1. newsmkp@gmail.com : Admin : sk Sirajul Islam siraj siraj
  2. info@fxdailyinfo.com : admi2017 :
  • E-paper
  • English Version
  • শনিবার, ২৪ জুলাই ২০২১, ০৫:২০ পূর্বাহ্ন

ব্রেকিং নিউজ :
করোনা আপডেট :  করোনায় একদিনে ১৬৬ জনের মৃত্যু, শনাক্ত ৬৩৬৪

হজ্জের লক্ষ্য ও মুসলিমদের ব্যর্থতা

  • আপডেট টাইম : সোমবার, ১৯ জুলাই, ২০২১
  • ১১ বার পঠিত

ফিরোজ মাহবুব কামাল

হজ্জ কেন সর্বশ্রেষ্ঠ অনুষ্ঠান?

মানব জীবনে বহুবিধ ধর্মীয় অনুষ্ঠান। কিন্তু হজ্জ কেন সকল প্রকার ধর্মীয় অনুষ্ঠান থেকে শ্রেষ্ঠতর? কেন অনন্য? কোন অনুষ্ঠানই শুধু ধর্মীয় হওয়ার কারণে শ্রেষ্ঠতর হয় না। সেসব অনুষ্ঠানে লক্ষ লক্ষ মানুষের জমায়েত হওয়াতেও তা কল্যাণকর হয় না। উলুধ্বনি,শঙ্খা ধ্বনি ও বিচিত্র বেশধারনেও কল্যাণ আসে না। ভারতে লক্ষ লক্ষ মানুষ প্রতি বছর গঙ্গাস্নানে হাজির হয়। কিন্তু গঙ্গার পানিতে কি চেতনা ও চরিত্রের ময়লা পরিষ্কার হয়? পবিত্র হয় কি মন? বিপ্লব আসে কি চেতনালোকে ও চরিত্রে? চারিত্রিক বিপ্লব তো দেহ ধৌত করায় আসে না। বিচিত্র বেশধারণ বা দেব-দেবী, সাধুসন্নাসী ও ভগবানের নামে নানারূপ রূপকথা, লোককথা বা অলৌলিক কিচ্ছাকাহিনী পাঠেও আসে না।সে জন্য তো চাই এমন এক বিপ্লবী দর্শন যা মানব মনের গভীরে প্রবেশ করে এবং আঘাত হানে ও বিপ্লব আনে চেতনার মূল ভূমিতে। এবং বিলুপ্ত করে ধর্ম, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের নামে জমে উঠা অশিক্ষা, কুশিক্ষা ও কুসংস্কারের বিশাল আবর্জনাকে। এভাবেই তো পরিশুদ্ধি আসে মানবের চেতনা ও চরিত্রে। তখন বিপ্লব আসে সমাজ ও রাষ্ট্রজুড়ে। এভাবেই তো উচ্চতর সভ্যতা নির্মিত হয়। তবে সে বিপ্লবের জন্য শুধু বিপ্লবী দর্শনই জরুরি নয়, অপরিহার্য হলো এমন কিছু বিপ্লবী মহানায়ক যিনি শুধু কথা দিয়ে নয়, নিজের কর্ম, চরিত্র ও ত্যাগের মধ্য দিয়েও মানুষকে পথ দেখায়। এভাবেই তো সমাজে অনুকরণীয় আদর্শ গড়ে উঠে। মানব ইতিহাসের সে আদর্শ মহানায়কেরা হলেন নবীরাসূল।

