8:48 pm, Thursday, 21 May 2026

বিশ্বকাপের আগে হোটেল খাতের বড় সংকট এড়াল নিউইয়র্ক

ডেস্ক রিপোর্ট : ফিফা বিশ্বকাপের আগে বড় ধরনের শ্রমিক অসন্তোষ এড়াল নিউইয়র্কের হোটেল খাত। হোটেল মালিকপক্ষ ও শ্রমিক ইউনিয়নগুলোর মধ্যে আট বছরের নতুন শ্রমচুক্তি হয়েছে।

এতে প্রায় ২৫ হাজার কর্মী অন্তর্ভুক্ত থাকবেন।
বেতন, কাজের চাপ ও জনবলসংক্রান্ত ইস্যুতে সম্ভাব্য ধর্মঘটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল।

ধর্মঘট হলে বিশ্বকাপের আগে নিউইয়র্কে হোটেল খাতে বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা দিতে পারত। তবে নতুন চুক্তির ফলে আপাতত সেই ঝুঁকি কেটে গেছে।
নিউইয়র্ক সিটি হোটেল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও প্রধান নির্বাহী বিজয় দণ্ডপানি মঙ্গলবার জানান, কয়েক সপ্তাহের আলোচনার পর মালিকপক্ষের মধ্যে সামগ্রিকভাবে ইতিবাচক মনোভাব তৈরি হয়েছে। তবে এই চুক্তিতে শিল্প খাতকে উল্লেখযোগ্য ছাড় দিতে হয়েছে বলেও জানান তিনি।

দণ্ডপানি বলেন, ‘যেখান থেকে আলোচনা শুরু হয়েছিল, সেখান থেকে আমরা অনেক দূর এগিয়েছি।’

আগামী ১১ জুন থেকে ১৯ জুলাই পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে অনুষ্ঠিত হবে ফিফা বিশ্বকাপ। বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা কিংবা টুর্নামেন্ট আয়োজকরা এই আলোচনায় সরাসরি যুক্ত ছিল না। তবে বিশ্বকাপ ঘিরে বিপুলসংখ্যক সমর্থক যুক্তরাষ্ট্রে আসার সম্ভাবনা থাকায় বিষয়টির গুরুত্ব আরও বেড়ে যায়।

সম্ভাব্য ধর্মঘটের আগে শ্রমিক ইউনিয়নগুলোর প্রচারণায় দর্শনার্থীদের প্রভাবিত হোটেলগুলো এড়িয়ে চলার আহ্বান জানানো হয়েছিল। দণ্ডপানির ভাষায়, ধর্মঘটের আশঙ্কা ছিল ‘খুবই বাস্তব’। যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেস ও বোস্টনসহ কয়েকটি শহরে সাম্প্রতিক শ্রমিক আন্দোলনের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

চুক্তির আর্থিক দিক নিয়েও ব্যাখ্যা দিয়েছেন দণ্ডপানি। তিনি জানান, প্রায় ২ লাখ ডলারের যে অঙ্কটি আলোচনায় এসেছে, সেটি চুক্তির শুরুতে নয়; বরং চুক্তির মেয়াদ শেষে কর্মীদের ক্ষতিপূরণ বা পারিশ্রমিক কাঠামোর প্রতিফলন।

হোটেল মালিকরা আলোচনায় নেমেছিলেন মুনাফা ধরে রাখার লক্ষ্য নিয়ে। তাদের দাবি, নিউইয়র্কের হোটেল বাজার এখনো করোনা মহামারির ধাক্কা পুরোপুরি কাটিয়ে উঠতে পারেনি। ২০১৯ সালের তুলনায় এখনো দখল হার কম এবং মূল্যস্ফীতি সমন্বয় করলে কক্ষভাড়াও আগের পর্যায়ে ফেরেনি বলে জানান দণ্ডপানি।

এর পাশাপাশি আরও কয়েকটি চাপের কথাও উল্লেখ করেন তিনি। এর মধ্যে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের ইরান যুদ্ধ, শুল্কসংক্রান্ত জটিলতা এবং ভিসা ইস্যু।

নতুন চুক্তির আগে নিউইয়র্ক সিটিতে একটি প্রস্তাবিত ব্যবস্থা প্রত্যাহার করা হয়, যেটি নিয়ে হোটেল মালিকদের আপত্তি ছিল। তাদের দাবি ছিল, ওই ব্যবস্থা কার্যকর হলে রুম অ্যাটেনডেন্টদের কাজের সীমা নির্ধারণ এবং নির্দিষ্ট সীমার বাইরে দ্বিগুণ মজুরি দেওয়ার বাধ্যবাধকতায় শ্রম ব্যয় অনেক বেড়ে যেত।

হোটেল মালিকদের হিসাবে, ওই প্রস্তাব কার্যকর হলে মজুরি ব্যয় প্রায় ৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারত। যদিও নতুন শ্রমচুক্তির ফলেও ব্যয় বাড়বে, তবে পর্যটন চাহিদা ও বড় ইভেন্ট থেকে বাড়তি আয় দিয়ে তা সামাল দেওয়া যাবে বলে আশা করছেন অপারেটররা।

বিশ্বকাপ শুরুর আগে এই সমঝোতা নিউইয়র্কের হোটেল খাতের জন্য বড় স্বস্তি হয়ে এসেছে। এতে টুর্নামেন্ট ঘিরে শহরে আসা ফুটবলপ্রেমীদের আবাসন ব্যবস্থায় বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটার শঙ্কাও আপাতত কমল।

Tag :
About Author Information

Sirajul Islam

Popular Post

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে রক্তপাত বন্ধ করাই চ্যালেঞ্জ: সিইসি

