1. newsmkp@gmail.com : Admin : sk Sirajul Islam siraj siraj
  2. info@fxdailyinfo.com : admi2017 :
  3. admin@mkantho.com : Sk Sirajul Islam Siraj : Sk Sirajul Islam Siraj
  • E-paper
  • English Version
  • মঙ্গলবার, ০৯ অগাস্ট ২০২২, ০২:২৭ পূর্বাহ্ন

ব্রেকিং নিউজ :
* বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শনে সিলেটে প্রধানমন্ত্রী   *  বন্যা নিয়ে দুশ্চিন্তার কিছু নেই, সরকার সব ব্যবস্থা নিয়েছে : প্রধানমন্ত্রী

আওয়ামীলীগের ৭৩তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে অহংকার আর আত্মমর্যাদার প্রতীক পদ্মা সেতুর উদ্বোধন,একটি স্বপ্নের উন্মোচন – মকিস মনসুর

  • আপডেট টাইম : সোমবার, ২৭ জুন, ২০২২
  • ১১০ বার পঠিত

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ করার লক্ষ্যে বড় নদীগুলোর ওপর দিয়ে সেতু নির্মাণের স্বপ্ন দেখেছিলেন। সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে তারই সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০০১ সালের ৪ জুলাই বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় এবং দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলের মানুষের স্বপ্নের পদ্মা বহুমুখী সেতু প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। পরবর্তী সময়ে ২০১৫ সালে নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতুর নির্মাণ কাজ শুরু করার দূরদর্শী ও বলিষ্ঠ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন।
সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণে বজ্রকণ্ঠে উচ্চারিত- “সাত কোটি মানুষকে দাবায়ে রাখতে পারবা না’- এই চিরপ্রেরণার বাণীতে উজ্জীবিত হয়ে আমরা প্রমাণ করেছি আমাদের নিজস্ব সক্ষমতা।মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা,
।বাঙালির আত্মনির্ভরশীলতার পদ্মা সেতু নির্মাণের মধ্যদিয়ে পরবর্তী প্রজন্মের হৃদয়ে দুঃসাহসিক নেতৃত্বের বীজ বপন করেছেন৷।
পদ্মাসেতু আজ আর কল্পনা নয়, প্রচণ্ড বাস্তব। আর এই মহাযজ্ঞ সম্পন্ন হয়েছে শুধুমাত্র মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুকন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার সততা সাহসিকতা, দূরদর্শিতা,কঠোর সংকল্প, ও দৃঢ়তার ফলে এই পদ্মা সেতু নির্মাণে সমগ্র বিশ্বকে দেখিয়ে দিয়েছেন আমি পারি, আমরা পারি, বাঙালি পারে বাংলাদেশ পারে তার জলন্ত প্রমাণ আজকের পদ্মা সেতু।
বিশ্বকে অবাক করে বাঙালির স্বপ্নের পদ্মা সেতু নির্মিত হওয়ায় এদেশের মানুষ আজ মহাখুশি; সারা দেশ উৎসবে মেতেছে। বিশেষ করে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের আনন্দের যেন শেষ নেই। নিত্য দিনের কষ্ট ও দুর্ভোগ থেকে তারা রক্ষা পেয়েছে। এছাড়া সুন্দরবন, কুয়াকাটা, মংলা ও টুঙ্গিপাড়াসহ এ অঞ্চলের প্রতিটি জেলায় যাতায়াতে দেশবাসীর সময় ও ব্যয় সাস্রয়সহ ভ্রমণ সহজতর হয়েছে। কৃষি, মৎস্য ও পর্যটন সমৃদ্ধ দক্ষিণ- পশ্চিমাঞ্চলসহ দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে এ সেতু বিপ্লব ঘটাবে। নির্মাণশৈলী, নির্মাণ ব্যয় এবং বিশালতাসহ বিভিন্ন কারণে “অষ্টম আশ্চর্য্যে” এর খ্যাতি নিয়ে পদ্মা সেতু আজ বিশ্ববাসীর আকর্ষণের কেন্দ্র বিন্দুতে পরিণত হয়েছে ।

১৯৪৯ সালের ২৩ জুন পুরান ঢাকার বিখ্যাত রোজ গার্ডেনে
বাংলার মানুষের মুক্তি আর অধিকার আদায়ের জন্য গঠিত
উপমহাদেশের প্রাচীণতম এবং ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক দল
পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়েই রোপিত হয়েছিল বাঙালীর হাজার বছরের লালিত স্বপ্ন স্বাধীনতা সংগ্রামের বীজ।
বাঙালি জাতির আন্দোলন-সংগ্রামের গৌরবোজ্জ্বল ঐতিহ্যের ধারক ও বাহক বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের ৭৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর প্রারম্ভে যুক্ত হচ্ছে নতুন এক মাইলফলক,
