8:58 am, Friday, 17 April 2026

বড়লেখার আফরোজার স্বপ্ন পূরণ, চান্স পেল রাবিতে

 

 

বড়লেখা প্রতিনিধি:খন্দকার আফরোজা তাবাসসুমের স্বপ্ন ছিল বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার। উচ্চ মাধ্যমিকে পড়া অবস্থায় সেই স্বপ্ন রীতিমতো ডানা মেলে। অবশেষ আফরোজার স্বপ্ন সত্যিই তাকে ধরা দিয়েছে।

মৌলভীবাজারের বড়লেখার নারীশিক্ষা একাডেমী ডিগ্রি কলেজের মেধাবী এই শিক্ষার্থী রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) ভর্তির সুযোগ পেয়েছে। আফরোজার সাফল্যে তার পরিবারের পাশাপাশি শিক্ষক ও সহপাঠীরা মহাখুশি।

গত ৬ জুন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষে ¯œাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষার ‘বি’ ইউনিটের ফলাফল প্রকাশিত হয়। এতে খন্দকার আফরোজা তাবাসসুম ইনস্টিটিউট অব বিজনেস অ্যাডমিনিসট্রেশনে (আইবিএ) ১৭০তম স্থান অর্জন করেছে। তার প্রাপ্ত নম্বর ৬৯.৭৫।

জানা গেছে, খন্দকার আফরোজা তাবাসসুম বড়লেখার দক্ষিণভাগ উত্তর ইউপির রুকনপুর গ্রামের খন্দকার ইসমাইল আলীর মেয়ে। পাঁচ ভাই-বোনের মধ্যে আফরোজা তৃতীয়। মেধাবী আফরোজা স্থানীয় প্রাথমিক বিদ্যালয়ে লেখাপড়ার পাঠ শেষে কাঠালতলী উচ্চ বিদ্যালয়ে ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি হন। সেখান থেকে জেএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হন। একই বিদ্যালয় থেকে তিনি বাণিজ্যে ৪.৮৯ পেয়ে এসএসসি পরীক্ষায় পাশ করে। পরে আফরোজা নারীশিক্ষা একাডেমী ডিগ্রি কলেজে ভর্তি হয়ে জিপিএ-৫ পেয়ে কৃতিত্বের সঙ্গে এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়। এরপর তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির প্রস্তুতি শুরু করে। স¤প্রতি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ব্যবসা অনুষদভুক্ত ‘বি’ ইউনিটে ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে আফরোজা। গত ৬ জুন ‘বি’ ইউনিটের ফলাফল প্রকাশিত হয়। এতে আফরোজা ইনস্টিটিউট অব বিজনেস অ্যাডমিনিসট্রেশনে (আইবিএ) ১৭০ তম স্থান অর্জন করেন।

সোমবার আলাপকালে খন্দকার আফরোজা তাবাসসুম বলেন, রাবিতে ভর্তির সুযোগ পেয়ে আমি সত্যিই খুবই খুশি। কারণ উচ্চমাধ্যমিকে পড়ার সময় থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার জন্য স্বপ্ন দেখতাম। আমার বিশ্বাস ছিল, ভালো কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ পাব। আমার সেই স্বপ্ন আজ পূরণ হয়েছে। তিনি বলেন, পরিবারের পাশাপাশি আমার কলেজের শিক্ষকরা আমাকে সবসময় অনুপ্রেরণা দিয়েছেন। শিক্ষকদের দিকনির্দেশনায় বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য নিয়মিত পড়াশোনা করেছি। এজন্য আজ রাবিতে ভর্তির সুযোগ পেয়েছি। তাই আমি আমার শিক্ষক ও পরিবারের কাছে চির কৃতজ্ঞ।

নারী শিক্ষা একাডেমী ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক মো. মোশারফ হোসেন সবুজ বলেন, একাগ্রতা, অধ্যবসায় আর পরিশ্রমের ফলে আফরোজা তাবাসসুম রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনে ১৭০তম স্থান অধিকার করেছে। আমাদের কাছে অনুপ্রেরণার আরেকটি উৎস হিসেবে আফরোজা নিজেকে যুক্ত করতে পারল। আফরোজাকে নিয়ে আমরা গর্বিত।

