5:04 pm, Thursday, 18 June 2026

ব্রিকসে বাংলাদেশের আবেদন কতটা সমর্থন করছে ভারত?

অনলাইন ডেস্ক: এই মুহূর্তে দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গে চলছে ‘ব্রিকস’ অর্থনৈতিক জোটের শীর্ষ সম্মেলন, যেখানে জোটের সম্প্রসারণ ইস্যুটি একটি প্রধান আলোচ্য বিষয় হিসেবে দেখা দিয়েছে।  আয়োজক দেশ দক্ষিণ  আফ্রিকার বিশেষ আমন্ত্রণে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত রাতেই (মঙ্গলবার) জোহানেসবার্গে গিয়ে পৌঁছেছেন। জোটের অন্যতম শরিক ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও সেখানেই রয়েছেন। কিন্তু ব্রিকসে বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তির প্রস্তাব নিয়ে ভারত ঠিক কী অবস্থান নিচ্ছে তা এখনও স্পষ্ট করা হয়নি। জোটের নতুন সদস্য হিসেবে বাংলাদেশের প্রার্থিতাকে ভারত সমর্থন করছে কিনা, সোমবার দিল্লিতে সাংবাদিক সম্মেলনেও ভারতের পররাষ্ট্র সচিব বিনয় মোহন কোয়াটরা এ প্রশ্নের জবাব এড়িয়ে গিয়েছেন।

তবে দিল্লিতে ভারতের একাধিক পর্যবেক্ষক ও পররাষ্ট্রনীতির বিশেষজ্ঞ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেছেন, ভারত যে বাংলাদেশের প্রার্থিতার বিরোধিতা করছে বিষয়টা মোটেও তেমন নয়। কিন্তু ব্রিকসের সম্প্রসারণের নামে চীন এই জোটে নিজেদের পাল্লাভারী করার চেষ্টা চালাচ্ছে– এই আশঙ্কাটাই ভারতকে কিছুটা সতর্ক ও সন্দিগ্ধ রেখেছে। অর্থাৎ, নতুন সদস্যদের নেওয়ার ক্ষেত্রে ভারত যে বেশ সাবধানে পা ফেলতে চাইছে সেটা ব্রিকসে যোগদানে ইচ্ছুক সব নতুন দেশের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য– বাংলাদেশের জন্য আলাদাভাবে কিছু নয়।

আনুষ্ঠানিকভাবেও ভারত গত সপ্তাহেই ঘোষণা করেছে, তারা মোটেই ব্রিকস সম্প্রসারণের বিরোধী নয়। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র অরিন্দম বাগচী বলেছেন, ‘বরং আমরা নতুন সদস্য নেওয়ার বিষয়টিকে খোলা মনে, ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গিতেই দেখছি। কিন্তু এই যোগদানের ক্রাইটেরিয়া বা মাপকাঠি কী হবে, সেটা নিয়ে আগে আলোচনা করা দরকার। দিল্লিতে স্ট্র্যাটেজিক থিংকট্যাংক অবজার্ভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনে (ওআরএফ) ফরেন পলিসি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক হর্ষ ভি পন্থও মনে করেন, ব্রিকসে ভারতের সমস্যাটা জোটের আর এক প্রতিষ্ঠাতা সদস্য চীনকে নিয়ে, বাংলাদেশকে নিয়ে নয়।

বাংলা ট্রিবিউনকে তিনি বলছিলেন, ‘চীন আসলে বেশ কিছুদিন ধরেই ব্রিকসকে একটা পাশ্চাত্যবিরোধী ওরিয়েন্টেশন দিতে চাইছে। ইউক্রেন যুদ্ধের জেরে পশ্চিমা বিশ্বের কাছে কোণঠাসা রাশিয়াও সেই সুরেই সুর মেলাচ্ছে। কিন্তু সঙ্গত কারণেই ভারত বা ব্রাজিলের পক্ষে তাতে তাল দেওয়া সম্ভব নয়। তাছাড়া ভারত নিজে কোয়াডের সদস্য (অস্ট্রেলিয়া, জাপান ও ভারত— এই চার দেশের নিরাপত্তা বিষয়ক জোট) সেটাও মনে রাখতে হবে। তাই দিল্লি দুটোর মধ্যে একটা ভারসাম্য রেখেই চলতে চেষ্টা করবে।’

