2:01 am, Monday, 15 June 2026

বাংলাদেশ টেস্ট নয়, আইপিএলকেই বেছে নিচ্ছেন রাবাদারা!

ক্রীড়া ডেস্ক : ওয়ানডেতে পূর্ণশক্তির দক্ষিণ আফ্রিকাকে পাওয়া গেলেও টেস্টে হয়তো খর্ব শক্তির দলটিকেই পাচ্ছে বাংলাদেশ। যেসব ক্রিকেটাররা আইপিএলে দল পেয়েছেন। তারা ওই সময় টেস্ট বাদ দিয়ে আইপিএল খেলাকেই প্রাধান্য দিচ্ছেন। ক্রিকইনফো থেকে মিলছে এমন তথ্য।

জানা গেছে, আইপিএলে দল পাওয়া ক্রিকেটাররা বাংলাদেশের বিপক্ষে টেস্ট না খেলাতেই সর্বসম্মত। এই মাসে প্রোটিয়াদের টেস্ট অধিনায়ক ডিন এলগার বলেছিলেন, আনুগত্যের অগ্নিপরীক্ষা হতে যাচ্ছে এই সিরিজ। যেহেতু জাতীয় দল বাদ দিয়েই তারা ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ খেলাকে বেশি প্রাধান্য দিচ্ছেন। ক্রিকেট দক্ষিণ আফ্রিকাও (সিএসএ) জানিয়েছে, তারা বাংলাদেশ টেস্ট বনাম আইপিএল ইস্যুটি ক্রিকেটারদের সিদ্ধান্তের ওপর ছেড়ে দিয়েছে।

এমন সিদ্ধান্তের জন্য অবশ্য ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড-সিএসএ চুক্তিই দায়ী। এই চুক্তি অনুসারে প্রোটিয়া ক্রিকেটারদের এনওসি দেবে সিএসএ। পাশাপাশি ওই সময়ে কোনও সিরিজও আয়োজন করবে না তারা। কিন্তু এই বছর পরিস্থিতি একেবারে ভিন্ন। আইপিএলের দল বেড়ে যাওয়ায় সূচির ব্যপ্তি বেড়ে গেছে। তার ওপর শরৎকালে পড়ে গেছে বাংলাদেশ সিরিজ।

সিএসএ’র একজন অভ্যন্তরীণ সদস্যও জানালেন সেই কথা, ‘আসলে মূল চুক্তিতেই আছে আমরা আইপিএলের সময় খেলোয়াড়দের ছেড়ে দেবো। কিন্তু এবার আইপিএল উইন্ডো বড় হয়ে গেছে। আর চুক্তিটা আগের মতোই রয়ে গেছে।’

ফলে সবকিছু চুক্তি অনুযায়ী হয়ে গেলে প্রোটিয়া দল বাংলাদেশের বিপক্ষে প্রথম সারির পেস আক্রমণ ছাড়াই মাঠে নামবে। কাগিসো রাবাদা ও লুঙ্গি এনগিদি যথাক্রমে পাঞ্জাব কিংস ও দিল্লি ক্যাপিটালসে চুক্তি বদ্ধ। মার্কো ইয়ানসেনেরও খেলার কথা সানরাইজার্স হায়দরাবাদে। এদের মধ্যে আইনরিখ নর্কিয়া তো ইনজুরির কারণেই টেস্ট সিরিজে হয়তো খেলতে পারবেন না। ফলে আইপিএলে তার খেলা নিয়ে রহস্য রয়েই গেছে। তবে তার ফ্র্যাঞ্চাইজির মেডিক্যাল স্টাফের পক্ষ থেকে ফিটনেসের একটা মূল্যায়ন করার কথা রয়েছে।

এখন প্রথম সারির বোলাররা অনুপস্থিত থাকলে ভাবনায় থাকবেন লুথো সিপামলা ও লিজাড উইলিয়ামস। তাদের মধ্যে সিপামলা তিনটি টেস্ট খেলেছেন। গত মাসে ক্রাইস্টচার্চে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে জেতা টেস্টের সদস্য ছিলেন তিনি। উইলিয়ামস এখনও টেস্ট না খেললেও একটি ওয়ানডে ও ৬ টি-টোয়েন্টি খেলেছেন। সঙ্গে প্রথম সারির স্পিনার হিসেবে কেশব মহারাজ তো থাকছেনই। এই অবস্থায় নির্বাচকরা একজন স্পিন বোলিং অলরাউন্ডারের খোঁজ করবেন। তেমনটি হলে জর্জ লিন্ডেই হতে পারেন বিকল্প।

