1. [email protected] : Admin : sk Sirajul Islam siraj siraj
  2. [email protected] : admi2017 :
  3. [email protected] : Sk Sirajul Islam Siraj : Sk Sirajul Islam Siraj
ব্রেকিং নিউজ :
বিনোদন :: গান গাইতে গাইতে মঞ্চেই গায়কের মর্মান্তিক মৃত্যু!,  খেলার খবর : অনূর্ধ্ব-১৯ এশিয়া কাপ চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ, বিমানবন্দরে যুবাদের জানানো হবে উষ্ণ অভ্যর্থনা,

 বাংলাদেশ ও বঙ্গঁবন্ধুঃ সমার্থক

  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ৪ এপ্রিল, ২০২৪
  • ৯২ বার পঠিত

: মুজিবুর রহমান মুজিব:
দক্ষিন পূর্ব এশিয়ার প্রাচীন ও ঐতিহসিক জনপদ বাংলাদেশ এবং হাজার বছরের শ্রেষ্ট বাঙ্গাঁলি, বাঙ্গাঁলি জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের জনক, স্বাধীনতার মহান স্থপতি বঙ্গঁবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সমার্থক। বাংলা ও শেখ মুজিব আলাদা ভাবে ভাগ করা যায় না। বঙ্গঁবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দেশপ্রেম স্বাদেশিকতা, মানুষের প্রতি মমত্ববোধ, আজীবন আন্দোলনে সংগ্রামে ও ভয়ভীতিকে উপেক্ষা করে বাংলা ও বাঙ্গাঁলির মুক্তি সংগ্রামে নিজেকে বিলিয়ে দিয়েছেন উৎসর্গ করেছেন। ধারাবাহিক আন্দোলনে সংগ্রামের ফলও ফলশ্রæতি বাংলা দেশ ও বঙ্গঁবন্ধু একাকার হয়েগেছেন মুজিবের বাংলা ও বাংলার মুজিব সমার্থক, এক ও অভিন্ন। হাজার বছরের সংগ্রামী ইতিহাসে প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী জনপদ বাংলার স্বতন্ত্র স্বকিয়তা স্বাধীনতা ছিল। মধ্যযুগে মুঘল ভারতে বাংলা বিহার ও উড়িস্যার স্বাধীন নবাব প্রজাবৎসল নৃপতি নবাব আলী আলী বর্দি খার শাসনামলে এই অঞ্চল “সুবে বাংলা” হিসাবে পরিচিত ছিল। বাংলার ধন সম্পদ প্রাচুর্য্য ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যে বিমুগ্ধ হয়ে বাংলায় এসেছেন বিদেশী বিভিন্ন জাতি ব্যবসায়ী প্রতিষ্টান। নবাব আলী বর্দির মৃত্যোর পর তাঁর প্রিয় দৌহিত্র স্বাধীন চেতা তরুন নবাব সিরাজুদ্দৌলার শাসনামলে বৃটিশ ব্যবসায়ী প্রতিষ্টান ইষ্ট ইন্ডিয়া কোম্পানী নবাবের কতেক অসৎ ও অতিলোভী রাজ কর্মচারীদের সঙ্গেঁ গোপনে আতাত করে দেশীয় রাজনীতিতে নাক গলাতে থাকে যার পরিনতি যুদ্ধ বিহীন পলাশীর যুদ্ধ। নবাবের বেঈমান সেনা প্রধান মীর জাফর আলী খান এর বিশ্বাস ঘাতকতায় “বনিকের মানদন্ড দেখা দিল রাজদন্ড রূপে পোহালে শর্বরী”। একশত নব্বই বৎসর বাংলা ভারত লুন্টন করেছেন সাগর পারের বেনিয়া বেঈমান ইংরেজ গন। বাংলা ভারতে বৃটিশ শাসন লুন্ঠন মনেপ্রানে মানেন নি বাংলা ভারত বাসি। উনবিংশ শতাব্দীতে এসে বাংলা ভারত ব্যাপী বৃটিশ বিরোধী আন্দোলন বেগবান হতে থাকে। আজীবন লড়াকু সৈনিক শেখ মুজিবুর রহমান এর জন্ম