সাবেক যোগাযোগ মন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেন,সাবেক সচিব মোশাররফ হোসেন ভূইয়া, এবং সাবেক অর্থ উপদেষ্টা মশিউর রহমান, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের ও অন্যান্য নেতৃবৃন্দ ও মন্ত্রীদেরকে সাথে নিয়ে মহা ধুমধামে শনিবার (২৫ জুন) গৌরবোজ্জ্বল আরেক ঐতিহাসিক দিন, হিসাবে প্রমত্তা পদ্মা নদীর উপর নির্মিত দেশের সর্ববৃহৎ “পদ্মা সেতু” “মাদার অব হিউম্যানিটি” মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্বোধনের মধ্যদিয়ে জয় বাংলা স্লোগানে পদ্মা সেতুতে নজিরবিহীন জনস্রোত স্বপ্নজয়ের বাধহীন উচ্ছ্বাস, ও আনন্দঘন পরিবেশে যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়ার মাধ্যমে গর্বের প্রতীক অবিস্মরণীয় স্বপ্ন জয়ের গল্প পদ্মাসেতুতে দাঁড়িয়ে জনতা প্রতিনিয়ত পূর্ণিমার চাঁদ দেখবে’ সাবাশ বাংলাদেশ,,পুরো বিশ্বের জন্যই এক বিস্ময়। জয় বাংলা স্লোগানে পদ্মা সেতুতে নজিরবিহীন জনস্রোত স্বপ্নজয়ের বাধহীন উচ্ছ্বাস,

শত বাধা বিপত্তি, দেশি বিদেশি চক্রান্ত, উপহাস, গুজব, প্রাকৃতিক ও ভৌগলিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে সত্যি হয়েছে কোটি মানুষের স্বপ্ন। পদ্মা সেতু শুধু একটি সেতুই নয়, এটি আমাদের উন্নয়ন ও অহংকারের প্রতীক। আত্মমর্যাদা, আত্মপরিচয়, যোগ্যতা—সর্বোপরি জাতির জনকের সুযোগ্যকন্যা রত্নের প্রত্যয়ের ফসল,
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ১৬ হাজার ৪০০ টাকা টোল প্রদান করে যাত্রা শুরু করেছেন বলে জানা গেছে। বহুল প্রতীক্ষার পদ্মা সেতুতে টোলের হার ইতোমধ্যে নির্ধারিত হয়েছে।
মিনিবাসে ১৪০০ টাকা, মাঝারি বাসে ২০০০ টাকা এবং বড় বাসে ২৪০০ টাকা টোল দিতে হবে। ছোট ট্রাকের টোল ১৬০০ টাকা, মাঝারি ট্রাকে ২১০০-২৮০০ টাকা, বড় ট্রাকে ৫৫০০ টাকা। পিকআপের টোল ১২০০ টাকা।
কার ও জিপের টোল ধরা হয়েছে ৭৫০ টাকা, মাইক্রোবাসে ১৩০০ টাকা। মোটরসাইকেল নিয়ে পদ্মা সেতু পার হতে চাইলে টোল দিতে হবে ১০০ টাকা।

১. পদ্মা সেতুর অফিশিয়াল নাম= “পদ্মা বহুমুখী সেতু।” (The Padma Multipurpose Bridge)
২. পদ্মা সেতুর প্রকল্পের নাম= “পদ্মা বহুমুখী সেতু প্রকল্প।” (The Padma Multipurpose Bridge Project)
৩. বিশ্ব ব্যাংকের সাথে ঋণচুক্তি হয় ২৮ এপ্রিল ২০১১ সালে (১২০ কোটি মার্কিন ডলার)
৪. বিশ্বব্যাংক চুক্তি বাতিল করে ৩০ জুন ২০১২ সালে।
৫. পদ্মা সেতুর কাজ শুরু হয় ২০১৪ সালের ৭ ডিসেম্বর। (চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় ১৭ জুন ২০১৪)
৬. পদ্মা সেতু প্রকল্পের পরিচালক মোঃ শফিকুল ইসলাম।
৭. পদ্মা সেতু সংযোগকারী স্থান মুন্সীগঞ্জের মাওয়ায় এবং শরীয়তপুরের জাজিরা প্রান্ত।( পদ্মা সেতুর অবস্থান ০৩ টি জেলায়-মুন্সিগঞ্জ মাদারীপুর শরীয়তপুর)
৮. পদ্মা সেতু সংযোগ স্থাপন করবে ২৯ টি জেলার সাথে। দক্ষিণ ও দক্ষিণ পশ্চিমের ২১ জেলার সাথে।
৯. পদ্মা সেতু নির্মাণে চুক্তিবদ্ধ কোম্পানির নাম চায়না রেলওয়ে গ্রুপ লিমিটেড এর আওতাধীন চায়না মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন কোম্পানি লিমিটেড।
১০. পদ্মা সেতুতে থাকবে গ্যাস-বিদ্যুৎ অপটিক্যাল ফাইবার সংযোগ পরিবহন সুবিধা।
১১. পদ্মা সেতুর সংযোগ সড়ক ১৪ কিলোমিটার।
১২. পদ্মাসেতু প্রকল্পে নদীশাসন হয়েছে দুই পাড়ে ১২ কিলোমিটার।
১৩. পদ্মা সেতুর নদী শাসনের কাজ পায় চীনের সিনোহাইড্রো কর্পোরেশন।
১৪. পদ্মা সেতুর নকশা করেন= AECOM ( Architecture, Engineering, Consulting, Operation and Maintenance)
১৫. পদ্মা সেতুর পাইল সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দেয় কাউই (COWI)
১৬. পদ্মা সেতুর তদারকির দায়িত্বে রয়েছে কোরিয়ান এক্সপ্রেসওয়ে এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনী।
১৭. পদ্মা সেতু দ্বিতলবিশিষ্ট, কংক্রিট এবং স্টিলের তৈরি ( যা বিশ্বে প্রথম)
১৮. পদ্মা সেতুর দৈর্ঘ্য ৬.১৫ কিলোমিটার (২০২০০ ফুট)
১৯. পদ্মা সেতুর মোট দৈর্ঘ্য ৯.৩০ কিলোমিটার ( ৩.১৫ কিলোমিটার সংযোগ সড়ক)