অবশ্য সব কিছু চূড়ান্ত হবে কোচ মার্ক বাউচারের সঙ্গে টেস্ট স্পেশালিস্টদের মিটিংয়ের পর। এই মিটিংয়েই আইপিএল খেলতে চাওয়া ক্রিকেটারদের বোঝানোর একটা চেষ্টা করা হতে পারে। একটা ইঙ্গিত এমনও রয়েছে যে, রাবাদাসহ কয়েকজনকে হয়তো অন্তত প্রথম টেস্ট খেলতে রাজি করানোর চেষ্টা করা হতে পারে। তবে এসব কিছুই সম্ভাবনা।

দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে তিন ওয়ানডের সঙ্গে দুটি টেস্ট খেলবে বাংলাদেশ। চারটি ভেন্যুতে ১৮ মার্চ থেকে ১২ এপ্রিল পর্যন্ত দুই ফরম্যাটের ম্যাচগুলো অনুষ্ঠিত হবে। ১৮ মার্চ সেঞ্চুরিয়নের সুপার স্পোর্ট পার্কে শুরু হবে ওয়ানডে সিরিজ। ২০ মার্চ জোহানেসবার্গ ও ২৩ মার্চ সুপার স্পোর্ট পার্কে রয়েছে দ্বিতীয় ও তৃতীয় ওয়ানডে। ডারবানে ৩১ মার্চ থেকে শুরু হবে প্রথম টেস্ট। এরপর ৮ এপ্রিল থেকে পোর্ট এলিজাবেথের কেবেরায় শুরু হবে দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট।

Tag :
About Author Information

Sirajul Islam

শ্রীমঙ্গলে বিশ্ব শিশুশ্রম প্রতিরোধ দিবসে মানববন্ধন ও আলোচনা সভা

বাংলাদেশ টেস্ট নয়, আইপিএলকেই বেছে নিচ্ছেন রাবাদারা!

Update Time : 07:54:20 am, Wednesday, 16 March 2022

ক্রীড়া ডেস্ক : ওয়ানডেতে পূর্ণশক্তির দক্ষিণ আফ্রিকাকে পাওয়া গেলেও টেস্টে হয়তো খর্ব শক্তির দলটিকেই পাচ্ছে বাংলাদেশ। যেসব ক্রিকেটাররা আইপিএলে দল পেয়েছেন। তারা ওই সময় টেস্ট বাদ দিয়ে আইপিএল খেলাকেই প্রাধান্য দিচ্ছেন। ক্রিকইনফো থেকে মিলছে এমন তথ্য।

জানা গেছে, আইপিএলে দল পাওয়া ক্রিকেটাররা বাংলাদেশের বিপক্ষে টেস্ট না খেলাতেই সর্বসম্মত। এই মাসে প্রোটিয়াদের টেস্ট অধিনায়ক ডিন এলগার বলেছিলেন, আনুগত্যের অগ্নিপরীক্ষা হতে যাচ্ছে এই সিরিজ। যেহেতু জাতীয় দল বাদ দিয়েই তারা ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ খেলাকে বেশি প্রাধান্য দিচ্ছেন। ক্রিকেট দক্ষিণ আফ্রিকাও (সিএসএ) জানিয়েছে, তারা বাংলাদেশ টেস্ট বনাম আইপিএল ইস্যুটি ক্রিকেটারদের সিদ্ধান্তের ওপর ছেড়ে দিয়েছে।

এমন সিদ্ধান্তের জন্য অবশ্য ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড-সিএসএ চুক্তিই দায়ী। এই চুক্তি অনুসারে প্রোটিয়া ক্রিকেটারদের এনওসি দেবে সিএসএ। পাশাপাশি ওই সময়ে কোনও সিরিজও আয়োজন করবে না তারা। কিন্তু এই বছর পরিস্থিতি একেবারে ভিন্ন। আইপিএলের দল বেড়ে যাওয়ায় সূচির ব্যপ্তি বেড়ে গেছে। তার ওপর শরৎকালে পড়ে গেছে বাংলাদেশ সিরিজ।

