4:02 pm, Saturday, 31 October 2026

পাঁচ মাস ধরে বেতন ভাতা বন্ধ, মানবেতর জীবনযাপন করছেন বন পাহারাদাররা

তানভীর চৌধুরী : মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানসহ শ্রীমঙ্গল বন্য প্রাণী রেঞ্জের আওতাধীন তিনটি বন বিটের কর্মচারী ও কমিউনিটি পেট্রোলিং গ্রুপের (সিপিজি) সদস্যরা টানা পাঁচ মাস ধরে বেতন-ভাতা পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন বন পাহারার দায়িত্বে নিয়োজিত এসব সদস্য। এমনকি দুর্গাপূজা উপলক্ষেও হিন্দু ধর্মাবলম্বী সিপিজি সদস্যরা বেতন-ভাতা পাননি বলে অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

অভিযোগ রয়েছে, বন্য প্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. আবুল কালাম লাউয়াছড়ার ব্যবস্থাপনা কমিটিকে অবৈধ উল্লেখ করে সংশ্লিষ্ট অর্থ ছাড় করছেন না। এর ফলে সিপিজি সদস্য ও সংশ্লিষ্ট কর্মচারীরা দীর্ঘদিন ধরে তাদের প্রাপ্য বেতন-ভাতা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, শ্রীমঙ্গল বন্য প্রাণী রেঞ্জের আওতাধীন লাউয়াছড়া, কালাছড়া ও চাউতলী বন বিটে মোট ৪০ জন কমিউনিটি পেট্রোলিং গ্রুপের (সিপিজি) সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। তাদের মধ্যে ১০ জন নারী ও ৩০ জন পুরুষ। তারা রোস্টার অনুযায়ী দিনে ও রাতে বন পাহারা দেন। বন ও বন্য প্রাণী রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনকারী এসব সদস্যের প্রত্যেককে দৈনিক ৩০০ টাকা করে ভাতা দেওয়া হয়।

কিন্তু গত পাঁচ মাস ধরে সেই ভাতাও বন্ধ রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন সদস্যরা। দায়িত্ব পালন করেও প্রাপ্য অর্থ না পাওয়ায় সংসারের খরচ, সন্তানদের লেখাপড়া এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কেনাসহ বিভিন্ন বিষয়ে তারা চরম সংকটে পড়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে বেতন-ভাতা বন্ধ থাকায় পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করতে হচ্ছে তাদের।

সূত্র আরও জানায়, ২০২৪ সালে সরকার পরিবর্তনের পরও আগের ব্যবস্থাপনা কমিটির মাধ্যমে সিপিজি সদস্য ও স্টাফদের বেতন-ভাতা প্রদানসহ বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছিল বলে জানা গেছে। তখন ওই কমিটির মাধ্যমে অর্থ ব্যয় করে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব হলেও বর্তমানে কেন বেতন-ভাতা ছাড় করা হচ্ছে না, তা নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, লাউয়াছড়া সহ ব্যবস্থাপনা কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ায় কয়েক মাসের বেতন আটকা পড়েছে। কিছু দিনের মধ্যে নতুন কমিটি আসবে। তারা টাকা পরিশোধ করবেন। নতুন অর্থবছর শুরু হওয়ায় কিছুটা বিলম্ব হয়েছে।

বন পাহারা ও বন্য প্রাণী সংরক্ষণে নিয়োজিত এসব সদস্যের বেতন-ভাতা দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় তাদের জীবিকা যেমন সংকটের মুখে পড়েছে, তেমনি বন পাহারার কার্যক্রমেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, দায়িত্ব পালনকারীদের সময়মতো ভাতা নিশ্চিত করা না হলে বন সংরক্ষণ কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

সিপিজি সদস্য বাবুল মিয়া বলেন, আকস্মিক এই সংকটে ধারদেনা করে সংসার চালাতে গিয়ে তারা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।

সদস্য সুনীল ও অরুন কাহার বলেন, বেতনের অভাবে দুর্গাপূজা অত্যন্ত কষ্টের মধ্য দিয়ে পার করতে হয়েছে। সামনের দিনগুলোতে কীভাবে চলবেন সেই দুশ্চিন্তায় তারা এখন বড় বিপাকে আছেন। তাই দ্রুত বকেয়া বেতন-ভাতা পরিশোধের জন্য তারা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

শ্রীমঙ্গল বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা কাজী নাজমুল ইসলাম বলেন, লাউয়াছড়া সহ ব্যবস্থাপনা কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ায় তাদের বেতন পেতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে। কিছু দিনের মধ্যে নতুন কমিটি আসবে। ইতোমধ্যে তাদের বেতন পরিশোধের জন্য প্রক্রিয়ায় আছে। অতীতেও কয়েক মাসের বেতন আটকা পড়েছিল পরে একসঙ্গে টাকা পরিশোধ করা হয়েছে।

বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. আবুল কালাম বলেন, লাউয়াছড়া সহ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি, কোষাধ্যক্ষ ও রেঞ্জ কর্মকর্তা তাদের বেতন দেন। হয়ত কিছুদিনের মধ্যে বেতন পরিশোধ করবেন সংশ্লিষ্ট কমিটি।

Tag :
About Author Information

Sirajul Islam

বিরোধী দলের বন্ধুরা সস্তা রাজনীতি করেন: স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী

