4:09 pm, Saturday, 31 October 2026

শ্রীমঙ্গলে আইনি প্রক্রিয়ায় নিলামে কেনা জমির দখল নেওয়ার পাঁয়তারা ও অপপ্রচারের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

এহসান বিন মুজাহির :: মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে আদালতের নির্দেশে ব্যাংকের নিলামের মাধ্যমে কেনা সম্পত্তি দখলের পাঁয়তারা এবং অপপ্রচারের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন প্রকৃত ক্রেতা শেখ আহমদ আফজাল বর্ণভী।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই অভিযোগ তুলে ধরেন। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে শেখ আহমদ আফজাল জানান, শ্রীমঙ্গল উপজেলার ‘মেসার্স সম্রাট ফিলিং স্টেশন’-এর কাছে আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংক পিএলসি-এর বকেয়া পাওনা আদায়ের লক্ষ্যে মৌলভীবাজার অর্থঋণ আদালতে একটি মামলা (অর্থঋণ জারী মামলা নং-৩১/২০২১) দায়ের করা হয়েছিল।

আদালতের সম্পূর্ণ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে ২০২৩ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি সম্পত্তিটির প্রকাশ্য নিলাম অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত নিলামে সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে শেখ আহমদ আফজাল জমি ও তৎসংলগ্ন সম্পত্তি বৈধভাবে ক্রয় করেন। এর ধারাবাহিকতায় ২০২৩ সালের ১৮ মে মৌলভীবাজারের বিজ্ঞ অর্থঋণ আদালত তার অনুকূলে ‘জমি নিলামে বিক্রয়ের সার্টিফিকেট’ প্রদান করেন এবং একই সঙ্গে আদালত কর্তৃক সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে দলিল নং-৩৩৬৯/২৩ নিবন্ধনের প্রয়োজনীয় আদেশ দেন।

নিলামে ক্রয়কৃত সম্পত্তিটির বিবরণ অনুযায়ী—আলিশারকুল মৌজার জেএল নং- ৩৪, আরএস খতিয়ান নং- ১৪১৪, দাগ নং- ১৭৮৬-এর ৫৮ শতক জমি এবং ‘মেসার্স সম্রাট ফিলিং স্টেশন’ এর অন্তর্ভুক্ত। নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে নিলামে ক্রয়ের পর সরকারি সব নিয়ম মেনে তিনি জমিটির নামজারি ও অন্যান্য দাপ্তরিক কার্যক্রমও সম্পন্ন করেছেন।

সংবাদ সম্মেলনে শেখ আহমদ আফজাল ক্ষোভ প্রকাশ করে স্পষ্ট ভাষায় বলেন, আদালতের নির্দেশে শতভাগ আইনি প্রক্রিয়ায় জমি ক্রয় ও সরকারি নিয়মে নামজারি সম্পন্ন করার পরও একটি কুচক্রী ও স্বার্থান্বেষী মহল আদালতের রায় ও প্রচলিত আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে অবৈধভাবে সম্পত্তি দখলের পাঁয়তারা চালিয়ে যাচ্ছে এবং তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন মিথ্যা অপপ্রচার ছড়াচ্ছে।

তিনি দৃঢ়তার সাথে বলেন, “আমি কোনো অবৈধ উপায়ে বা বলপ্রয়োগের মাধ্যমে নয়, দেশের প্রচলিত আইন ও আদালতের প্রকাশ্য নিলামের মাধ্যমে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় এই সম্পত্তি কিনেছি।” এ সময় বিভ্রান্তিকর ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত তথ্যে কান না দিয়ে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের জন্য সংবাদকর্মীদের প্রতি অনুরোধ জানান তিনি। পাশাপাশি, আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে নিজ সম্পত্তির শান্তিপূর্ণ ভোগদখল বজায় রাখতে প্রশাসনের এবং সর্বমহলের সহযোগিতা কামনা করেন।

উল্লেখ্য, এর আগে গত বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) দুপুরে স্থানীয় বাগানবাড়ি রেস্টুরেন্টে জলিল মাহমুদ নামে এক ব্যক্তি সংবাদ সম্মেলন করে শেখ আহমদ আফজালের বিরুদ্ধে আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে স্থাপনা নির্মাণ ও নামজারি নেওয়ার মিথ্যা অভিযোগ তোলেন।

পাল্টা সংবাদ সম্মেলনে শেখ আহমদ আফজাল সেই ভিত্তিহীন অভিযোগ জোরালোভাবে অস্বীকার করে বলেন, একটি পক্ষ আদালতের রায় ও বৈধ কাগজপত্রকে আড়াল করতে ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছে।

Tag :
About Author Information

Sirajul Islam

বিরোধী দলের বন্ধুরা সস্তা রাজনীতি করেন: স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী

শ্রীমঙ্গলে আইনি প্রক্রিয়ায় নিলামে কেনা জমির দখল নেওয়ার পাঁয়তারা ও অপপ্রচারের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

Update Time : 09:51:15 am, Saturday, 31 October 2026

এহসান বিন মুজাহির :: মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে আদালতের নির্দেশে ব্যাংকের নিলামের মাধ্যমে কেনা সম্পত্তি দখলের পাঁয়তারা এবং অপপ্রচারের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন প্রকৃত ক্রেতা শেখ আহমদ আফজাল বর্ণভী।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই অভিযোগ তুলে ধরেন। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে শেখ আহমদ আফজাল জানান, শ্রীমঙ্গল উপজেলার ‘মেসার্স সম্রাট ফিলিং স্টেশন’-এর কাছে আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংক পিএলসি-এর বকেয়া পাওনা আদায়ের লক্ষ্যে মৌলভীবাজার অর্থঋণ আদালতে একটি মামলা (অর্থঋণ জারী মামলা নং-৩১/২০২১) দায়ের করা হয়েছিল।

আদালতের সম্পূর্ণ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে ২০২৩ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি সম্পত্তিটির প্রকাশ্য নিলাম অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত নিলামে সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে শেখ আহমদ আফজাল জমি ও তৎসংলগ্ন সম্পত্তি বৈধভাবে ক্রয় করেন। এর ধারাবাহিকতায় ২০২৩ সালের ১৮ মে মৌলভীবাজারের বিজ্ঞ অর্থঋণ আদালত তার অনুকূলে ‘জমি নিলামে বিক্রয়ের সার্টিফিকেট’ প্রদান করেন এবং একই সঙ্গে আদালত কর্তৃক সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে দলিল নং-৩৩৬৯/২৩ নিবন্ধনের প্রয়োজনীয় আদেশ দেন।

নিলামে ক্রয়কৃত সম্পত্তিটির বিবরণ অনুযায়ী—আলিশারকুল মৌজার জেএল নং- ৩৪, আরএস খতিয়ান নং- ১৪১৪, দাগ নং- ১৭৮৬-এর ৫৮ শতক জমি এবং ‘মেসার্স সম্রাট ফিলিং স্টেশন’ এর অন্তর্ভুক্ত। নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে নিলামে ক্রয়ের পর সরকারি সব নিয়ম মেনে তিনি জমিটির নামজারি ও অন্যান্য দাপ্তরিক কার্যক্রমও সম্পন্ন করেছেন।

সংবাদ সম্মেলনে শেখ আহমদ আফজাল ক্ষোভ প্রকাশ করে স্পষ্ট ভাষায় বলেন, আদালতের নির্দেশে শতভাগ আইনি প্রক্রিয়ায় জমি ক্রয় ও সরকারি নিয়মে নামজারি সম্পন্ন করার পরও একটি কুচক্রী ও স্বার্থান্বেষী মহল আদালতের রায় ও প্রচলিত আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে অবৈধভাবে সম্পত্তি দখলের পাঁয়তারা চালিয়ে যাচ্ছে এবং তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন মিথ্যা অপপ্রচার ছড়াচ্ছে।

তিনি দৃঢ়তার সাথে বলেন, “আমি কোনো অবৈধ উপায়ে বা বলপ্রয়োগের মাধ্যমে নয়, দেশের প্রচলিত আইন ও আদালতের প্রকাশ্য নিলামের মাধ্যমে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় এই সম্পত্তি কিনেছি।” এ সময় বিভ্রান্তিকর ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত তথ্যে কান না দিয়ে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের জন্য সংবাদকর্মীদের প্রতি অনুরোধ জানান তিনি। পাশাপাশি, আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে নিজ সম্পত্তির শান্তিপূর্ণ ভোগদখল বজায় রাখতে প্রশাসনের এবং সর্বমহলের সহযোগিতা কামনা করেন।

উল্লেখ্য, এর আগে গত বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) দুপুরে স্থানীয় বাগানবাড়ি রেস্টুরেন্টে জলিল মাহমুদ নামে এক ব্যক্তি সংবাদ সম্মেলন করে শেখ আহমদ আফজালের বিরুদ্ধে আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে স্থাপনা নির্মাণ ও নামজারি নেওয়ার মিথ্যা অভিযোগ তোলেন।

পাল্টা সংবাদ সম্মেলনে শেখ আহমদ আফজাল সেই ভিত্তিহীন অভিযোগ জোরালোভাবে অস্বীকার করে বলেন, একটি পক্ষ আদালতের রায় ও বৈধ কাগজপত্রকে আড়াল করতে ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছে।