12:05 am, Friday, 25 September 2026

বছরের পর বছর অচল জেনারেটর, রোগীদের ভরসা এখন মোবাইলের টর্চ-হাতপাখা

জামাল হোসেন তারেক : বিদ্যুৎ চলে গেলেই অন্ধকারে ডুবে যায় মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। বিশেষ করে রাতের বেলায় বিদ্যুৎ না থাকলে রোগী ও স্বজনদের অনেক সময় মোবাইলের টর্চ জ্বালিয়ে আলো দিতে হয়। গরমে অসুস্থ রোগীদের স্বস্তি দিতে স্বজনদের হাতে ওঠে হাতপাখা। অথচ বছরের পর বছর ধরে অচল পড়ে আছে হাসপাতালের পুরোনো জেনারেটর।
৫০ শয্যার এই হাসপাতালে প্রতিদিন উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে অসংখ্য মানুষ চিকিৎসা নিতে আসেন। শিশু থেকে শুরু করে বয়স্ক রোগীরা ভর্তি থেকে চিকিৎসা নেন। রয়েছে আইসোলেশন ইউনিটও। বর্তমানে সেখানে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত রোগীর পাশাপাশি শিশুরাও চিকিৎসাধীন রয়েছে। বিদ্যুৎ বিভ্রাট হলে এসব রোগী ও স্বজনদের ভোগান্তি আরও বেড়ে যায়।
এক রোগীর স্বজন বলেন, “বিদ্যুৎ চলে গেলে রোগী নিয়ে অনেক সমস্যায় পড়তে হয়। মোবাইলের টর্চ দিয়ে আলো দিতে হয়, আবার গরমে হাতপাখা দিয়ে বাতাস করতে হয়। হাসপাতালে একটি কার্যকর ব্যাকআপ ব্যবস্থা থাকা খুবই প্রয়োজন।”
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে অচল অবস্থায় পড়ে থাকা পুরোনো জেনারেটরটি মেরামত করে চালু করা সম্ভব নয়। পাশাপাশি পুরো হাসপাতাল সচল রাখার মতো কার্যকর কোনো কেন্দ্রীয় বিকল্প বিদ্যুৎ ব্যবস্থাও নেই। ফলে বিদ্যুৎ চলে গেলেই হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডে তৈরি হয় ভোগান্তি।
রোগীদের এই দুর্ভোগ কিছুটা কমাতে এগিয়ে এসেছে সাংবাদিক সদস্যদের সংগঠন টিম জার্নালিস্ট’স কুলাউড়া। সংগঠনটির উদ্যোগে হাসপাতালের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে স্থাপন করা হয়েছে ১০টি ব্যাকআপ লাইট। বিদ্যুৎ চলে গেলে এসব লাইটের আলোয় আপাতত কিছুটা স্বস্তি পাচ্ছেন রোগী ও তাদের স্বজনরা।
আরেক রোগীর স্বজন বলেন, “লাইট দেওয়ার উদ্যোগটি ভালো হয়েছে। বিদ্যুৎ চলে গেলে অন্তত অন্ধকারে থাকতে হচ্ছে না। তবে এটি সাময়িক ব্যবস্থা। হাসপাতালের নিজস্ব একটি নতুন জেনারেটর বা স্থায়ী ব্যাকআপ ব্যবস্থা প্রয়োজন।”
কুলাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা উৎফল দাশ বলেন, “হাসপাতালের পুরোনো জেনারেটরটি দীর্ঘদিন অচল। এটি মেরামত করে চালু করা সম্ভব নয়। বিষয়টি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, উপজেলা প্রশাসন ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে।”
তবে ১০টি ব্যাকআপ লাইট সাময়িকভাবে অন্ধকার কমালেও ৫০ শয্যার একটি সরকারি হাসপাতালের দীর্ঘদিনের বিদ্যুৎ ব্যাকআপ সংকটের স্থায়ী সমাধান হচ্ছে না। স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত নতুন জেনারেটর অথবা আধুনিক ও পূর্ণাঙ্গ বিকল্প বিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করা হোক, যাতে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সময়ও রোগীদের স্বাভাবিক ও নিরাপদ চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা যায়।

Tag :
About Author Information

Sirajul Islam

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিভিত্তিক উচ্চশিক্ষা টেকসই উন্নয়নের চালিকাশক্তি: রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল

বছরের পর বছর অচল জেনারেটর, রোগীদের ভরসা এখন মোবাইলের টর্চ-হাতপাখা

Update Time : 10:43:58 am, Wednesday, 23 September 2026

জামাল হোসেন তারেক : বিদ্যুৎ চলে গেলেই অন্ধকারে ডুবে যায় মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। বিশেষ করে রাতের বেলায় বিদ্যুৎ না থাকলে রোগী ও স্বজনদের অনেক সময় মোবাইলের টর্চ জ্বালিয়ে আলো দিতে হয়। গরমে অসুস্থ রোগীদের স্বস্তি দিতে স্বজনদের হাতে ওঠে হাতপাখা। অথচ বছরের পর বছর ধরে অচল পড়ে আছে হাসপাতালের পুরোনো জেনারেটর।
৫০ শয্যার এই হাসপাতালে প্রতিদিন উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে অসংখ্য মানুষ চিকিৎসা নিতে আসেন। শিশু থেকে শুরু করে বয়স্ক রোগীরা ভর্তি থেকে চিকিৎসা নেন। রয়েছে আইসোলেশন ইউনিটও। বর্তমানে সেখানে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত রোগীর পাশাপাশি শিশুরাও চিকিৎসাধীন রয়েছে। বিদ্যুৎ বিভ্রাট হলে এসব রোগী ও স্বজনদের ভোগান্তি আরও বেড়ে যায়।
এক রোগীর স্বজন বলেন, “বিদ্যুৎ চলে গেলে রোগী নিয়ে অনেক সমস্যায় পড়তে হয়। মোবাইলের টর্চ দিয়ে আলো দিতে হয়, আবার গরমে হাতপাখা দিয়ে বাতাস করতে হয়। হাসপাতালে একটি কার্যকর ব্যাকআপ ব্যবস্থা থাকা খুবই প্রয়োজন।”
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে অচল অবস্থায় পড়ে থাকা পুরোনো জেনারেটরটি মেরামত করে চালু করা সম্ভব নয়। পাশাপাশি পুরো হাসপাতাল সচল রাখার মতো কার্যকর কোনো কেন্দ্রীয় বিকল্প বিদ্যুৎ ব্যবস্থাও নেই। ফলে বিদ্যুৎ চলে গেলেই হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডে তৈরি হয় ভোগান্তি।
রোগীদের এই দুর্ভোগ কিছুটা কমাতে এগিয়ে এসেছে সাংবাদিক সদস্যদের সংগঠন টিম জার্নালিস্ট’স কুলাউড়া। সংগঠনটির উদ্যোগে হাসপাতালের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে স্থাপন করা হয়েছে ১০টি ব্যাকআপ লাইট। বিদ্যুৎ চলে গেলে এসব লাইটের আলোয় আপাতত কিছুটা স্বস্তি পাচ্ছেন রোগী ও তাদের স্বজনরা।
আরেক রোগীর স্বজন বলেন, “লাইট দেওয়ার উদ্যোগটি ভালো হয়েছে। বিদ্যুৎ চলে গেলে অন্তত অন্ধকারে থাকতে হচ্ছে না। তবে এটি সাময়িক ব্যবস্থা। হাসপাতালের নিজস্ব একটি নতুন জেনারেটর বা স্থায়ী ব্যাকআপ ব্যবস্থা প্রয়োজন।”
কুলাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা উৎফল দাশ বলেন, “হাসপাতালের পুরোনো জেনারেটরটি দীর্ঘদিন অচল। এটি মেরামত করে চালু করা সম্ভব নয়। বিষয়টি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, উপজেলা প্রশাসন ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে।”
তবে ১০টি ব্যাকআপ লাইট সাময়িকভাবে অন্ধকার কমালেও ৫০ শয্যার একটি সরকারি হাসপাতালের দীর্ঘদিনের বিদ্যুৎ ব্যাকআপ সংকটের স্থায়ী সমাধান হচ্ছে না। স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত নতুন জেনারেটর অথবা আধুনিক ও পূর্ণাঙ্গ বিকল্প বিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করা হোক, যাতে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সময়ও রোগীদের স্বাভাবিক ও নিরাপদ চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা যায়।