1. [email protected] : Admin : sk Sirajul Islam siraj siraj
  2. [email protected] : admi2017 :
  3. [email protected] : Sk Sirajul Islam Siraj : Sk Sirajul Islam Siraj
  • E-paper
  • English Version
  • রবিবার, ২১ এপ্রিল ২০২৪, ০৯:০৮ পূর্বাহ্ন

ব্রেকিং নিউজ :
বিনোদন :: গান গাইতে গাইতে মঞ্চেই গায়কের মর্মান্তিক মৃত্যু!,  খেলার খবর : অনূর্ধ্ব-১৯ এশিয়া কাপ চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ, বিমানবন্দরে যুবাদের জানানো হবে উষ্ণ অভ্যর্থনা,

ধ্বংসের বিভিন্ন রূপের মধ্যে একটি হল ‘ভূমিকম্প’

  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ১৯ মার্চ, ২০২৪
  • ১৫৪ বার পঠিত

: আফতাব চৌধুরী:
বিজ্ঞানের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক শ্বাস-প্রশ্বাসে। অক্সিজেন ছাড়া যেমন কোন প্রাণী বাঁচতে পারে না, তেমনি বিজ্ঞান ছাড়া আমাদের বেঁচে থাকা অসম্ভব। বিজ্ঞান কোনও আলাদা বস্তু নয়। এগিয়ে চলার নামই বিজ্ঞান, বিশেষ জ্ঞানের নামই বিজ্ঞান, সৃষ্টির নামই বিজ্ঞান। ফলে বিজ্ঞানের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক সৃষ্টির জনা¥ক্ষণ থেকেই। আমাদের মুনি-ঋষিরা ছিলেন বিজ্ঞানের অনুরাগী। শুনলে আশ্চর্য মনে হতে পারে, ধর্মগ্রন্থ যদি ভালভাবে বিশ্লেষণ করা যায়, তা হলে দেখা যাবে এর সব কিছুই বিজ্ঞানের উপর নির্ভরশীল।
সৃষ্টির জন্ম ধ্বংস স্তুপে থেকেই, ফলে সৃষ্টি ও ধ্বংস পাশাপাশি বিরাজ করছে। ধ্বংসের বিভিন্ন রূপের মধ্যে একটি হল ‘ভূমিকম্প’। ভূমিকম্পের এক মুহুর্তের নৃত্যে স্তব্ধ হয়ে যায় সৃষ্টি। সৃষ্টিকে তার যাত্রা আবার নতুন করে শুরু করতে হয় সে ধ্বংসস্তুপ থেকেই। প্রকৃতির রাজ্যে বিজ্ঞান অনেক কিছু জয় করে নিয়েছে, তবে সে এখনও নিরুপায় ভূমিকম্পের পূর্বাভাষ প্রদানে।
ভূমিকম্প সম্বন্ধে আমাদের অসীম কৌতুহল। ভূমিকম্পের সৃষ্টির উৎস কোথায়? ভূমিকম্পের ঠিক পূর্বে মাটির নীচে বৈদ্যুতিক পরিবহনতা ও ভূ-জলের গভীরতায় কিছু পরিবর্তন ঘটে। তাছাড়া শিলোচ্যুতি বরাবর শিলাস্তরের উথান ও পতন ঘটে। তার মধ্যে চাপ ও তাপের তারতম্য ঘটে ভূমিকম্পের ঠিক আগে। ভূমিকম্পের আগে শিলাস্তরের উপর যে চাপের সৃষ্টি হয় এবং সে চাপ যখন শিলাস্তরের অভ্যন্তরীণ শক্তিকে ভেদ করে তখনই শিলাস্তরের ভাঙ্গনের সৃষ্টি হয় এবং সঙ্গে সঙ্গে ভূমিকম্প অনুভূত হয়।শিলাস্তরের উপর যে চাপের সৃষ্টি হয় তা যদি আচ করে নেওয়া যায় তাহলে ভূমিকম্পের পূর্বাভাস সম্ভবপর হবে। কিন্তু এসব ব্যাপার নির্ণয় করতে হলে ভূ-কম্প প্রবণ অঞ্চলে পুঙ্খানুপুঙ্খ সমীক্ষা চালিয়ে যাওয়া দরকার।
ভূমিকস্প সম্বন্ধে যেটুকু তথ্য পাওয়া দিয়েছে তা হল ভূমিকম্পের কেন্দ্রবিন্দু, গভীরতা ও কম্পনে পরিমাণ। ভূমিকম্পের কেন্দ্রবিন্দু গভীরতার উপর নির্ভর করে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এবং এর ব্যাপকতা। বিশেষ বিশেষ কেন্দ্রবিন্দু বা এপিসেপ্টার থেকে কম্পন ছড়িয়ে যাচ্ছে। কখনও বা অনুভব করা যায় কখনও যায় না। অনুভবের মাত্রা যখনই বৃদ্ধি পায় তখনই তার চারপাশে ধ্বংস ছড়ায়। মাটির নীচে পোঁতা থাকার সংবেদী হেলিকর্ডরের একটি প্রান্ত। তা বেয়ে ভূ-স্তরের সূ²তম কম্পন ও গ্রাফের আকারে আঁকা হয়ে যায়। এ গ্রাফকে বৈজ্ঞানিক ভাষার পরিভাষায় ‘সিসমোগ্রাফ’ বলে। সিসমোগ্রাফ প্রথমে আবিষ্কৃত হয় জাপানে আজ থেকে প্রায় ১২৫ বছর আগে। কেবল প্রাকৃতিক কম্পনই নয়, ভূ-গর্ভের পরমাণু বিস্ফোরণজনিত কম্পনও ধরা পড়ে সিসমোগ্রাফে। সিসমোগ্রাফে পরীক্ষা করে বিশেষজ্ঞরা পরিমাপ করেন ‘রিক্টার স্কেল’। এ রিক্টার স্কেলই হল ভূ-কম্পনের মাপকাঠি।
‘রিক্টার স্কেল’-যা দ্বারা ভূ-কম্পনের পরিমাপ করা যায়; তা সম্বন্ধে সামান্য বলা প্রাসঙ্গিক মনে করি। মার্কিন ভূ-কম্পন বৈজ্ঞানিক চার্লস রিক্টার এ স্কেল আবিষ্কার করেন ১৯৩৫ সালে, যার দ্বারা ভূ-কম্পনের তীব্রতা মাপা হয়। তার নামানুসারে এ স্কেলের নাম হয় ‘রিক্টার স্কেল’। এ স্কেল অনুসারে ২.৫ কম্পনের শক্তি ১৭আর্গস শক্তি থাকে । ২.৫ স্কেলের ভূমিকম্প খুবই ছোট মাপের যা সাধারণত অনুভব করা যায় না। অনুভব করা যায় ৪.৫ রিক্টার স্কেলের ভূমিকম্প যার শক্তি থাকে ১০ আর্গস্ তবে ৬ রিক্টার স্কেলের ভূমিকম্পে ঘর-বাড়ি ভাঙ্গা ও জীবনহানি ঘটে। ৭ রিক্টার স্কেলের শক্তি ১০ আর্গস। এ স্কেলের ভূমিকম্পে ক্ষয়ক্ষতি অত্যাধিক। আর ৮রিক্টার স্কেলের ভূমিকম্প মহাভয়ঙ্কর । পরিসংখ্যায় সাধারণত দেখা যায় ভূ-কম্বন এলাকার ৪-৫ রিক্টার স্কেল ভূমিকম্প সাধারণত ৫ বছর অন্তর হয়। ৬ বা তার উপর রিক্টার স্কেলের ভূমিকম্প সাধারণত ৪০-৫০ বছরের মধ্যে হয়ে থাকে। তবে রিক্টার স্কেলের সঙ্গে ভূমিকম্পের গভীরতার উপর নজর রাখতে হবে। গভীরতর উপর নজর রাখতে হবে। গভীরতা যদি কম হয়ে থাকে তাহলে ৫ অঙ্কের রিটার স্কেলের কম্পনেও অনেক ক্ষয়ক্ষতি হয়ে থাকে।