সিএসএ’র একজন অভ্যন্তরীণ সদস্যও জানালেন সেই কথা, ‘আসলে মূল চুক্তিতেই আছে আমরা আইপিএলের সময় খেলোয়াড়দের ছেড়ে দেবো। কিন্তু এবার আইপিএল উইন্ডো বড় হয়ে গেছে। আর চুক্তিটা আগের মতোই রয়ে গেছে।’

ফলে সবকিছু চুক্তি অনুযায়ী হয়ে গেলে প্রোটিয়া দল বাংলাদেশের বিপক্ষে প্রথম সারির পেস আক্রমণ ছাড়াই মাঠে নামবে। কাগিসো রাবাদা ও লুঙ্গি এনগিদি যথাক্রমে পাঞ্জাব কিংস ও দিল্লি ক্যাপিটালসে চুক্তি বদ্ধ। মার্কো ইয়ানসেনেরও খেলার কথা সানরাইজার্স হায়দরাবাদে। এদের মধ্যে আইনরিখ নর্কিয়া তো ইনজুরির কারণেই টেস্ট সিরিজে হয়তো খেলতে পারবেন না। ফলে আইপিএলে তার খেলা নিয়ে রহস্য রয়েই গেছে। তবে তার ফ্র্যাঞ্চাইজির মেডিক্যাল স্টাফের পক্ষ থেকে ফিটনেসের একটা মূল্যায়ন করার কথা রয়েছে।

এখন প্রথম সারির বোলাররা অনুপস্থিত থাকলে ভাবনায় থাকবেন লুথো সিপামলা ও লিজাড উইলিয়ামস। তাদের মধ্যে সিপামলা তিনটি টেস্ট খেলেছেন। গত মাসে ক্রাইস্টচার্চে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে জেতা টেস্টের সদস্য ছিলেন তিনি। উইলিয়ামস এখনও টেস্ট না খেললেও একটি ওয়ানডে ও ৬ টি-টোয়েন্টি খেলেছেন। সঙ্গে প্রথম সারির স্পিনার হিসেবে কেশব মহারাজ তো থাকছেনই। এই অবস্থায় নির্বাচকরা একজন স্পিন বোলিং অলরাউন্ডারের খোঁজ করবেন। তেমনটি হলে জর্জ লিন্ডেই হতে পারেন বিকল্প।

অবশ্য সব কিছু চূড়ান্ত হবে কোচ মার্ক বাউচারের সঙ্গে টেস্ট স্পেশালিস্টদের মিটিংয়ের পর। এই মিটিংয়েই আইপিএল খেলতে চাওয়া ক্রিকেটারদের বোঝানোর একটা চেষ্টা করা হতে পারে। একটা ইঙ্গিত এমনও রয়েছে যে, রাবাদাসহ কয়েকজনকে হয়তো অন্তত প্রথম টেস্ট খেলতে রাজি করানোর চেষ্টা করা হতে পারে। তবে এসব কিছুই সম্ভাবনা।

দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে তিন ওয়ানডের সঙ্গে দুটি টেস্ট খেলবে বাংলাদেশ। চারটি ভেন্যুতে ১৮ মার্চ থেকে ১২ এপ্রিল পর্যন্ত দুই ফরম্যাটের ম্যাচগুলো অনুষ্ঠিত হবে। ১৮ মার্চ সেঞ্চুরিয়নের সুপার স্পোর্ট পার্কে শুরু হবে ওয়ানডে সিরিজ। ২০ মার্চ জোহানেসবার্গ ও ২৩ মার্চ সুপার স্পোর্ট পার্কে রয়েছে দ্বিতীয় ও তৃতীয় ওয়ানডে। ডারবানে ৩১ মার্চ থেকে শুরু হবে প্রথম টেস্ট। এরপর ৮ এপ্রিল থেকে পোর্ট এলিজাবেথের কেবেরায় শুরু হবে দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট।