ডেস্ক রিপোর্ট :আজ মঙ্গলবার (৩১ অক্টোবর) দেশের জনপ্রিয় বরেণ্য অভিনেতা আসাদুজ্জামান নূরের জন্মদিন। ১৯৪৬ সালের আজকের এই দিনে পৃথিবীতে আসেন তিনি। জীবনের ৭৬ বসন্ত পেরিয়ে আজ ৭৭ বছরে পা দিয়েছেন বরেণ্য এই অভিনেতা।
আসাদুজ্জামান নূর একাধারে অভিনেতা, আবৃত্তিকার, ব্যবসায়ী ও রাজনীতিবিদ। তবে এত পরিচয়ের মধ্যেও নিজেকে একজন আত্মপ্রত্যয়ী মানবতাবাদী মানুষ হিসেবে পরিচয় দিতে ভালোবাসেন তিনি। এবারের জন্মদিন তার নির্বাচনী এলাকা নীলফামারীতে উদযাপন করবেন আসাদুজ্জামান নূর।
জন্মদিন প্রসঙ্গে গণমাধ্যমে তিনি বলেন, জন্মদিন নিয়ে কখনও কোনো পরিকল্পনা করিনি। ফলে এবারও নেই। বিশেষ কিছু বলতে যা হয়, তা পরিবারের মধ্যেই। কাছের বন্ধুরা বাসায় আসে শুভেচ্ছা জানাতে। ছেলে-মেয়েরা প্রতিবারই আমাকে নানাভাবে চমকে দেয়। এবারও হয়তো ঠিক তেমনটাই হবে।
কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ে যারা হোস্টেলে থাকেন, তারা একটা বিষয় জানেন, সেখানে ‘ইমপ্রুভমেন্ট নাইট’ বলে একটা কথা ছিল। সেদিন ভালোমন্দ খাওয়া-দাওয়া হতো। আমার জন্মদিনের বিষয়টিও তেমন। একটু ভালো খাওয়া-দাওয়া হয় আর কি।
জন্মস্থান-
আসাদুজ্জামান নূর ১৯৪৬ সালের ৩১ অক্টোবর পশ্চিমবঙ্গের জলপাইগুড়ি জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা আবু নাজেম মোহাম্মদ আলী ও মাতা আমিনা বেগম। তিনি পড়াশোনা করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে।
কর্মজীবন-
১৯৭২ সালে বহুল প্রচারিত সাপ্তাহিক চিত্রালীতে কাজ করার মধ্যদিয়ে কর্মজীবন শুরু করেন আসাদুজ্জামান নূর। ১৯৭৩ সালে একটি বিজ্ঞাপনী সংস্থার অধীনে ছাপাখানায় ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। ১৯৭৪ সালে সোভিয়েত দূতাবাসের (বর্তমানে রাশিয়া) প্রেস রিলেশন অফিসার হিসেবে যোগদান করেন। পরবর্তীতে ১৯৮০ সালে ইস্ট এশিয়াটিক অ্যাডভারটাইজিং লিমিটেডে (বর্তমানে এশিয়াটিক থ্রি সিক্সটি) সাধারণ ব্যবস্থাপক পদে কাজ করেন।
তিনি শেখ হাসিনার তৃতীয় মন্ত্রিসভায় বাংলাদেশের সংস্কৃতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং ২০০১ সাল থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে নীলফামারী-২ আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর প্রতিষ্ঠায় অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন আসাদুজ্জামান নূর। বর্তমানে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি সদস্য, আবৃত্তি সমন্বয় পরিষদের সভাপতি, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সদস্য ও বাংলাদেশ রাশিয়া মৈত্রী সমিতির সাধারণ সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন তিনি।
অভিনয় জীবন-
১৯৭২ সালে মঞ্চদল ‘নাগরিক’র মাধ্যমে অভিনয় জীবন শুরু করেন আসাদুজ্জামান নূর। এই নাট্যদলের ১৫টি নাটকে তিনি ৬০০ বারেরও বেশি অভিনয় করেছেন বরেণ্য এই অভিনেতা। পাশাপাশি এই দলের দুটি নাটকের নির্দেশনাও দিয়েছেন তিনি। যার মধ্যে দেওয়ান গাজীর কিসসা বহুল জনপ্রিয়তা লাভ করেন। তিনি ১১০টিরও বেশি টেলিভিশন চলচ্চিত্র ও ধারাবাহিকে অভিনয় করেছেন। নব্বইয়ের দশকে নন্দিত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদ রচিত ‘কোথাও কেউ নেই’ নাটকে ‘বাকের ভাই’ চরিত্রে অভিনয় করে দেশব্যাপী তুমূল জনপ্রিয়তা লাভ করেন আসাদুজ্জামান নূর।
টেলিভিশনে তার উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে রয়েছে- ‘এইসব দিনরাত্রি’, ‘অয়োময়’, ‘কোথাও কেউ নেই’, ‘আজ রবিবার’, ‘সমুদ্র বিলাস প্রাইভেট লিমিটেড’। রেডিওতে প্রচারিত তার নাটকের সংখ্যা ৫০-এরও অধিক।
টেলিভিশনের পাশাপাশি তিনি চলচ্চিত্রেও অভিনয় করেছেন। তার অভিনীত উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্র হলো- ‘শঙ্খনীল কারাগার’, ‘আগুনের পরশমণি’, ‘হুলিয়া’, ‘দহন’, ‘চন্দ্রকথা’, ‘দারুচিনি দ্বীপ’, ‘নয় নম্বর বিপদ সংকেত’, ‘ঘেটুপুত্র কমলা’, ‘সুতপার ঠিকানা’, ‘বায়োগ্রাফি অব নজরুল’, ‘জয় বাংলার ধ্বনিছুরি’।
পুরস্কার-
সংস্কৃতিতে অবদান রাখার জন্য ২০১৮ সালে স্বাধীনতা পুরস্কার লাভ করেন আসাদুজ্জামান নূর। এ ছাড়া আরও বেশ কিছু পুরস্কার অর্জন করেন তিনি। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো-শহীদ মুনির চৌধুরী পুরস্কার (২০০৬), নরেন বিশ্বাস পদক (২০১0), শহীদ বদরউদ্দিন হোসেন স্মৃতি পুরস্কার (২০১৫), বিশ্ব মঞ্চ দিবস পুরস্কার (২০১৫), স্বাধীনতা পুরস্কার (২০১৮), বাংলা একাডেমি ফেলোশিপ, বঙ্গবন্ধু আবৃত্তি স্মারক (২০২২)।

নিজস্ব প্রতিবেদক 
























