1. newsmkp@gmail.com : Admin : sk Sirajul Islam siraj siraj
  2. info@fxdailyinfo.com : admi2017 :
  3. admin@mkantho.com : Sk Sirajul Islam Siraj : Sk Sirajul Islam Siraj
  • E-paper
  • English Version
  • রবিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৩, ০৬:৫৩ অপরাহ্ন

ব্রেকিং নিউজ :
মৌলভীবাজারের ৫টি রেলওয়ে স্টেশন বন্ধ থাকায় এখন ভুতুরে বাড়ি: যাত্রী দুর্ভোগ চরমে: চুরি ও নষ্ট হচ্ছে রেলওয়ের মুল্যবান সম্পদ,নতুন বছরে দৃঢ় হোক সম্প্রীতির বন্ধন, দূর হোক সংকট: প্রধানমন্ত্রী. আজ রোববার উদযাপন হবে বই উৎসব. দুর্গম এলাকায় বিকল্প ব্যবস্থায় নতুন বই পাঠানো হবে: শিক্ষামন্ত্রী, নতুন বছরে নতুন শিক্ষাক্রম চালু হচ্ছে : শিক্ষামন্ত্রী, নতুন আশা নিয়ে মধ্যরাতে বরণ করা হবে ২০২৩ সাল, সিডনিতে আতশবাজির মধ্য দিয়ে ‘নিউ ইয়ার’ বরণ, ইংরেজি নববর্ষ উদযাপনে পুলিশের কড়াকড়ি,আবারও প্রেস ক্লাবের সভাপতি ফরিদা, সম্পাদক হলেন শ্যামল ,নতুন বছরকে স্বাগত জানাতে কুয়াকাটায় পর্যটকের ঢল

মানবতার নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)

  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ১২ জানুয়ারী, ২০২৩
  • ২৫ বার পঠিত

:আফতাব চৌধুরী:

হযরত মুহাম্মদ (সা.) বিশ্বমানবতার জন্য আল্লাহর এক অনন্য রহমতস্বরূপ প্রেরিত। আল্লাহ পবিত্র কুরআনে ঘোষণা করেছেন, ‘আমি তোমাকে প্রেরণ করেছি বিশ্বজগতের জন্য বিশেষ রহমতস্বরূপ।’ তিনি ধনী-দরিদ্র, সাদা-কালো সব মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় সচেষ্ট ছিলেন আজীবন। একাধারে তিনি ছিলেন দার্শনিক এবং সমাজকর্মী। আল্লাহর রসুলরূপে পৃথিবীর সবচেয়ে বর্বর একটি জাতিকে তিনি শ্রেষ্ঠ জাতিতে পরিণত করে পৃথিবীতে এক অতুলনীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। প্রখ্যাত ঐতিহাসিক গিবনের ভাষায়, সমগ্র দুনিয়াকে যদি একত্র ধরে একজনের নেতৃত্বে আনা যেত তা হলে নানা ধর্মমত, ধর্মবিশ্বাস ও চিন্তার মানুষকে শান্তি-সুখের পথে পরিচালনার জন্য হযরত মহম্মদ (সা.) হবেন সর্বোত্তম যোগ্য নেতা।
রসুল (সা.) মানবজাতির জন্য শান্তির দূতরূপে আবির্ভূত হয়েছেন। আল্লাহতায়লা যুগে যুগে মানুষের মুক্তির জন্য পৃথিবীর বিভিন্ন জনপদে, বিভিন্ন গোত্রের কাছে মহানায়কদের পাঠিয়েছেন, যারা ঐশী বাণীর মাধ্যমে মানবজাতিকে সঠিক পথ নির্দেশ দিয়েছেন। রসুল (সা.) হলেন শেষনবি, যিনি সমগ্র মানবজাতির জন্য সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারীরূপে এসেছেন। শান্তির অনন্য দূত হজরত মহম্মদ (সা.) শৈশব থেকে সত্যবাদী, পরোপকারী ও সমাজসচেতন ছিলেন। কৈশোর জীবনেই তিনি চারদিকের নোংরা পাপাচার দেখে তার সমাধানকল্পে চিন্তা করেছেন। বিভিন্ন কাজ ও পথের। তিনি বিশ্বাস ও সততার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত ছিলেন। তাই সকলে তাঁকে আল-আমিন বলে ডাকতেন। তরুণ বয়সে তিনি সমাজের মঙ্গলের জন্য সংগঠন করেছেন এবং দুদলের মধ্যে কোনও অন্যায় বাকবিতÐা উপস্থিত হলে সকলে তাঁর কাছে বিচার চাইতেন এবং তাঁর রায়ই তারা সন্তুষ্ট চিত্তে মেনে নিতেন।
জাহেলিয়াতের চরম অন্ধকার যখন পৃথিবীকে গ্রাস করে নিয়েছিল সেই দুর্দিনে হজরত মহম্মদ (সা.) বিশ্বশান্তির বার্তা নিয়ে দুনিয়ায় এলেন। অজ্ঞানের অন্ধকারে নিমজ্জিত মানুষ সেদিন অসহায় ছিল। নারীজাতি ও দাস-দাসীরা ছিল চরমভাবে নিপীড়িত। কন্যাসন্তানকে জীবন্ত কবর দেওয়ার মতো ঘৃণ্য ও জঘন্যতম নিষ্ঠুর কাজে লিপ্ত ছিল সে-সময় মানুষ। কুসংস্কার, মারামারি, হানাহানি, শোষণ-পীড়ন তখন গোটা জাতিকে ধ্বংস করে দিচ্ছিল।
কুরআনের বাণীর আলো নিয়ে সেই ঘোর অন্ধকারে আবির্ভূত হলেন আমাদের প্রিয় নবি হযরত মুহাম্মদ (সা.)। হেরা পর্বতের নির্জন গুহায় দিনের পর দিন তিনি তপস্যা করেছেন সত্যপথ লাভের জন্য। অবশেষে এই হেরার গুহায় তিনি সর্বপ্রথম আল্লাহর কাছ থেকে যে আলোকরশ্মি লাভ করলেন, পরবর্তী ২৩ বছরে তা সম্পূর্ণতা প্রাপ্ত হলো। এবং এরই মাধ্যমে তিনি মহান এক সভ্যতা বিশ্বের মানুষের কাছে উপস্থাপন করলেন।