Tag :
About Author Information

Sirajul Islam

বড়লেখার আফরোজার স্বপ্ন পূরণ, চান্স পেল রাবিতে

Update Time : 02:01:18 pm, Monday, 12 June 2023

 

 

বড়লেখা প্রতিনিধি:খন্দকার আফরোজা তাবাসসুমের স্বপ্ন ছিল বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার। উচ্চ মাধ্যমিকে পড়া অবস্থায় সেই স্বপ্ন রীতিমতো ডানা মেলে। অবশেষ আফরোজার স্বপ্ন সত্যিই তাকে ধরা দিয়েছে।

মৌলভীবাজারের বড়লেখার নারীশিক্ষা একাডেমী ডিগ্রি কলেজের মেধাবী এই শিক্ষার্থী রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) ভর্তির সুযোগ পেয়েছে। আফরোজার সাফল্যে তার পরিবারের পাশাপাশি শিক্ষক ও সহপাঠীরা মহাখুশি।

গত ৬ জুন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষে ¯œাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষার ‘বি’ ইউনিটের ফলাফল প্রকাশিত হয়। এতে খন্দকার আফরোজা তাবাসসুম ইনস্টিটিউট অব বিজনেস অ্যাডমিনিসট্রেশনে (আইবিএ) ১৭০তম স্থান অর্জন করেছে। তার প্রাপ্ত নম্বর ৬৯.৭৫।

জানা গেছে, খন্দকার আফরোজা তাবাসসুম বড়লেখার দক্ষিণভাগ উত্তর ইউপির রুকনপুর গ্রামের খন্দকার ইসমাইল আলীর মেয়ে। পাঁচ ভাই-বোনের মধ্যে আফরোজা তৃতীয়। মেধাবী আফরোজা স্থানীয় প্রাথমিক বিদ্যালয়ে লেখাপড়ার পাঠ শেষে কাঠালতলী উচ্চ বিদ্যালয়ে ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি হন। সেখান থেকে জেএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হন। একই বিদ্যালয় থেকে তিনি বাণিজ্যে ৪.৮৯ পেয়ে এসএসসি পরীক্ষায় পাশ করে। পরে আফরোজা নারীশিক্ষা একাডেমী ডিগ্রি কলেজে ভর্তি হয়ে জিপিএ-৫ পেয়ে কৃতিত্বের সঙ্গে এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়। এরপর তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির প্রস্তুতি শুরু করে। স¤প্রতি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ব্যবসা অনুষদভুক্ত ‘বি’ ইউনিটে ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে আফরোজা। গত ৬ জুন ‘বি’ ইউনিটের ফলাফল প্রকাশিত হয়। এতে আফরোজা ইনস্টিটিউট অব বিজনেস অ্যাডমিনিসট্রেশনে (আইবিএ) ১৭০ তম স্থান অর্জন করেন।

সোমবার আলাপকালে খন্দকার আফরোজা তাবাসসুম বলেন, রাবিতে ভর্তির সুযোগ পেয়ে আমি সত্যিই খুবই খুশি। কারণ উচ্চমাধ্যমিকে পড়ার সময় থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার জন্য স্বপ্ন দেখতাম। আমার বিশ্বাস ছিল, ভালো কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ পাব। আমার সেই স্বপ্ন আজ পূরণ হয়েছে। তিনি বলেন, পরিবারের পাশাপাশি আমার কলেজের শিক্ষকরা আমাকে সবসময় অনুপ্রেরণা দিয়েছেন। শিক্ষকদের দিকনির্দেশনায় বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য নিয়মিত পড়াশোনা করেছি। এজন্য আজ রাবিতে ভর্তির সুযোগ পেয়েছি। তাই আমি আমার শিক্ষক ও পরিবারের কাছে চির কৃতজ্ঞ।

নারী শিক্ষা একাডেমী ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক মো. মোশারফ হোসেন সবুজ বলেন, একাগ্রতা, অধ্যবসায় আর পরিশ্রমের ফলে আফরোজা তাবাসসুম রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনে ১৭০তম স্থান অধিকার করেছে। আমাদের কাছে অনুপ্রেরণার আরেকটি উৎস হিসেবে আফরোজা নিজেকে যুক্ত করতে পারল। আফরোজাকে নিয়ে আমরা গর্বিত।