২০. পদ্মা সেতুর প্রস্থ ১৮.১০ মিটার (৫৯.৪ ফুট, ৭২ ফুটের চার লেনের সড়ক)
২১. পিলার ৪২ টি। (প্রতিটি পিলারের জন্য পাইলিং ৬ টি, তবে মাটি জটিলতার কারণে ২২ টি পিলারের পাইলিং হয়েছে ০৭টি করে, মোট পাইলিং ২৮৬ টি, পাইলিং এর গভীরতা ৩৮৩ ফুট।)
২২. স্প্যান ৪১ টি। (প্রতিটি ১৫০ মিটার)
২৩. প্রতিটি স্প্যানের ওজন ৩২০০ টন। স্প্যান বহনকারী জাহাজ তিয়ান-ই। (ধারণক্ষমতা ৩৬০০ টন)
২৪. প্রথম স্প্যান বসানো হয় ২০১৭ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর (৩৭ ও ৩৮ নম্বর পিলারের উপর)
২৫. ৪১ তম অর্থাৎ শেষ স্প্যান বসানো হয় ২০২০ সালের ১০ ডিসেম্বর ( বিশ্ব মানবাধিকার দিবস) (১২ ও ১৩ নম্বর পিলারের উপর দুপুর ১২.০২ মিনিটে)
২৬. ৪১ টি স্প্যান বসাতে সময় লাগে ৩ বছর ২ মাস ১০ দশ দিন।
২৭. পদ্মা সেতুতে রেল লাইন স্থাপন হবে নিচতলায় অর্থাৎ স্প্যানের মধ্য দিয়ে। ( মিটারগেজ ও ব্রডগেজ এক‌ই ‌‌ সময় যেকোনো একটি ট্রেন চলাচল করতে পারবে)
২৮. পদ্মা সেতুর ভায়াডাক্ট ৩.১৮ কিলোমিটার।
২৯. পদ্মা সেতুর ভায়াডাক্ট পিলার ৮১ টি।
৩০. ভূমিকম্প সহনশীল মাত্রা ৯ রিখটার স্কেল।
৩১. পদ্মা সেতুর স্থানাঙ্ক ২৩.৪৪৬০ ডিগ্রী (উত্তর), ৯০.২৬২৩ ডিগ্রি (পূর্ব)।
৩২. পানির স্তর থেকে পদ্মা সেতুর উচ্চতা ৬০ ফুট ( ১৮ মিটার)
৩৩. পদ্মা সেতুর কাছাকাছি সামরিক সেনানিবাস= পদ্মা সেনানিবাস।
৩৪. পদ্মা সেতুর কাছাকাছি থানা (২টি)= পদ্মা সেতু উত্তর, পদ্মা সেতু দক্ষিণ।
৩৫. দীর্ঘতম সড়ক সেতু পদ্মা সেতু ( পূর্বে ছিল যমুনা সেতু ৪.৮ কিলোমিটার, পিলার ৫০ টি, স্প্যান ৪৯ টি)
৩৬. পদ্মা সেতু, নদীর উপর নির্মিত বিশ্বের প্রথম দীর্ঘতম সেতু।
৩৭. পদ্মা সেতু, বিশ্বের ১১তম দীর্ঘ সেতু।
৩৮. বৃহতম সড়ক সেতুর তালিকায় ২৫ তম (এশিয়ায় ২য়)
৩৯. পদ্মা সেতুর শেপ হবে “S” আকৃতির।
৪০. পদ্মা সেতু নির্মাণের কাজ করেছে প্রায় ৪ হাজার মানুষ।
৪১. পদ্মা সেতুর প্রয়োজনে ৯১৮ হেক্টর জমি অধিগ্রহণ করা হয়।
৪২. পদ্মা সেতুতে মোট ব্যয় ৩০ হাজার ১৯৩ কোটি টাকা।
৪৩. টোল আদায় করে ব্যয় উঠাতে সময় লাগবে ৩৫ বছর।
৪৪. আয়ুষ্কাল ধরা হয়েছে ১০০ বছর।
৪৫. জিডিপি বৃদ্ধি পাবে ১.২৩ শতাংশ
৪৬. পদ্মা সেতু রক্ষণাবেক্ষণ করবে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ (BBA=The Bangladesh Bridge Authority)
৪৭. পদ্মা সেতুর ওয়েবসাইট এড্রেস= www.padmabridge.gov.bd
৪৮.পদ্মা সেতুতে মানুষের মাথা লাগবে এই গুজব উঠে জুলাই, ২০১৯।
৪৯. সেতু উদ্বোধন ২৫ জুন ২০২২। (বাংলা=১১ আষাঢ়, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ) ( আরবি= ২৫ জিলকদ, ১৪৪৪ হিজরি)
চ্যালেঞ্জিং ‘পদ্মা বহুমুখী সেতু নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়নে নিয়োজিত সর্বস্তরের দেশি-বিদেশি প্রকৌশলী, পরামর্শক, কর্মকর্তা-কর্মচারী, নিরাপত্তা তদারকিতে নিয়োজিত সেনাবাহিনী ও নির্মাণ শ্রমিকসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে তাদের অবদান ও অক্লান্ত পরিশ্রমের জন্য অভিবাদন জানাই। সেতুর দুই প্রান্তের জনগণ জমি প্রদানের মাধ্যমে এবং নানাভাবে প্রকল্প বাস্তবায়নে সহায়তা করায় তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। পদ্মা সেতু উদ্বোধনের এ মাহেন্দ্রক্ষণে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও দেশবাসীকে প্রবাস থেকে আজকের লেখার মাধ্যমে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাচ্ছি।
মাওয়ায় পদ্মা সেতুর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, পদ্মা সেতু আমাদের গর্ব, অহঙ্কার, সক্ষমতা ও মর্যাদার প্রতীক। অনেক বাধা-বিপত্তি উপেক্ষা করে আর ষড়যন্ত্রের জাল ছিন্ন করে প্রমত্তা পদ্মার বুকে আজ বহু-কাঙ্ক্ষিত সেতু দাঁড়িয়ে গেছে।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, এই সেতু বাংলাদেশের জনগণের। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে আমাদের আবেগ, আমাদের সৃজনশীলতা, আমাদের সাহসিকতা, সহনশীলতা আর জেদ।