বৃটিশ ভারতের শেষ ভাগে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিঁ পাড়ায় এক শিক্ষিত ও সম্ভ্রান্ত পরিবারে শেখ লুৎফুর রহমানের ঔরসে। মানব শিশু শেখ মুজিব বাল্য কাল থেকে দেশ প্রেমিক ও রাজনীতি সচেতন ছিলেন। ছাত্রবস্থায় তিনি বৃটিশ বিরোধী আন্দোলনে অংশ গ্রহন করেন। কোলকাতায় ইসলামিয়া কলেজের ছাত্রাবস্থায় তরুন ছাত্র নেতা শেখ মুজিব হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী এবং শেরে বাংলা একে ফজলুল হক এর সংস্পর্শে যান, তাঁদের নেতৃত্বে কাজ করেন। তিনি গনতন্ত্রের মানুষ পুত্র হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর আস্থাভাজন ও ¯েœহ ধন্য ছিলেন। আপাদ মস্তক সার্বক্ষনিক পরিপূর্ন রাজনীতিবিদ তরুন শেখ মুজিবুর রহমান বৃটিশ বিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় ভাবে অংশ গ্রহন ও নেতৃত্বদান করেন। সাত চল্লিশে দেশ বিভক্তি ও পাকিস্তানী স্বাধীনতার পর দেশে এসে নিজেকে আন্দোলনে সংগ্রামে বিলিয়ে দেন। পাকিস্তানী স্বাধীনতার পর ক্ষমাতসীন মুসলিম লীগ সরকার বাঙ্গাঁলিদের সঙ্গেঁ বিমাতা সূূলভ আচরন করতে থাকেন। বাঙ্গাঁলিদের ভাষা ও সংস্কুতিকে পঙ্গুঁ করার হীন মানষে পাকিস্তানের গভর্নর জেনারেল মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ ঢাকায় এসে ঘোষনা করেন “টৎফঁ অহফ টৎফঁ ঝযধষষ নব ঞযব ঝঃধঃব খধহমঁধমব ড়ভ চধশরংঃধহ” না, না, না, মানি না মানব না গর্জে উঠে বাংলাদেশ। এই অঞ্চলের স্বার্থ সংরক্ষন ভাষা সংস্কৃতিকে সুরক্ষার প্রয়োজনে গঠিত হয় আওয়ামী মুসলিম লীগ। তরুন নেতা শেখ মুজিব এর চাইতে বয়োঃজ্যেষ্ট প্রবীন রাজনীতিবিদ হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, শেরে বাংলা এ,কে, ফজলুল হক এবং মজলুম জননেতা মৌলানা আব্দুল হামিদ খান ভাষানী বাংলা ও বাঙ্গাঁলিদের স্বার্থ সংরক্ষন এবং পাক সরকার এর ঝুলুম নির্যাতনের বিরুদ্ধে রাজনীতিতে সক্রিয় হন, নেতৃত্বপ্রদান করেন। যুক্ত ফ্রন্ট গঠিত হয়। চুয়ান্ন সালের নির্ব্বাচনে মুসলিম লীগের ভরাডুবি ঘটে। কিন্তু পাকিস্তানের ক্ষমতাশীন প্রাষাদ ষড়যন্ত্রী গন বিরোধী লীগ সরকার যুক্ত ফ্রন্ট সরকারকে বাতিল করে এবডো, প্রডো এবং ডি,পি,আর জাতীয় গন বিরোধী আইনজারী করে বাংলার গন মুখীরাজনীতি বিকষিত হতে দেয় নি। আওয়ামী লীগ, ন্যাপ (মোঃ) এবং ন্যাপ (ভাঃ) এর উপর ঝুলুম নির্যাতন চালায়। তখন ছাত্র সমাজকেই বিশেষতঃ ছাত্রলীগ-ছাত্র ইউনিয়ন (মেনন) মতিয়া উভয় গ্রæপকে দায়িত্ব পালন করতে হত। পাকিস্তানী স্বাধীনতার এক যুগের মাথায় স্বঘোষিত ফিন্ড মার্শাল সেনা প্রধান আইয়ুব খাঁন সামরীক আইনজারী করে পাকিস্তানে গনতন্ত্র মানবধিকার ন্যায় বিচার ও আইনের শাসনকে পদ দলিত করে গনতন্ত্রের পরিবর্তে বুটক্রেশী-লুটক্রেশী চালু করেন। দেশ ও জাতির ঘোর দুর্দিন ও কঠিন কালে আজীবন আপাদ মস্তক রাজনীতিবিদ শেখ মুজিবুর রহমান ভয় ভীতিকে উপেক্ষা করে আওয়ামীলীগের দায়িত্বভার নিয়ে বঙ্গঁশার্দুল শেখ মুজিব হিসাবে খ্যাতি অর্জন করেন। বাংলা ও বাঙ্গাঁলি অন্তপ্রান বঙ্গঁশার্দুল শেখ মুজিবুর রহমান বাংলা ও বাঙ্গাঁলির মুক্তিসনদ ঐতিহাসিক ছয়দফা কর্ম সূচী ঘোষনা করলে বাংলা ব্যাপী প্রান চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়। পাকফৌজি সরকার এবং কতেক ভ্রষ্টবাম ছয় দফাকে বিচ্ছিন্নতাবাদের দলিল এবং ছয় দফা প্রনেতা বঙ্গঁ শার্দুল শেখ মুজিবকে সি,আই,এর দালাল বলে বেহুদা গলাবাজি করেন। না পাক পাকি সরকার বাংলা ও বাঙ্গাঁলিদের একমাত্র প্রান প্রিয় নেতা শেখ মুজিবের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করতঃ হয়রানী ও ঝুলুম নির্যাতন চালাতে থাকে, ক্ষমতাসীনদের শেষ অস্ত্র ছিল কুখ্যাত আগঢ়তলা ষড়যন্ত্র মামলা। বাঙ্গাঁলি জাতীয়তা বাদী আন্দোলন তখন চূড়ান্ত রূপ লাভ করেছে। সর্ব দলীয় ছাত্র সমাজ এবং ডাক সুর নেতৃত্বে এগারো দফা কর্ম্মসূচীর ভিত্তিতে সর্বদলীয় ছাত্র আন্দোলন চূড়ান্ত আকার ধারন করে। শেখ মুজিব বাঙ্গাঁলি জাতীয়তা বাদী আন্দোলনের একক আপোষ হীন নেতা হিসাবে দেশে বিদেশে খ্যাত হন। সমগ্র বাংলাদেশের কৃষক শ্রমিক ছাত্র জনতা এক বাক্যে আওয়াজ তুলেন মিথ্যা মামলা আগঢ়তলা, মানি না মানব না, জেলের তালা ভাঙ্গঁব শেখ মুজিবকে আনব। ছাত্র গন আন্দোলনের চাপে নতি স্বীকার করে নীতিহীন দূর্নীতিবাজ না পাক পাক সরকার। বাঙ্গাঁলি জাতির অবিসাংবাদিতনেতা শেখ মুজিব বীরের বেশে বেরিয়ে আসেন কারাগার থেকে। ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে দেশ ও জাতির পক্ষ থেকে ডাকসুর ভি,পি উনসত্তোরের ছাত্র গন আন্দোলনের নায়ক তোফায়েল আহমদ তাকে বঙ্গঁবন্ধু উপাধিদেন তখন থেকেই বঙ্গঁবন্ধু শেখ মুজিব এবং বাংলাদেশ একাকার হয়ে গেছে। সত্তোর সালের সাধারন নির্ব্বাচনে বঙ্গঁবন্ধুর বলিষ্ট ও গতিশীল নেতৃত্বে নিরংকুশ স্যংখ্যা গরিষ্টতা লাভ করে তার প্রিয় দল আওয়ামী লীগ। ক্ষমতাসীন পাকফৌজি প্রেসিডেন্ট লেঃ জেঃ আগা মোহাম্মদ এহিয়া খান ক্ষমতা হস্তান্তর না করে বাংলা ও বাঙ্গাঁলির উপর ঝাপিয়ে পড়ে অঘোষিত যুদ্ধ ঘোষনা করেন। জাতির নেতা বঙ্গঁবন্ধু শেখ মুজিবের নেতৃত্বে বীর বাঙ্গাঁলি মাত্র নয় মাস যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেন। স্বাধীন বাংলাদেশে বঙ্গঁবন্ধুর নেতৃত্বে সরকার গঠিত হয়। অতিঅল্প সময়ে তিনি জাতিকে উপহার দেন একটি সংবিধান যা একটি চমৎকার মানবিক দলিল। স্বাধীন বাংলাদেশে বঙ্গঁবন্ধুর নেতৃত্বে গঠিত সরকার সকলের সঙ্গেঁ বন্ধুত্ব কারো সঙ্গেঁ শত্রæতা নয় নীতি অনুসরন করে বহিবিশ্বে প্রশংসিত হন। একজন জনদরদি জননেতা এবং কৃষক শ্রমিক