday, 19 May 2026

সৌদিতে যুদ্ধ বিমান, হাজার হাজার সেনা মোতায়েন পাকিস্তানের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :: একটি প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় সৌদি আরবে ৮ হাজার সেনা, এক স্কোয়াড্রন ফাইটার জেট এবং একটি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েন করেছে পাকিস্তান। আগে থেকে সৌদি আরবে থাকা পাকিস্তানের সেনাদের সঙ্গে এই নতুন সেনারা যুক্ত হয়েছেন।

রিয়াদের সঙ্গে সামরিক সহযোগিতা জোরদার করার লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

বার্তাসংস্থ্যা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, তিনজন নিরাপত্তা কর্মকর্তা এবং দুজন সরকারি সূত্র এই মোতায়েনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তারা সবাই এটিকে একটি বড় ধরনের এবং যুদ্ধ-সক্ষম বাহিনী হিসেবে বর্ণনা করেছেন। এর উদ্দেশ্য হলো সৌদি আরব যদি পুনরায় কোনো আক্রমণের শিকার হয় তবে দেশটির সামরিক বাহিনীকে সহায়তা করা।

তবে এই মোতায়েনের বিষয়ে মন্তব্য চেয়ে অনুরোধ করা হলেও পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী ও পররাষ্ট্র দপ্তর এবং সৌদি আরবের সরকারি মাধ্যম কোনো সাড়া দেয়নি।

গত বছর স্বাক্ষরিত এই প্রতিরক্ষা চুক্তির পূর্ণ শর্তাবলী গোপন রাখা হয়েছে।

তবে উভয় পক্ষই জানিয়েছে যে এই চুক্তির আওতায় যেকোনো এক দেশ আক্রান্ত হলে পাকিস্তান ও সৌদি আরব একে অপরের প্রতিরক্ষায় এগিয়ে আসতে বাধ্য থাকবে। প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ এর আগে আভাস দিয়েছিলেন, এই চুক্তি সৌদি আরবকে পাকিস্তানের পারমাণবিক ছাতার সুরক্ষায় নিয়ে এসেছে।
সূত্রের বরাত দিয়ে রয়টার্স জানায়, গত এপ্রিলের শুরুতে ১৬টি যুদ্ধবিমান সম্বলিত একটি পূর্ণাঙ্গ স্কোয়াড্রন সৌদি আরবে পাঠিয়েছে পাকিস্তান। এগুলোর বেশিরভাগই চীনের সঙ্গে যৌথভাবে নির্মিত জেএফ-১৭ ফাইটার জেট। দুজন নিরাপত্তা কর্মকর্তা জানিয়েছেন, পাকিস্তান সেখানে দুই স্কোয়াড্রন ড্রোনও পাঠিয়েছে।

পাঁচটি সূত্রের সবগুলোই নিশ্চিত করেছে, এই মোতায়েনের মধ্যে প্রায় ৮ হাজার সেনা রয়েছে এবং প্রয়োজন হলে আরও সেনা পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি চীনের তৈরি একটি এইচকিউ-৯ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাও পাঠানো হয়েছে।

তারা জানিয়েছেন, এই সামরিক সরঞ্জামগুলো পাকিস্তানি কর্মকর্তারাই পরিচালনা করছেন এবং এর যাবতীয় অর্থায়ন করছে সৌদি আরব।

হাজার হাজার সেনা
দুই দেশের মধ্যকার যোগাযোগ এবং সামরিক সরঞ্জাম মোতায়েন সংক্রান্ত নথিপত্র দেখেছেন এমন দুইজন নিরাপত্তা কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ইরান সংঘাতের সময় মোতায়েন করা এই সামরিক ও বিমান বাহিনীর সদস্যরা প্রাথমিকভাবে উপদেষ্টা ও প্রশিক্ষণমূলক ভূমিকায় থাকবেন।

তবে তিনজন নিরাপত্তা কর্মকর্তাই জানিয়েছেন, পূর্ববর্তী চুক্তিগুলোর অধীনে সৌদি আরবে যুদ্ধকালীন ভূমিকার জন্য মোতায়েন থাকা হাজার হাজার পাকিস্তানি সেনার সঙ্গে এই নতুন বাহিনী যুক্ত হচ্ছে।

গোপন প্রতিরক্ষা চুক্তির মূল পাঠ্য বা টেক্সট দেখেছেন এমন এক সরকারি সূত্র জানান, এই চুক্তিতে সৌদি আরবের বাহিনীর পাশাপাশি দেশটির সীমান্ত সুরক্ষিত করতে সর্বোচ্চ ৮০ হাজার পাকিস্তানি সেনা মোতায়েন করার সুযোগ রাখা হয়েছে।

দুজন নিরাপত্তা কর্মকর্তা বলেছেন, এই চুক্তির মধ্যে পাকিস্তানি যুদ্ধজাহাজ মোতায়েনের বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত ছিল। তবে কোনো যুদ্ধজাহাজ সৌদি আরবে পৌঁছেছে কিনা তা রয়টার্স নিশ্চিত করতে পারেনি।

সূত্রগুলো জানায়, মোতায়েন করা বাহিনীর আকার এবং ধরন; যেমন যুদ্ধবিমান, আকাশ প্রতিরক্ষা এবং হাজার হাজার সেনা প্রমাণ করে পাকিস্তান কোনো প্রতীকী বা কেবল উপদেষ্টা মিশন পাঠায়নি, বরং তার চেয়ে অনেক বড় এবং কার্যকর বাহিনী পাঠিয়েছে।

রয়টার্স এর আগে আরেক প্রতিবেদনে জানিয়েছিল, সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামোতে ইরানি হামলার পর এবং একজন সৌদি নাগরিক নিহত হওয়ার পর পাকিস্তান সেখানে যুদ্ধবিমান পাঠিয়েছিল। ওই হামলার জেরে উপসাগরীয় এই রাজতন্ত্রটি কঠোর প্রতিশোধ নিতে পারে এবং সংঘাত আরও ছড়িয়ে পড়তে পারে বলেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল।

ইসলামাবাদ এই যুদ্ধের প্রধান মধ্যস্থতাকারী হিসেবে আবির্ভূত হওয়ার আগেই এই সেনা মোতায়েনের ঘটনা ঘটেছিল। পরবর্তীতে গত ছয় সপ্তাহ ধরে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর করতে সহায়তা করে ইসলামাবাদ। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার একমাত্র শান্তি আলোচনারও আয়োজন করেছিল ইসলামাবাদ এবং পরবর্তী আলোচনার পরিকল্পনাও ছিল, যা পরে উভয় পক্ষই বাতিল করে দেয়।

রয়টার্স অন্য আরেকটি প্রতিবেদনে জানিয়েছিল, সৌদি আরবের ভেতরে চালানো হামলার প্রতিশোধ নিতে রিয়াদ ইরানের ওপর বেশ কয়েকটি গোপন হামলা চালিয়েছিল।

পাকিস্তান দীর্ঘকাল ধরে সৌদি আরবকে প্রশিক্ষণ এবং উপদেষ্টা দল মোতায়েনের মাধ্যমে সামরিক সহায়তা দিয়ে আসছে। অন্যদিকে, পাকিস্তানের অর্থনৈতিক সংকটের সময়ে রিয়াদও বারবার ইসলামাবাদকে আর্থিকভাবে সহযোগিতা করেছে।

Tag :
About Author Information

Sirajul Islam

মৌলভীবাজার জেলা পুলিশের বিশেষ চেকপোস্ট কার্যক্রম অব্যাহত

সৌদিতে যুদ্ধ বিমান, হাজার হাজার সেনা মোতায়েন পাকিস্তানের

Update Time : 07:15:47 am, Tuesday, 19 May 2026

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :: একটি প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় সৌদি আরবে ৮ হাজার সেনা, এক স্কোয়াড্রন ফাইটার জেট এবং একটি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েন করেছে পাকিস্তান। আগে থেকে সৌদি আরবে থাকা পাকিস্তানের সেনাদের সঙ্গে এই নতুন সেনারা যুক্ত হয়েছেন।

রিয়াদের সঙ্গে সামরিক সহযোগিতা জোরদার করার লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

বার্তাসংস্থ্যা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, তিনজন নিরাপত্তা কর্মকর্তা এবং দুজন সরকারি সূত্র এই মোতায়েনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তারা সবাই এটিকে একটি বড় ধরনের এবং যুদ্ধ-সক্ষম বাহিনী হিসেবে বর্ণনা করেছেন। এর উদ্দেশ্য হলো সৌদি আরব যদি পুনরায় কোনো আক্রমণের শিকার হয় তবে দেশটির সামরিক বাহিনীকে সহায়তা করা।

তবে এই মোতায়েনের বিষয়ে মন্তব্য চেয়ে অনুরোধ করা হলেও পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী ও পররাষ্ট্র দপ্তর এবং সৌদি আরবের সরকারি মাধ্যম কোনো সাড়া দেয়নি।

গত বছর স্বাক্ষরিত এই প্রতিরক্ষা চুক্তির পূর্ণ শর্তাবলী গোপন রাখা হয়েছে।

তবে উভয় পক্ষই জানিয়েছে যে এই চুক্তির আওতায় যেকোনো এক দেশ আক্রান্ত হলে পাকিস্তান ও সৌদি আরব একে অপরের প্রতিরক্ষায় এগিয়ে আসতে বাধ্য থাকবে। প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ এর আগে আভাস দিয়েছিলেন, এই চুক্তি সৌদি আরবকে পাকিস্তানের পারমাণবিক ছাতার সুরক্ষায় নিয়ে এসেছে।
সূত্রের বরাত দিয়ে রয়টার্স জানায়, গত এপ্রিলের শুরুতে ১৬টি যুদ্ধবিমান সম্বলিত একটি পূর্ণাঙ্গ স্কোয়াড্রন সৌদি আরবে পাঠিয়েছে পাকিস্তান। এগুলোর বেশিরভাগই চীনের সঙ্গে যৌথভাবে নির্মিত জেএফ-১৭ ফাইটার জেট। দুজন নিরাপত্তা কর্মকর্তা জানিয়েছেন, পাকিস্তান সেখানে দুই স্কোয়াড্রন ড্রোনও পাঠিয়েছে।