দক্ষিণ আফ্রিকায় অবতরণের পর প্রধানমন্ত্রী হাসিনাকে স্বাগত জানান দেশটির সমবায় শাসন ও ঐতিহ্য বিষয়ক মন্ত্রী পার্ক টাউ এবং সেদেশে বাংলাদেশের হাইকমিশনার নূর-ই হেলাল সাইফুর রহমান

অধ্যাপক পন্থ আরও মনে করেন, ব্রিকস জোটে যাবতীয় সিদ্ধান্ত যেহেতু সদস্যদের ঐকমত্যের ভিত্তিতে হয়, তাই কোনও নতুন দেশের অন্তর্ভুক্তির প্রশ্নে বর্তমান পাঁচ সদস্য একমত না হলে তাদের নামে সিলমোহর পড়াটা কঠিন।  “এদিক থেকে আমি বলবো পাঁচটি দেশ নতুন সদস্য হওয়ার ক্ষেত্রে ‘ফ্রন্টরানার’, বা দৌড়ে এগিয়ে আছে – আর এগুলো হলো সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইন্দোনেশিয়া, মিশর ও আর্জেন্টিনা। বাংলাদেশ এখানে ঠিক এর পরের সারিতে আসবে বলেই আমার ধারণা” আরও জানাচ্ছেন তিনি।

দিল্লির আর একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠান রিসার্চ অ্যান্ড ইনফর্মেশন সিস্টেমের (আরআইএস) ফরেন ডেভেলপিং কান্ট্রিজের অধ্যাপক ও অর্থনীতিবিদ প্রবীর দে-র কিন্তু বলতে দ্বিধা নেই, ব্রিকসে বাংলাদেশের যোগদানের ইচ্ছা প্রকাশকে ভারত অবশ্যই স্বাগত জানাচ্ছে।

Tag :
About Author Information

Sirajul Islam

টেকসই কালচারাল ট্যুরিজম বিকাশে শ্রীমঙ্গলে তিন দিনব্যাপী ‘হারমোনি ফেস্টিভ্যাল’

ব্রিকসে বাংলাদেশের আবেদন কতটা সমর্থন করছে ভারত?

Update Time : 05:30:03 pm, Wednesday, 23 August 2023

অনলাইন ডেস্ক: এই মুহূর্তে দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গে চলছে ‘ব্রিকস’ অর্থনৈতিক জোটের শীর্ষ সম্মেলন, যেখানে জোটের সম্প্রসারণ ইস্যুটি একটি প্রধান আলোচ্য বিষয় হিসেবে দেখা দিয়েছে।  আয়োজক দেশ দক্ষিণ  আফ্রিকার বিশেষ আমন্ত্রণে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত রাতেই (মঙ্গলবার) জোহানেসবার্গে গিয়ে পৌঁছেছেন। জোটের অন্যতম শরিক ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও সেখানেই রয়েছেন। কিন্তু ব্রিকসে বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তির প্রস্তাব নিয়ে ভারত ঠিক কী অবস্থান নিচ্ছে তা এখনও স্পষ্ট করা হয়নি। জোটের নতুন সদস্য হিসেবে বাংলাদেশের প্রার্থিতাকে ভারত সমর্থন করছে কিনা, সোমবার দিল্লিতে সাংবাদিক সম্মেলনেও ভারতের পররাষ্ট্র সচিব বিনয় মোহন কোয়াটরা এ প্রশ্নের জবাব এড়িয়ে গিয়েছেন।

তবে দিল্লিতে ভারতের একাধিক পর্যবেক্ষক ও পররাষ্ট্রনীতির বিশেষজ্ঞ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেছেন, ভারত যে বাংলাদেশের প্রার্থিতার বিরোধিতা করছে বিষয়টা মোটেও তেমন নয়। কিন্তু ব্রিকসের সম্প্রসারণের নামে চীন এই জোটে নিজেদের পাল্লাভারী করার চেষ্টা চালাচ্ছে– এই আশঙ্কাটাই ভারতকে কিছুটা সতর্ক ও সন্দিগ্ধ রেখেছে। অর্থাৎ, নতুন সদস্যদের নেওয়ার ক্ষেত্রে ভারত যে বেশ সাবধানে পা ফেলতে চাইছে সেটা ব্রিকসে যোগদানে ইচ্ছুক সব নতুন দেশের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য– বাংলাদেশের জন্য আলাদাভাবে কিছু নয়।

