1. newsmkp@gmail.com : Admin : sk Sirajul Islam siraj siraj
  2. info@fxdailyinfo.com : admi2017 :
  3. admin@mkantho.com : Sk Sirajul Islam Siraj : Sk Sirajul Islam Siraj
  • E-paper
  • English Version
  • সোমবার, ০৮ অগাস্ট ২০২২, ০১:০৬ অপরাহ্ন

ব্রেকিং নিউজ :
* বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শনে সিলেটে প্রধানমন্ত্রী   *  বন্যা নিয়ে দুশ্চিন্তার কিছু নেই, সরকার সব ব্যবস্থা নিয়েছে : প্রধানমন্ত্রী

ত্যাগ, তিতিক্ষা ও উৎসর্গের উৎসব- ঈদ-উল-আযহা – আফতাব চৌধুরী

  • আপডেট টাইম : সোমবার, ৪ জুলাই, ২০২২
  • ৫৩ বার পঠিত

‘ঈদ-উল-আযহা’। সমগ্র বিশ্বে পালিত হচ্ছে ‘কোরবানির ঈদ’ বা ‘বকরা ঈদ’। ত্যাগ, তিতিক্ষা ও আবেগের উৎসব। ‘ঈদ’ শব্দটি ‘আওদ’ থেকে উদ্ভূত। এর অর্থ ফিরে আসা পুনঃপুনঃ আসা। ঈদের দিন অন্তত পূণ্যময়। এ দিনের ইবাদতের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। এ বিশেষ দিন মুসলমানদের জীবনে বছরে দু’বার ফিরে আসে। এর একটি হল ‘ঈদ-উল-ফিতর’ অন্যটি ‘ঈদ-উল-আযহা’।
‘ঈদ-উল-আযহা’ শব্দগুলো আরবি। বিশ্বের মুসলমানরা ত্যাগের নিদর্শনস্বরূপ জিলহজ্ব মাসের ঐতিহাসিক ১০ তারিখ মহাসমারোহে পশু জবেহের মাধ্যমে কোরবানির যে আনন্দ উৎসব পালন করে থাকেন তাই ঈদ-উল-আযহা। বস্তুত হযরত ইব্রাহিম (আঃ) আল্লাহ তায়ালার নির্দেশ পালন করতে প্রাণপ্রিয় একমাত্র পুত্র হযরত ইসমাইল (আঃ) কে কোরবানি করার মতো যে ঐতিহাসিক নজির স্থাপন গেছেন সে সুন্নত পালনে মুসলিম জাতি আজো কোরবানি করে থাকেন। এ মাসে বিশ্ব মুসলিম পরস্পর হিংসা-বিদ্বেষ ভূলে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে ঈদগায় গিয়ে ছোট, বড়, ধনী, নির্ধন সবাই দুই রাকাত ঈদ-উল-আযহার ওয়াজিব নামায আদায় করেন।
ঈদ-উল-আযহা বা কোরবানির তাৎপর্য কী? কেন এ কোরবানি। ইসলাম ধর্মাবলম্বীরা কেন গুরুত্ব সহকারে পালন করে আসছেন এ উৎসব? এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজে পেতে আমাদের ফিরে যেতে হবে হাজার বছর আগের এক ঐতিহাসিক ঘটনার দিকে। হযরত ইব্রাহিম (আঃ) ছিলেন খুবই সহজ, সরল ও সাচ্ছা মানুষ। প্রচলিত কোরবানি মূলত হযরত ইব্রাহিমের এক অপূর্ব আত্মত্যাগের ঘটনারই স্মৃতিবহ। তিনি অহঙ্কার ও ঐশ্বর্যের জীবন-যাপনে মোটেই উৎসাহী ছিলেন না। ন্যায়বিচার ও সামাজিক বৈষম্য দূর করে সবার জন্য সমতা রক্ষার পক্ষপাতী ছিলেন। দেশের স্বৈরাচারী রাজা সমস্ত দেশকে, প্রজাদের জীবনকে রাজশক্তির ভয় দেখিয়ে নিয়ন্ত্রণ করছে। এ সময় বিভিন্ন দেব-দেবীর পূজা করে তথা রাজশক্তি স্বীকার করে মানুষ জীবনে পরিত্রাণ খুঁজছেন। কিন্তু ইব্রাহিম মন থেকে এটা মেনে নিতে পারেননি। একজন