মেহনতি মানুষের কাছের মানুষ হিসাবে তিনি শোষক-শোষিত প্রসঙ্গেঁ বলে ছিলেন সারা বিশ্ব আজ দুই ভাগে বিভক্ত শোষক ও শোষিত। আমি শোষিতের পক্ষে। অথছ ভূঁইফোড়, ফটকাবাজ কতেক দাগ খতিয়ান বিহীন ভ্রষ্ট অতি বাম বলেন আওয়ামীলীগ বুর্জোয়া দল এবং শেখ মুজিব পেটি বুর্জোয়া নেতা। নেতা হিসাবে বঙ্গঁবন্ধু শেখ মুজিব অপ্রতিদ্বন্ধী। অতুলনীয়। তাঁর দেশপ্রেম কর্মি বাৎসল্য ক্যেরিস মাটিক ব্যক্তিত্ব ও নেতৃত্বে নেতা ও সংঘটক হিসাবে নেতৃত্বের দৌড়ে তাঁর তিন শ্রদ্ধেয় মুরব্বিদেরকে পিছনে ফেলে এগিয়ে গেছেন বঙ্গঁ শার্দুল থেকে বঙ্গঁবন্ধু জাতির জনক হয়েছেন। বর্নাঢ্য রাজনৈতিক জীবনের অধিকারি দীর্ঘদেহী সুদর্শন স্বজ্জন শেখ মুজিবকে পনেরো আগষ্ট পঁচাত্তোরে সপরিবারে নির্মম ভাবে হত্যা করে ঘাতকের দল। বেহায়া নির্লজ্যের মত বেতারে মুজিব মন্ত্রী সভার বানিজ্য মন্ত্রী খন্দকার মুশতাক বলেন দেশ ও জাতির ঐতিহাসিক প্রয়োজনে পনেরোই আগষ্টের সারথী হয়ে রাষ্ট্র ক্ষমতায় এসেছেন। দাউদ কান্দির খন্দকার মুশতাক মধ্যম মানের আইন জীবী হিসাবে ও নামডাক ছিল না। পুরান ঢাকার আবর্জনা সমেত গলির বাসিন্দা খন্দকার মুশতাক বঙ্গঁবন্ধু ও আওয়ামী লীগের কারনে জাতে উঠে কিঞ্চিত পরিচিত ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় প্রবাসী মুজিবনগর সরকার এর বোঝা ছিলেন খুনী মুশতাক। তিনি স্বাধীন বাংলার পরিবর্তে পাকিন্তানের সঙ্গেঁ একটি “কনফেডারেশন” গঠনের প্রক্রিয়ায় ছিলেন পনেরোই আগষ্ট্রের এই স্বঘোষিত সারথী। স্ব-ঘোষিত মহামান্য রাষ্ট্র প্রতি খন্দকার মুশতাক এর প্রেসিডেন্সীর মেয়াদ তিন মাসও পূর্ন হয় নি। ষঢ়যন্ত্রের মাধ্যমেই তিনি নিরবে বিদায় নিয়েছেন। আওয়ামী লীগ এর প্রতিষ্টা কালীন সেকেন্ড গ্রেডী নেতা দল ত্যাগ করে গঠন করেনছিলেন ডেমক্রেটিক লীগ। “প্রেসিডেন্সী” শেষে খুনী খন্দকার মুশতাক আগামসিলেনের বাড়ীতে গৃহ বন্দীর মত ছিলেন। জনরোসের ভয়ে তিনি স্বাভাবিক জীবন যাপন করেত পারেন নি। মৃত্যোর শেষে তিনিও তর দল দেশীয় রাজনীতি থেকে নিশ্চিহ্ণ। অপর পক্ষে বঙ্গঁবন্ধু মৃত্যোর পরও বেঁচে আছেন তাঁর কাজের মাঝে মানুষের হৃদয়ের মনিকোঠায়। তাঁর প্রিয় দল আওয়ামী রীগ এখনও রাষ্ট্র ক্ষমতায়। সরকারের প্রধান মন্ত্রীর গুরু দায়িত্বে তারই কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা। স্বাধীনতার মহান স্থপতি বঙ্গঁবন্ধু শেখ মুজিবের স্বপ্নের সোনার বাংলায় এখন ও স্বাধীনতার মূলচেতনা গনতন্ত্র, আইনের শাসন, ন্যায় বিচার, মানবধিকার এখন ও অধরা। প্রশ্ন বিদ্ধ। বিষয়টি মুজিব সৈনিকদের ভেবে দেখার এখনই সময়।
[ষাটের দশকের ছাত্র লীগ নেতা। মুক্তিযোদ্ধা। সাবেক সভাপতি, মৌলভীবাজার প্রেসক্লাব।]

প্লিজ আপনি ও অপরকে নিউজটি শেয়ার করার জন্য অনুরোধ করছি

এ জাতীয় আরো খবর..