স্টাফ রিপোর্টার: মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার জয়চন্ডি ইউনিয়নের পুষাইনগর গ্রামে মিলন সূত্রধরের বাড়ীতে ও পুষাইনগর সিটিএস মন্দিরে হামলা ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। গত ২০ আগষ্ট বিকেলে ঘটনাটি ঘটে। হামলাকারীরা হিন্দু পরিবারের বাড়িতে লুটপাট করে এবং মন্দিরে ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করে । এ ঘটনায় গত ২২ আগষ্ট কুলাউড়া থানায় অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের মামলা রুজু করেছে পুলিশ এবং হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগে ৪ ব্যাক্তিকে আটক করেছে। বাকিদের ধরতে পুলিশের সাড়াশি অভিযান চলছে।
জানা যায়, কুলাউড়া থানার সাব ইন্সপেক্টর সুজন আহমদ বাদি হয়ে ১১ জনকে আসামী করে এ মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় ১১ জনকে অভিযুক্ত করে মামলা রুজু করা হলেও ২ জন নিরাপরাধ মানুষকে পুলিশ ফাঁসিয়েছে বলে এলাকাবাসী অভিযোগ করেছেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কুলাউড়া উপজেলা জয়চন্ডি ইউনিয়নের পুষাইনগর গ্রামের মিলন সুত্রধর নামক হিন্দু ব্যক্তির বাড়ি ও পুষাইনগর সিটিএস মন্দিরে গত ২০ আগষ্ট দিন দুপুরে ব্যাপক হামলা চালায় একদল সন্ত্রাসী বাহিনী। বিশেষ করে সন্ত্রাসী আব্দুল কাইয়ূম(৩০),রিয়াদ হাসান(২৭) ,মো:নাসির উদ্দিন(২২)শফিকুল ইসলাম(২৩),মো:মিজানুর রহমান(২৫), হাসান আহমদ(২২),মো:মনিরুল ইসলাম(২১),মো:শহীদুল ইসলাম(২৩) ও রাব্বি আহমেদ (২২) হিন্দুদের ধর্মীয় উপসনালয় মন্দিরে ব্যাপক ভাংচুর,লুটপাট এবং অগ্নিসংযোগ করে। এলাকার হিন্দুরা মন্দির রক্ষায় এগিয়ে এলে সন্ত্রাসীরা হিন্দুদের বাড়িঘরে ব্যাপক ভাংচুর করে। পরে এলাকাবাসী খবর দিলে পুলিশ আসার পূর্ব মুহুর্তে সন্ত্রাসীরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
পুলিশ জানায়, জয়চন্ডিতে হিন্দু পরিবারে লুটপাট ও মন্দিরে ভাংগচুরের অভিযোগে পুলিশ ১১ সন্ত্রাসীর বিরুদ্ধে কুলাউড়া থানায় একটি মামলা রুজু করেছে এবং জড়িত আসামীদের মধ্যে আব্দুল কাইয়ূম(৩০),রিয়াদ হাসান(২৭) ,মো:নাসির উদ্দিন(২২) ও শফিকুল ইসলাম(২৩) জনকে আটক করতে সক্ষম হলেও বাকি আসামীদের ধরতে পারেনি এখনও।
এদিকে পুলিশের দায়েরকৃত মন্দির ও হিন্দুদের বাড়িঘর ভাংচুরের মামলায় সম্পূর্ণ নাটক সাজিয়ে কুলাউড়া পৌর এলাকার বাসিন্দা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ওয়াহিদুজ্জামান টিটু(২৫) ও ছাত্রলীগ নেতা জুবায়ের হোসেন(২৪)কে মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে দিয়েছে পুলিশ। পুলিশ কর্তৃক রুজুকৃত মামলায় টিটুকে ৩ নং আসামী এবং জুবায়েরকে ৯ নং আসামী হিসাবে অর্ন্তভুক্ত করেছে।