পদ্মা সেতু নির্মাণের সময় যাদের বাড়িঘর ও জমিজমা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তাদের কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, পদ্মা সেতুর দুই প্রান্তের অধিবাসীদের যাদের জমিজমা ও বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাঁদের এই ত্যাগ ও সহযোগিতা জাতি চিরদিন স্মরণ রাখবে।
আজকে পদ্মা সেতু উদ্বোধনকালে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা আরেকটি মূল্যবান কথা বলেছেন। তিনি বলেছেন যারা নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণের বিপক্ষে কথা বলেছিলেন তাদের প্রতি তাঁর কোনো অভিযোগ নেই। তাঁর বিশ্বাস, তারা হয়তো আত্মবিশ্বাসের অভাব ও মননের দৈন্যতা থেকেই তা করেছিল। তবে তিনি আশা করেন এই লোকগুলো হয়তো এখন তাদের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন ঘটাবে এবং মানসিক দৈন্যতার উর্ধে উঠে আত্মবিশ্বাস বাড়াবে।”এই সেতু শুধু সেতু নয়, ইট, সিমেন্ট, কংক্রিটের স্থাপনা নয়, এই সেতু আমাদের অহংকার, আমাদের গর্ব, এই সেতু আমাদের শক্তিমত্তা আর মর্যাদার প্রতীক।”
বিশ্বব্যাংক পদ্মা বহুমুখী সেতু নির্মাণ প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ এনে মামলা করে। কানাডা আদালত বিশ্বব্যাংক উত্থাপিত সকল অভিযোগ মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন বলে রায় দেয়। সকল দুর্নীতির অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হয় আমরা ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের ঋণ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করি। বাংলাদেশ নিজস্ব অর্থায়নে সেতু নির্মাণের ঘোষণা দিলে জনগণের কাছ থেকে বিপুল সমর্থন পাই। জনতার শক্তি হৃদয়ে ধারণ করে সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়নে আজ আমরা স্বপ্নের পদ্মা সেতুর নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করেছি। দুর্নীতিমুক্ত বীরের জাতি হিসেবে বাঙালি নিজেদের বিশ্বের বুকে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে কাঠাঁলবাড়ি ঘাটে শিবচরে আয়োজিত জনসভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, বাবা-মা ভাই সবাইকে হারিয়ে আমি আপনাদের পেয়েছি। আপনাদের মধ্যেই আমি পেয়েছি বাবা ও মায়ের স্নেহ। আপনাদের জীবন পরিবর্তনে আমি যেকোনো ত্যাগ স্বীকার করতে প্রস্তুত। আপনাদের জন্য প্রয়োজনে আমি আমার জীবনও দিয়ে দেবো।
এদিকে বিএনপির চেয়ারপাসন বেগম খালেদা জিয়া পদ্মা সেতুর ভিত্তি স্থাপন করেছেন বিএনপির মহাসচিব ‘ মির্জা ফখরুল সাহেব এর মিথ্যাচারের তীব্র নিন্দার ঝড় উঠেছে দেশে বিদেশে, খালেদা জিয়া পদ্মা সেতুর ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেনি, বরং ক্ষমতায় এসে শেখ হাসিনা যে উদ্যোগ নিয়েছিলেন তা বাতিল করে দেন।
গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সাহসী সিদ্ধান্ত নিয়ে জাতিকে পদ্মা সেতু উপহার দিয়েছেন। জাতি এতে গৌরবান্বিত। প্রধানমন্ত্রী প্রজ্ঞার পরিচয় দিয়েছেন, যেমনটা তার বাবা প্রজ্ঞার পরিচয় দিয়েছিলেন ৭ মার্চে।
পদ্মা সেতুর উদ্বোধন উপলক্ষে মাওয়া প্রান্তে আয়োজিত সুধী সমাবেশে অংশ নেয়ার সময় জাফরুল্লাহ চৌধুরী সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।

শনিবার (২৫ জুন) সকাল ১০টায় সমাবেশে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এতে আমন্ত্রিত ছিলেন দেশের সাড়ে তিন হাজার বিশিষ্টজন। ছিলেন মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, কূটনীতিক, সমাজের নানা পেশার বিশিষ্ট নাগরিকেরা। জাফরুল্লাহ চৌধুরীও অতিথিদের একজন ছিলেন।

জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ‘সবাই বলেছিল, এই সেতুর নাম হাসিনা সেতু করতে। উনি করেননি। পদ্মা সেতু নাম রেখেছেন। ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করেছেন। ইতিহাসে অনেক কিছু দেখেছি। মুক্তিযুদ্ধ দেখেছি। এবার পদ্মা সেতুর উদ্বোধন দেখলাম।’
