ডেস্ক রিপোর্ট : ২০২৬ বিশ্বকাপের অংশগ্রহণকারী পানামার বিপক্ষে দারুণ লড়াই করে ১-১ গোলে ড্র করেছে ভারত। প্রত্যাশার তুলনায় অনেক বেশি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ম্যাচের পর পানামার কোচ থমাস ক্রিস্টিয়েনসেন দলের পারফরম্যান্সের পেছনে বেঙ্গালুরুর তীব্র যানজট ও ভ্রমণ-সংক্রান্ত জটিলতাকে অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
ম্যাচের আগে শক্তির বিচারে পানামারই এগিয়ে থাকার কথা ছিল। কিন্তু মাঠে নিজেদের সেভাবে মেলে ধরতে পারেনি মধ্য আমেরিকার দলটি।
ম্যাচ শেষে ক্রিস্টিয়েনসেন জানান, স্টেডিয়ামে পৌঁছাতেই প্রায় দুই ঘণ্টা বাসে থাকতে হয়েছে তাদের। দীর্ঘ যাত্রা ও জটিল লজিস্টিকস দলের প্রস্তুতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে বলে মনে করেন তিনি।
‘আমি এটিকে অজুহাত হিসেবে দেখাতে চাই না। তবে যানজটের মধ্যে দুই ঘণ্টা বাসে করে স্টেডিয়ামে পৌঁছানো সহজ নয়।
এখানকার লজিস্টিকস ও ভ্রমণ ব্যবস্থাপনাও জটিল ছিল,’ ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে বলেন পানামার কোচ।
তিনি আরও বলেন, ‘ভবিষ্যতে এ ধরনের চুক্তি করার সময় আমাদের আরও বিচক্ষণ হতে হবে। মাঠের ভেতরে ও বাইরে সবকিছু কীভাবে পরিচালনা করা হচ্ছে, সে বিষয়ে আমাদের সতর্ক থাকতে হবে। কারণ আমাদের খেলোয়াড়রা আরও ভালো ব্যবস্থাপনা পাওয়ার যোগ্য।’
শুধু যাতায়াতের সমস্যাই নয়, ভারতের বিপক্ষে ম্যাচে পানামা দলেও ছিল বড় পরিবর্তন। পুনর্গঠন প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে একাদশে পাঁচজন খেলোয়াড়কে অভিষেক করানো হয়। নতুন খেলোয়াড়দের নিয়ে অনুশীলনের জন্য পর্যাপ্ত সময়ও পাননি কোচ।
ক্রিস্টিয়েনসেন বলেন, ‘প্রজন্ম বদলের বিষয়টি সহজ নয়। আজ পাঁচজন খেলোয়াড় প্রথমবারের মতো শুরু করেছে। ফলাফলের দায় আমার। ভ্রমণ ও লজিস্টিকসের কারণে কাজ করার বা অনুশীলনের জন্য আমাদের পর্যাপ্ত সময় ছিল না। তবে পাঁচজন নতুন খেলোয়াড়কে শুরু থেকে খেলতে দেখে আমি খুশি। এই অভিজ্ঞতা থেকে আমাদের শিখতে হবে।’
মাঠে পানামার রক্ষণভাগের সমন্বয়হীনতার সুযোগ ভালোভাবেই কাজে লাগায় ভারত। দুই লাইনের মধ্যে বড় ফাঁকা জায়গা তৈরি হওয়ায় বল দখল ফিরে পাওয়ার পর দ্রুত আক্রমণে উঠতে পেরেছে স্বাগতিকরা।
পানামা কোচও বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তার ভাষায়, ‘আমরা কিছুটা অগোছালো ছিলাম। বল ফিরে পাওয়ার পর ভারতকে আক্রমণে যাওয়ার সুযোগও দিয়েছি, কারণ আমাদের খেলোয়াড়রা অনেকটা ছড়িয়ে ছিল এবং লাইনগুলোর মধ্যে দূরত্ব বেশি ছিল। ম্যাচে আমরা ভালোভাবে শুরু করতে না পারার অন্যতম কারণ এটি।’
ভারতের আক্রমণভাগেরও প্রশংসা করেছেন ক্রিস্টিয়েনসেন। বিশেষ করে প্রতিপক্ষকে জায়গা ও সময় দিলে ভারতীয় ফরোয়ার্ডরা বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে বলে সতর্ক করেন তিনি।
‘আপনি যদি তাদের জায়গা ও সময় দেন, তারা যা খুশি করতে পারে। কারণ তাদের বেশ কয়েকজন মানসম্পন্ন খেলোয়াড় আছে। বিশেষ করে সামনের দিকে তাদের দ্বিতীয় স্ট্রাইকার আমাদের জন্য সমস্যা তৈরি করেছে। তাকে সামলানো কঠিন ছিল,’ বলেন পানামার কোচ।
ভারতের বিপক্ষে ১-১ গোলের ড্র পানামার জন্য প্রত্যাশিত ফল না হলেও, নতুন প্রজন্মের খেলোয়াড়দের পরখ করার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ম্যাচের পরিকল্পনা ও ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রেও এটি তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অভিজ্ঞতা হয়ে থাকল।

নিজস্ব প্রতিবেদক 


























