ডেস্ক রিপোর্ট :: ফিফা বিশ্বকাপের হাইভোল্টেজ কোয়ার্টার ফাইনালে আগামীকাল সুইজারল্যান্ডের মুখোমুখি হচ্ছে আর্জেন্টিনা। তবে মাঠের লড়াইয়ের আগেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম উত্তপ্ত রেফারিং বিতর্ক নিয়ে।
ফুটবলপ্রেমীদের একাংশের দাবি, বিশ্বকাপে রেফারিদের কাছ থেকে বাড়তি সুবিধা পাচ্ছে আলবিসেলেস্তেরা। তবে এই অভিযোগকে পুরোপুরি ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন আর্জেন্টিনার হেড কোচ লিওনেল স্কালোনি।
তার সাফ কথা, বর্তমান প্রযুক্তির যুগে কোনো দলকে রেফারির পক্ষ থেকে বিশেষ সুবিধা দেওয়া অসম্ভব।
এই বিতর্কের সূত্রপাত মূলত শেষ ষোলোর ম্যাচে মিশরের বিদায়ের পর।
গত মঙ্গলবার নকআউট পর্বের সেই রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে মিশরের বিপক্ষে ৩-২ ব্যবধানে জয় পায় আর্জেন্টিনা। কিন্তু ম্যাচে রেফারির বেশ কয়েকটি সিদ্ধান্ত মিশরের বিপক্ষে যাওয়ায় ম্যাচ শেষে ক্ষোভ উগরে দেন দলটির কোচ ও ফুটবলাররা।
এরপরই ফুটবল বিশ্বে আর্জেন্টিনার পক্ষে রেফারিংয়ের পক্ষপাতিত্ব নিয়ে সমালোচনার ঝড় ওঠে।
সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে রোববারের মহারণের আগে আজ ভোরে সংবাদ সম্মেলনে আসেন স্কালোনি। সেখানে অবধারিতভাবেই ওঠে আসে রেফারিংয়ের প্রসঙ্গ। সব অভিযোগ নাকচ করে আর্জেন্টাইন কোচ বলেন, ‘১৯৮৬ বিশ্বকাপেও মানুষ বলত আর্জেন্টিনা নাকি বাড়তি সুবিধা পাচ্ছে। এসব কথা আমাদের কাছে নতুন কিছু নয়। আমার যতটুকু মনে পড়ে, বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা সবসময়ই এমন এক দল যাদের সবাই সমীহ করে চলে। এক অর্থে, এই সমালোচনাগুলো আমাদের খেলোয়াড়দের বোঝাতে সাহায্য করে যে, কিছু মানুষ আসলে চায় না আর্জেন্টিনা জিতুক।’
তিনি আরও যোগ করেন, ‘এটা খুবই স্বাভাবিক, ঠিক যেভাবে অন্য দলগুলোর ক্ষেত্রেও অনেকে তাদের হার দেখতে চায়। হয়তো আমাদের ক্ষেত্রে এমন মানুষের সংখ্যাটা একটু বেশিই, আর সেটা আমরা মাথায় রাখি। খেলোয়াড়রাও ব্যাপারটা বোঝে। আমরা এটাকে একটা জেদ হিসেবে নিই, যা মাঠে আমাদের আরও ভালো খেলার অনুপ্রেরণা জোগায়।’
ভিএআর প্রযুক্তির কথা উল্লেখ করে স্কালোনি বলেন, ‘ভিএআরের যুগে এসে পক্ষপাতিত্ব করা খুবই কঠিন। এখানে কোনো কিছুর ভিন্ন ব্যাখ্যার সুযোগ নেই।’
মিশরের বিরুদ্ধে বাতিল হওয়া গোলটির ব্যাখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, ‘লিসান্দ্রো মার্তিনেসের পায়ে আঘাত করা হয়েছিল। সেটা সামান্য হোক বা বেশি, নিয়ম অনুযায়ী সেটি ফাউল। এখানে অন্য কিছু ভাবার অবকাশ নেই।’
স্কালোনির মতে, আর্জেন্টিনাকে সুবিধা দেওয়ার এই অভিযোগগুলো মূলত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের তৈরি। ‘ফুটবলে কোনো বিশেষ সাহায্য বলে কিছু নেই। ২০২৬ সালে এত প্রযুক্তির মধ্যে সেটা সম্ভবও নয়। এখন ছোট বিষয়ও সামাজিক মাধ্যমে অনেক বড় করে দেখা হয়।’
বিতর্কের পাশাপাশি বিশ্বকাপের দীর্ঘ ভ্রমণ ও ঠাসা সূচি নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেন আর্জেন্টাইন মাস্টারমাইন্ড। তিনি বলেন, ‘আমরা ভাগ্যবান যে অন্য অনেক দলের তুলনায় কম ভ্রমণ করতে হয়েছে। গ্রুপে দ্বিতীয় হলে পুরো যুক্তরাষ্ট্র আর কানাডা ঘুরে বেড়াতে হতো। একবার তো সরঞ্জাম সংক্রান্ত সমস্যায় দুই ঘণ্টার ফ্লাইটের পর বিমানবন্দরে আরও এক ঘণ্টা আটকে ছিলাম। হোটেলে পৌঁছাতে ভোর ৪-৫টা বেজে যায়। মানুষ ভাবে এসব কোনো প্রভাব ফেলে না। কিন্তু বিশ্রাম খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এত ভ্রমণের পর স্বাভাবিকভাবেই খেলোয়াড়দের ওপর ক্লান্তি ভর করে।’
আগামীকাল রোববার সকালে কানসাস সিটিতে সেমিফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে মুখোমুখি হবে সুইজারল্যান্ড ও আর্জেন্টিনা। ম্যাচটি বাংলাদেশ সময় সকাল ৭টায় শুরু হবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক 




