তবে আমাদের মনে প্রশ্ন ভূমিকম্পের পূর্বাভাস কি সম্ভবপর নয়? বৈজ্ঞানিকার তার উত্তর খুঁজতে শুরু করেছেন কয়েক দশক থেকে। এ সম্বন্ধে আমেরিকার, রাশিয়া, জার্মান, চীন ও জাপান বিশেষভাবে চালিয়ে যাচ্ছে। ভূ-চুম্বকীয় সংস্থা শিলাস্তরের মধ্যে যে চুম্বকীয় পদার্থ ইতঃস্তত বিক্ষিপ্তভাবে ছড়িয়ে আছে বিজ্ঞানীরা তার পরিবর্তনের উপর বিশেষ নজর রাখছে ‘মেগনোটগ্রাফের’ মাধ্যমে। ভূমিকম্পের আগে ভূ-স্তরে যে বৈদ্যুতিক পরিবহনত হয় তার সঙ্গে সৌর-চম্বকীয় শক্তির প্রভাব যা পৃথিবীর উপর পরে তা উপর সমীক্ষা চালিয়ে যাচ্ছেন। ভারতবর্ষের হিমালয়ের পাদদেশের অভ্যন্তরীণ বৈদ্যুতিক পরিবহনতার গতি সম্বন্ধে অনেক তথ্য পাওয়া যাচ্ছে, যা ভূমিকম্পের পূর্বাভাসে কিছুটা অগ্রণী ভূমিকা নিতে পারে। পৃথিবীর অভ্যন্তরীণ সর্বোচ্চ যে স্তর বৈজ্ঞানিক ভাষায় যাকে ক্রাস্ট বলে-যার গভীরতা ৩৫ কিলোমিটার, সে স্তরের পরিবর্তনের উপর অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছেন ‘প্লট টেকটোনিক থিওরি’-য়ের বিশেষ অবদান রয়েছে-যা ভূমিকম্পজনিত অনেক প্রশ্নের সমাধান করতে পারবে বলে বৈজ্ঞানিক ধারণা ভূমিকম্প প্রবণ অঞ্চলে পানির উপর কি ধরণের বৈদ্যুতিব প্রবাহ ঘটে তার উপর গবেষণা চলছে । আবার ভূমিকম্পের আগে জাপান ও চীন দেশে পশুপক্ষীর আচরণের মধ্যে অস্বাভাবিকতা লক্ষ্য করা যায় বলে জানা যাচ্ছে। আমাদের আসা পরবর্তীকালে বিজ্ঞান ভূমিকম্পের পূর্বাভাষে অনেক নতুন তথ্য পরিবেশনে সাহায্য করবে। সাংবাদিক কলামিস্ট। ১৯.০৩.২৪

প্লিজ আপনি ও অপরকে নিউজটি শেয়ার করার জন্য অনুরোধ করছি

এ জাতীয় আরো খবর..