আসুন, পদ্মা সেতুর ভিত্তি স্থাপনের আগে-পরের ইতিহাস জেনে নিই।
১৯৯৬ সালের ১২ জুন অনুষ্ঠিত ৭ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ বিজয়ী হয়ে শেখ হাসিনা ২৩ জুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী তিনি ১৯৯৮ সালে পদ্মা সেতু নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করেন। ১৯৯৯ সালে সেতু নির্মাণের প্রাক সম্ভাব্যতা যাচাই শুরু হয়। সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের পর ২০০১ সালের জুন মাসে জাপান সরকারের সাথে পদ্মা সেতু নির্মাণের সমীক্ষাচুক্তি স্বাক্ষর করে শেখ হাসিনার সরকার। আর ওই সালের ৪ জুলাই তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মাওয়ায় পদ্মা সেতুর ভিত্তি স্থাপন করেন।
২০০১ সালের ১ অক্টোবর অনুষ্ঠিত অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসে বিএনপি-জামায়াতের জোট সরকার। খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী হলেন আর পদ্মা সেতু নির্মাণের উদ্যোগেও ভাটা পড়ল। জাপানের আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা জাইকা ২০০৫ সালে সেতু নির্মাণের সমীক্ষা প্রতিবেদন প্রদান করে। এর পর ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর পর্যন্ত প্রায় দুই বছর খালেদা জিয়া ক্ষমতায় ছিলেন। কিন্তু পদ্মা সেতুর বিষয়টি ফাইলবন্দি হয়ে পড়ে থাকে।
২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি ক্ষমতায় আসে সেনা-সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার। প্রধান উপদেষ্টা ড. ফখরুদ্দিন আহমদের নেতৃত্বাধীন এই সরকার পদ্মা সেতু নির্মাণের ফাইল খুঁজে বের করে। ২০০৭ সালের ৭ আগস্ট অনুষ্ঠিত একনেকের সভায় পদ্মা সেতু প্রকল্প অনুমোদন করে বরাদ্দ করা হয় ১০ হাজার ১৬১ কোটি টাকা। সে সরকার এ টুকুই করে।
২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত ৯ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে শেখ হাসিনা ২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারি দ্বিতীয়বার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। তার সরকার ক্ষমতা গ্রহণের ১৩ দিনের মধ্যে পদ্মা সেতুর নকশা প্রণয়নের জন্য ১৯ জানুয়ারি যুক্তরাজ্যের ফেবার মেনসেল লিমিটেড কোম্পানির সাথে চুক্তি সম্পাদন করে।
এই প্রতিষ্ঠানটি রেলপথ সংযুক্ত করে ১৮ মাসে পদ্মা সেতুর ডিজাইন ও আনুষঙ্গিক কাজ করে দেয়। সেতুর নির্মাণ কাজ তদারকি ও পরামর্শের জন্য সরকার এসময় দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞ নিয়ে ১১ জনের এক্সপার্ট প্যানেল গঠন করে। এই প্যানেলের প্রধান ছিলেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিমান প্রকৌশলী অধ্যাপক ড. জামিলুর রেজা চৌধুরী।
পদ্মা সেতু নির্মাণে অর্থায়নে বিশ্বব্যাংক ও অন্যান্য দাতা সংস্থা সরে যাওয়ার পর শেখ হাসিনার সরকার ২০১৩ সালে নিজস্ব অর্থায়নে সেতু নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১৫ সালের ১২ ডিসেম্বর পদ্মা সেতুর মূল অবকাঠামোর কাজ উদ্বোধন করেন।
এখানে উল্লেখ্ করা প্রয়োজন, পদ্মা সেতু ছিলো প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বপ্নের একটি প্রকল্প। পদ্মা সেতু ছিলো বাংলাদেশের ১৬ কোটি মানুষের স্বপ্ন। আজ থেকে ২৫ বছর আগের,বহুল প্রতীক্ষিত সেই স্বপ্নের পদ্মাসেতু জাতীয়-আন্তর্জাতিক অনেক বাধা, ঘাত-প্রতিঘাত, প্রতিবন্ধকতা ও দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে নির্মিত পদ্মাসেতু এ
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্বোধনের মাধ্যমে জনগণের চলাচলের জন্য উন্মুক্ত হতে চলেছে, যার ফলে বিশ্বব্যাপী আজ প্রমাণিত বাংলাদেশের মানুষ এখন শুধু স্বপ্ন দেখে না। বাস্তবতার জয়গান গায়।
