1:18 am, Friday, 22 May 2026

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাব বিশ্ব অর্থনীতিতে

ডেস্ক রিপোর্ট : রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব অর্থনীতিতে বিপর্যয় ডেকে আনতে শুরু করেছে। বাড়ছে জ্বালানি তেল ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য।

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব অর্থনীতির সঙ্গে সঙ্গে প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে দরিদ্র দেশগুলোতে। যুদ্ধের কারণে এই দুই দেশে পণ্য সরবরাহ স্বাভাবিক হতে সময় লাগবে আরও। এতে করে সংকট আরও জটিল হওয়ার আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

দুই দেশের যুদ্ধ, তবে এর প্রভাব এখন বিশ্বজুড়ে। ইউক্রেনের পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র জেফোরেশিয়ায় হামলার পর ধ্বস নেমেছে এশিয়ার পুঁজিবাজারগুলোতে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন বলছে, ইউরোপের সবচেয়ে বড় পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটিতে হামলার পর জাপানের নিক্কেই সূচক এবং হংকংয়ের হ্যাং সেং সূচক কমতির দিকে।

ইউক্রেনে রুশ আক্রমণের প্রভাব পড়েছে বিশ্বের আর্থিক ও জ্বালানি খাতে। কয়েক সপ্তাহ ধরেই জ্বালানি তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১২০ ডলারে উঠে যাওয়ার পর এশিয়ায়ও জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে। এ ছাড়া বিশ্ববাজারে বাড়তে শুরু করেছে প্রাকৃতিক গ্যাস ও কয়লার দাম।

ইউরোপের ৩৯ শতাংশ বিদ্যুৎ উৎপাদন হয় জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে, এর বড় উৎস রাশিয়ার তেল ও গ্যাস। ইউরোপ যদি বিকল্প জ্বালানির ব্যবহার বাড়ায় তাহলে রাশিয়া স্থায়ীভাবে কিছু বাজার হারাতে পারে। এতে দেশটিতে রুবলের দরপতন হবে, মূল্যস্ফীতি আরও বাড়বে আর সেই সঙ্গে কমবে জীবনযাত্রার মান বলছেন বিশেষজ্ঞরা।

এ ছাড়া বিশ্বের অন্যতম খাদ্য উৎপাদনকারী দেশ রাশিয়া ও ইউক্রেন। এসঅ্যান্ডটি গ্লোবালের তথ্যমতে, সূর্যমুখী তেল উৎপাদনে ইউক্রেন প্রথম ও রাশিয়া দ্বিতীয়। বিশ্বের ৬০ শতাংশ সূর্যমুখী তেলের উৎপাদনই এই দুই দেশে।

জেপি মরগানের হিসাব বলছে, বিশ্বের অন্তত ২৮ দশমিক ৯ শতাংশ গম উৎপাদন হয় ইউক্রেন-রাশিয়ায়। তবে রাশিয়ায় ওপর বিভিন্ন দেশের নিষেধাজ্ঞা ও ইউক্রেন রুশ হামলার কারণে পণ্য সরবরাহ আপাতত বন্ধ রয়েছে। ফলে বাড়তে শুরু করেছে গমের দাম।

বিশ্ব যখন আগে থেকেই মূল্যস্ফীতির সংকটে ছিল তখন এমন যুদ্ধ প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে দরিদ্র দেশগুলোতে, ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যম বিবিসিকে দেয়া সাক্ষাৎকারে একথা জানিয়েছেন বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট ডেভিড মালপাস। সহসায় পণ্য সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা না থাকায় ক্ষতি পুষিয়ে নিতেও সময় লাগবে বলেও জানান তিনি।

 

Tag :
About Author Information

Sirajul Islam

Popular Post

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে রক্তপাত বন্ধ করাই চ্যালেঞ্জ: সিইসি

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাব বিশ্ব অর্থনীতিতে

Update Time : 09:32:58 am, Saturday, 5 March 2022

ডেস্ক রিপোর্ট : রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব অর্থনীতিতে বিপর্যয় ডেকে আনতে শুরু করেছে। বাড়ছে জ্বালানি তেল ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য।

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব অর্থনীতির সঙ্গে সঙ্গে প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে দরিদ্র দেশগুলোতে। যুদ্ধের কারণে এই দুই দেশে পণ্য সরবরাহ স্বাভাবিক হতে সময় লাগবে আরও। এতে করে সংকট আরও জটিল হওয়ার আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

দুই দেশের যুদ্ধ, তবে এর প্রভাব এখন বিশ্বজুড়ে। ইউক্রেনের পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র জেফোরেশিয়ায় হামলার পর ধ্বস নেমেছে এশিয়ার পুঁজিবাজারগুলোতে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন বলছে, ইউরোপের সবচেয়ে বড় পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটিতে হামলার পর জাপানের নিক্কেই সূচক এবং হংকংয়ের হ্যাং সেং সূচক কমতির দিকে।

ইউক্রেনে রুশ আক্রমণের প্রভাব পড়েছে বিশ্বের আর্থিক ও জ্বালানি খাতে। কয়েক সপ্তাহ ধরেই জ্বালানি তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১২০ ডলারে উঠে যাওয়ার পর এশিয়ায়ও জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে। এ ছাড়া বিশ্ববাজারে বাড়তে শুরু করেছে প্রাকৃতিক গ্যাস ও কয়লার দাম।

ইউরোপের ৩৯ শতাংশ বিদ্যুৎ উৎপাদন হয় জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে, এর বড় উৎস রাশিয়ার তেল ও গ্যাস। ইউরোপ যদি বিকল্প জ্বালানির ব্যবহার বাড়ায় তাহলে রাশিয়া স্থায়ীভাবে কিছু বাজার হারাতে পারে। এতে দেশটিতে রুবলের দরপতন হবে, মূল্যস্ফীতি আরও বাড়বে আর সেই সঙ্গে কমবে জীবনযাত্রার মান বলছেন বিশেষজ্ঞরা।

এ ছাড়া বিশ্বের অন্যতম খাদ্য উৎপাদনকারী দেশ রাশিয়া ও ইউক্রেন। এসঅ্যান্ডটি গ্লোবালের তথ্যমতে, সূর্যমুখী তেল উৎপাদনে ইউক্রেন প্রথম ও রাশিয়া দ্বিতীয়। বিশ্বের ৬০ শতাংশ সূর্যমুখী তেলের উৎপাদনই এই দুই দেশে।

জেপি মরগানের হিসাব বলছে, বিশ্বের অন্তত ২৮ দশমিক ৯ শতাংশ গম উৎপাদন হয় ইউক্রেন-রাশিয়ায়। তবে রাশিয়ায় ওপর বিভিন্ন দেশের নিষেধাজ্ঞা ও ইউক্রেন রুশ হামলার কারণে পণ্য সরবরাহ আপাতত বন্ধ রয়েছে। ফলে বাড়তে শুরু করেছে গমের দাম।

বিশ্ব যখন আগে থেকেই মূল্যস্ফীতির সংকটে ছিল তখন এমন যুদ্ধ প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে দরিদ্র দেশগুলোতে, ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যম বিবিসিকে দেয়া সাক্ষাৎকারে একথা জানিয়েছেন বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট ডেভিড মালপাস। সহসায় পণ্য সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা না থাকায় ক্ষতি পুষিয়ে নিতেও সময় লাগবে বলেও জানান তিনি।