আনুষ্ঠানিকভাবেও ভারত গত সপ্তাহেই ঘোষণা করেছে, তারা মোটেই ব্রিকস সম্প্রসারণের বিরোধী নয়। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র অরিন্দম বাগচী বলেছেন, ‘বরং আমরা নতুন সদস্য নেওয়ার বিষয়টিকে খোলা মনে, ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গিতেই দেখছি। কিন্তু এই যোগদানের ক্রাইটেরিয়া বা মাপকাঠি কী হবে, সেটা নিয়ে আগে আলোচনা করা দরকার। দিল্লিতে স্ট্র্যাটেজিক থিংকট্যাংক অবজার্ভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনে (ওআরএফ) ফরেন পলিসি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক হর্ষ ভি পন্থও মনে করেন, ব্রিকসে ভারতের সমস্যাটা জোটের আর এক প্রতিষ্ঠাতা সদস্য চীনকে নিয়ে, বাংলাদেশকে নিয়ে নয়।

বাংলা ট্রিবিউনকে তিনি বলছিলেন, ‘চীন আসলে বেশ কিছুদিন ধরেই ব্রিকসকে একটা পাশ্চাত্যবিরোধী ওরিয়েন্টেশন দিতে চাইছে। ইউক্রেন যুদ্ধের জেরে পশ্চিমা বিশ্বের কাছে কোণঠাসা রাশিয়াও সেই সুরেই সুর মেলাচ্ছে। কিন্তু সঙ্গত কারণেই ভারত বা ব্রাজিলের পক্ষে তাতে তাল দেওয়া সম্ভব নয়। তাছাড়া ভারত নিজে কোয়াডের সদস্য (অস্ট্রেলিয়া, জাপান ও ভারত— এই চার দেশের নিরাপত্তা বিষয়ক জোট) সেটাও মনে রাখতে হবে। তাই দিল্লি দুটোর মধ্যে একটা ভারসাম্য রেখেই চলতে চেষ্টা করবে।’

দক্ষিণ আফ্রিকায় অবতরণের পর প্রধানমন্ত্রী হাসিনাকে স্বাগত জানান দেশটির সমবায় শাসন ও ঐতিহ্য বিষয়ক মন্ত্রী পার্ক টাউ এবং সেদেশে বাংলাদেশের হাইকমিশনার নূর-ই হেলাল সাইফুর রহমান

অধ্যাপক পন্থ আরও মনে করেন, ব্রিকস জোটে যাবতীয় সিদ্ধান্ত যেহেতু সদস্যদের ঐকমত্যের ভিত্তিতে হয়, তাই কোনও নতুন দেশের অন্তর্ভুক্তির প্রশ্নে বর্তমান পাঁচ সদস্য একমত না হলে তাদের নামে সিলমোহর পড়াটা কঠিন।  “এদিক থেকে আমি বলবো পাঁচটি দেশ নতুন সদস্য হওয়ার ক্ষেত্রে ‘ফ্রন্টরানার’, বা দৌড়ে এগিয়ে আছে – আর এগুলো হলো সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইন্দোনেশিয়া, মিশর ও আর্জেন্টিনা। বাংলাদেশ এখানে ঠিক এর পরের সারিতে আসবে বলেই আমার ধারণা” আরও জানাচ্ছেন তিনি।

দিল্লির আর একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠান রিসার্চ অ্যান্ড ইনফর্মেশন সিস্টেমের (আরআইএস) ফরেন ডেভেলপিং কান্ট্রিজের অধ্যাপক ও অর্থনীতিবিদ প্রবীর দে-র কিন্তু বলতে দ্বিধা নেই, ব্রিকসে বাংলাদেশের যোগদানের ইচ্ছা প্রকাশকে ভারত অবশ্যই স্বাগত জানাচ্ছে।