পাঁচ মাস ধরে বেতন ভাতা বন্ধ, মানবেতর জীবনযাপন করছেন বন পাহারাদাররা

Update Time : 09:44:47 am, Saturday, 31 October 2026

তানভীর চৌধুরী : মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানসহ শ্রীমঙ্গল বন্য প্রাণী রেঞ্জের আওতাধীন তিনটি বন বিটের কর্মচারী ও কমিউনিটি পেট্রোলিং গ্রুপের (সিপিজি) সদস্যরা টানা পাঁচ মাস ধরে বেতন-ভাতা পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন বন পাহারার দায়িত্বে নিয়োজিত এসব সদস্য। এমনকি দুর্গাপূজা উপলক্ষেও হিন্দু ধর্মাবলম্বী সিপিজি সদস্যরা বেতন-ভাতা পাননি বলে অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

অভিযোগ রয়েছে, বন্য প্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. আবুল কালাম লাউয়াছড়ার ব্যবস্থাপনা কমিটিকে অবৈধ উল্লেখ করে সংশ্লিষ্ট অর্থ ছাড় করছেন না। এর ফলে সিপিজি সদস্য ও সংশ্লিষ্ট কর্মচারীরা দীর্ঘদিন ধরে তাদের প্রাপ্য বেতন-ভাতা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, শ্রীমঙ্গল বন্য প্রাণী রেঞ্জের আওতাধীন লাউয়াছড়া, কালাছড়া ও চাউতলী বন বিটে মোট ৪০ জন কমিউনিটি পেট্রোলিং গ্রুপের (সিপিজি) সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। তাদের মধ্যে ১০ জন নারী ও ৩০ জন পুরুষ। তারা রোস্টার অনুযায়ী দিনে ও রাতে বন পাহারা দেন। বন ও বন্য প্রাণী রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনকারী এসব সদস্যের প্রত্যেককে দৈনিক ৩০০ টাকা করে ভাতা দেওয়া হয়।

কিন্তু গত পাঁচ মাস ধরে সেই ভাতাও বন্ধ রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন সদস্যরা। দায়িত্ব পালন করেও প্রাপ্য অর্থ না পাওয়ায় সংসারের খরচ, সন্তানদের লেখাপড়া এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কেনাসহ বিভিন্ন বিষয়ে তারা চরম সংকটে পড়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে বেতন-ভাতা বন্ধ থাকায় পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করতে হচ্ছে তাদের।

সূত্র আরও জানায়, ২০২৪ সালে সরকার পরিবর্তনের পরও আগের ব্যবস্থাপনা কমিটির মাধ্যমে সিপিজি সদস্য ও স্টাফদের বেতন-ভাতা প্রদানসহ বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছিল বলে জানা গেছে। তখন ওই কমিটির মাধ্যমে অর্থ ব্যয় করে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব হলেও বর্তমানে কেন বেতন-ভাতা ছাড় করা হচ্ছে না, তা নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, লাউয়াছড়া সহ ব্যবস্থাপনা কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ায় কয়েক মাসের বেতন আটকা পড়েছে। কিছু দিনের মধ্যে নতুন কমিটি আসবে। তারা টাকা পরিশোধ করবেন। নতুন অর্থবছর শুরু হওয়ায় কিছুটা বিলম্ব হয়েছে।

বন পাহারা ও বন্য প্রাণী সংরক্ষণে নিয়োজিত এসব সদস্যের বেতন-ভাতা দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় তাদের জীবিকা যেমন সংকটের মুখে পড়েছে, তেমনি বন পাহারার কার্যক্রমেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, দায়িত্ব পালনকারীদের সময়মতো ভাতা নিশ্চিত করা না হলে বন সংরক্ষণ কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

সিপিজি সদস্য বাবুল মিয়া বলেন, আকস্মিক এই সংকটে ধারদেনা করে সংসার চালাতে গিয়ে তারা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।

সদস্য সুনীল ও অরুন কাহার বলেন, বেতনের অভাবে দুর্গাপূজা অত্যন্ত কষ্টের মধ্য দিয়ে পার করতে হয়েছে। সামনের দিনগুলোতে কীভাবে চলবেন সেই দুশ্চিন্তায় তারা এখন বড় বিপাকে আছেন। তাই দ্রুত বকেয়া বেতন-ভাতা পরিশোধের জন্য তারা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

শ্রীমঙ্গল বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা কাজী নাজমুল ইসলাম বলেন, লাউয়াছড়া সহ ব্যবস্থাপনা কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ায় তাদের বেতন পেতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে। কিছু দিনের মধ্যে নতুন কমিটি আসবে। ইতোমধ্যে তাদের বেতন পরিশোধের জন্য প্রক্রিয়ায় আছে। অতীতেও কয়েক মাসের বেতন আটকা পড়েছিল পরে একসঙ্গে টাকা পরিশোধ করা হয়েছে।

বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. আবুল কালাম বলেন, লাউয়াছড়া সহ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি, কোষাধ্যক্ষ ও রেঞ্জ কর্মকর্তা তাদের বেতন দেন। হয়ত কিছুদিনের মধ্যে বেতন পরিশোধ করবেন সংশ্লিষ্ট কমিটি।