এ ব্যাপারে আমাদের প্রতিনিধির বিভিন্ন অনুসন্ধানের ভিত্তিতে পারিবারিক ও প্রত্যক্ষদর্শীর কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহের মাধ্যমে জানা যায়, মামলার ৩ নং আসামী ওয়াহিদুজ্জামান টিটুর মাতা মোছাঃ রহিমা আক্তার জানান, আমার আমার ছেলে এসব ঘটনার সাথে জড়িত নয়। তাকে ষড়যন্ত্র করে অন্যায় ভাবে ফাঁসানো হয়েছে। পুলিশের ভয়ে টিটু এখন আত্মগোপনে রয়েছে। টিটুর চাচার সাথে আমাদের সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ চলছে। সেজন্য তার চাচাতো ভাই সোহান মিয়া পুলিশকে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে জয়চন্ডিতে হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়ি ও মন্দিরে যে হামলা ও ভাংগচুরের ঘটনা ঘটেছে সে মামলায় অন্যায়ভাবে আমার ছেলেকে ফাঁসিয়েছে। আমার ছেলের উপর মিথ্যে মামলা দিয়ে হয়রানি করছে। প্রতিনিয়ত পুলিশ আমার বাসা বাড়িতে হানা দিচ্ছে আমার ছেলেকে গ্রেফতার করার জন্য। আমাকে পুলিশ বিভিন্নভাবে হুমকি প্রদান করছে। আমিও কোনভাবে নিরাপদ বোধ করছি না। আমার ছেলে ছাত্রলীগের রাজনীতি করার অপরাধে এবং একজন সমাজকর্মী হিসাবে মানুষের কল্যানে কাজ করার পর পুলিশ আমার ভাসুরের ছেলে সোহানের সাথে আতাতক্রমে একটি জঘন্য মামলায় ফাঁসিয়ে হয়রানি করছে।
এদিকে মিথ্যা মামলার ৯ নং আসামী জুবায়ের হোসেনের পিতা সুহেল আহমেদ সাংবাদিকদের জানান, তার ছেলে ছাত্রলীগের রাজনীতির পাশাপাশি কুলাউড়া শহরে একটি কম্পিউটারের ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে। কয়েকমাস আগে ব্যবসায়িক বিষয় নিয়ে পাশের দোকানের এক ব্যক্তির সাথে সংঘর্ষ হয়। তখন ঐ ব্যবসায়ীর হামলায় আমার ছেলে জুবায়ের আহত হয়ে চিকিৎসাধিন ছিল।বিভিন্ন জায়গায় অভিযোগ দিয়েও বিচার পাইনি। উপরুন্ত ঐ ব্যবসায়ী আমার ছে়লেকে দমানোর অপকৌশল হিসাবে পুলিশকে মোটা অংকের টাকা দিয়ে অন্যায়ভাবে মন্দির ভাংচুরের মতো স্পৃর্শকাতর একটি মামলায় আসামী হিসাবে ঢুকিয়েছে। আমার ছেলে ষড়যন্ত্রের শিকার। আমি মিথ্যা মামলা থেকে আমার ছেলেকে অব্যাহতি দিতে প্রশাসনের কাছে জোর দাবী জানাচ্ছি ।
এব্যাপারে কুলাউড়া থানার সাব ইন্সপেক্টর সুজন আহমদ জানান,জয়চন্ডিতে হিন্দুদের বাড়িতে লুটপাট ও মন্দিরে ভাংচুরের ঘটনায় মাষ্টার মাইন্ড হলো ছাত্রলীগ নেতা টিটু ও জুবায়ের। টিটু ও জু্বায়েরসহ বাকি আসামীদের ধরতে পুলিশ বিশেষ অভিযান পরিচালনা করছে।
এব্যাপারে কুলাউড়া থানার ওসি গোলাম আফসার জানান, কুলাউড়ার জয়চন্ডিতে হিন্দুদের বাড়িঘর ও মন্দির ভাংচুর হয়েছে এটা দিবালোকের মতো সত্য ঘটনা। কিন্তু আমার পুলিশ যদি কারও দ্বারা প্রভাবিত হয়ে নিরীহ কাউকে জড়িত করে তাহলে আমরা বিষয়টি পুনরায় তদন্ত করব। বিনাদোষে কাউকে শাস্তির আওতায় আনা হবে না।
মৌলভীবাজারের পুলিশ সুপার এম কে এইচ জাহাঙ্গীর হোসেন (পিপিএম সেবা)বলেন, কুলাউড়ার হিন্দুদের মন্দিরে হামলার ঘটনায় কিছু মানুষকে অন্যায়ভাবে জড়ানো হয়েছে বলে অভিযোগ পেয়েছি। আমি উক্ত মামলাটির সকল নথি ও কার্যক্রম পর্যবেক্ষন করছি। আমার কাছে অন্যায় কিছু হবে না।

নিজস্ব প্রতিবেদক 

