পাঁচটি সূত্রের সবগুলোই নিশ্চিত করেছে, এই মোতায়েনের মধ্যে প্রায় ৮ হাজার সেনা রয়েছে এবং প্রয়োজন হলে আরও সেনা পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি চীনের তৈরি একটি এইচকিউ-৯ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাও পাঠানো হয়েছে।

তারা জানিয়েছেন, এই সামরিক সরঞ্জামগুলো পাকিস্তানি কর্মকর্তারাই পরিচালনা করছেন এবং এর যাবতীয় অর্থায়ন করছে সৌদি আরব।

হাজার হাজার সেনা
দুই দেশের মধ্যকার যোগাযোগ এবং সামরিক সরঞ্জাম মোতায়েন সংক্রান্ত নথিপত্র দেখেছেন এমন দুইজন নিরাপত্তা কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ইরান সংঘাতের সময় মোতায়েন করা এই সামরিক ও বিমান বাহিনীর সদস্যরা প্রাথমিকভাবে উপদেষ্টা ও প্রশিক্ষণমূলক ভূমিকায় থাকবেন।

তবে তিনজন নিরাপত্তা কর্মকর্তাই জানিয়েছেন, পূর্ববর্তী চুক্তিগুলোর অধীনে সৌদি আরবে যুদ্ধকালীন ভূমিকার জন্য মোতায়েন থাকা হাজার হাজার পাকিস্তানি সেনার সঙ্গে এই নতুন বাহিনী যুক্ত হচ্ছে।

গোপন প্রতিরক্ষা চুক্তির মূল পাঠ্য বা টেক্সট দেখেছেন এমন এক সরকারি সূত্র জানান, এই চুক্তিতে সৌদি আরবের বাহিনীর পাশাপাশি দেশটির সীমান্ত সুরক্ষিত করতে সর্বোচ্চ ৮০ হাজার পাকিস্তানি সেনা মোতায়েন করার সুযোগ রাখা হয়েছে।

দুজন নিরাপত্তা কর্মকর্তা বলেছেন, এই চুক্তির মধ্যে পাকিস্তানি যুদ্ধজাহাজ মোতায়েনের বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত ছিল। তবে কোনো যুদ্ধজাহাজ সৌদি আরবে পৌঁছেছে কিনা তা রয়টার্স নিশ্চিত করতে পারেনি।

সূত্রগুলো জানায়, মোতায়েন করা বাহিনীর আকার এবং ধরন; যেমন যুদ্ধবিমান, আকাশ প্রতিরক্ষা এবং হাজার হাজার সেনা প্রমাণ করে পাকিস্তান কোনো প্রতীকী বা কেবল উপদেষ্টা মিশন পাঠায়নি, বরং তার চেয়ে অনেক বড় এবং কার্যকর বাহিনী পাঠিয়েছে।

রয়টার্স এর আগে আরেক প্রতিবেদনে জানিয়েছিল, সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামোতে ইরানি হামলার পর এবং একজন সৌদি নাগরিক নিহত হওয়ার পর পাকিস্তান সেখানে যুদ্ধবিমান পাঠিয়েছিল। ওই হামলার জেরে উপসাগরীয় এই রাজতন্ত্রটি কঠোর প্রতিশোধ নিতে পারে এবং সংঘাত আরও ছড়িয়ে পড়তে পারে বলেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল।

ইসলামাবাদ এই যুদ্ধের প্রধান মধ্যস্থতাকারী হিসেবে আবির্ভূত হওয়ার আগেই এই সেনা মোতায়েনের ঘটনা ঘটেছিল। পরবর্তীতে গত ছয় সপ্তাহ ধরে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর করতে সহায়তা করে ইসলামাবাদ। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার একমাত্র শান্তি আলোচনারও আয়োজন করেছিল ইসলামাবাদ এবং পরবর্তী আলোচনার পরিকল্পনাও ছিল, যা পরে উভয় পক্ষই বাতিল করে দেয়।

রয়টার্স অন্য আরেকটি প্রতিবেদনে জানিয়েছিল, সৌদি আরবের ভেতরে চালানো হামলার প্রতিশোধ নিতে রিয়াদ ইরানের ওপর বেশ কয়েকটি গোপন হামলা চালিয়েছিল।

পাকিস্তান দীর্ঘকাল ধরে সৌদি আরবকে প্রশিক্ষণ এবং উপদেষ্টা দল মোতায়েনের মাধ্যমে সামরিক সহায়তা দিয়ে আসছে। অন্যদিকে, পাকিস্তানের অর্থনৈতিক সংকটের সময়ে রিয়াদও বারবার ইসলামাবাদকে আর্থিকভাবে সহযোগিতা করেছে।