সাধারণ মানুষ কিভাবে নিজেকে ঈশ্বররূপে বা সব বিচারের উর্ধ্বে বলে দাবি করতে পারেন? তিনি দেখলেন মানুষের জীবন অজ্ঞতা ও অন্ধকারের দিকে এগিয়ে চলেছে। চিন্তাশক্তির বিকাশ ঘটছে না। এ জগতের সবকিছু সৃষ্টি ও নিয়ন্ত্রণ এক মহাশক্তি ব্যতীত অন্য কেউ করতে পারে না। একেশ্বরবাদে বিশ্বাসী ইব্রাহিম তখন আল্লাহর নৈকট্য লাভের আশায় রাতদিন তন্ময় হয়ে থাকতেন। আল্লাহর ধ্যানে মগ্ন ইব্রাহিম জিলহজ্জ মাসের ৮ তারিখের রাতে তাঁর প্রিয় পুত্র হযরত ইসমাইল (আঃ) কে কোরবানি করার হুকুম স্বপ্নযোগে প্রাপ্ত হন। পরদিন তিনি পুত্র ইসমাইলকে ডেকে বললেন, ‘হে বৎস ! আমি স্বপ্নে আদেশ পেয়েছি যে, তোমাকে আমি জবেহ করছি, এখন তোমার অভিমত কী বল? পুত্র ইসমাইল বললেন, ‘হে আমার পিতা! আপনি যে আদেশ পেয়েছেন তা পালন করুন। আমাকে আল্লাহর নামে উৎসর্গ করে আপনার পরীক্ষা ও ত্যাগের প্রমাণ দিন, আল্লাহর ইচ্ছায় আপনি আমাকে ধৈর্য্যশীল পাবেন।’ সে যুগে পিতার হাতে আপন পুত্রের এ কোরবানির কথা মানুষের কল্পনারও বাইরে ছিল। ইব্রাহিম তখন আল্লাহর উদ্দেশ্যে দোয়া জানালেন-‘হে প্রভু, আপনার সন্তুষ্টি লাভে আমার সবচেয়ে প্রিয় পুত্রের জীবন পর্যন্ত কোরবানি করতে প্রস্তুত।’ এরপর নিজ চোখ বেঁধে ইব্রাহিম পুত্র ইসমাইলকে ছুরি দ্বারা কোরবানি দিতে উদ্যত হলেন। কিন্তু আশ্বর্য্যজনকভাবে পুত্রের স্থলে দুম্বা (ছাগল জাতীয় পশু) কোরবানি হয়ে গেল। অবাক ইব্রাহিম দেখেন পুত্র ইসমাইল তাঁর পাশে দাঁড়িয়ে। বিস্ময়ে হতবাক হয়ে গেলেন ইব্রাহিম। অতীতের উৎসর্গের এ স্মৃতিকে আল্লাহর নির্দেশে হযরত মোহাম্মদ (স.) মানুষকে স্বরণীয় রাখার আদেশ দিয়েছেন। এ পশু কোরবানিকে ইসলাম ধর্মাবলম্বীরা আল্লাহর উদ্দেশ্যে উৎসর্গ বলে ভাবেন। তাই ইসলাম ধর্মে ইব্রাহিমের কোরবানির রেওয়াজে আজও পশু কোরবানি দেয়া হয়ে থাকে। মূলত হযরত ইব্রাহিম (আঃ)-এর পুত্রকে কোরবানি দেয়ার এ অবিস্মরনীয় ঘটনাকে প্রাণবন্ত করে রাখার জন্যই আজও পশু কোরবানি দেয়া হয়।
কোরবানিকে আরবী ভাষায় ‘উজহিয়্যা’ বলা হয়। ‘উজহিয়্যা শব্দের আভিধানিক অর্থ পশু কোরবানির দিন জবেহ করা। শরিয়তের ভাষায়, আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে নির্দিষ্ট সময়ে নির্দিষ্ট পশু জবেহ করাকে কোরবানি বলা হয়। কোরবানির তাৎপর্য হল ত্যাগ, তিতিক্ষা ও প্রিয়বস্তু আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য উৎসর্গ করা। এছাড়া, হাদিসে প্রত্যেক সামর্থ থাকা ব্যক্তিকে কোরবানি করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