বিশ্বকাপের আগে হোটেল খাতের বড় সংকট এড়াল নিউইয়র্ক

Update Time : 08:15:34 am, Thursday, 21 May 2026

ডেস্ক রিপোর্ট : ফিফা বিশ্বকাপের আগে বড় ধরনের শ্রমিক অসন্তোষ এড়াল নিউইয়র্কের হোটেল খাত। হোটেল মালিকপক্ষ ও শ্রমিক ইউনিয়নগুলোর মধ্যে আট বছরের নতুন শ্রমচুক্তি হয়েছে।

এতে প্রায় ২৫ হাজার কর্মী অন্তর্ভুক্ত থাকবেন।
বেতন, কাজের চাপ ও জনবলসংক্রান্ত ইস্যুতে সম্ভাব্য ধর্মঘটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল।

ধর্মঘট হলে বিশ্বকাপের আগে নিউইয়র্কে হোটেল খাতে বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা দিতে পারত। তবে নতুন চুক্তির ফলে আপাতত সেই ঝুঁকি কেটে গেছে।
নিউইয়র্ক সিটি হোটেল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও প্রধান নির্বাহী বিজয় দণ্ডপানি মঙ্গলবার জানান, কয়েক সপ্তাহের আলোচনার পর মালিকপক্ষের মধ্যে সামগ্রিকভাবে ইতিবাচক মনোভাব তৈরি হয়েছে। তবে এই চুক্তিতে শিল্প খাতকে উল্লেখযোগ্য ছাড় দিতে হয়েছে বলেও জানান তিনি।

দণ্ডপানি বলেন, ‘যেখান থেকে আলোচনা শুরু হয়েছিল, সেখান থেকে আমরা অনেক দূর এগিয়েছি।’

আগামী ১১ জুন থেকে ১৯ জুলাই পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে অনুষ্ঠিত হবে ফিফা বিশ্বকাপ। বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা কিংবা টুর্নামেন্ট আয়োজকরা এই আলোচনায় সরাসরি যুক্ত ছিল না। তবে বিশ্বকাপ ঘিরে বিপুলসংখ্যক সমর্থক যুক্তরাষ্ট্রে আসার সম্ভাবনা থাকায় বিষয়টির গুরুত্ব আরও বেড়ে যায়।

সম্ভাব্য ধর্মঘটের আগে শ্রমিক ইউনিয়নগুলোর প্রচারণায় দর্শনার্থীদের প্রভাবিত হোটেলগুলো এড়িয়ে চলার আহ্বান জানানো হয়েছিল। দণ্ডপানির ভাষায়, ধর্মঘটের আশঙ্কা ছিল ‘খুবই বাস্তব’। যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেস ও বোস্টনসহ কয়েকটি শহরে সাম্প্রতিক শ্রমিক আন্দোলনের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

চুক্তির আর্থিক দিক নিয়েও ব্যাখ্যা দিয়েছেন দণ্ডপানি। তিনি জানান, প্রায় ২ লাখ ডলারের যে অঙ্কটি আলোচনায় এসেছে, সেটি চুক্তির শুরুতে নয়; বরং চুক্তির মেয়াদ শেষে কর্মীদের ক্ষতিপূরণ বা পারিশ্রমিক কাঠামোর প্রতিফলন।

হোটেল মালিকরা আলোচনায় নেমেছিলেন মুনাফা ধরে রাখার লক্ষ্য নিয়ে। তাদের দাবি, নিউইয়র্কের হোটেল বাজার এখনো করোনা মহামারির ধাক্কা পুরোপুরি কাটিয়ে উঠতে পারেনি। ২০১৯ সালের তুলনায় এখনো দখল হার কম এবং মূল্যস্ফীতি সমন্বয় করলে কক্ষভাড়াও আগের পর্যায়ে ফেরেনি বলে জানান দণ্ডপানি।

এর পাশাপাশি আরও কয়েকটি চাপের কথাও উল্লেখ করেন তিনি। এর মধ্যে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের ইরান যুদ্ধ, শুল্কসংক্রান্ত জটিলতা এবং ভিসা ইস্যু।

নতুন চুক্তির আগে নিউইয়র্ক সিটিতে একটি প্রস্তাবিত ব্যবস্থা প্রত্যাহার করা হয়, যেটি নিয়ে হোটেল মালিকদের আপত্তি ছিল। তাদের দাবি ছিল, ওই ব্যবস্থা কার্যকর হলে রুম অ্যাটেনডেন্টদের কাজের সীমা নির্ধারণ এবং নির্দিষ্ট সীমার বাইরে দ্বিগুণ মজুরি দেওয়ার বাধ্যবাধকতায় শ্রম ব্যয় অনেক বেড়ে যেত।

হোটেল মালিকদের হিসাবে, ওই প্রস্তাব কার্যকর হলে মজুরি ব্যয় প্রায় ৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারত। যদিও নতুন শ্রমচুক্তির ফলেও ব্যয় বাড়বে, তবে পর্যটন চাহিদা ও বড় ইভেন্ট থেকে বাড়তি আয় দিয়ে তা সামাল দেওয়া যাবে বলে আশা করছেন অপারেটররা।

বিশ্বকাপ শুরুর আগে এই সমঝোতা নিউইয়র্কের হোটেল খাতের জন্য বড় স্বস্তি হয়ে এসেছে। এতে টুর্নামেন্ট ঘিরে শহরে আসা ফুটবলপ্রেমীদের আবাসন ব্যবস্থায় বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটার শঙ্কাও আপাতত কমল।