মানবের কল্যাণে মহান আল্লাহতায়ালা শুধু আসমানী কিতাবই নাযিল করেননি, সমাজের মধ্য থেকে শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিকে নবী রূপে নিযুক্ত করেছেন। ইসলাম শুধু মহান আল্লাহর উপর বিশ্বাসকেই অনিবার্য করে না, বরং অনিবার্য করে নবীরাসূলদের বিশ্বাস করা ও তাদেরকে মেনে চলাকেও। নবীরাসূলদের মাধ্যমে মানুষকে পথ দেখানো এবং সমাজ জুড়ে বিপ্লব আনাই মহান আল্লাহতায়ালার সূন্নত। মানুষের দায়িত্ব হলো মহান আল্লাহর সে মিশনের সাথে একাত্ম হওয়া। কুর’আনে তাই বলা হয়েছে, “তিনিই সেই মহান আল্লাহ যিনি উম্মিদের মাঝে তাদের মধ্য থেকেই একজনকে রাসূল নিযুক্ত করেছেন যিনি তাদের সামনে পাঠ করে শোনান তাঁর আয়াত এবং তাদের মধ্যে আনেন পরিশুদ্ধি ও পবিত্রতা, এবং শিক্ষা দেন কিতাব এবং প্রজ্ঞা। এবং এর পূর্বে তারা ছিল সুস্পষ্ট বিভ্রান্তিতে।”–(সুরা জুমু’আ, আয়াত ২)। মানব জীবনে সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা বা বিপর্যয়টি খাদ্যাভাবে বা অর্থাভাবে আসে না। ভগ্ন স্বাস্থ্যেও নয়। সেটি আসে সত্য থেকে বিচ্যুতি তথা পথভ্রষ্টতার কারণে। অপর দিকে সত্যকে খুঁজে পাওয়া ও বিভ্রান্তু থেকে মুক্তির মাঝেই মানবের সর্বশ্রেষ্ঠ কল্যাণ। মানব সভ্যতার শ্রেষ্ঠ আবিষ্কার তাই উড়োজাহাজ, আনবিক বোমা, রেডিও-টিভি, রবোট বা কম্পিউটার নয়।সেটি হলো জীবন ও জগতের স্রষ্টা নিয়ে সত্যের আবিষ্কার। আর সবচেয়ে বড় ব্যর্থতাটি হলো সে সত্যকে না চেনা ও সেটিকে খুঁজে না পাওয়ার ব্যর্থতা। সত্য-আবিস্কারের সফলতাটিই ব্যক্তির জীবনে সবচেয়ে বড় সফলতাটি দেয়। সেটি হলো, অনন্ত অসীম কালের জন্য জান্নাতপ্রাপ্তি। আর সত্য আবিস্কারে ব্যর্থ হলে সে ব্যর্থতাটি ব্যক্তিকে জাহান্নামে নিয়ে হাজির করে। সমাজ এবং রাষ্ট্র তখন দুর্বৃত্তদের দিয়ে ভরে উঠে। পৃথিবীর বুকেও তখন জাহান্নামের আযাব নেমে আসে।

সমগ্র মানব ইতিহাসে সত্য আবিস্কারে সবচেয়ে সফল ও শিক্ষণীয় ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন হযরত ইব্রাহীম (আ:)। এই একটি মাত্র কারণেই তিনি সমগ্র মানব ইতিহাসে একজন শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি হওয়ার যোগ্যতা রাখেন। কোন পয়গম্বরের ঘরে তাঁর জন্ম হয়নি। বরং জন্ম হয়েছিল পৌত্তলিক এক পিতার ঘরে। মূর্তিপূজা ও মূর্তিনির্মাণই ছিল তার পেশা। কিন্তু সে কলুষিত পরিবেশে জন্ম নিয়েও পৌত্তলিকতার স্রোতে তিনি ভেসে যাননি। বরং সত্যের আবিস্কারে নিজের সকল প্রতিভা ও সামর্থ্যকে নিয়োজিত করেছিলেন। জীবনের শুরু থেকেই তাঁর মনে অদম্য আগ্রহ ছিল, কে এই বিশাল বিশ্বজগতের

প্লিজ আপনি ও অপরকে নিউজটি শেয়ার করার জন্য অনুরোধ করছি

এ জাতীয় আরো খবর..