6:43 am, Saturday, 18 April 2026

ভারতের পার্লামেন্টে হামলার নেপথ্যে কারা?

ডেস্ক রিপোর্ট :: নয়াদিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, ভারতের পার্লামেন্টে বুধবারের (১৩ ডিসেম্বর) হামলাটি কয়েক মাস ধরে নিখুঁতভাবে পরিকল্পিত। পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ লোকসভার অধিবেশন চলাকালে নিরাপত্তাব্যবস্থা ভেদ করে হামলা চালান ছয় ব্যক্তি। এদের মধ্যে পাঁচজন এখন পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন। জিজ্ঞাসাবাদের সময় অভিযুক্তরা পুলিশকে জানিয়েছেন, বিভিন্ন জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করার লক্ষ্যে এই হামলা চালানো হয়।

তারা জানিয়েছে, দেশব্যাপী বেকারত্ব, কৃষকদের ভোগান্তি-দুর্দশা এবং মণিপুর সহিংসতায় সরকারের উদাসীনতায় তারা চরমভাবে মর্মাহত ও সংক্ষুব্ধ। তারা বলেন, দৃষ্টি আকর্ষণ করার জন্য হামলার সময় রঙিন ধোঁয়া ব্যবহার করা হয়েছে যাতে আইনপ্রণেতারা এই বিষয়গুলো নিয়ে অধিবেশনে আলোচনা করতে বাধ্য হন। তাদের সবার একই ধরনের মতাদর্শ রয়েছে এবং তা বাস্তবায়নে সরকারকে একটি কঠোর বার্তা দেয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

নিরাপত্তা সংস্থাগুলো যাচাই-বাছাই করতে চাইছে যে তারা (হামলাকারী) কোন বিশেষ ব্যক্তি বা সংগঠনের মদদে এমন হামলা চালিয়েছিল কী না। এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, দু’জন অনুপ্রবেশকারী লোকসভার অধিবেশন কক্ষে রঙিন ধোঁয়া ছেড়ে দিয়েছিল এবং বাকি দুজন পার্লামেন্ট ভবনের বাইরে একটি রঙের অ্যারোসল ক্যানিস্টার খুলে দিয়েছিলেন।

পুলিশ সদস্যরা তাদের ধরে নিয়ে যাওয়ার সময় এক প্রতিবাদকারী সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা কোন সংগঠনের সঙ্গে জড়িত নই। আমরা শিক্ষার্থী এবং আমরা বেকার। আমাদের বাবা-মা শ্রমিক, কৃষক, কেউ ছোট দোকানদার হিসেবে কাজ করেন। সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপ আমাদের কণ্ঠস্বর দমন করার জন্য চাপিয়ে দেয়া হয়েছে। আমরা এসবের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছি।

গতকাল নিরাপত্তা লঙ্ঘনের এই ঘটনার পরে পার্লামেন্টের চারপাশে এত সংখ্যক পুলিশ এবং আধাসামরিক বাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন করা হয় যে দেখে মনে হচ্ছে এটা যেনো একটি দুর্গে পরিণত হয়েছে। দিল্লি পুলিশের বিশেষ শাখাকে তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।

২২ বছর পর ফের ভারতের পার্লামেন্টে হামলার ঘটনা ঘটে। গতকাল শীতকালীন অধিবেশন চলাকালীন এই হামলা ২০০১ সালে পার্লামেন্টে জঙ্গি হামলার স্মৃতি মনে করিয়ে দেয়। অধিবেশন চলার সময় দর্শক গ্যালারি থেকে অধিবেশন কক্ষে লাফিয়ে পড়েন দুই যুবক। তাদের মুখে ছিল ‘স্বৈরতন্ত্র চলবে না’ এবং ‘জয় ভীম’ স্লোগান। তবে বড় কিছু অঘটনের আগেই সেখানকার নিরাপত্তারক্ষীরা তাদের আটক করেন। পরে তাদেরকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

পার্লামেন্টের ভিতরে-বাইরে রীতিমত চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। রেড এলার্ট জারি করা হয় পার্লামেন্ট চত্বরে। দিল্লি পুলিশ সূত্র প্রাথমিকভাবে আটক দুজনের পরিচয় প্রকাশ করে। একজনের নাম আমন শিন্ডে আর অপরজন হলেন নিলম সিনহা। তারা মহারাষ্ট্র ও হারিয়ানার বাসিন্দা।

প্রসঙ্গত গত বুধবারই ভারতের পার্লামেন্টে সেই হামলার ২২ বছর পূর্তি। ২০০১ সালে ১৩ ডিসেম্বর আচমকাই পুরোনো পার্লামেন্ট ভবনের নিরাপত্তা বেষ্টনী ভেঙে চত্বরে ঢুকে পড়ে পাঁচ সশস্ত্র ব্যক্তি। নিরাপত্তারক্ষীদের বাঁধায় সে সময় পার্লামেন্টের ভেতরে ঢুকতে না পারলেও চত্বরে নির্বিচারে গুলি চালায় তারা।

 

Tag :
About Author Information

Sirajul Islam

ভারতের পার্লামেন্টে হামলার নেপথ্যে কারা?