হযরত মুহাম্মদ (সা.)-র প্রবর্তিত ধর্ম ইসলাম সর্বকালের সর্ব প্রেক্ষাপটে একটি জীবনব্যবস্থা। ইসলাম শান্তি ও মানবতার ধর্ম। ধনী-দরিদ্র,দাস-দাসী, নারী-পুরুষ সবার এতে সমান অধিকার। হজরত মুহাম্মদ (সা.) দাসপ্রথার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেন এবং সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সাম্য ও ভ্রাতৃত্বের ভিত্তিতে আদর্শ সমাজ গড়ার কাজে নিজেকে নিয়োজিত করেন। বংশ কৌলীন্য ও সম্পদকে তিনি প্রাধান্য দেননি। নারীর অধিকার ও মর্যাদা রক্ষার ক্ষেত্রে তিনি ছিলেন অগ্রণী। বিশ্ব মানবতার মুক্তির প্রতীক ও সত্য-সুন্দরের বাণীবাহক আমাদের প্রিয়নবি নিজে নিরক্ষর ছিলেন কিন্তু শিক্ষালাভের জন্য প্রত্যেক নর-নারীকে তিনি উৎসাহিত করে গেছেন। শুধু তা-ই নয়, জ্ঞানার্জনকে তিনি সবপুরুষ ও নারীর জন্য অবশ্য করণীয় অর্থাৎ ফরজ বলেছেন।
বিচারক হিসাবে মহানবি (সা.)কতটা ন্যায়পরায়ণ ছিলেন, তার প্রমাণও আমরা পাই। একবার কোরাইশ বংশের এক মহিলা চুরি করে ধরা পড়ার পর বিচারে তার হাত কাটার শাস্তি স্থির করা হলে একজন প্রিয় সাহাবি হযরত মুহাম্মদ (সা.)-র কাছে তার জন্য সুপারিশ করতে এলে তিনি বলেছিলেন, “স্বয়ং আল্লাহতায়লা যে শাস্তি নির্ধারণ করে দিয়েছেন তাতেও কি তুমি সুপারিশ করার স্পর্ধা রাখ?” এরপর উপস্থিত সাহাবিদের উদ্দেশে তিনি বললেন, ‘তোমাদের পূর্ববর্তী উম্মতরা এজন্যই ধ্বংস হয়ে গেছে যে, যখন তাদের মধ্যে কোনও বিত্তশালী কিংবা উচ্চপদস্থ লোক চুরির অপরাধে অভিযুক্ত হতো, তখন তাকে বেকসুর খালাস দেওয়া হতো। কিন্তু যখন কোনও সাধারণ লোক ওই অপরাধে ধৃত হতো, তখন সর্বসম্মতিক্রমে তার ওপর আদেশ জারি করা হতো। আল্লাহর কসম, মুহাম্মদের কন্যা ফাতিমাও যদি চুরি করত, তা হলে আমি নির্দ্বিধায় তার হাত কেটে দিতাম।’ সাম্য ও ন্যায়ের এমন উদাহরণ পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল।
মানুষের চরিত্র সম্পর্কে বলতে গিয়ে মহানবি (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তিকে মানুষ বিশ্বাস করে না, তাকে আল্লাহও বিশ্বাস করেন না। ইমানের ব্যাপারে তিনি মানুষের আচরণ ও চরিত্রের ওপর সর্বাপেক্ষা বেশি জোর দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি ভাল কাজ করতে মনে আনন্দ পায় এবং মন্দ কাজ করতে মনে কষ্ট পায়, সে ইমানদার।’ তিনি আরও বলেন, ‘হে আলি, তোমার বীরত্বে নয়, মানুষকে তুমি তোমার আচরণে জয় করো।
মানুষের আচরণ সম্পর্কে মহানবি (সা.) বলেন, ‘তুমি কারও সাথে কথা বলবে, তখন ঘাড় ঘুরিয়ে বা বাঁকিয়ে বলো না। তার ‘দিকে সোজা হয়ে কথা বলবে। না হলে সে ভাববে, তুমি তাকে অবজ্ঞা করছ।’ এরকম অনেক কথা তিনি অনেক স্থানে বলেছেন, তার থেকে কিছু উদ্ধৃতি তুলে দিলাম-
*’তুমি যখন কারও সাথে করমর্দন করবে, তখন তোমার হাত আগে সরিয়ে নিও না, তাতে তার মনে হতে পারে, তুমি তাকে গুরুত্ব দিচ্ছে না। *’কোনও মানুষ তোমার বাড়িতে এলে তাকে বিদায়কালে দরজা পর্যন্ত এগিয়ে দেবে এবং তার বিদায়ের সময় জোরে শব্দ করে দরজা বন্ধ করো না। এতে তার প্রতি বিরক্তি প্রকাশ পাবে এবং সে কষ্ট পাবে মনে ।’ *’কোনও বিবাহ বা উৎসব বাড়িতে গেলে খাওয়ার পর বেশি বিলম্ব করো না। এতে তাদের অসুবিধা হতে পারে।’ *’দু’জন ব্যক্তি একসাথে থাকলে একজনের সাথে তোমার প্রয়োজনে পৃথকভাবে ডেকে কথা বলো না, এতে অন্যজন কষ্ট’ পাবে মনে।’