কোরবানির সময় জিলহজ্জের ১০ থেকে ১২ তারিখ সূর্যাস্তের পূর্ব পর্যন্ত এ তিন দিনের যে কোনো দিন কোরবানি করা যাবে। তবে প্রথম দিন কোরবানি করা সর্বাপেক্ষা উত্তম। ঈদ-উল-আযহার নামাজের আগে কোরবানি করা যাবে না। নামাযের পরে করতে হবে।
কোরবানির মাংস নিজের পরিবারের সদস্যদের খাওয়া ছাড়াও আত্মীয়স্বজন দরিদ্র লোকদের মধ্যে বন্টন করা হয়। মাংস তিন ভাগ করে এক ভাগ পরিবার-পরিজনের জন্য, একভাগ আত্মীয়স্বজনদের জন্য এবং একভাগ দরিদ্র লোকদের জন্য দেয়ার বিধান রয়েছে।
ছয় প্রকার পশুকে কোরবানি দেয়া যায়। উট, গরু, ছাগল, দুম্বা, ভেড়া, মহিষ। এসব ছাড়া অন্য পশু কোরবানি করার নিয়ম নেই। কোনো ব্যক্তি যে উদ্দেশ্যে মানত করেন তা পূর্ণ হলে সে গরিব বা ধনী হোক তার উপর কোরবানি করা ওয়াজিব। এছাড়া, যদি পিতার উপর কোরবানি ওয়াজিব হয়, কিন্তু কোনো কারণবশতঃ তিনি কোরবানি না করে মারা যান তবে তাঁর সন্তানেরা তাঁর সম্পদের এক-তৃতীয়াংশ থেকে কোরবানি করবে।
কোনো ব্যক্তির উপর কোরবানি ওয়াজিব ছিল, কিন্তু কোরবানির তিনটি দিনই গত হয়ে গেল অথচ সে কোরবানি করল না, এমতাবস্থায় তাকে একটি বকরি কিংবা এর মূল্য ছদকা (দান) করতে হবে। আর যদি গরিব ব্যক্তি কোরবানির পশু ক্রয় করা সত্তে¡ও কোরবানি করতে না পারেন তবে তাকেও এ পশুটি ছদকা করে দিতে হবে। মানতকারীদের উপরও এ নিয়ম প্রযোজ্য হবে। তাছাড়া যে ব্যক্তি কোরবানি করবে জিলহজ্ব মাসের চাঁদ দেখার পর চুল, নখ কাটবে না। আর যার কোরবানি করার সামর্থ নেই তার জন্য উত্তম কোরবানির দিন কোরবানির পরিবর্তে চুল, নখ কাটা। ঈদ আসে বিশ্ব মুসলিমের দ্বারপ্রান্তে বার্ষিক আনন্দের বার্তা নিয়ে। আসে সীমাহীন প্রেমপ্রীতি ভালবাসা কল্যানের সংঘাত নিয়ে। ঈদকে যথার্থ মর্যাদায় উদযাপন করা এবং নামাজ যথাযতভাবে আদায় করা প্রত্যেক মুসলমানের অবশ্য কর্তব্য।
কোরবানির মাধ্যমে আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে যে পরিবেশের সৃষ্টি হয় তা দুনিয়াকে বেহেস্তের (স্বর্গের) বাগানে পরিণত করে। বর্তমান বিশ্বে যেভাবে ধ্বংসলীলা সংঘটিত হচ্ছে, হত্যাকান্ড, অপরাধ, অমানবিক কার্যকলাপ বেড়ে চলেছে এসবের বিরুদ্ধে কোরবানির ত্যাগে, উৎসর্গে বিশ্ব মুসলিমকে এগিয়ে আসতে হবে।
কোরবানির ফজিলত হাসিল করেতে হলে প্রয়োজন আবেগ, অনুভূতি, প্রেম, ভালবাসা ও ঐকান্তিকতা। যে আবেগ-অনূভূতি প্রেম ভালবাসা ও ঐকান্তিকতা নিয়ে কোরবানি করেছিলেন আল্লাহর খলিল হযরত ইব্রাহিম (আঃ)। কেবল মাংস ও রক্তের নাম কোরবানি নয়। বরং আল্লাহর রাহে নিজের সর্বস্ব বিলিয়ে দেওয়ার এক দৃপ্ত শপথের নাম কোরবানি। সমগ্র বিশ্বের মানুষের কাছে এক অনুপম দৃষ্টান্ত প্রদর্শনের উৎসব হয়ে উঠুক ঈদ-উল-আযহা।

সাংবাদিক ও কলামিস্ট।

 

প্লিজ আপনি ও অপরকে নিউজটি শেয়ার করার জন্য অনুরোধ করছি

এ জাতীয় আরো খবর..