Update Time : 09:35:31 am, Thursday, 14 December 2023

ডেস্ক রিপোর্ট :: নয়াদিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, ভারতের পার্লামেন্টে বুধবারের (১৩ ডিসেম্বর) হামলাটি কয়েক মাস ধরে নিখুঁতভাবে পরিকল্পিত। পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ লোকসভার অধিবেশন চলাকালে নিরাপত্তাব্যবস্থা ভেদ করে হামলা চালান ছয় ব্যক্তি। এদের মধ্যে পাঁচজন এখন পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন। জিজ্ঞাসাবাদের সময় অভিযুক্তরা পুলিশকে জানিয়েছেন, বিভিন্ন জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করার লক্ষ্যে এই হামলা চালানো হয়।

তারা জানিয়েছে, দেশব্যাপী বেকারত্ব, কৃষকদের ভোগান্তি-দুর্দশা এবং মণিপুর সহিংসতায় সরকারের উদাসীনতায় তারা চরমভাবে মর্মাহত ও সংক্ষুব্ধ। তারা বলেন, দৃষ্টি আকর্ষণ করার জন্য হামলার সময় রঙিন ধোঁয়া ব্যবহার করা হয়েছে যাতে আইনপ্রণেতারা এই বিষয়গুলো নিয়ে অধিবেশনে আলোচনা করতে বাধ্য হন। তাদের সবার একই ধরনের মতাদর্শ রয়েছে এবং তা বাস্তবায়নে সরকারকে একটি কঠোর বার্তা দেয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

নিরাপত্তা সংস্থাগুলো যাচাই-বাছাই করতে চাইছে যে তারা (হামলাকারী) কোন বিশেষ ব্যক্তি বা সংগঠনের মদদে এমন হামলা চালিয়েছিল কী না। এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, দু’জন অনুপ্রবেশকারী লোকসভার অধিবেশন কক্ষে রঙিন ধোঁয়া ছেড়ে দিয়েছিল এবং বাকি দুজন পার্লামেন্ট ভবনের বাইরে একটি রঙের অ্যারোসল ক্যানিস্টার খুলে দিয়েছিলেন।

পুলিশ সদস্যরা তাদের ধরে নিয়ে যাওয়ার সময় এক প্রতিবাদকারী সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা কোন সংগঠনের সঙ্গে জড়িত নই। আমরা শিক্ষার্থী এবং আমরা বেকার। আমাদের বাবা-মা শ্রমিক, কৃষক, কেউ ছোট দোকানদার হিসেবে কাজ করেন। সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপ আমাদের কণ্ঠস্বর দমন করার জন্য চাপিয়ে দেয়া হয়েছে। আমরা এসবের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছি।

গতকাল নিরাপত্তা লঙ্ঘনের এই ঘটনার পরে পার্লামেন্টের চারপাশে এত সংখ্যক পুলিশ এবং আধাসামরিক বাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন করা হয় যে দেখে মনে হচ্ছে এটা যেনো একটি দুর্গে পরিণত হয়েছে। দিল্লি পুলিশের বিশেষ শাখাকে তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।

২২ বছর পর ফের ভারতের পার্লামেন্টে হামলার ঘটনা ঘটে। গতকাল শীতকালীন অধিবেশন চলাকালীন এই হামলা ২০০১ সালে পার্লামেন্টে জঙ্গি হামলার স্মৃতি মনে করিয়ে দেয়। অধিবেশন চলার সময় দর্শক গ্যালারি থেকে অধিবেশন কক্ষে লাফিয়ে পড়েন দুই যুবক। তাদের মুখে ছিল ‘স্বৈরতন্ত্র চলবে না’ এবং ‘জয় ভীম’ স্লোগান। তবে বড় কিছু অঘটনের আগেই সেখানকার নিরাপত্তারক্ষীরা তাদের আটক করেন। পরে তাদেরকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

পার্লামেন্টের ভিতরে-বাইরে রীতিমত চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। রেড এলার্ট জারি করা হয় পার্লামেন্ট চত্বরে। দিল্লি পুলিশ সূত্র প্রাথমিকভাবে আটক দুজনের পরিচয় প্রকাশ করে। একজনের নাম আমন শিন্ডে আর অপরজন হলেন নিলম সিনহা। তারা মহারাষ্ট্র ও হারিয়ানার বাসিন্দা।

প্রসঙ্গত গত বুধবারই ভারতের পার্লামেন্টে সেই হামলার ২২ বছর পূর্তি। ২০০১ সালে ১৩ ডিসেম্বর আচমকাই পুরোনো পার্লামেন্ট ভবনের নিরাপত্তা বেষ্টনী ভেঙে চত্বরে ঢুকে পড়ে পাঁচ সশস্ত্র ব্যক্তি। নিরাপত্তারক্ষীদের বাঁধায় সে সময় পার্লামেন্টের ভেতরে ঢুকতে না পারলেও চত্বরে নির্বিচারে গুলি চালায় তারা।