এরকম অসংখ্য হাদিস রয়েছে, যাতে তিনি মানুষকে বিনম্র, নিরহঙ্কারী, সৎ, প্রফুল্ল হওয়ার উপদেশ দান করেছেন। ক্রোধকে তিনি হারাম বলেছেন। পরিবার- পরিজন এবং প্রতিবেশীর প্রতি সবসময় সহৃদয় হতে উপদেশ দিয়েছেন। ব্যবসায়ীদের প্রতি উদ্দেশ্য করে বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি জনসাধারণকে কষ্ট দিয়ে অধিক মুনাফা অর্জনের জন্য মালকে গুদামজাত করে রাখে সে প্রকৃত মুসলমান নয়। অকারণে কারোর প্রতি রূঢ় আচরণ করাও তিনি পছন্দ করতেন না। ক্ষমা, করুণা, দানশীলতা ছিল তাঁর চরিত্রের অন্যতম বৈশিষ্ট্য।
আজ বিশ্বজুড়ে যখন স্বার্থের ‘সংঘাত, ধর্মের নামে নিরীহ মানুষকে, শিশু ও নারীকে হত্যা, নির্মম শোষণ ও অন্যায়ের কালিমায় ছেয়ে গেছে পৃথিবীর, আকাশ- বাতাস, তখন মানবতার এই চরম দুর্দিনে হযরত মুহাম্মদ (সা.)-র আদর্শ ও জীবনবোধকে আমাদের পুনরায় দৃঢ় ভাবে স্মরণ করে সে পথকেই অবলম্বন করে চলতে হবে। এতে আমাদের মঙ্গল ও সার্বিক কল্যাণ নিহিত রয়েছে। আল্লাহ যেন তাঁর পথে চলার শক্তি দান করেন। আমিন। সাংবাদিক-কলামিস্ট। ১১.০১.২০২৩

প্লিজ আপনি ও অপরকে নিউজটি শেয়ার করার জন্য অনুরোধ করছি

এ জাতীয় আরো খবর..