“মাদার অব হিউম্যানিটি’ মানণীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আবার ও অভিনন্দন জানাতে চাই,যার সততা, সাহসিকতা, দূরদর্শিতায় ও দৃঢ়তার ফলে বাঙ্গালীর আত্মমর্যাদা,আত্মবিশ্বাস ও বিজয়ের গর্বের প্রতীক দীর্ঘতম পদ্মা সেতুতে আজ বাস্তবে পরিণত হওয়ায় বিশ্বময় বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করেছে এবং জাতির আস্থাকে ত্বরান্বিত করেছে।
পদ্মা সেতু শুধু একটি সেতুই নয়, এটি আমাদের উন্নয়ন, অহংকারের প্রতীক। আত্মমর্যাদা, আত্মপরিচয়, স্বপ্নের সেতু আজ দৃশ্যমান, বঙ্গবন্ধু কন্যার অদম্য সাহসিকতার অবদান, জয়তু দেশরত্ন শেখ হাসিনা,
নিজেদের টাকায় পদ্মা সেতু করার মাধ্যমে বিদেশি নির্ভরশীলতা থেকে বেরিয়ে এসে কোনো কাজ করা সম্ভব সেটাও বাংলাদেশ প্রমাণ করেছে। যারা মনে করেন বিদেশিদের ছাড়া চলে না নিজেদের টাকায় পদ্মা সেতু করে শেখ হাসিনা তাদেরকে দেখিয়ে দিয়েছেন।
নিজস্ব অর্থে পদ্মা সেতু নির্মাণের ফলে সারা বিশ্বে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা ও ভাবমূর্তি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর একটি সাহসী সিদ্ধান্ত তাকে একজন আত্মবিশ্বাসী, দৃঢ়প্রতিজ্ঞ রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে বিশ্ব স্বীকৃতি দিয়েছে। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি, ক্রমাগত জিডিপি প্রবৃদ্ধি এবং বিভিন্ন সামাজিক সূচকে বাংলাদেশের অবস্থানের উন্নতি আজ আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত। এই সেতুর জন্য প্রধানমন্ত্রী যে ত্যাগ স্বীকার করেছেন, পদ্মা সেতু প্রকল্প বাস্তবায়নের সাফল্য সেই ত্যাগকে যৌক্তিক করে তুলেছে।
জাতির গৌরবের প্রতীক ‘পদ্মা সেতু’র উদ্বোধন উপলক্ষে ১০০ টাকা মূল্যমানের স্মারক নোট মুদ্রণ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
পদ্মা সেতু নির্মাণের ফলে রাজধানীর সঙ্গে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার নিরবচ্ছিন্ন, সাশ্রয়ী ও দ্রুত যোগাযোগ প্রতিষ্ঠিত হ’ল। বিপুল সম্ভাবনাময় এই অঞ্চলের বহুমুখী উন্নয়নে এই সেতুর গুরুত্ব অপরিসীম। বিশেষ করে শিল্পায়ন ও পর্যটন শিল্পে অগ্রসর এ অঞ্চলের উন্নয়নে নতুন দ্বার উন্মোচিত হবে। টুঙ্গীপাড়াস্থ জাতির পিতার সমাধি সৌধ, সুন্দরবন এবং কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতসহ নানা প্রত্নতাত্ত্বিক ও দর্শনীয় স্থানসমূহে পর্যটকের আগমন বৃদ্ধি পাবে। নদী বিধৌত উপকূলীয় অঞ্চলের কৃষি ও মৎস্য সম্পদ আহরণ এবং দেশব্যাপী দ্রুত বাজারজাতকরণে পদ্মা সেতু বিশেষ ভূমিকা পালন করবে।
আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ইতোমধ্যে এ অঞ্চলে প্রতিষ্ঠিত পায়রা সমুদ্রবন্দর, বৃহৎ নদীসমূহের উপর নির্মিত সেতু, রামপাল ও পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ মংলা সমুদ্রবন্দরের পূর্ণ ক্ষমতা ব্যবহারে “পদ্মা সেতু” যোগাযোগ ব্যবস্থায় সুতিকাগার হিসেবে কাজ করবে। এই অঞ্চলে অবস্থিত গুরুত্বপূর্ণ বেনাপোল, ভোমরা, দর্শনা প্রভৃতি স্থলবন্দরের মাধ্যমে আন্তঃদেশীয় বাণিজ্য বৃদ্ধি পাবে। এ সেতুর মাধ্যমে দুই প্রান্তে বিদ্যুৎ, গ্যাস, অপটিক্যাল ফাইবারসহ পরিষেবাসমূহের সংযোগ স্থাপিত হবে। পদ্মা বহুমুখী সেতু নির্মাণ প্রকল্পটি বাস্তবায়নের ফলে সার্বিকভাবে দেশের উৎপাদন ১.২৩ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে এবং প্রতি বছর ০.৮৪ শতাংশ হারে দারিদ্র্য নিরসনের মাধ্যমে আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে এ সেতু অনন্য অবদান রাখবে।
দেশপ্রেমিক জনগণের আস্থা ও সমর্থনের ফলেই আজকে উন্নত এ নতুন অধ্যায় উন্মোচিত হয়েছে।
পদ্মা সেতু শুধু একটি সেতুই নয়, এটি আমাদের উন্নয়ন ও অহংকারের প্রতীক। আত্মমর্যাদা, আত্মপরিচয়, যোগ্যতা—সর্বোপরি জাতির জনকের সুযোগ্যকন্যা রত্নের প্রত্যয়ের ফসল, শত বাধা বিপত্তি, দেশি বিদেশি চক্রান্ত, উপহাস, গুজব, প্রাকৃতিক ও ভৌগলিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে সত্যি হয়েছে কোটি মানুষের স্বপ্ন।
পদ্মাসেতু আজ আর কল্পনা নয়, প্রচণ্ড বাস্তব। আর এই মহাযজ্ঞ সম্পন্ন হয়েছে শুধুমাত্র মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুকন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার দেশপ্রেম, দৃঢ় মনোবল, দৃঢ়তা, সততা ও কঠোর সংকল্পের কারণে আত্মবিশ্বাস ও আত্মমর্যাদার সাক্ষী হয়ে প্রমত্তা পদ্মার বুকে যুগ থেকে যুগান্তরে দাঁড়িয়ে থাকবে স্বপ্নের পদ্মা সেতু। পদ্মা সেতু রাজনৈতিক মর্যাদা, স্বনির্ভরতা, সাহস, দৃঢ়তা, সক্ষমতা, অহঙ্কার ও আত্মবিশ্বাসের প্রতীক; তা যেমন আমরা বারবার বলব, তার পাশাপাশি যেন আমরা গৌরবের সঙ্গে উচ্চারণ করি, এই পদ্মা সেতু নির্মাণ সারা পৃথিবীর সামনেই একটা ‘ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ান্ডার’, প্রকৌশলগত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার আদর্শ উদাহরণ। ইতিমধ্যে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রীয় প্রধানরা অভিনন্দন জানিয়েছেন আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে। এই অর্জনে বিশ্বময় বাঙালিরা আজ আনন্দিত, অনুপ্রাণিত।
আওয়ামী লীগ মানেই বাংলাদেশ! আওয়ামীলীগ মানেই বঙ্গবন্ধু আর বঙ্গবন্ধু মানেই বাংলার মানচিত্র.; জাতিরজনক বঙ্গবন্ধু শুধু একটি নামই নয়, একটি মুক্তির পথ, একটি বিশ্বাসের নাম। তিনি ছিলেন বাঙালি জাতির পথ প্রদর্শক ও জাতির মুক্তির নায়ক। যতকাল ধরে পদ্মা-মেঘনা-গৌরী যমুনা মনু বহমান থাকবে, ততকাল বঙ্গবন্ধুর নাম বাঙালি জাতির অন্তরে লালিত হয়ে থাকবে চির অম্লান হয়ে। আওয়ামীলীগের ইতিহাস বাংগালী জাতির ইতিহাস. আর এই ইতিহাসের মহানায়ক হচ্ছেন,সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালী, জাতিরজনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান.। ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান একদল সেনা অফিসারের হাতে নির্মমভাবে খুন হবার পর একই বছরের ৩ নভেম্বর ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের ভেতর গুলি করে হত্যা করা হয় বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ট চার সহচর সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দিন আহমেদ, ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী ও এএইচএম কামরুজ্জামানকে। বঙ্গবন্ধু ও জাতীর চার নেতাকে হত্যার পর সামরিক সরকারের শাসনামলে দমনপীড়নের মুখে ও মতের ভিন্নতায় বিভক্ত হয়ে পড়ে সংগঠনটি। ১৯৮১ সালে দেশে ফিরে এসে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সুযোগ্য কন্যারত্ন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দলকে ঐক্যবদ্ধ ও পুনরায় সংগঠিত করে সামরিক শাসক এরশাদ বিরোধী আন্দোলন গড়ে তোলেন এবং স্বৈরশাসনের অবসান ঘটিয়ে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছেন। ঐতিহ্যের ধারক বাহক বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ।পঁচাত্তরে বঙ্গবন্ধুর হত্যাকান্ডের পর থেকে ২১ বছর ক্ষমতার বাইরে থাকা সত্বেও দলটির খাঁটি নেতাকর্মীরা মনোবল হারায়নি, বরং প্রতিবাদ প্রতিরোধ আন্দোলন সংগ্রামে ছিল বীর বেশে।
আওয়ামী লীগ গণতন্ত্রের জন্য, মানুষের ভাত ও কাপড়ের জন্য, মানুষের ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য লড়াই-সংগ্রাম করে ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সভাপতি জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বিজয় লাভের মাধ্যমে ১৯৯৬ সালের ২৩ জুন আবার হারানো আলো ফিরে পায় প্রিয় বাংলাদেশ.। দীর্ঘ রাজনৈতিক পথ পরিক্রমায় অনেক ঘাত-প্রতিঘাত, চড়াই-উতরাই ও প্রাসাদসম ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করে দলটি আজ এ দেশের গণমানুষের ভাব-ভাবনার ধারক-বাহকে পরিণত হয়েছে।
ভগ্নপ্রায় রাষ্ট্রব্যবস্থা ও অর্থনীতিকে দাঁড় করিয়ে মজবুত করেছেন দেশের মেরুদণ্ড। অসাম্প্রদায়িক ও গণতান্ত্রিক ভাবধারার আস্থার প্রতীকে পরিণত হয়েছে দলটি। আওয়ামী লীগের ইতিহাস মানেই বাঙালির মুক্তির ইতিহাস, আওয়ামী লীগের ইতিহাস মানেই বিশ্বের বুকে বাংলাদেশের মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর ইতিহাস।
প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দল আজ স্বয়ংবর.জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর হাতে গড়া আওয়ামীলীগ তাঁরই যোগ্যতম কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা আজ প্রজন্ম পরম্পরায় বাংলার আলোর প্রতীক. হিসাবে উন্নয়নের ‘রোল মডেল’ হিসেবে আন্তর্জাতিক বিশ্বে পরিচিতি পেয়েছে বাংলাদেশ।
জিডিপির প্রবৃদ্ধি এবং আর্থ-সামাজিক সূচকে ‘উন্নয়ন বিস্ময়’ হিসেবে সত্যিকারার্থেই উত্থান ঘটেছে বাংলাদেশের।
দেশের টাকায় পদ্মাসেতু নির্মাণ। মেট্রোরেল,কর্ণফুলী টানেল, পারমানবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র সহ অসংখ্য মেগাপ্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে।
এখানে উল্লেখ করা উচিৎ জনগন থেকে দাবি উঠেছিল এই সেতুর নাম শেখ হাসিনা সেতু করার কিন্তুু প্রধানমন্ত্রী তার নামে এই সেতুর নামকরণের প্রস্তাব বাতিল করে দিয়ে অনেক বড় উদারতাও দেখিয়েছেন। তিনি (প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা) বলেছেন পদ্মা সেতু পদ্মা নদীর নামেই হবে।
অবাক বিস্ময়ে বিশ্ববাসী আজ বাংলাদেশের এগিয়ে যাওয়া দেখছে। অনুকরণ করছে এদেশের সার্বিক উন্নয়নের চিত্র। বাংলাদেশের মানুষ এখন শুধু স্বপ্ন দেখে না। বাস্তবতার জয়গান গায়। বঙ্গবন্ধুকন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা চ্যালেঞ্জ নিয়েছিলেন এবং চ্যালেঞ্জ বাস্তবায়ন করে দেখিয়েছেন। সকল প্রতিকূলতা জয় করে বাংলার মানুষকে উপহার দিয়েছেন পদ্মা সেতু। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বেই বাংলাদেশ নিরাপদ। তাঁর নেতৃত্বেই উন্নয়নের নতুন যুগের সূচনা হয়েছে। নতুন এক উচ্চতায় সমাসীন হয়েছে আমাদের বাংলাদেশ।
উন্নয়ন অগ্রগতি সম্মান আর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার রোল মডেল একদার দক্ষিণ এশিয়ার দরিদ্রতম দেশ বাংলাদেশ। আর সেই সম্মান অর্জনের চালিকাশক্তি বঙ্গবন্ধুকন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা।
জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সুখী-সমৃদ্ধ সোনার বাংলা বিনির্মাণের লক্ষ্যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী মাদার অব হিউম্যানিটি দেশরত্ন শেখ হাসিনা উন্নয়ন-অগ্রগতি ও ডিজিটালাইজড নতুন প্রজন্মের উপযুক্ত বাংলাদেশ তথা ডিজিটাল বাংলার আলোর মিছিলকে এগিয়ে নিতে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার দীপ্ত শপথ নিতে হবে।
সংকটে, সংগ্রামে ও অর্জনে গণমানুষের পাশে থাকা আওয়ামী লীগের ৭৩ বছরের শুভ জন্মদিনে অনেক অনেক শুভেচ্ছা ‘বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ’। জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু, জয় হোক মানবতার. বাংলাদেশ চিরজীবী হোক।
পরিশেষে বলতে চাই,,,
নিজের টাকায় পদ্মা সেতু হয়ে গেছে সবার জানা,
সাড়া দুনিয়ায় দেখিয়েছে চমক শেখের বেটি হাসিনা,,
স্বপ্নজয়ের উৎসবে মেতেছে সবাই, বিশ্বের জন্যই এক বিস্ময়।
অবিস্মরণীয়, অনন্য এক কীর্তি গড়লো প্রাণের বাংলাদেশ,।
শত বাধা বিপত্তি, দেশি বিদেশি চক্রান্ত, উপহাস, আর গুজব,
সকল চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে সত্যি হয়েছে কোটি মানুষের স্বপ্ন।
দুর্নীতিমুক্ত বীরের জাতি হিসেবে বাঙালি আবার নিজেদের বিশ্বের বুকে করেছে প্রতিষ্ঠিত।
২৫ জুন পদ্মা সেতুতে নজিরবিহীন জনস্রোতে মানুষ জয় বাংলা স্লোগানে ছিলো মূখড়িত।
সেতু করে বাঙালি বাড়িয়েছে আমাদের অহংকার আর আত্মমর্যাদার মান,
বাস্তবে পদ্মাসেতুতে দাঁড়িয়ে জনতা প্রতিনিয়ত দেখবে পূর্ণিমার চাঁদ ।

লেখক পরিচিতি; মোহাম্মদ মকিস মনসুর একজন সাংবাদিক ও লেখক এবং রাজনীতিবিদ। বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উৎসব আন্তর্জাতিক সার্বজনীন উদযাপন কমিটির সদস্য সচিব. ও চেয়ারম্যান ইউকে বিডি টিভি,

প্লিজ আপনি ও অপরকে নিউজটি শেয়ার করার জন্য অনুরোধ করছি

এ জাতীয় আরো খবর..