আকরামুল রাজ্জাক চৌধুরী :: মাত্র ১৪ বছর বয়সেই পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি কিশোর তোফাজ্জল হোসেন। ভাঙাচোরা একটি সাইকেলে ভর করে প্রতিদিন ১৫ কিলোমিটার পাড়ি দিয়ে দুর্গম খাসিয়া পল্লীতে গিয়ে কাজ করেন তিনি। দিন শেষে আয় হয় দুই-আড়াইশো টাকা। এই সামান্য আয় দিয়েই চালাতে হয় চার সদস্যের পরিবার।
তোফাজ্জল মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার সীমান্তবর্তী ইসলামপুর ইউনিয়নের কাঁঠালকান্দি গ্রামের বাসিন্দা। তার বাবা আলী আহমেদ (৬৫) হার্টের রোগী, বড় বোন আয়েশা খাতুন (২৫) মানসিক ভারসাম্যহীন এবং বৃদ্ধ দাদী সমিতা বিবি (৮২) দীর্ঘদিন ধরে শয্যাশায়ী।
তোফাজ্জল কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “সকালে সাইকেল নিয়ে খাসিয়া পল্লীতে যাই, সন্ধ্যায় ফিরি। যা পাই, তাতে দু’বেলাও খেতে পারি না। আল্লাহ ছাড়া আমাদের আর কেউ নাই।”
স্থানীয় বাসিন্দা ফজল মিয়া ও আবু শহীদ বলেন, “এই পরিবারটি খুবই অসহায়। তিনজন সদস্যই অসুস্থ। মাঝে মাঝে আমরা যতটুকু পারি সাহায্য করি।”
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সরকারি আশ্রয়ণ প্রকল্পের ছোট একটি ঘরে মানবেতর জীবন যাপন করছে তোফাজ্জলের পরিবার। মেঝেতে পড়ে আছেন দাদী সমিতা বিবি, যিনি পা ভেঙে এক বছর ধরে শয্যাশায়ী। ক্ষুধা ও অপুষ্টিতে জর্জরিত এই বৃদ্ধা বললেন, “ঈদে ডালভাত খেয়ে দিন কেটেছে। চাউল আনলে ঔষধ আনতে পারি না। ক্ষুধায় ঘুম আসে না।”
মানসিক ভারসাম্যহীন বোন আয়েশা খাতুনের চিকিৎসা হয়নি দীর্ঘদিন। বাবাও কাজ করতে অক্ষম। সংসারের সমস্ত দায়ভার কিশোর তোফাজ্জলের কাঁধে।
ইসলামপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ফারুক আহমেদ জানান, “সরকারি উদ্যোগে তাদের একটি ঘর দেয়া হয়েছে। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে খবর ছড়িয়ে পড়লে কিছু মানুষ তাহাদের সাহায্যে এগিয়ে এসেন। তবে বয়োবৃদ্ধ ও প্রতিবন্ধী সদস্যদের চিকিৎসা এবং তোফাজ্জলের জন্য টেকসই জীবিকার ব্যবস্থা খুবই প্রয়োজন।”
এই দারিদ্র্যপীড়িত পরিবারের পাশে দাঁড়াতে প্রশাসন, সমাজসেবী ও হৃদয়বান ব্যক্তিদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

নিজস্ব প্রতিবেদক 

























